সমাজবিজ্ঞানের জনক অগাস্ট কোঁৎ।
সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় হলো- সমগ্র সমাজ তাই সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে সমাজের পূর্ণাঙ্গ পাঠ।
সামাজিক মানুষের আচার-আচরণ, আদর্শ-মূল্যবোধ, রীতিনীতি ও সামাজিক কার্যাবলি কীভাবে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং কীভাবে এর গতিশীলতা বজায় থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন করে। পাশাপাশি ব্যক্তি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, প্রথা, সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করে।
প্রদত্ত ছকের '?' চিহ্নিত স্থানটি সমাজবিজ্ঞানকে নির্দেশ করে। সমাজবিজ্ঞান এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Sociology' যা এসেছে ল্যাটিন শব্দ 'Socius' এবং গ্রিক শব্দ 'Logos' থেকে। সমাজবিজ্ঞান শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন ফরাসি সমাজচিন্তাবিদ অগাস্ট কোঁৎ। এ বিজ্ঞান হলো জ্ঞানের এমন একটি শাখা যেখানে সমাজকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করা হয়। আমেরিকান সমাজবিজ্ঞানী আর. এম. ম্যাকাইভার বলেন, "সমাজবিজ্ঞানই একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে" অর্থাৎ এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন ক্রিয়া, সামাজিক গোষ্ঠী, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সম্পর্কের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ, গবেষণা ও পর্যালোচনা করে। উদ্দীপকের চিত্রটিও সমাজবিজ্ঞান সম্পর্কে উক্ত তথ্যকে সমর্থন করে।
উদ্দীপকের ছকচিত্রে ল্যাটিন শব্দ Socius এবং গ্রিক শব্দ Logos এর উল্লেখ রয়েছে। যার অর্থ যথাক্রমে সমাজ ও জ্ঞান-বিজ্ঞান। যা সমাজবিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। তাই বলা যায়, ছকের প্রশ্ন চিহ্নিত স্থানটি সমাজবিজ্ঞানকে ইঙ্গিত করছে।
মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সমাজবিজ্ঞান এর জ্ঞান অপরিহার্য। সমাজবিজ্ঞান সমাজের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ। এ বিজ্ঞানের আলোচনার বিষয় হলো সমাজবদ্ধ মানুষের বিচিত্র ধরনের সামাজিক সম্পর্ক। সমাজে বসবাসরত মানুষের সাথে কীভাবে চলতে হবে, সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং একতাবদ্ধভাবে থাকতে হবে তা এ বিষয় পাঠ করলে জানা যায়। সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন- পরিবার, বিবাহ, রাষ্ট্র ইত্যাদির কার্যাবলি সম্পর্কে এ বিষয় গবেষণা ও পর্যালোচনা করে।
মানুষ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে সেখানেই বেড়ে ওঠে এবং সেখানেই তার প্রাথমিক সামাজিকীকরণ সম্পন্ন হয়। পরিবারের সদস্যদের সাথে তার সম্পর্ক এবং আচার-আচরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ বিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। মূল্যবোধ চর্চার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এখানে মূল্যবোধ, আবেগ, অনুভূতি ও স্বার্থ সম্পর্কে পাঠ করা হয়। পাশাপাশি এ বিজ্ঞান, পরিবার ও জ্ঞাতিসম্পর্ক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করে।
উক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সমাজজীবনে টিকে থাকার জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।
Related Question
