পুষ্টি হচ্ছে জৈবিক প্রক্রিয়া।
আমরা কেবল বেঁচে থাকার জন্যই খাদ্য গ্রহণ করি না। খাদ্য গ্রহণের আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে দেহের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা।
উদ্দীপকের ২নং চিত্রে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য গ্রহণের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত করলে, খাদ্য গ্রহণ করলে এবং-খাদ্য প্রস্তুতকারী, ও খাদ্য গ্রহণকারীর ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে খাদ্য জীবাণু দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। এজন্য খাদ্য প্রস্তুত ও খাওয়ার আগে সকলেরই উচিত সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নেওয়া। পরিষ্কার হাতে খাদ্যপ্রস্তুত ও গ্রহণ করলে জীবাণু দ্বারা রোগ সৃষ্টির আশঙ্কা কমে যাবে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার রান্না ও খাওয়া হলে দেহে যথাযথ পুষ্টি প্রাপ্তি ঘটে।
উদ্দীপকের ১নং চিত্রে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য গ্রহণের চিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য গ্রহণ করলে 'ক্ষতিকর চক্র' মতে নানা ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি হবে। দেহ জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হবে। বিভিন্ন সংক্রামক রোগ সৃষ্টি করবে। শরীরে অপুষ্টি দেখা দেবে। শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।
'ক্ষতিকর চক্র' মতে, খাবার পুষ্টিকর হলেও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে পুষ্টিকর খাদ্য শরীরের জন্য উপকারী কাজ করতে পারছে না বরং জীবাণু দ্বারা রোগ সৃষ্টি করছে। তাই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য গ্রহণ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে দেহে অপুষ্টি দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে হয়।
Related Question
View Allপ্রতিদিনই আমাদের শরীর ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। আর এ ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ পুনঃগঠন করার জন্য প্রয়োজন খাদ্যের। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আমাদের শরীরের যে ক্ষয় হয় তা পূরণ করাই হচ্ছে দেহের ক্ষয়পূরণ।
উদ্দীপকে হেমার দেখা কান্তের শারীরিক অবস্থার কারণ হলো অতিরিক্ত ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণ। খাদ্যের ছয়টি উপাদানের মধ্যে 'স্নেহপদার্থ বা ফ্যাটই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপন্ন করে। প্রায় সব প্রাকৃতিক খাদ্যবস্তুর মধ্যে এদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। স্নেহজাতীয় পদার্থ পানিতে অদ্রবণীয় এবং পানির চেয়ে হালকা। কৈশোরে শক্তির চাহিদা বেশি থাকে। তাই এ বয়সীদের জন্য খাদ্যে ফ্যাটের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল খাবারে শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যেতে পারে। যেমনটি বেড়েছে উদ্দীপকের কান্তের। অতিরিক্ত ফ্যাটবহুল খাদ্যগ্রহণের ফলে কান্তের শরীর মোটা হয়ে যাচ্ছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কাঁন্ত ও সুপ্তির শারীরিক অবস্থার জন্য খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞতাই মূলত দায়ী। কারণ কান্ত ফ্যাটজাতীয় খাদ্য গ্রহণের ফলে মোটা হয়ে যাচ্ছে আর সুপ্তি ভিটামিন 'এ' জাতীয় খাদ্য গ্রহণ না করার কারণে সন্ধ্যার পর চোখে ঝাপসা দেখছে। তারা জানে না মানুষের শরীর সুস্থ রাখার জন্য বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজন হয়। পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করলে স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় না। কেউ যখন প্রয়োজনের চেয়ে কম খাদ্য গ্রহণ করে তখন তার অপুষ্টির কারণে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। যেমনটি হয়েছে সুপ্তির ক্ষেত্রে। আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে অতিপুষ্টি দেখা দেয়। যেমনটি হয়েছে কান্তের ক্ষেত্রে। অতএব সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহের যথাযথ পুষ্টি অবস্থা বজায় থাকে। সুতরাং বলা যায়, খাদ্য উপাদান সম্পর্কে অজ্ঞতাই কান্ত ও সুপ্তির শারীরিক সমস্যার জন্য দায়ী কথাটি যথাযথ ও সঠিক।
আমরা কেবল বেঁচে থাকার জন্যই খাদ্য গ্রহণ করি না। খাদ্য গ্রহণের আরেকটা উদ্দেশ্য হচ্ছে দেহের যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!