কৃষিজ উৎপাদন (পঞ্চম অধ্যায়)

কৃষিশিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

1.3k

কৃষিজ উৎপাদন বলতে ফসল, গৃহপালিত পশু-পাখি এবং মাছ উৎপাদনকে বুঝায়। এই অধ্যায়ে উদ্যান ও মাঠ ফসল, গৃহপালিত পশু-পাখি এবং চাষযোগ্য মাছের পরিচিতি, বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শাকসবজি উৎপাদন (লালশাক, টমেটো ও মরিচ), পাখি পালন (কবুতর) এবং মাছ চাষ (পাঙ্গাশ) পদ্ধতির কলাকৌশল বর্ণনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -

  • উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
  • মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
  • শাকসবজি উৎপাদন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব।
  • চাষযোগ্য মাছের বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
  • মাছ চাষ পদ্ধতি (পাঙ্গাশ) বর্ণনা করতে পারব।
  • গৃহপালিত পশু-পাখির বৈশিষ্ট্য ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
  • পাখি পালন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব।
  • বসতবাড়ি কিংবা বাড়ির আঙ্গিনায় কৃষিজ দ্রব্য (শাকসবজি) উৎপাদন করতে পারব।
  • কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদনে আগ্রহী হব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

মিতুল ৪ শতাংশ জমিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে বিভিন্ন সার দিয়ে জমি তৈরি করে সঠিক পদ্ধতিতেই লালশাকের বীজ বপন করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অব্যবস্থাপনার কারণে সে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শাক সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয় ।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

অনিক তার পুকুরে মাছ চাষের উদ্দেশ্যে রোটেনন প্রয়োগের মাধ্যমে এক ধরনের মাছ মেরে ফেলল। তার পুকুরের গভীরতা ছিল ৬০ সে. মি.।

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও
ঝাল মরিচ
বোম্বাই মরিচ
গোল মরিচ
কেপসিকাম মরিচ

উদ্যান ফসলের পরিচিতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব (পাঠ-১)

1.9k

মানুষ তার প্রয়োজনে যেসব উদ্ভিদ চাষ করে, তাদেরকে ফসল বলে। ফসলকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়, যথা- উদ্যান ফসল এবং মাঠ ফসল। উদ্যান অর্থ বাগান। আমরা বসতবাড়ির আশেপাশে উঁচু জমিতে ফল, ফুল, শাকসবজি ইত্যাদি ফসলের বাগান করি। বাগানে যেসব ফসল ফলানো হয়, তাদেরকে উদ্যান ফসল (Garden crops) বলে। বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে মাঠেও উদ্যান ফসল চাষ করা হয়। উদ্যান ফসলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা-
১। ফল-আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, কুল, বেল ইত্যাদি।
২। শাকসবজি- গোলআলু, বেগুন, টমেটো, শিম, লাউ, পালংশাক ইত্যাদি।
৩। মশলা মরিচ, পেঁয়াজ, আদা, হলুদ ইত্যাদি।
৪। ফুল-গাঁদা, গোলাপ, জবা, টগর, বেলি, কসমস, ডালিয়া ইত্যাদি।

কাজ: বাংলাদেশে জন্যে এমন ফল, শাকসবজি ও ফুলের তালিকা তৈরি কর।

উদ্যান ফসলের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা অন্য ফসল থেকে এদেরকে আলাদা করেছে। উদ্যান ফসল স্বল্প পরিসরে নিবিড়ভাবে চাষাবাদ করা হয়। অর্থাৎ এসব ফসল চাষে একক জায়গায় অধিক পুঁজি ও শ্রম দরকার হয়। মানুষের খাদ্য, ঔষধ ও সৌন্দর্য তৃষ্ণা মেটানোর জন্য চাষ করা হয়। খাদ্যের জন্য চাষ করা উদ্যান ফসলে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ বেশি থাকে। সচরাচর তাজা অবস্থায় খাওয়া হয় এবং বেশিরভাগ রসাল ও পচনশীল। এসব ফসলের বাহ্যিক চেহারা ও স্বাদ মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উদ্যান ফসলের বৈশিষ্ট্যগুলো জানার পর আমরা নিশ্চয় উদ্যান ফসলের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা করতে পারছি। অল্প জমিতে বেশি লাভ উদ্যান ফসলের প্রধান অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য। নিচের বিষয়গুলো থেকে উদ্যান ফসলের গুরুত্ব সহজে বুঝা যাবে।

১। পুষ্টি ও পারিবারিক গুরুত্ব: বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন ব্যক্তিকে দৈনিক ৪৫০ গ্রাম শাকসবজি ও ফল খাওয়া উচিত। বসতবাড়ির চারপাশে উদ্যান ফসল চাষ করে পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মেটানো যায়। বাড়তি ফসল বিক্রি করে পরিবারের আয়ও বাড়ানো যায়। অপরদিকে আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি ফলের গাছ থেকে দামি কাঠ পাওয়া যায়। এসব কাঠ ঘর-বাড়ি ও আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। কাঠ বিক্রি করে অনেক অর্থ পাওয়া যায়। তাছাড়া বিভিন্ন ফলদ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী বৃক্ষের ডালপালা ছাঁটাই করে প্রচুর জ্বালানি পাওয়া যায়। পরিবারের রান্নাবান্নার কাজে এসব জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। ফলে জ্বালানি খাতে অর্থ সাশ্রয় হয়।

২। অর্থনৈতিক গুরুত্ব: দেশে-বিদেশে উদ্যান ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমরা শাকসবজি, ফল, ফুল ফসল থেকে বেশি লাভ করতে পারি। অন্যদিকে উদ্যান ফসল চাষাবাদে নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ প্রতিটি স্তরে অধিক পুঁজি, শ্রম ও প্রযুক্তির দরকার হয়। এতে করে সারা বছর কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে বেকার সমস্যা দূর করা যায়। তাছাড়া আম, আনারস, টমেটো, পেয়ারা, লিচু, আলু, কলা ইত্যাদি ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাত করে জ্যাম, জেলি, আচার, জুস, সস, চিপস তৈরি করে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এসব তৈরির জন্য ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলা যায়।
নতুন শব্দ: উদ্যান ফসল, মাঠ ফসল।

Content added By

মাঠ ফসলের পরিচিতি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব (পাঠ-২)

2k

আগের পাঠে আমরা উদ্যান ফসল সম্পর্কে জানতে পেরেছি, এ পাঠে আমরা মাঠ ফসল সম্পর্কে জানব। মাঠ ফসলকে ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ছয় ভাগ করা যায়, যথা-

১। দানা ফসল- ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি।
২। ডাল ফসল- মসুর, মুগ, ছোলা, খেসারি ইত্যাদি।
৩। তেল ফসল- সরিষা, তিল, সূর্যমুখী ইত্যাদি।
৪। আঁশ ফসল পাট, তুলা, মেস্তা ইত্যাদি।
৫। চিনি ফসল- আখ, সুগারবিট ইত্যাদি।
৬। পশুখাদ্য (Fodder crops) ফসল- ফেলন, গিনি, প্যারা, নেপিয়ার ইত্যাদি।

মাঠ ফসলের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা উদ্যান ফসল থেকে এদেরকে আলাদা করেছে। মাঠ ফসল বৃহত্তর পরিসরে চাষাবাদ করা হয়। উদ্যান ফসলের মতো নিবিড়ভাবে চাষাবাদের প্রয়োজন হয় না। মানুষ ও পশুর খাদ্যের জন্য চাষ করা হয়। দ্রুত পচনশীল নয়।

মাঠ ফসলের পরিচয় জানার পর, আমরা নিশ্চয় এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পর্কে অনুমান করতে পারছি। দানা, ডাল ও তেল ফসল আমাদের খাদ্যশস্য ফসল। দানা জাতীয় ফসলের মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা মানুষের প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ডাল জাতীয় ফসল আমাদের আমিষের চাহিদা মেটায়। বিভিন্ন তেল জাতীয় ফসল থেকে আমরা ভোজ্যতেল পাই।

গম, ভুট্টা ও ডাল ফসল পশু, পাখি ও মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য প্যারা, গিনি, নেপিয়ার, খেসারি চাষ করা হয়। এগুলো সবুজ অবস্থায় খাওয়ানো হয়। এর ফলে বাণিজ্যিকভাবে পশু, পাখি ও মাছ চাষ প্রসার লাভ করেছে।

আখ, সুগারবিট থেকে চিনি তৈরি করা হয়। আমাদের দেশে আখচাষিরা চিনি কলে আখ সরবরাহ করে নগদ অর্থ পেয়ে থাকেন।
আঁশ ফসল থেকে সুতা, কাপড়, দড়ি, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি তৈরি হয়। আমাদের দেশে আঁশ ফসলের মধ্যে পাট অন্যতম। দেশে-বিদেশে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পাট ও পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি।

