যৌন জননে স্ত্রী ও পুং জনন কোষের মিলনে সৃষ্ট কোষকে জাইগোট বলে।
DNA এবং RNA এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে-
DNA | RNA |
১. DNA দ্বিসূত্রক, গঠন ঘুরানো সিঁড়ির মতো। | ১. RNA একসূত্রক, গঠন শিকলের ন্যায়। |
২. DNA তে ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার থাকে। | ২. RNA তে রাইবোজ শ্যুগার থাকে। |
৩. অনুলিপনের মাধ্যমে নতুন DNA সৃষ্টি হয়। | ৩. নতুনভাবে RNA সৃষ্টি হয়। কোন অনুলিপন হয় না। |
| ৪. করে। |
সচিত্রে প্রদর্শিত A প্রক্রিয়াটি হচ্ছে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন। নিচে অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করা হলো- অ্যামাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো জটিল মাধ্যমিক পর্যায় ছাড়াই সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।

এ কোষ বিভাজনের শুরুতে নিউক্লিয়াসটি প্রথমে ডাম্বেলের আকার ধারণ করে এবং প্রায় মাঝ বরাবর সংকুচিত হয় ও পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। একই সময়ে সাইটোপ্লাজমও মাঝ বরাবর সংকুচিত হতে থাকে। এতে একটি চক্রাকার গর্ত সৃষ্টি হয় এবং কোষটিকে দু'ভাগে ভাগ করে ফেলে, ফলে একটি কোষ দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ ধরনের বিভাজনে মাতৃকোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি করে অর্থাৎ এটি একটি ও বিভাজন প্রক্রিয়া।
চিত্রে প্রদর্শিত B প্রক্রিয়াটি হচ্ছে মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায় হচ্ছে যথাক্রমে অ্যানাফেজ ও টোলোফেজ। নিচে অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ পর্যায়ের মধ্যে ভিন্নতা বিশ্লেষণ করা হলো-
অ্যানাফেজ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ফলে প্রত্যেক ক্রোমাটিডে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
এ পর্যায়ে সৃষ্ট অপত্য ক্রোমোজোম দুই মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। আর টেলোফেজ পর্যায়ে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিপরীত মেরুতে এসে পৌছায়। অ্যানাফেজ পর্যায়ে নিউক্লিওলাস অনুপস্থিত থাকে, কিন্তু টেলোফেজ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলোকে ঘিরে নিউক্লিয়ার পর্দা এবং নিউক্লিওলাসের আবির্ভাব ঘটে। অ্যানাফেজ পর্যায়ে একটি কোষ থেকে দুটি কোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হয়, আর টেলোফেজ পর্যায়ে এসে কোষ সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনার সাপেক্ষে বলা যায়, মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ পর্যায়ের মধ্যে যথেস্ট ভিন্নতা রয়েছে।
প্রতিটি জীবের দেহ কোষ দিয়ে গঠিত। এককোষী জীবগুলো কোষ বিভাজনের দ্বারা একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি কোষে বিভক্ত হয় এবং এভাবে বংশবৃদ্ধি করে। বহুকোষী জীবের দেহকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে জীবদেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি ঘটে। ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার পর বহুকোষী জীবের জীবন শুরু হয় একটি মাত্র কোষ থেকে। নিষিক্ত ডিম্বাণু অর্থাৎ এককোষী জাইগোট ক্রমাগত বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে লক্ষ লক্ষ কোষ দিয়ে গঠিত বিশাল দেহ।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• কোষ বিভাজনের প্রকারভেদ ব্যাখ্যা করতে পারব;
•কোষ বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহের বৃদ্ধি ব্যাখ্যা করতে পারব;
• জীবের বংশগতির ধারা রক্ষায় কোষ বিভাজনের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
