আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম হতে হালকা মাধ্যমে প্রবেশের সময় আপতন কোণের যে মানের জন্য প্রতিসরণ কোণের মান ৯০° হয় অর্থাৎ প্রতিসরিত রশ্মি বিভেদতল ঘেঁষে যায়, সে কোণকে ক্রান্তি কোণ বলে।
ম্যাগনিফাইং গ্লাস হলো উপযুক্ত ফ্রেমে আবদ্ধ উত্তল লেন্স। যে সমস্ত লেখা বা বস্তু চোখে পরিষ্কার দেখা যায় না তা স্পষ্ট ও বড় করে দেখার জন্য স্বল্প ফোকাস দূরত্বের ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করা হয়। ম্যাগনিফাইং গ্লাসের সাহায্যে বস্তুর সোজা বিবর্ধিত ও অবাস্তব প্রতিবিম্ব পাওয়া যায়। ফলে বস্তুটি দেখতে সুবিধা হয়।
চিত্র-১ এ একটি পানিভর্তি গ্লাসের ভেতর একটি বস্তু রাখা আছে। বস্তুটির অবাস্তব প্রতিবিম্ব যেভাবে দেখতে পাওয়া যাবে তা রশ্মি চিত্রের সাহায্যে বর্ণনা করা হলো-
আমরা জানি, আলোকরশ্মি হালকা থেকে ঘন মাধ্যমে আপতিত হলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে আসে এবং ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে আপতিত হলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়।

চিত্রে বস্তুটির প্রকৃত অবস্থান A এবং চোখের অবস্থান E তে দেখানো হয়েছে। A হতে আলোকরশ্মি AR পথে আপতিত হয়ে RE পথে প্রতিসরিত হয়ে E বিন্দুতে পৌঁছায়। এ প্রতিসরিত রশ্মি ER কে বর্ধিত করলে তা B বিন্দু থেকে আসছে বলে মনে হয়। Bবিন্দুই হবে বস্তুটির দৃশ্যমান অবস্থান। অর্থাৎ A বিন্দুর অবাস্তব প্রতিবিম্ব। অতএব বলা যায় যে, ব্যক্তিটি B অবস্থানে বস্তুটির অবাস্তব প্রতিবিশ্ব দেখতে পাবে।
আলোকরশ্মি CO বায়ু মাধ্যম থেকে পানি মাধ্যমে প্রবেশ করলে আপতিত রশ্মি একই কোণে আপতিত হবে কিন্তু প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্বের দিকে বেঁকে যাবে। নিচে চিত্রসহ যুক্তি উপস্থাপন করা হলো-
আলোর প্রতিসরণের নিয়মানুসারে আলোকরশ্মি ঘন মাধ্যম থেকে হালকা মাধ্যমে প্রবেশ করলে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে যাবে। অন্যদিকে হালকা থেকে ঘন মাধ্যমে প্রবেশ করলে

প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যাবে। বায়ু পানির তুলনায় হালকা মাধ্যম। অর্থাৎ আলো যদি বায়ু থেকে পানি মাধ্যমে আপতিত হয় তবে প্রতিসরিত রশ্মি অভিলম্বের দিকে বেঁকে যাবে। চিত্রে CO আপতিত রশ্মি বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর OQ পথে অভিলম্বের দিকে সরে গেছে।
আলোক রশ্মি এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে তীর্যকভাবে আপতিত হলে মাধ্যম পরিবর্তনে এর গতিপথের ভিন্নতা দেখা যায়। এটি হলো আলোর প্রতিসরণ। এই অধ্যায়ে আমরা দৈনন্দিন জীবনে সংঘটিত আলোর প্রতিসরণের বিভিন্ন ঘটনা, পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন এবং এর প্রয়োগ হিসাবে অপটিক্যাল ফাইবারের সাথে পরিচিত হব। এছাড়া ম্যাগনিফাইং গ্লাসের কাজ, মানব চক্ষু ও ক্যামেরার কার্যক্রম তুলনা নিয়ে আলোচনা করব।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• দৈনন্দিন জীবনে সংঘটিত প্রতিসরণের ঘটনাগুলো চিত্র অঙ্কন করে ব্যাখ্যা করতে পারব;
• পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ব্যাখ্যা করতে পারব;
• অপটিক্যাল ফাইবারের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• ম্যাগনিফাইং গ্লাসের কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• চশমার কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব;
• ক্যামেরা এবং চোখের কার্যক্রম তুলনা করতে পারব
• আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কার্যক্রমে আলোর অবদান উপলব্ধি করতে পারব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