কাজ: এখানে বলা হয়নি এমন কয়েকটি মাঠ ফসলের নাম লেখ ও ব্যবহার উল্লেখ কর।

নতুন শব্দ: দানা ফসল, আঁশ ফসল, পশু খাদ্য ফসল।

Content added By

লালশাক উৎপাদন পদ্ধতি (পাঠ-৩)

764

আমাদের দেশে লালশাক একটি জনপ্রিয় শাক। বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় কম বেশি লালশাকের চাষ হয়। এতে প্রচুর ভিটামিন আছে।
মাটি: প্রায় সব ধরনের মাটিতেই সারা বছর লালশাক আবাদ করা যায়। তবে দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি চাষের জন্য উত্তম। আমাদের দেশে শীতের শুরুতে লালশাকের ফলন বেশি হয়। গরমকালে উঁচু জমিতে লালশাক চাষ করা যায়।

জাত: লালশাকের অনেক জাত রয়েছে। তবে উন্নত দুটি জাত হলো- আলতাপাটি এবং বারি লালশাক-১। আলতাপাটি জাতটির পাতা ও কাণ্ড সিঁদুর লাল। বারি লালশাকের-১ পাতা ও কাণ্ড লাল হয়। এ শাকের ফুল লাল এবং বীজ গোলাকার হয়।

জমি তৈরি: লালশাকের বীজ খুব ছোট। তাই ৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে জমি ঝুরঝুরা করে তৈরি করতে হবে। লালশাক একটি স্বল্পকালীন ফসল। তাই শেষ চাষের সময় প্রতি শতক জমিতে গোবর সার ৪০ কেজি, ৪০০ গ্রাম ইউরিয়া, ৩০০ গ্রাম টিএসপি এবং ২৫০ গ্রাম এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা গজানোর ৭ দিন পর শতকপ্রতি ৪০০ গ্রাম অতিরিক্ত ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

বীজ বপন: লালশাকের বীজ ছিটিয়ে ও সারিতে বপন করা যায়। সারিতে বপন করলে পরিচর্যা করা সুবিধাজনক এবং ফলনও বেশি হয়। বর্ষার সময় চাষ করলে এক মিটার চওড়া এবং ১৫ সেমি উঁচু বেড করে বীজ বপন করতে হয়। সেক্ষেত্রে দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি সেচ নালা রাখতে হয়। বপনের সময় বালির সাথে মিশিয়ে বপন করলে বীজ সব জায়গায় সমভাবে পড়তে পারে। প্রতি শতক জমিতে ১০ গ্রাম বীজ হলেই চলে। সারিতে বপন করলে, ২০ সেমি দূরে দূরে কাঠির সাহায্যে ১.৫-২.০ সেমি গভীর করে লাইন টেনে লাইনে বীজ ছিটিয়ে মাটি সমান করে দিতে হবে।

আন্তঃপরিচর্যা: বীজ বপন বা চারা রোপণের পর থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত যেসব পরিচর্যা করা হয়, তাকে আন্তঃপরিচর্যা বলে। বপনের সময় মাটিতে বীজ গজানোর মতো পর্যাপ্ত রস অর্থাৎ জো থাকলে সেচের প্রয়োজন হর না। তবে জো না থাকলে বপনের পর পর জমিতে সেচ দিতে হবে। বীজ গজানোর এক সপ্তাহ পর প্রত্যেক সারিতে ৫ সেমি অন্তর গাছ রেখে অন্যান্য গাছ তুলে পাতলা করতে হবে। নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে এবং সেচের পর মাটির চটা ভেঙে দিতে হবে।

ফসল সংগ্রহ: বীজ বপনের ২০-২৫ দিনের মধ্যে লালশাক সংগ্রহ শুরু করা যায়। প্রথম দিকে বড় গাছগুলো তুলতে হবে। এভাবে দুই-তিন দিন পর পর শাক তোলা যেতে পারে। শিকড়সহ লালশাকের গাছ তোলা হয়। তোলার পর পানিতে ধুয়ে আটি বেঁধে বাজারজাত করা হয়। কাণ্ড শক্ত হওয়ার আগেই শাকের জন্য ফসল সংগ্রহ শেষ করতে হবে।
ফলন: উন্নত পদ্ধতিতে চাষ করলে প্রতি শতক জমি থেকে ৪৫-৫৫ কেজি লালশাক পাওয়া যায়।

কাজ: পাঁচ শতক জমিতে লালশাক চাষের জন্য কী কী কৃষি উপকরণ প্রয়োজন হয়, তার একটি তালিকা তৈরি কর।

নতুন শব্দ: উপরি প্রয়োগ, বেডে চাষ, মাটির জো, আন্তঃপরিচর্যা।

Content added By

মরিচ উৎপাদন পদ্ধতি (পাঠ-৪)

638

বাংলাদেশে মরিচ একটি মসলা ফসল। ঝালের জন্য কাঁচা ও পাকা মরিচ ব্যবহার করা হয়। কাঁচা মরিচে ভিটামিন 'সি' বেশি থাকে। বর্তমানে ঝালহীন এক ধরনের মরিচও পাওয়া যায়। একে কেপসিকাম মরিচ বলে। এই মরিচ সালাদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

জাত: বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় মরিচের অনেক জাত ছড়িয়ে রয়েছে। যেমন: বিন্দু, চল্লিশা, ধানী, উবদা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বগুড়া ইত্যাদি। এ ছাড়া বাংলা লঙ্কা (বারি মরিচ-১) নামের অনুমোদিত জাতটি সারা বছর চাষের উপযোগী।

মাটি: পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত বেলে-দোআঁশ থেকে এঁটেল-দোআঁশ মাটিতে মরিচ ভালো হয়। তবে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দোআঁশ বা পলি- দোআঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য উত্তম। মরিচগাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না।

রোপণ সময়: রবি মৌসুমে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। খরিপ মৌসুমে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলায় বীজ বপন করা যায়। চারায় ৪-৫টি পাতা গজালে মাঠে রোপণের উপযুক্ত হয়।

বীজ হার, বপন ও রোপণ দূরত্ব : সরাসরি মূল জমিতে বীজ বপন করলে প্রতি শতক জমির জন্য ১২-১৬ গ্রাম বীজ লাগে। বীজতলায় চারা তৈরি করে লাগালে এর অর্ধেক বীজ লাগে। রবি মৌসুমে চারা এমনভাবে রাখতে হবে, যেন সারি থেকে সারি ২৫ সেমি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ২০ সেমি হয়। খরিপ মৌসুমে মূল জমিতে ৪৫×৪৫ সেমি দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হবে।

বীজতলা তৈরি: সাধারণত রবি মৌসুমে সরাসরি মূল জমিতে বীজ বপন এবং খরিপ মৌসুমে প্রথমে বীজতলায় চারা
তৈরি করে পরে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। বীজতলার আকার ৩ মিটার×১ মিটার (দৈর্ঘ্য প্রস্থ) রাখা হয় এরং ১৫ সেমি উঁচু করা হয়। বীজতলার উপরের মাটি ১:১:১ অনুপাতে বালি, মাটি ও গোবর সার মিশিয়ে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। শোধনকৃত বীজ ৫ সেমি দূরে দূরে সারি করে ২-৩ সেমি গভীরে বপন করতে হয়। বীজকে পিঁপড়ার হাত থেকে রক্ষার জন্য বীজতলার চারধারে সেভিন ডাস্ট ছিটিয়ে দিতে হবে। ৭-১০ দিনের মধ্যে চারা গজায়। বীজ বপনের পর অতিবৃষ্টি বা প্রখর রোদ থেকে রক্ষা পেতে পলিথিন বা খড়ের ছাউনি দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী বীজতলায় সকালে বা বিকালে হালকা সেচ দিতে হবে। চারায় ৪-৫টি পাতা গজালে মাঠে রোপণের উপযুক্ত হয়।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ: ৪-৬টি চাষ ও মই দিয়ে জমি ভালোভাবে তৈরি করতে হবে। শেষ চাষের সময় শতকপ্রতি ৪০ কেজি গোবর সার, ১২০০ গ্রাম টিএসপি, ৫৪০ গ্রাম এমওপি, ৪৪০ গ্রাম জিপসাম সার মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। অতঃপর সরাসরি বীজ বপন বা চারা রোপণের জন্য ১ মিটার চওড়া ও লম্বায় জমির আয়তন অনুসারে বেড তৈরি করতে হবে। পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য বেডগুলো ১৫ সেমি উঁচু এবং দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া নালা রাখতে হবে।

আন্তঃপরিচর্যা: জমি সব সময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। ইউরিয়া ও এমওপি সার চারা রোপণের ২০, ৪০ ও ৬০ দিন পর ৩ বার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। প্রতিবারে শতক প্রতি ২৮০ গ্রাম ইউরিয়া সার গাছের গোড়া থেকে ১০-১৫ সেমি দূরে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। শীত ও খরার সময় সেচের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া প্রতি কিস্তি সার প্রয়োগের পর সেচ দেওয়া প্রয়োজন। সেচের কয়েক দিন পর মাটিতে চটা দেখা গেলে ভেঙে দিতে হবে।

