সমাস হলো এমন একধরনের শব্দ যা দুটি অথবা ততোধিক পূর্ববর্তী শব্দের যোগফলে গঠিত হয়েছে এবং একই সময়ে ঐ শব্দগুলির অসমর্থনকে দূর করে। সমাসের মাধ্যমে শব্দগুলির যোগফল একটি নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে বলা হয় সমাস। এখানে কিছু সমাস এবং তাদের উদাহরণ দেওয়া হলো:
দ্বিনিম্নগুণ সমাস (বহুবচনার সমাস):
- উদাহরণ: বাগধারা (বাগ + ধারা)
- এখানে "বাগ" এবং "ধারা" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "বাগধারা" গঠিত হয়েছে।
বাহ্যিক সমাস (বাহ্যিক যোগগুলির সমাস):
- উদাহরণ: হাতকড়ি (হাত + কড়ি)
- এখানে "হাত" এবং "কড়ি" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "হাতকড়ি" গঠিত হয়েছে।
কর্মধারয় সমাস (কর্মধারযোগের সমাস):
- উদাহরণ: পুস্তকপাঠ (পুস্তক + পাঠ)
- এখানে "পুস্তক" এবং "পাঠ" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "পুস্তকপাঠ" গঠিত হয়েছে।
বহুব্রীহি সমাস (অনেকগুলি ব্রীহি শব্দের যোগগুলির সমাস):
- উদাহরণ: মহাভারত (মহা + ভারত)
- এখানে "মহা" এবং "ভারত" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "মহাভারত" গঠিত হয়েছে।
বাহ্যিক সমাস (বাহ্যিক যোগগুলির সমাস):
- উদাহরণ: দূরদর্শন (দূর + দর্শন)
- এখানে "দূর" এবং "দর্শন" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "দূরদর্শন" গঠিত হয়েছে।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী আপনার দেওয়া শব্দগুলোর ভুল বানান এবং তার কারণ নিচে আলোচনা করা হলো:
১. সূচীপত্র:
সঠিক বানান: সূচি (চি) পত্র
কারণ: বাংলা একাডেমি প্রমিত বানান রীতি অনুযায়ী, তৎসম শব্দে ই-কারান্ত বা উ-কারান্ত শব্দ বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত না হলে সেটি হ্রস্ব রূপে ব্যবহৃত হয়।
২. কাৰ্য্যালয়:
সঠিক বানান: কার্যালয়
কারণ: "কার্য" একটি তৎসম শব্দ। বাংলা একাডেমি প্রমিত বানান অনুযায়ী, তৎসম শব্দের বানানে সাধারণত পরিবর্তন হয় না।
৩. কৃতীত্ব:
সঠিক বানান: কৃতিত্ব
কারণ: বানানের শেষে ঈ-কার হবে না।
৪. ক্ষিদে:
সঠিক বানান: খিদে
কারণ: এটি একটি আঞ্চলিক বা কথ্য শব্দ, প্রমিত বানানে "ক্ষ" এর পরিবর্তে "খ" ব্যবহৃত হয়।
৫. ফরিয়াদী:
সঠিক বানান: ফরিয়াদি
কারণ: শব্দটির শেষে ঈ-কার ব্যবহার না হয়ে ই-কার হবে।
৬. শুভঙ্কর:
সঠিক বানান: শুভংকর
কারণ: বানানে সাধারণত পরিবর্তন হয় না।
কেবল প্রতিযোগীরাই মঞ্চে আসবে
নিরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।
বাক্যের শ্রেণিবিভাগ সংজ্ঞার্থ ও উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
সংজ্ঞার্থক বাক্য (বর্ণনামূলক):
- সংজ্ঞার্থক বাক্য হলো এমন বাক্য যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে কিছু বর্ণনা করা।
- উদাহরণ: বইমেলা একটি উপকরণ।
উপমৌক বাক্য (ঘটনার বর্ণনা):
- উপমৌক বাক্যে কোন ঘটনা, ঘটনার বর্ণনা বা বৃত্তান্ত থাকে।
- উদাহরণ: রমা বাজারে গিয়ে আম কিনতে আসছে।
সাধারণ বাক্য (উপমৌলক বা সাধারণ কিছু বলার জন্য):
- এই বাক্যে কোন ঘটনা বা সংভাষণ নেই, এবং মূলত কিছু সাধারিতা বা সাধারণ কিছু বলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- উদাহরণ: আমি পড়ছি।
কাজের বাক্য (কোন কাজ বা ক্রিয়ার সাথে):
- এই বাক্যে কোন কাজ বা ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত তথ্য থাকে।
