পরিবার হলো স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তানের সমন্বয়ে গঠিত একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলতে কতগুলো সুনির্দিষ্ট আচার-আচরণ এবং কার্যপ্রণালীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন- বিবাহ, পরিবার, ধর্ম ইত্যাদি।
সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজ অনুমোদিত কর্মপদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের বহুমুখী মানবিক প্রয়োজন পূরণ করে। এর মাধ্যমে সমাজ নির্ধারিত এবং রাষ্ট্র প্রবর্তিত কিছু নিয়ম-নীতি বা পদ্ধতি সমাজের মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
ছকের প্রশ্নবোধক স্থানে 'গণমাধ্যম' শব্দটি বসবে। সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধে এর ভূমিকা অপরিসীম।
সামাজিক সমস্যা সমাজের উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে বিভিন্ন অবস্থান থেকে বিভিন্নভাবে প্রচেষ্টা চালানো হয়। বর্তমান স্যাটেলাইট এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি ও প্রসারের যুগে সামাজিক সমস্যা সমাধান বা প্রতিরোধে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো আগের তুলনায় আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
গণমাধ্যমের অন্যতম শাখা হলো সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন। সমাজের যেকোনো অসঙ্গতি, অসাধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপকর্ম, বিভিন্ন অপরাধ, দুর্নীতি ইত্যাদি বিষয়ে তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সংবাদপত্রগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবার টেলিভিশন বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ও সবচেয়ে জনপ্রিয় গণমাধ্যম। সমাজ ও জাতীয় জীবনের নানারকম অনিয়ম, অন্যায়-অবিচার, অপরাধ বা দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এছাড়া সমাজ ও রাষ্ট্র তথা জাতির উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির বড় ভূমিকা রয়েছে।
ইন্টারনেট সামাজিক যোগাযোগ ও তথ্যের প্রচারকে অনেক সহজ করেছে। এতে করে নাগরিক বিড়ম্বনা, নারী নির্যাতন বা শিশু পাচারের মতো অসংখ্য সমস্যা মোকাবিলায় সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা সহজ হচ্ছে। ইন্টারনেটভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো (যেমন- ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ) চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তাই বলা যায়, ছকের প্রশ্নবোধক স্থানে উল্লিখিত গণমাধ্যম সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তি
গণমাধ্যমের ভূমিকার উন্নয়নে একজন সমাজকর্মী নিজস্ব জ্ঞান, দক্ষতা ও কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
আধুনিক বিশ্বে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান বাহন হলো গণমাধ্যম। এর মাধ্যমে সমাজের বৃহত্তর অংশের সাথে যোগাযোগ স্থাপিত হয়। এ কারণে সাধারণ মানুষের চিন্তাচেতনা ও মন-মানসিকতার পরিবর্তনে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেকোনো সমাজে সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে স্বাধীনতা না থাকা, দক্ষতা-অভিজ্ঞতার অভাব বা মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতাসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম তার ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হতে পারে। এক্ষেত্রে নেতিবাচক পরিস্থিতির মোকাবিলা ও সমাধানে সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। কেননা তারা বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যমের কিছু সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যেমন- বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, মানসম্মত অনুষ্ঠান
সম্প্রচার, হলুদ সাংবাদিকতা পরিহার প্রভৃতি। গণমাধ্যম এ ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হলে গুরুতর সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী তার পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারেন। তাদের প্রচেষ্টার ফলে গণমাধ্যমের ভূমিকা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হতে পারে। তাই গণমাধ্যম ও এর কর্মীদের সঠিক ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলার ক্ষেত্রে সমাজকর্মের হস্তক্ষেপ কৌশল সহায়ক হয়।
সামগ্রিক আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, গণমাধ্যম হলো সমাজের দর্পণ, আর সমাজকর্মীরা হলেন ইতিবাচক সমাজ পরিবর্তনের প্রতিনিধি। তাই ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গণমাধ্যমকে যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম করতে সমাজকর্মীরা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
Related Question
View Allরাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।
বিবাহের প্রধান ভূমিকা পরিবার গঠন।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!