কাজ: মরিচের বীজতলা সম্পর্কে একটি পোস্টার তৈরি কর।
Content added By

মরিচের রোগ ও পোকামাকড় দমন (পাঠ-৫)

538

রোগ দমন: মরিচে চারা অবস্থায় ড্যাম্পিং অফ রোগ হতে পারে। এ রোগ দমনের জন্য এক কেজি বীজ ৩ গ্রাম প্রোভেক্সের সাথে মিশিয়ে বীজ শোধন করে নিতে হবে। বীজতলা শুকনা রাখতে হবে। মরিচ গাছ অনেক সময় আগা থেকে গোড়ার দিকে ক্রমান্বয়ে শুকিয়ে মারা যায়। একে ডাইব্যাক রোগ বলে। এ রোগ দমনের জন্য ১ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করতে হয়। হলুদ মোজাইক ভাইরাস রোগ দমনের জন্য আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাতের মরিচ চাষ করতে হবে।

পোকামাকড় দমন: এক ধরনের ক্ষুদ্র মাকড়ের আক্রমণে চারা গাছের পাতা কুঁকড়িয়ে যায়। প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম থিওভিট মিশিয়ে ১০ দিন পর পর স্প্রে করে মাকড় দমন করা যায়। থ্রিপস ও জাবপোকার আক্রমণ দেখা দিলে ম্যালাথিয়ন ৫০ ইসি ১ মিলি প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ফসল সংগ্রহের সময় কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক ব্যবহার না করাই ভালো। ব্যবহার করলেও ৫-৭ দিন ফসল সংগ্রহ বন্ধ রাখা উচিত।

ফসল সংগ্রহ: চারা রোপণের ৩০-৪০ দিন পর গাছে ফুল আসা শুরু হয়। কাঁচা মরিচ পরিপক্ক হতে ২৫-৩০ দিন সময় লাগে। মরিচ পাকতে আরো ২৫-৩০ দিন সময় লাগে।
কাঁচা মরিচ সপ্তাহে ২-৩ বার এবং পাকা মরিচ ১৫ দিন পর পর প্রায় ২-৩ মাস সংগ্রহ করতে হয়।

ফলন: জাতভেদে ফলনে তারতম্য হয়। প্রতি হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ উৎপাদন করলে গড়ে ৬-১০ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে শুকনা মরিচ উৎপাদন করলে ১.৫-২.৫ টন ফলন হয়।

টবে মরিচ চাষ পদ্ধতি

এতক্ষণ আমরা মাঠে মরিচ চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানলাম। এখন আমরা টবে কীভাবে মরিচ চাষ করতে হয় সে সম্পর্কে জানব। টবে মরিচ চাষ করতে হলে প্রথমে ৬-১০ ইঞ্চি ব্যাসের মাটির বা প্লাস্টিকের টব নিতে হবে। টবের মাটি তৈরি করার জন্য দোআঁশ মাটি এক ভাগ, বেলে মাটি এক ভাগ এবং গোবর সার এক ভাগ নিয়ে ভালো ভাবে মেশাতে হবে। এবার টবের নিচের ছিদ্রের উপর হাঁড়ি বা কলসি বা ইটের টুকরো বসাতে হবে। যাতে অতিরিক্ত পানি চুইয়ে বের হয়ে যেতে পারে। মেশানো মাটি দিয়ে টব ভর্তি করতে হবে। প্রস্তুতকৃত টবে মরিচের চারা রোপণ করে হালকাভাবে ঝাঁঝরি দিয়ে পানি সেচ দিতে হবে। সারা দিনে অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা সূর্যের আলো পায় এমন জায়গায় টব বসাতে হবে। তবে চারা লাগানোর প্রথম কয়েক দিন টব দুপুরের সময় ছায়ায় রাখতে হবে।

টবে মরিচ চাষের ক্ষেত্রে কম্পোস্ট বা গোবর সার ব্যবহার করাই ভালো। সারের অভাব হলে টবের উপরের মাটি সাদা হয়ে যায়, মাটিতে রসের অভাব দেখা যায়। এ রকম হলে নিড়ানি দিয়ে টবের মাটি আলগা করে সার মিশিয়ে দিতে হবে। টবে এমনভাবে পানিসেচ দিতে হবে, যেন পানি জমে না যায়। টবে ঘন ঘন পানিসেচ দিতে হয় বলে উপরের মাটি শক্ত হয়ে যায়। এ জন্য কয়েক দিন পর পর নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে।

কাজ: টবে কী কী শাকসবজি চাষ করা যায় তার একটি তালিকা তৈরি কর।
Content added By

টমেটোর উৎপাদন পদ্ধতি (পাঠ-৬)

401

টমেটো ভিটামিন এ, বি এবং সি সমৃদ্ধ একটি সবজি। কাঁচা ও পাকা টমেটো রান্না এবং পাকা টমেটো সালাদ হিসাবে জনপ্রিয়। তাছাড়া পাকা টমেটো প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি সস রুচিবর্ধক। টমেটো মূলত শীতকালীন সবজি। তবে বর্তমানে গ্রীষ্মেও চাষ করা যায়।

জাত: বাংলাদেশে টমেটোর অনেক অনুমোদিত জাত রয়েছে। শীতকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে বারি টমেটো-২ (রতন), বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বিনা টমেটো-৩ এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা জাত মারগ্লোব, রুমা ভিএফ, অক্সহার্ট ইত্যাদি। গ্রীষ্মকালীন জাতের মধ্যে রয়েছে- বারি টমেটো-৪, বারি টমেটো-৫, বারি টমেটো-৯ (লালিমা), বারি টমেটো-১০ (অনুপমা), বারি টমেটো-১১ (ঝুমকা), বারি হাইব্রিড টমেটো-৩, বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ ইত্যাদি।

মাটি: আলো-বাতাসযুক্ত উর্বর দোআঁশ মাটি টমেটো চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় বেলে-দোআঁশ থেকে এঁটেল-দোআঁশ সব মাটিতেই টমেটো ভালো জন্মে।

চারা উৎপাদন পদ্ধতি: প্রতি হেক্টরে টমেটো চাষের জন্য ২০০ গ্রাম বীজ প্রয়োজন। প্রথমে ৪টি বীজতলায় (৩ মিটার × ১ মিটার) ৫০ গ্রাম করে বীজ ঘন করে বুনতে হয়। বীজ গজানোর ৮-১০ দিন পরে চারা তুলে দ্বিতীয় বীজতলায় ৪×৪ সেমি দূরে দূরে রোপণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে ২২টি বীজতলার প্রয়োজন হয়। এতে করে সবল চারা পাওয়া যায়। শীতকালীন জাতের জন্য সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।

জমি তৈরি ও সার প্রয়োগ: ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। মাটির প্রকৃতি ও স্থানভেদে ১ মিটার চওড়া ও ১৫-২০ সেমি উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। দুটি বেডের মাঝে ৩০ সেমি চওড়া সেচ নালা রাখতে হবে, যাতে পানিসেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধা হয়। টমেটো চাষের জন্য সার প্রয়োগের পরিমাণ হচ্ছে-

সারের নামসারের পরিমাণ/শতক
ইউরিয়া২.০-২.৫ কেজি
টিএসপি১.৫-২.০ কেজি
এমওপি০.৮-১.২ কেজি
গোবর সার৩০-৫০ কেজি

শেষ চাষের আগে সম্পূর্ণ গোবর, সব টিএসপি এবং তিন ভাগের দুই ভাগ এমওপি সার ভালোভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়া সার সমান ৩ কিস্তিতে চারা লাগানোর ১০ দিন, ২৫ দিন ও ৪০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। বাকি এমওপি সার দুই ভাগে ভাগ করে ২৫ দিন ও ৪০ দিন পর দিতে হবে।

চারা রোপণ: চারার বয়স ৩০-৩৫ দিন হলে রোপণের উপযোগী হয়। বীজতলা থেকে চারা অত্যন্ত যত্ন সহকারে তুলতে হবে যেন চারার শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এজন্য চারা তোলার আগে বীজতলার মাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। বিকেলের পড়ন্ত রোদে চারা রোপণ করাই উত্তম। রোপণের পর হালকা সেচ দিতে হবে। এক মিটার চওড়া বেডে দুই সারি করে চারা লাগাতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ৬০ সেমি এবং চারা থেকে চারার দূরত্ব ৪০ সেমি রাখতে হবে।

আন্তঃপরিচর্যা: জমিকে নিয়মিত আগাছামুক্ত রাখতে হবে। চারা রোপণের প্রথম ৩-৪ দিন হালকা সেচ দিতে হবে। পরবর্তীকালে মাটিতে রসের অভাব হলে সেচ দিতে হবে। সেচ অথবা বৃষ্টির কারণে জমিতে অতিরিক্ত পানি জমলে তা বের করে দিতে হবে। প্রথম ফুলের গোছার ঠিক নিচের কুশিটি ছাড়া সব পার্শ্ব কুশি ছাঁটাই করতে হবে। গাছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকনা দিতে হবে।