View Allআচার-আচরণের পশ্চাতে মানসিক কারণ ছাড়া অর্থনৈতিক, র ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি শক্তির প্রভাব রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে যে কয়েকজন ব্যক্তির অবদান স্বীকার্যক তার মধ্যে ম্যাকিয়াভেলি অন্যতম। সমাজদর্শন প্রচার করতে গিয়ে তিনি বাস্তবতার আশ্রয় নিয়েছেন। এর মাধ্যমে ম্যাকিয়াভেলি নি সমাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তার The Prince গ্রন্থে আলোচনা করেন। তার সমাজ আলোচনার মূল ভিত্তি ছিল মানব প্রকৃতি ও মানব মনোভাব। তৎকালীন সময়ে সমাজের মানুষ যে নৈরাজ্যকর অবস্থায় ছিল ম্যাকিয়াভেলি তার সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দেন যা সমাজবিজ্ঞান বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হলো ধর্ম। কারণ ধর্ম হচ্ছে অতিপ্রাকৃত শক্তিতে বিশ্বাস। ধর্মে জ্ঞান, অনুভূতি ও ক্রিয়ার এক সার্থক সমন্বয় দেখা দেয়। এছাড়া মানুষ পার্থিব ও অপার্থিব কোনো কিছু পাওয়ার আশায় এ শক্তিতে বিশ্বাস করে। ধর্ম সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
সমাজজীবনে ধর্মের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে জাতি ও গোষ্ঠীগত পার্থক্য এবং শ্রেণিবিভাজন পরিলক্ষিত হয়। ধর্ম মানুষের আচরণ, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ইত্যাদিকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সমাজ বা গোষ্ঠীগত স্বকীয়তা দান করে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস, ধর্মের উৎপত্তি ও এর বিকাশ, ধর্মের গুরুত্ব, ধর্মের প্রভাব, ধর্মের প্রকারভেদ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এর কার্যকারিতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
সুতরাং আমরা যথার্থই বলতে পারি যে, স্যারের আলোচিত ধর্ম সম্পর্কিত জ্ঞান সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
ধর্ম ছাড়াও সকল সামাজিক ঘটনাই সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়বস্তুর অন্তর্গত। প্রতিনিয়ত সমাজবিজ্ঞানের নতুন নতুন শাখার উদ্ভব ঘটছে। নিচে সমাজবিজ্ঞানের শাখাসমূহ উল্লেখ করা হলো- মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হতো। সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা হলো পরিবারের সমাজবিজ্ঞান।
ঐতিহাসিক সমাজবিজ্ঞানে প্রাচীন সমাজ, সমাজের উদ্ভব, বিকাশ এবং বর্তমান সমাজের জীবনযাত্রা সম্পর্কে গবেষণা করা হয়।
সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম উপাদান হচ্ছে জনসংখ্যা। জনগণই সমাজের গোড়াপত্তন করে। সমাজ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে হলে জনসংখ্যার কাঠামো, বণ্টন, বয়ঃকাঠামো, আদমশুমারি, জনসংখ্যা তত্ত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে জানা অপরিহার্য।
অপরাধ, অপরাধপ্রবণতা, দারিদ্র্য, কিশোর অপরাধ, অপরাধের কারণ, অপরাধের স্বরূপ প্রভৃতি নিয়ে অপরাধ সমাজবিজ্ঞান আলোচনা করে থাকে।
রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়াদির সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি, গোষ্ঠী তথা নাগরিকের সম্পর্ক নিরূপণ করে।
পরিশেষে আমরা বলতে পারি যে, সমাজবিজ্ঞানের পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
'ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মালিকানা সব দ্বন্দ্ব-সংঘাত এবং শোষণের মূল'- উক্তিটি জার্মান দার্শনিক ও অর্থনীতিবিদ কার্ল মার্কস-এর।
সমাজবিজ্ঞানের বিকাশে আমেরিকান আইনবিদ ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গান অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।
ইরোকুয়া ইন্ডিয়ান নৃগোষ্ঠীর উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কে গবেষণা করে হেনরি মর্গান ১৮৭৭ সালে রচনা করেন 'Ancient Society', যেখানে তিনি সমাজ বিবর্তনের তিনটি ধাপ চিহ্নিত করেন; যথা- বন্যদশা, বর্বরদশা ও সভ্যতা। এছাড়া মর্গান আদিম পরিবারব্যবস্থা, বিবাহ এবং সম্পত্তির বিকাশ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা করেছেন, যা সামাজিক নৃবিজ্ঞানের ভিত্তিমূল হিসেবে বিবেচিত হয়। বস্তুত নতুন একটি বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের পথচলায় লুইস হেনরি মর্গানের বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!