তিস্তা নদীর উৎপত্তি সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে।
প্রাচীনকাল থেকেই নদী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। অর্থনীতির প্রাণ পরিবহণ ব্যবস্থা দিস এক সময় প্রধানত নদীভিত্তিক। এছাড়াও নদীতে প্রাপ্ত বিভিন্ন ধরনের মাছ, জলজ প্রাণী, পানি, নদীবাহিত পলি, বাণিজ্য ও শিল্পে নদীর ব্যবহার ইত্যাদি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নদীর ভূমিকাকে শক্তিশালী করেছে। এ নদীকে কেন্দ্র করেই প্রাচীনকালের বিভিন্ন সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সচ্ছল হয়ে ওঠে।
'ক' চিহ্নিত বনভূমিটি হলো ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি।
কেননা এ বনভূমির মোট আয়তন ১৪,০০০ বর্গ কিলোমিটার এবং মেহগনি, তেলসুর বনভূমির অন্যতম প্রধান গাছ। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলকে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্র পতনশীল বনভূমি এলাকা নামে অভিহিত করা হয়। মূলত উষ্ণ ও আর্দ্রভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুল্মজন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোটেও না ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ থাকে। এদেশের চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সিলেট এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন এ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ। সিলেটের পাহাড়ে প্রচুর বাঁশ ও বেত জন্মে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে রবার চাষ হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' বনভূমিটি হলো স্রোেতজ বা গরান বনভূমি।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে খুলনা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম জেলার উপকূলে জোয়ার-ভাটার লোনা ও ভেজা মাটিতে যেসব উদ্ভিদ জন্মায় তাদের স্রোতর্জ বা গরান বনভূমি বলা হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্রোতজ বা গরান বনভূমির প্রভাব ব্যাপক। এ অঞ্চলের বৃক্ষসমূহ তথা সুন্দরি, গেওয়া, পশুর, ধুন্দল, কেওড়া, বাইন, গরান ইত্যাদি নানা উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এসব বনাঞ্চল হতে লাখ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। মাওয়ালি, কাঠুরে ও জেলেরা বেঁচে থাকার জন্য এ বনভূমির প্রতি নির্ভরশীল। সরকার এসব বনাঞ্চল হতে প্রচুর টাকা রাজস্ব আয় করে। এসব এলাকার জ্বালানি, সুন্দরবনের অভ্যন্তরে ও উপকূল এলাকার বিপুল মৎস্য সম্পদ, বনজ সম্পদ, মধু, মোম এবং বন্যপ্রাণী মিলিয়ে সম্পদের খনি বললেও ভুল হবে না। এসব বনাঞ্চল থেকে প্রাপ্ত কাঠের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটন শিল্পে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। এছাড়াও এ বনভূমি হতে ওষুধ তৈরির উপাদান পাওয়া যায়।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্রোতজ ও গরান বনভূমির প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allতিব্বতের মানস সরোবরে ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি হয়ে আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় এটি প্রবেশ করেছে। ১৭৮৭ সালের পূর্বে ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারাটি ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে উত্তর- পশ্চিম দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বদিকে আড়াআড়িভাবে প্রবাহিত হতো। কিন্তু ১৭৮৭ সালে সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায় এবং নতুন স্রোতধারার শাখা নদীর সৃষ্টি হয়। আর এ শাখা নদীটি যমুনা নামে পরিচিতি।
অনুচ্ছেদে বর্ণিত বনভূমিটি হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা।
সাধারণ উষ্ণ ও আর্দ্র ভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুল্ম জন্ম নেয়। এসব গাছের পাতা একত্রে ফোটেও না, ঝরেও না। ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ থাকে। অবশ্য সে কারণেই এসব বনকে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি বলা হয়। চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন এ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ। তবে বর্তমানে এসব বনভূমি রাবার চাষও হচ্ছে। তাছাড়া এ বনগুলো অনেক সৌন্দর্যের রূপ পরিগ্রহ করে।
উদ্দীপকের জাহিদ তার বিদেশি বন্ধুদের সাথে নিয়ে এই চিরহরিৎ বনভূমিতে বেড়াতে গিয়ে বনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়। প্রায় প্রতিনিয়তই সেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা যাওয়া-আসা করে থাকেন।
উদ্দীপকে জাহিদের করা মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে বর্ণিত নদীটির নাম কর্ণফুলী। কর্ণফুলি নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান নদী। এ নদীর উৎপত্তিস্থল লুসাই নামক পাহাড়ে। ৩২০ কি.মি. দৈর্ঘ্যের এ নদীটি চট্টগ্রাম শহরের খুব নিকট দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত। পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য এ নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাছাড়া এ নদীটি আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। উদ্দীপকে জাহিদ ছুটিতে তার বিদেশি সহপাঠীদের নিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলে ফেরার পথে বেড়াতে গিয়ে সে অঞ্চলের প্রধান নদীটি সম্পর্কে যে মন্তব্যটি করে তা কর্ণফুলি নদীকেই বুঝিয়েছে যা আলোচনায় স্পষ্ট।
তাই আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, উদ্দীপকে জাহিদের মন্তব্যটি যথার্থ।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে।
নিরক্ষীয় নিম্ন অক্ষাংশ অঞ্চলে সূর্য বছরের প্রায় সব সময়ই লম্বভাবে কিরণ দেয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অপরাপর দেশগুলো নিরক্ষীয় বা ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত। আর তাই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রচুর সৌরশক্তি পাওয়া যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!