কাজ: বসতবাড়ির আঙ্গিনায় কী কী শাকসবজি চাষ করা যায় তার একটি তালিকা তৈরি কর।
Content added By

টমেটোর রোগ ও পোকা দমন (পাঠ-৭)

410

ড্যাম্পিং অফ রোগ ছত্রাকজনিত এ রোগে চারার গোড়ায় পানি ভেজা দাগ পড়ে ও পচে যায়। অনেক সময় শিকড় পচেও চারা মারা যায়। আক্রান্ত জায়গায় রিডোমিল গোল্ড দিয়ে মাটি ভিজিয়ে দিতে হবে।
ঢলে পড়া রোগ: ব্যাকটেরিয়াজনিত এ রোগে গাছ যেকোনো সময় ঢলে পড়ে ও দ্রুত মারা যায়। আক্রান্ত গাছ দেখলেই তা তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। রোগ প্রতিরোধী জাতের চাষ করতে হবে।

হলুদ পাতা কুঁকড়ানো রোগ: ভাইরাসজনিত এ রোগে পাতা কিনারা থেকে মধ্যশিরার দিকে গুটিয়ে যায়। পাতা খসখসে হয়ে শিরাগুলো স্বচ্ছ হলুদ হয়ে কুঁকড়িয়ে যায়। আক্রান্ত গাছের ডগায় ছোট ছোট পাতা গুচ্ছ আকার ধারণ করে। এ রোগ দমনের জন্য টমেটো ক্ষেত আগাছামুক্ত রাখতে হবে, রোগমুক্ত চারা লাগাতে হবে, আক্রান্ত গাছ তুলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। সাদা মাছি পোকা এ রোগের দ্রুত বিস্তার ঘটায়। মাছি পোকা দমনের জন্য ৭-১০ দিন পর পর এডমায়ার নামক কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ: সাধারণত চারা রোপণের দুই মাস পর হতে টমেটো পাকা শুরু করে। জাতভেদে টমেটোর জীবনকাল ১২০-১৫০ দিন। ফল লালচে রং ধারণ করলে বোঁটা থেকে কেটে ফল সংগ্রহ করতে হয়। জাত ও মৌসুম ভেদে ফলনে পার্থক্য হয়। শীতকালে ২৫০ কেজি/শতক এবং গ্রীষ্মকালে ৮০-১০০ কেজি/শতক ফলন হয়ে থাকে।

কাজ: টবে বা বাড়ির আঙ্গিনায় টমেটোর চারা হাতেকলমে রোপণ করে, নিয়মিত পরিচর্যা করে অগ্রগতি শিক্ষককে জানাতে হবে।
Content added By

বাংলাদেশের চাষযোগ্য মাছের পরিচিতি (পাঠ- ৮)

1.2k

আমরা প্রতিদিন কোনো না কোনো মাছ খেয়ে থাকি। মাছ আমাদের খুবই প্রিয় খাদ্য। মাছ বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ। আমাদের নদী, নালা, খাল, বিল, পুকুর, দিঘির স্বাদু পানিতে প্রাকৃতিকভাবে অনেক মাছ পাওয়া যায়। যেমন: রুই, কাতলা, মৃগেল, শিং, পুঁটি, খলিশা, কই, চিতল, বোয়াল, চিংড়ি প্রভৃতি। অন্যদিকে আমাদের লোনা পানির বিশাল বঙ্গোপসাগরেও আছে অনেক ধরনের মাছ। যেমন: ইলিশ, রূপচাঁদা, লইট্যা, কোরাল, ইত্যাদি। কিন্তু আমাদের মাছ উৎপাদনের পরিমাণ মানুষের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মাছের চাহিদা দিন দিন আরও বাড়ছে। আর তাই বেশি করে মাছ চাষের মাধ্যমে এ চাহিদা মেটানো সম্ভব।

মাছ মেরুদন্ডী প্রাণী। এরা ফুলকার সাহায্যে শ্বাস নেয় এবং লেজ ও পাখনার সাহায্যে চলাফেরা করে। মাছের দেহ মোটা এবং মাথা ও লেজের দিক সরু। তাই এরা সহজে ও দ্রুত পানিতে চলাফেরা করতে পারে। চিংড়ি একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী। চিংড়ি পানিতে বাস করে ও খেতে সুস্বাদু।

বাংলাদেশে প্রাপ্ত মাছগুলোর মধ্যে সব মাছ আবার পুকুরে চাষ করা হয় না। দেশি চাষযোগ্য মাছের মধ্যে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালবাউশ, গলদা ও বাগদা চিংড়ি উল্লেখযোগ্য। দেশি মাছ ছাড়াও চাষের উদ্দেশ্যে কিছু বিদেশি মাছও আমাদের দেশে আনা হয়েছে। এসব মাছ এককভাবে বা আমাদের দেশি চাষযোগ্য মাছের সাথে একত্রে পুকুরে মিশ্রচাষ করা যায়। বিদেশি চাষযোগ্য মাছের মধ্যে থাই পাঙ্গাশ, সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, থাই সরপুটি, তেলাপিয়া অন্যতম।

কাজ: চাষযোগ্য মাছের তালিকা তৈরি কর এবং শ্রেণিতে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: স্বাদুপানি, লোনা পানি, ফুলকা, মিশ্র চাষ।

Content added By

বাংলাদেশের চাষযোগ্য মাছের বৈশিষ্ট্য (পাঠ- ৯)

1.3k

বাংলাদেশে পানিতে অনেক রকমের মাছ পাওয়া গেলেও সব মাছ পুকুরে চাষ করা যায় না। যে সকল মাছের পোনা সহজলভ্য, তাড়াতাড়ি বাড়ে, বাজারে চাহিদা ও ভালো দাম রয়েছে, পুষ্টিমান ভালো ও খেতে সুস্বাদু, সে সকল মাছই পুকুরে চাষ করা হয়। তাছাড়া এসব মাছ পুকুরের প্রাকৃতিক খাবার ও বাইরে থেকে দেওয়া সম্পূরক খাবার দক্ষতার সাথে হজম করতে পারে।

আমাদের দেশি কয়েকটি প্রধান চাষযোগ্য মাছ হলো রুই, কাতলা, মৃগেল। এরা সবাই নদীর মাছ। তবে পুকুরে চাষের জন্য খুব উপযোগী। প্রাকৃতিক খাদ্য ছাড়াও এরা সম্পূরক খাবার খায়। বর্ষাকালে স্রোতশীল নদীতে ডিম পাড়ে। তবে বর্তমানে চাষের উদ্দেশ্যে হ্যাচারিতে পোনা তৈরি করা হচ্ছে। নিচে এদের দৈহিক বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো-

রুই: দেহ লম্বা আকৃতির। মাথা তুলনামূলক ছোট। ঠোঁট ফোলা ফোলা ও ঠোঁটের কিনারায় অনেক সূক্ষ্ম খাঁজ আছে। পিঠের দিক কিছুটা বাদামি। পেটের দিক হালকা সোনালি। বছরে ১ কেজি ওজনের হয়ে থাকে।

কাতলা: এদের মাথা বড়, দেহ চওড়া ও একটু চ্যাপটা। পিঠ উঁচু, মুখ উপরের দিকে বাঁকানো। এ মাছ বেশ তাড়াতাড়ি বাড়ে। ঠিকমতো খাবার পেলে দুই বছরে ৪-৫ কেজি পর্যন্ত বড় হয়।

মৃগেল: মাথা দেহের তুলনায় ছোট। মুখ কিছুটা নিচের দিকে। দেহ লম্বাটে, নিচের অংশ লম্বালম্বিভাবে সোজা। মুখের দুই পাশে ছোট দুই জোড়া শুঁড় আছে।
পুকুরে চাষযোগ্য বিদেশি মাছের মধ্যে সিলভার কার্প, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া, থাই সরপুঁটি বর্তমানে ব্যাপকভাবে চাষ করা হচ্ছে। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:
সিলভার কার্প: এরা চীন ও রাশিয়ার নদীর মাছ। এদের মাথা ছোট, দেহের মাঝের অংশ চওড়া, সামনের ও পেছনের দিক সরু। আঁশ খুব ছোট। দেহের রং চকচকে রুপালি। এদের মুখ কাতলা মাছের মতো উপরের দিকে বাঁকানো। এ দেশের চাষযোগ্য মাছের সাথে পুকুরে চাষ করা যায়। পুকুরে চাষযোগ্য বিদেশি মাছের মধ্যে সিলভার কার্প সবচেয়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে।

গ্রাসকার্প: এদেরও চীন এবং রাশিয়ার নদীতে পাওয়া যায়। এদের দেহ বেশ লম্বা, মাথা ছোট। দেহের রং সাদাটে ও পাখনা ছোট। এরা দ্রুত বাড়ে। চাষ অবস্থায় যেকোনো ঘাস বা লতাপাতা খাওয়ানো যায়।

তেলাপিয়া: থাইল্যান্ড থেকে এদের আনা হয়েছে। তেলাপিয়া বেশ খাটো এবং তুলনামূলকভাবে চওড়া আকৃতির। দেহ চ্যাপটা এবং রং ধূসর-নীলাভ। এরা দ্রুত বর্ধনশীল ও খেতে সুস্বাদু। এদের সাধারণত পুকুরে এককভাবে চাষ করা হয়। এরা ৩-৪ মাসেই খাবার উপযোগী হয়।
থাই সরপুঁটি: এ মাছকে রাজপুঁটিও বলা হয়। এ মাছের দেহের রং উজ্জ্বল রুপালি। দেহ বেশ চ্যাপটা। মাথা বেশ ছোট। এদের এককভাবে বা অন্য মাছের সাথে মিশ্রচাষ করা যায়। এরাও ৩-৪ মাসে খাবার উপযোগী হয়।

কাজ: চাষযোগ্য কিছু মাছের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য পোস্টার পেপারে লিখে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: সম্পূরক খাবার, হ্যাচারি।

Content added By

চাষযোগ্য মাছের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব (পাঠ- ১০)

960

মাছ চাষ করে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। মাছ সকলের নিকট খুব প্রিয় খাদ্য। অন্যান্য খাবারের সাথে সকলের দৈনিক মাছ খাওয়া উচিত। মাছের বর্তমান উৎপাদন আমাদের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তাই নিজেদের জলাশয়ে মাছ চাষ করে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পুরণ করতে হবে। তাছাড়া অতিরিক্ত উৎপাদিত মাছ বাজারে বিক্রি করে নগদ অর্থ আয় করা যায়। আমাদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, কাজের সুযোগ সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং সামাজিক উন্নয়নে মাছ চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে মাছের অর্থনৈতিক গুরুত্ব আলোচনা করা হলো:

পুষ্টির চাহিদা পূরণ: আমাদের প্রতিদিনের খাবার তালিকায় আমিষের প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ। এটি একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। আমাদের দৈহিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধের জন্য আমিষ দরকার। একজন পূর্ণ বয়স্ক লোকের দৈনিক ৩৩ থেকে ৬৬ গ্রাম আমিষ জাতীয় খাবারের প্রয়োজন হয়। আমিষের মধ্যে প্রাণিজ আমিষ উৎকৃষ্ট মানের। কিন্তু বর্তমানে আমরা প্রাণিজ আমিষের চাহিদার তুলনায় কম খেয়ে থাকি। মাছ চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রাণিজ আমিষের অভাব দুর করা সম্ভব। তাই মাছ চাষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কাজ: পুষ্টির চাহিদা পূরণে মাছের গুরুত্ব সম্পর্কে দলগত কাজ করে পোস্টার পেপারে উপস্থাপন কর।

এ ছাড়াও মাছের তেল দেহের জন্য উপকারী। বিভিন্ন জাতের ছোট মাছ যেমন- মলা, ঢেলা, কাচকি মাছে প্রচুর ভিটামিন 'এ' পাওয়া যায়। ভিটামিন 'এ' রাতকানা রোগ দূর করে। মাছের কাঁটায় প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস পাওয়া যায়, যা দেহের হাড় গঠনে সাহায্য করে।

জীবিকার উৎস: বাংলাদেশে প্রায় ১২ মিলিয়ন মানুষ মাছ থেকে বিভিন্নভাবে জীবিকা নির্বাহ করে। যেমন- মাছ চাষ, মাছ ধরা, বিক্রয় ইত্যাদি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আমাদের দেশে কাজের সুযোগ কমে যাচ্ছে। মাছ চাষের মাধ্যমে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।

বৈদেশিক মুদ্রা আয়: মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। মৎস্য সম্পদ রপ্তানি করে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়, তার শতকরা প্রায় ৮৬ ভাগই আসে চিংড়ি থেকে। মাছ চাষ বৃদ্ধি করে এ আয় আরও বাড়ানো সম্ভব।

আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন: বাংলাদেশে অনেক পতিত পুকুর, ডোবা ও নালা রয়েছে, যেখানে মাছ চাষ করা হয় না। এসব জলাশয়ে মাছ চাষ করে গ্রামের গরিব ও স্বল্প আয়ের লোকেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানো সম্ভব।
নতুন শব্দ: জলাশয়, আমিষ।

Content added By

পাঙ্গাশ চাষের গুরুত্ব ও চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি (পাঠ- ১১)

707

পাঙ্গাশ মানুষের খুবই প্রিয় ও সুস্বাদু একটি মাছ। একসময় আমাদের নদীতে পর্যাপ্ত পাঙ্গাশ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন কারণে অন্যান্য মাছের মতো নদীতে পাঙ্গাশ মাছের প্রাপ্যতা কমে গেছে। বর্তমানে আমাদের দেশে থাইল্যান্ড থেকে আনা পাঙ্গাশ মাছ চাষ করা হচ্ছে। বাজারে এ মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।

পাঙ্গাশ মাছের বৈশিষ্ট্য: মাছের উপরের অংশ ধূসর এবং পেটের অংশ সাদা হয়। এদের গায়ে কোনো আঁইশ থাকে না। দেহ চ্যাপটা, লম্বা আকৃতির, মাথা ছোট। পুকুরে চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এ মাছে ছোট কাঁটা থাকে না। তাই খেতে খুব সুবিধা।

পাঙ্গাশ চাষের সুবিধা: যেকোনো ধরনের ছোট- বড় পুকুর, দিঘি, ডোবা ও বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা যায়। এ মাছ এককভাবে বা মিশ্রচাষও করা যায়। এ মাছ সর্বভুক বলে বিভিন্ন সম্পূরক খাবার সরবরাহ করে অধিক উৎপাদন পাওয়া যায়। হ্যাচারি থেকে সহজে এ মাছের পোনা পাওয়া যায়। এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বেঁচে থাকার হার বেশি। তাই চাষে ঝুঁকি কম। এ মাছ অল্প পানির মধ্যে রেখে জীবন্ত অবস্থায় বাজারজাত করা যায়।

কাজ: পাঙ্গাশ চাষের গুরুত্ব সম্পর্কে পোস্টার তৈরি কর এবং উপস্থাপন কর।

চাষের জন্য পুকুর প্রস্তুতি: পুকুরে পোনা মাছ ছাড়ার আগে পুকুর প্রস্তুত করে নিতে হয়। পুকুর প্রস্তুতির জন্য নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করতে হবে-

১) পুকুরের পাড় মেরামত: প্রথমে পুকুরের পাড় মেরামত ও উঁচু করে বেঁধে দিতে হবে। পুকুর পাড়ে ঝোপ-ঝাড় থাকলে কেটে ফেলতে হবে। বড় গাছ থাকলে তার ডালপালা কেটে দিতে হবে।
২) পুকুর পরিষ্কার: পুকুরে কোনো ধরনের জলজ আগাছা থাকবে না। পুকুরের তলায় বেশি কাদা মাটি থাকলে তা তুলে ফেলতে হবে। সম্ভব হলে কাদার স্তর শুকিয়ে পুকুরের তলা শক্ত করতে হবে। এতে ক্ষতিকর গ্যাস ও রোগজীবাণু দূর হয়।
৩) রাক্ষুসে ও অপ্রয়োজনীয় মাছ নিধন পুকুরে রাক্ষুসে মাছ ও অপ্রয়োজনীয় মাছ রাখা যাবে না। সেচের মাধ্যমে পুকুর শুকিয়ে বা ঘন ফাঁসের জাল বারবার টেনে এ কাজ করা যেতে পারে। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে ৩০ সেমি পানির গভীরতার জন্য প্রতি শতকে ৩০ ৩৫ গ্রাম মাছ মারার বিষ রোটেনন পাউডার প্রয়োগ করে রাক্ষুসে মাছ মেরে ফেলতে হবে। রোটেনন দেওয়ার পর পুকুরের পানি ৭ ১০ দিন ব্যবহার করা যাবে না। রোটেনন ব্যবহারে মৃত মাছ খাওয়া যাবে।

৪) চুন প্রয়োগ: উক্ত কাজগুলো শেষ হলে পুকুরের প্রতি শতকে ১ থেকে ২ কেজি করে চুন দিতে হবে। বালতি বা ড্রামে চুন নিয়ে গুলে সারা পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। চুন পুকুরের পানি পরিষ্কার ও রোগজীবাণু দূর করে।
৫) পুকুরে সার প্রয়োগ: চুন দেওয়ার ৭ দিন পর পুকুরে শতক প্রতি ৫-৭ কেজি গোবর অথবা ২-৩ কেজি হাঁস মুরগির বিষ্ঠা, ১০০-১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ৫০-১০০ গ্রাম টিএসপি সার পানিতে গুলে পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। সার প্রয়োগের ৫-৬ দিন পর পুকুরের পানি সবুজ হলে বোঝা যাবে যে পুকুরে প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হয়েছে। তখন মাছের পোনা ছাড়তে হবে।
নতুন শব্দ: মিশ্রচাষ, সম্পূরক খাদ্য, রাক্ষুসে মাছ, রোটেনন।

Content added By

পাঙ্গাশের পোনা ছাড়া, চাষকালীন মাছের পরিচর্যা ও মাছ আহরণ (পাঠ-১২)

395

পোনা ছাড়া : পুকুরে পানির গভীরতা ১৫০-১৮০ সেমি হলে একক চাষের ক্ষেত্রে প্রতি শতকে ৭-১০ সেমি আকারের ১৩০-১৪০টি করে পাঙ্গাশ পোনা ছাড়তে হবে। মিশ্রচাষে শতকে ১২০-১২৫টি করে পোনার সাথে ৪-৫টি সিলভারকার্প বা কাতলার পোনা ছাড়া যেতে পারে। পুকুরে পোনা ছাড়ার পর মাছের যত্ন ও পরিচর্যা করতে হবে।

খাদ্য প্রয়োগ: পাঙ্গাশ একটি দ্রুত বর্ধনশীল মাছ। তাই পাঙ্গাশ চাষের পুকুরে নির্দিষ্ট সময় পর পর খাদ্য প্রদান করতে হবে। বাজার থেকে কেনা সুষম খাদ্য পুকুরে ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু এতে উৎপাদন খরচ বেশি হয়। তাই বাজারজাত খাদ্য না কিনে এটি খামারেও বানানো যেতে পারে। নিচে পাঙ্গাশ মাছের জন্য ১০০ কেজি খাদ্য তৈরির উপকরণ দেওয়া হলো:

ক্রমিক নংখাদ্য উপকরণপরিমাণ (কেজি)
শুঁটকি মাছের গুঁড়া২৫
খৈল৩০
গমের ভুসি২০
চালের কুঁড়া২০
আটা৩.৫০
লবণ
ভিটামিন-খনিজ মিশ্রণ০.৫০
মোট =১০০ কেজি

প্রতিদিন পুকুরে মোট মাছের ওজনের শতকরা ৪-৬ ভাগ হিসাবে খাবার দিতে হবে। প্রতিদিনের খাবার ২ ভাগে ভাগ করে সকাল ও বিকালে দিতে হবে। তবে পোনা মাছকে একটু বেশি ও বড় মাছকে কম খাবার দিতে হয়।

মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা: পুকুরে পোনা ছাড়ার পর মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। প্রতি মাসে জাল টেনে মাছের স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পরীক্ষা করতে হবে। রোগবালাই দমনে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের আগে পুকুরে শতকে প্রতি ২৫০ গ্রাম চুন ও ২৫০ গ্রাম লবণ সপ্তাহে একবার করে ৪-৬ সপ্তাহ দিতে হবে।

মাছ আহরণ ও বিক্রয়: পুকুরে পোনা ছাড়ার ৪ থেকে ৫ মাস পর মাছ গড়ে ৫০০ গ্রাম ওজনের হয়। তখন কিছু মাছ পুকুর থেকে উঠিয়ে বিক্রি করলে পুকুরে মাছের ঘনত্ব কমে যাবে। এতে পুকুরের অন্য মাছগুলো তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে।

কাজ: মাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় করণীয় সম্পর্কে লেখ।

নতুন শব্দ: মিশ্রচাষ, ভিটামিন-খনিজ মিশ্রণ।

Content added By

গৃহপালিত পশুর পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য (পাঠ- ১৩)

1.7k

পৃথিবীতে অনেক পশু বাস করে। এদের মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, উট ইত্যাদি পশুকে গৃহে পোষ মানিয়ে লালন পালন করা যায় এবং এরা গৃহে বাচ্চা প্রসব করে থাকে। তাই এদেরকে গৃহপালিত পশু বলা হয়। এদের মতো কুকুর, বিড়ালও গৃহপালিত পোষা প্রাণী। এরা সবাই আমাদের অনেক উপকারে আসে। বাংলাদেশে প্রায় ২৪ মিলিয়ন গরু ও ২৫ মিলিয়ন ছাগল রয়েছে। আমাদের দেশি গাভি দৈনিক গড়ে ১ লিটার দুধ দেয়। কিন্তু বিদেশি উন্নত জাতের গাভি দৈনিক ১৫-২০ লিটার দুধ দেয়। উন্নত জাতের দুগ্ধ উৎপাদনকারী গরুর মধ্যে হলস্টাইন ফ্রিজিয়ান ও জার্সি অন্যতম।

শাহীওয়াল এবং রেড সিন্ধি গাভিও দৈনিক ৬-১০ লিটার দুধ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সর্বত্র কালো রঙের যে ছাগল পালন করা হয়, তাকে ব্ল‍্যাক বেঙ্গল ছাগল বলা হয়। এটি মাংস উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া আমাদের দেশের মানুষ দুধের জন্য লম্বা পা ও ঝুলন্ত কানবিশিষ্ট যে ছাগল পালন করে, তাকে যমুনাপাড়ি বা রাম ছাগল বলা হয়।
গৃহপালিত পশু জন্মের দিন থেকে মানুষের আদর-যত্নে বড় হতে থাকে। এ কারণে গৃহপালিত প্রাণী ও মানুষের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গৃহপালিত পশুর ভিন্ন ভিন্ন আচরণ, বৈশিষ্ট্য থাকলেও এদের কতগুলো সাধারণ বৈশিষ্ট্য নিম্নে দেওয়া হলো:
১। গৃহপালিত পশু সহজে পোষ মানে।
২। বাড়ির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারে।
৩। গৃহপালিত পশু তার পালনকারীদের সহজে চেনে।
৪। এরা মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করে।
৫। এরা বাড়ির মানুষের আচরণে সাড়া দেয়।
৬। গৃহপালিত পশু বাড়িতে বাচ্চা প্রসব করে।
৭। এরা স্তন্যপায়ী হয়ে থাকে।

গৃহপালিত পশুদের মধ্যে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া জাবরকাটা প্রাণী। এদের খুর বিভক্ত ও মাথায় শিং রয়েছে। এরা জমিতে চরে ঘাস খায়। ঘোড়া জাবরকাটা প্রাণী নয়। এদের শিং নেই ও খুর বিভক্ত নয়। এরা দাঁড়িয়ে ঘুমায়। এরা দ্রুত দৌড়াতে পারে।

কাজ: গরু অথবা ছাগলের বৈশিষ্ট্য লিখ।

নতুন শব্দ: গৃহপালিত, জাবরকাটা।

Content added By

গৃহপালিত পাখির পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য (পাঠ- ১৪)

888

গৃহপালিত পশুর মতো হাঁস, মুরগি, কবুতর ইত্যাদিকে গৃহপালিত পাখি বলা হয়। কারণ, এদের পোষ মানিয়ে গৃহে লালনপালন করা যায়। এরা গৃহে ডিম পাড়ে এবং ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে থাকে। শিশু- কিশোররাও বড়দের মতো কবুতর, হাঁস ও মুরগি পালনে খুব আগ্রহ দেখায়। গ্রামবাংলার মানুষ প্রায় ২৪৬ মিলিয়ন দেশি মোরগ-মুরগিও ৪৬ মিলিয়ন হাঁস লালনপালন করছে। আমাদের দেশি মুরগি বছরে গড়ে ৪৫টি এবং দেশি হাঁস ৭০টি ডিম পাড়ে। কিন্তু উন্নত জাতের লেগহর্ন, ফাওমি, আর আই আর জাতের মুরগি বছরে ২০০-২৫০টি ডিম পাড়ে। বিদেশি জাতের ইন্ডিয়ান রানার, খাকি ক্যাম্বেল ও জেন্ডিং হাঁস বছরে গড়ে ২৫০টি ডিম উৎপাদন করে। পিকিন হাঁস মাংসের জন্য বিখ্যাত।

গৃহপালিত পাখিরা বাড়িতে মুক্ত অবস্থায় থাকে এবং তাদের জন্য তৈরি করা বিশেষ বাসস্থানে বসবাস করে। সকালে বাসা বা খাঁচা থেকে ছেড়ে দেবার পর এরা সারাদিন বাড়ির আশেপাশে ঘুরে বেড়ায়। কিন্তু কবুতর খাদ্যের সন্ধানে অনেক দূর চলে যায় ও সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসে। গৃহপালিত পাখির কয়েকটি সাধারণ
বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১। এরা সহজে পোষ মানে।
২। এরা বাড়ির পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়।
৩। এরা তার পালনকারীকে চেনে ও খাবারের জন্য পিছু নেয়।
৪। এরা গৃহে ডিম পাড়ে ও ডিমে তা দিয়ে বাচ্চা ফুটায়।
৫। এরা বাচ্চা পালনে দক্ষ।
৬। এরা নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করতে পারে।

এদের পায়ে ৪টি আঙ্গুল থাকে। এদের মাথায় লাল ঝুঁটি ও গলায় লাল ফুল থাকে। মুরগি ৫ মাস বয়সে ডিম দেওয়া শুরু করে। মুরগি তার সন্তানকে বন্য পশু-পাখির হাত থেকে রক্ষা করতে চেষ্টা করে।
হাঁসকে জলজ পাখি বলা হয়। হাঁসের পায়ের আঙ্গুল পর্দা দ্বারা যুক্ত। তাই এরা সহজে পানিতে সাঁতার কাটতে পারে। হাঁসের ডিমে তা দেবার অভ্যাস কম। তাই হাঁসের ডিম মুরগির নিচে রেখে ফুটানো হয়।

কাজ: মুরগি বা হাঁসের সাধারণ বৈশিষ্ট্য লিপিবদ্ধ কর।

নতুন শব্দ: ঝুঁটি, জলজ পাখি।

Content added By

গৃহপালিত পশু-পাখির অর্থনৈতিক গুরুত্ব (পাঠ- ১৫)

2.1k

গৃহপালিত পশু-পাখি লালনপালন করে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। গৃহপালিত অধিকাংশ পশু- পাখির মাংস ও ডিম মানুষের নিকট খুব জনপ্রিয়। মানুষের শারীরিক বৃদ্ধি ও মেধা-মনন বিকাশের জন্য অন্যান্য খাবারের সাথে দৈনিক দুধ, ডিম ও মাংস খাওয়া আবশ্যক। গরুর দুধ সুষম খাদ্য। হাঁস-মুরগির ডিমও একটি পুষ্টিকর খাবার। এসব পুষ্টিকর খাবার আমাদের শরীরের আমিষের ঘাটতি পূরণ করে থাকে। তাই প্রতিদিনের খাবারে দুধ ও ডিম থাকা উচিত। মাংস, ডিম, দুধ, মিষ্টি, দই ইত্যাদি অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহৃত হয়।

বাংলাদেশে দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক কম। বাজারে গৃহপালিত পশু-পাখি এবং এদের থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তাই আমাদের গৃহপালিত পশু-পাখির পারিবারিক খামার করা দরকার। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে। খামারের অতিরিক্ত উৎপাদিত ডিম ও দুধ বাজারে বিক্রি করে অর্থ আয় করা যাবে।

গরু ও মহিষ জমি চাষ, পরিবহন, শস্য মাড়াই, ঘানিটানা এবং শস্য নিড়ানির কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গৃহপালিত পশু-পাখি আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। কৃষি-জমির আগাছা, ফসলের উপজাত, রান্না ঘরের বর্জ্য এদের খাবার হিসাবে ব্যবহার করা হয়। হাঁস-মুরগি পোকামাকড় ও ঝরে পড়া দানা শস্য খেয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। ভেড়ার পশম শীতবস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
কুকুর বিশ্বস্ত পোষা প্রাণী হওয়ায় পৃথিবীর সব দেশেই প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নিরাপত্তার কাজে ব্যবহৃত হয়। দাঙ্গা দমনে নিরাপত্তা বাহিনী ঘোড়া ব্যবহার করে। উট, ঘোড়া, গাধাসহ অনেক পশু ভার বহন কাজে ব্যবহৃত হয়।

গরুর গোবর ও হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা জৈবসার হিসাবে জমিতে ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এগুলো মাছের খাদ্য তৈরিতে ও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

কাজ: গৃহপালিত পশু অথবা পাখি আমাদের কী কী উপকারে আসে তা দলগত আলোচনার মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন কর।

নতুন শব্দ: সুষম খাদ্য, পারিবারিক খামার, ঘানিটানা, উপজাত।

Content added By

কবুতরের পরিচিতি ও পালন পদ্ধতি (পাঠ-১৬)

1.1k

কবুতর আমাদের অতিপরিচিত গৃহপালিত পাখি। বাংলাদেশের গ্রামে এমনকি শহর এলাকায়ও অনেককে কবুতর পালন করতে দেখা যায়। আমরা সাধারণত গৃহপালিত পাখির ডিম ও মাংস উভয়ই খেয়ে থাকি। কিন্তু কবুতরের ডিম খাওয়া হয় না, শুধু মাংস খাওয়া হয়। বিশেষ করে ৩-৪ সপ্তাহ বয়সের বাচ্চা কবুতরের মাংস খাওয়া হয়। কবুতরের মাংস খুব নরম।

পৃথিবীতে অনেক জাতের কুবতর রয়েছে। মাংস উৎপাদনের জন্য হোয়াইট কিং, সিলভার কিং, কারনাউ ও হোমার বিশ্ববিখ্যাত। চিত্তবিনোদনের জন্য লাহোরি, ফ্যানটেইল, সিরাজি, গিরিবাজ, ময়ূরপঙ্খি ইত্যাদি জাতের কবুতর রয়েছে। দেশি কবুতরের মধ্যে জালালি, গোলা, গোলি, ডাউকা, লোটন, মুক্কি ইত্যাদি জাত দেখা যায়।

বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কবুতরের খামার তেমন দেখা যায় না। এ দেশে অনেকে চিত্তবিনোদন ও শখের বশে কবুতর পালন করে থাকে। এতে চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি কবুতরের বাচ্চা তাদের পারিবারিক মাংসের চাহিদা পূরণ করে।

একটি পুরুষ ও স্ত্রী কবুতর জোড়ায় জোড়ায় বসবাস করে। কবুতর ৫-৬ মাস বয়সে ২৮ দিন অন্তর ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইটি ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার সময় হলে এরা উভয়ই খড়-কুটা টেনে বাসায় তোলে। ডিম পাড়ার পর উভয়ই পালাক্রমে ডিমে তা দেয়। কবুতরের ডিম থেকে বাচ্চা ফুটতে ১৮ দিন সময় লাগে।
কবুতর পালন খুব আনন্দদায়ক। কবুতরের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। কবুতর থেকে বছরে ৭-৮ জোড়া বাচ্চা পাওয়া যায়। কবুতরের বাচ্চা ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যেই খাবার উপযোগী হয়। কবুতর পালনে খরচ কম। স্বল্প পুঁজিতে কবুতর পালন করা যায়। এদের রোগবালাই কম হয়।

কাজ: বিভিন্ন জাতের কবুতরের নামের তালিকা তৈরি কর।

বহুকাল আগে থেকে মানুষ মুক্ত পদ্ধতিতে কবুতর পালন করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে অনেকে অর্ধ-আবদ্ধ ও আবদ্ধ পদ্ধতিতে কবুতর পালন করছে। আমাদের দেশে সাধারণত মুক্ত অবস্থায় কবুতর পালন করা হয়। আবার অনেককে তারের জাল দিয়ে ঘিরে অথবা বড় আবদ্ধ ঘরে কবুতর পালন করতে দেখা যায়।
মুক্ত পদ্ধতিতে পালন: সকালে কবুতরকে বাসা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দিনের বেলায় খাদ্যের খোঁজে এরা বিভিন্ন জায়গায় উড়ে বেড়ায়। মাঝেমধ্যে বাড়ি এসে বিশ্রাম নিয়ে আবার চলে যায়। তবে সন্ধ্যার আগেই এরা বাড়ি চলে আসে। এ অবস্থায় সাধারণত কবুতরকে কোনো খাদ্য সরবরাহ করা হয় না। কিন্তু কবুতর সবসময় মাঠ থেকে পরিমাণ মতো খাবার পায় না। তাই মুক্ত পদ্ধতিতে পালন করা কবুতরকে বাড়িতে নিয়মিত কিছু খাবার সরবরাহ করলে ভালো বাচ্চা পাওয়া যায়।

আবদ্ধ পদ্ধতিতে পালন: আবদ্ধ অবস্থায় বড় ঘরের মধ্যে কবুতর পালন করা হয়। এ অবস্থায় কবুতরের ঘরে যেন প্রচুর আলো-বাতাস ঢুকতে পারে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এখানে ঘরের মধ্যে কবুতরকে বাসা বা খোপ তৈরি করে দেওয়া হয়। তাছাড়া ঘরের মধ্যে কবুতরের জন্য খাদ্য ও পানির পাত্রের ব্যবস্থা করতে হয়। বৃষ্টির পানি যাতে ঘরে না আসে, সেদিকেও লক্ষ রাখতে হবে। ঘরের মধ্যে কবুতর যাতে উড়তে পারে, সেদিকে লক্ষ রেখে বসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। তবে যে পদ্ধতিতেই কবুতর পালন করা হোক না কেন, খড়-কুটা টেনে বাসায় তোলা, ডিম পাড়া এবং ডিমে তা দেওয়ার সময় এদের বিরক্ত করা যাবে না।

অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে পালন: অর্ধ-আবদ্ধ অবস্থায় কবুতর পালন করলে বহুতল বাসা তৈরিতে খরচ কম হয়। কবুতরকে হিসাব করে অর্ধেক খাবার বাড়িতে সরবরাহ করতে হয়। অবশিষ্ট খাদ্য এরা মুক্ত অবস্থার মতো নিজেরা সংগ্রহ করে খায়।

নতুন শব্দ পরিচিতি: মুক্ত পদ্ধতি, আবদ্ধ পদ্ধতি, অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি, বহুতল, প্যাকিং কাঠ।

Content added By

কবুতরের বাসস্থান ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা (পাঠ-১৭)

549

কবুতরের বাসস্থান: কবুতর একক বাসা বা খোপের মধ্যে বসবাস করতে পছন্দ করে। কবুতরের বাসা মাটি থেকে উঁচুতে স্থাপন করতে হয়। বন্য পশু-পাখি যাতে এদের ক্ষতি করতে না পারে, সে দিকে লক্ষ রেখে বাসা তৈরি করতে হয়। কাঠ, পাতলা টিন, বাঁশ বা প্যাকিং কাঠ দিয়ে কবুতরের বাসা বা খোপ তৈরি করা হয়। কবুতর থেকে বেশি বাচ্চা পেতে হলে এক জোড়ার জন্য পাশাপাশি ২টি বাসা তৈরি করতে হবে। কারণ বাচ্চা পালনের সময় আবার ডিম পাড়ার সময় হলে সে বাচ্চার পাশের বাসায় নতুন করে ডিম দেয় এবং তা দিতে শুরু করে। কবুতরের ঘর দুই বা ততোধিক তলা বিশিষ্টও হতে পারে। বহুতল বাসা তৈরিতে খরচ কম হয়।

স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়ই পালাক্রমে বাচ্চাকে খাওয়ায়। এরা বাচ্চার মুখের ভিতর ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে আদরের সাথে নিজ খাদ্যথলির রসমিশ্রিত নরম খাদ্য বাচ্চার মুখের ভিতর দেয়। এ রসমিশ্রিত নরম খাদ্য অত্যন্ত পুষ্টিকর হওয়ায় তা খেয়ে বাচ্চা দ্রুত বেড়ে উঠে। ২৮ দিন পর এদের পাখার পালক গজায় এবং এরা ঠোঁট দিয়ে তুলে খেতে পারে।

বয়ষ্ক কবুতরের খাদ্য: কবুতর ধান, গম, ভুট্টা, মটর, খেসারি, সরিষা, কলাই ইত্যাদি শস্যদানা খেতে পছন্দ করে। মুরগির জন্য তৈরি সুষম খাবারও কবুতরকে খাওয়ানো যায়। প্রতিটি কবুতর গড়ে দৈনিক ৫০ গ্রাম খাবার খেয়ে থাকে। কবুতরকে ঝিনুকের খোসাচূর্ণ, চুনাপাথর, কাঠকয়লা চূর্ণ, লবণ ইত্যাদি একত্রে মিশিয়ে খেতে দিতে হয়। এতে তাদের খনিজ লবণের অভাব পূরণ হয়। কবুতরের খাদ্য ও পানি পাত্রে সরবরাহ করতে হয়। মুক্ত ও অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে কবুতর নিজেই খাদ্যের সন্ধানে বের হয়ে যায়। এরা বিভিন্ন ফসলের মাঠ হতে খাদ্য খেয়ে থাকে। ঘরে কবুতরকে তৈরি খাদ্য সরবরাহ করা হয়।

পানি সরবরাহ: কবুতরের পানি পান ও গোসল করার জন্য ঘরের মাঝখানে ২-৩টি গামলার ব্যবস্থা করতে হবে। গামলার ৩-৪ ভাগ পানি দিয়ে ভরে রাখতে হবে। এখান থেকেই এরা পানি পান ও গোসল করবে।

কবুতরের খাদ্য তালিকা-

কবুতরের খাদ্য উপাদানশতকরা হার (%)
গম৩০.০
ভুট্টা২০.০
সরিষা দানা১৫.০
খেসারি২০.০
কলাই১৪.৫
লবণ০.৫
মোট১০০
কাজ: কবুতরের বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের নাম লেখ এবং একটি খাদ্য তালিকা তৈরি কর।

নতুন শব্দ: খাদ্যথলি, শস্যদানা, চুনাপাথর।

Content added By

অনুশীলনী

578

শূন্যস্থান পূরণ কর

১. ধান, মসুর, পাট, সরিষা, আখ হলো ফসল।
২. অল্প জমিতে বেশি লাভ হলো ফসলের প্রধান অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য।
৩. রোটেনন দেওয়ার পর পুকুরের পানি দিন ব্যবহার করা যাবে না।
৪. স্ত্রী ও পুরুষ কবুতর উভয়ই পালাক্রমে খাওয়ায়।

বাম পাশের সাথে ডান পাশের মিলকরণ

বাম পাশডান পাশ
১. মরিচ
২. পাট, তুলা
৩. ডাল ফসল
৪. লালশাক
৫. ভেড়া
আমিষ।
পশম।
মসলা।
সুতা, কাপড়।
স্বল্পকালীন ফসল।

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১. কোন মাছকে রাক্ষুসে মাছ বলা হয়?
২. কোন গৃহপালিত পাখিকে জলজ পাখি বলা হয়?
৩. কবুতরের ডিম কত দিনে ফোটে?

বর্ণনামূলক প্রশ্ন

১. মাছ চাষের জন্য পুকুরে কেন চুন প্রয়োগ করা প্রয়োজন তা লেখ।
২. গৃহপালিত পশুর দুইটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব লেখ।
৩. 'স্বল্প পুঁজিতে কবুতর পালন করা যায়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কোনটি স্বাদু পানির মাছ?
ক. ছুরি
খ. শোল
গ. ইলিশ
ঘ. ভেটকি

২. পুকুরের তলার কাদার স্তর শুকালে-
i. ক্ষতিকর গ্যাস দূর হয়
ii. রোগজীবাণু দূর হয়
iii. প্রাকৃতিক খাবার বৃদ্ধি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও ii
ঘ. i, ii ও iii

৩. মাংসের জন্য বিখ্যাত কোন হাঁস?
ক. পিকিন
খ. ইন্ডিয়ান রানার
গ. খাকি ক্যাম্বেল
ঘ. জেন্ডিং

৪. পশুর খাদ্য (Fodder Crops) হচ্ছে-
i. গম, ভুট্টা
ii. ফেলন, গিনি
iii. ফেলন, নেপিয়ার
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i ও ii
খ. i ও iii
গ. ii ও ii
ঘ. i, ii ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৫ ও ৬ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও
আলেয়া বেগম বাড়ির পাশেই তার ৫ শতক জমিতে মরিচের চাষাবাদ করলেন। গাছগুলো যথাযথ বৃদ্ধি পেল। ফসল সংগ্রহের সময় জাব পোকার আক্রমণ হওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিক কীটনাশক স্প্রে করলেন।
৫. আলেয়া বেগমের জমিতে কী পরিমাণ গোবর সার লেগেছিল?
ক. ১২০ কেজি
খ. ১৬০ কেজি
গ. ২০০ কেজি
ঘ. ২৪০ কেজি
৬. আলেয়া বেগমের তাৎক্ষণিক কীটনাশক স্প্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে?
ক. সালোক সংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হবে
খ. ফসলের মান বৃদ্ধি পাবে
গ. ফসল সংগ্রহ বিলম্ব হবে
ঘ. প্রস্বেদন বাধাগ্রস্ত হবে

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. রওশন আরা বসতবাড়ির সাথে খালি জায়গায় বিভিন্ন শাকসবজি চাষের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৩ শতাংশের ১টি প্লট টমেটো চাষের জন্য প্রস্তুত করেন। উন্নত জাত, সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ, যত্ন ও পরিচর্যার কারণে রওশন আরা টমেটোর সর্বোচ্চ ফলন পান। পারিবারিক প্রয়োজন মিটিয়ে তিনি কিছু টমেটো বাজারে বিক্রি করেন। রওশন আরার উদ্যোগটি দেখে আশেপাশের অনেকেই বসতবাড়িতে শাকসবজি বাগান করেন।
ক. উদ্যান ফসল কাকে বলে?
খ. লালশাকের বীজ বপন করতে বীজের সাথে বালি বা ছাই মেশানো হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. রওশন আরা টমেটো চাষের জন্য ৩ শতাংশ জমিতে কতটুকু গোবর সার প্রয়োগ করেছিলেন তা নির্ণয় কর।
ঘ. রওশন আরার উদ্যোগটি পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে কী ধরনের ভূমিকা রাখবে? বিশ্লেষণ কর।

২. মনোয়ারা বেগম স্বামীর আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খান। তার বাড়িতে একটি পতিত জলাশয় ও কিছু খোলা উঁচু জায়গা আছে। তিনি প্রতিবেশীর পরামর্শক্রমে পতিত জলাশয়ে পাঙ্গাশ মাছ চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে খোলা উঁচু জায়গাটিও তিনি চাষাবাদের আওতায় আনার পরিকল্পনা করলেন।
ক. চাষযোগ্য মাছ কাকে বলে?
খ. মাছ চাষের একটি অর্থনৈতিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
গ. মনোয়ারা বেগমের উক্ত মাছটি চাষের জন্য বাছাই করার কারণ ব্যাখ্যা কর।
ঘ. মনোয়ারা বেগমের পরবর্তী পরিকল্পনাটি কীভাবে তার সংসারে আয় বাড়াতে সহায়তা করবে? বিশ্লেষণ কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...