- উদাহরণ: সোনার বাংলা দিবসটি পৌরাণিকভাবে উৎসব করা হয়।
অভিধান বা শব্দকোষের বাক্য (শব্দের সংদর্শন অর্থ দেওয়ার জন্য):
- এই বাক্যে কোন শব্দ বা শব্দগুলির সংদর্শন অর্থ দেওয়ার জন্য একটি বাক্য থাকে।
- উদাহরণ: "প্রতিবন্ধী" শব্দের বাংলা অর্থ হলো অপেক্ষাকৃত বা সহিত যে ব্যক্তি বা পবিত্র স্থানের মুখ্যকর্মী থাকে।
Related Question
View Allযে সমাজে বহু মানুষের মন তারুণ্যে ভরপুর, সেই সমাজ চিরযৌবনা। মনের এই তারুণ্য ধরে রাখতে হলে বার্ধক্যকে জয় করতে হয়। দেহের তারুণ্য শেষ হলেও সমাজের কাছ থেকে আমরা বার্ধক্যের রাজ্যে যৌবনের অধিকার প্রতিষ্ঠার শক্তি পাই। ব্যক্তিগত জীবনে ফাল্গুন বারবার না এলেও সমাজে নতুন জীবন, নতুন মন, নতুন আশা, ভালোবাসা ও চিন্তার জন্ম হয় প্রতিনিয়ত। যে ব্যক্তি সমাজের এই জীবনধারা নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে, তার মনের যৌবন কখনো মলিন হয় না। বরং, সে তার কর্ম ও কথায় সেই তারুণ্য সমাজকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এই শৃঙ্গার সাহিত্যে মানব জীবন, মানব সম্পর্ক, এবং ভাবনার বিশেষ দিক উপস্থাপন করে। চর্যাপদ বা শৃঙ্গার সাহিত্যের মাধ্যমে লেখকরা মানবকে একে অপরের সাথে জড়িত করার চেষ্টা করে, সাহিত্যিক ভাবনা এবং ভাষার মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের সম্পর্কে বিশেষ পরিকল্পনা প্রদান করে।
চর্যাপদ বা শৃঙ্গার সাহিত্যে ভাষা, ভাবনা, এবং কল্পনা একই সঙ্গে একত্র হয়ে সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, এবং এটি লেখকের ভাবনা এবং বিশেষ ভাবে যোগান্তর করে। এটি মানব প্রেম, রোমান্টিক আবেগ, সৃষ্টিতত্ত্ব, সুন্দরতা, প্রাকৃতিক বৃদ্ধি, এবং সাধারণ মানব জীবনের অমুক দিক আলোচনা করতে সক্ষম। চর্যাপদ ভাষার সৌন্দর্য্য, সংগতি, এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে পাঠকদের মাধ্যমে অভিজ্ঞান করার জন্য এক অদৃশ্য দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
চর্যাপদের সাহিত্যিক উপাদানগুলি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধ্যয়নে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, এবং এটি সমাজের অধিকাংশ মানুষের জীবনে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এটি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অভিরুচি, রুচি, এবং সংবাদের সঙ্গে একইভাবে সম্পর্কিত, এবং এর মাধ্যমে চরিত্র, ভাষা, এবং সমাজের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করা হয়।
চর্যাপদ একটি সংক্ষেপমূলক, সুসংবাদ এবং অসাধারণ সাহিত্যিক উপাদান যা বাংলা সাহিত্যে একটি অমূল্য সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
"অন্ধকার যুগ" বাংলা সাহিত্যে একটি গভীর এবং উদার প্রয়াস, যা সময়ের মোড়ে আসার প্রথম দিকে আত্ম-সচেতনতা এবং জনসাধারণের জীবনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করতে কাজ করেছে। এই প্রয়াসের মাধ্যমে, লেখকরা সমাজের সমস্যা এবং অস্তিত্বের সম্পর্কে আলোচনা করে, আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ করে এবং সমাজের চেতনা উত্তরাধিকার করতে চেষ্টা করেছে।
"অন্ধকার যুগ" হয়তো সৃষ্টি হয়েছিল বিশেষভাবে 20শ শতাব্দীর দশকে, যখন সমাজে বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ উত্থান করতে আরও বেড়ে গেছিল। এই যুগে বিশ্বের বৃহত্তম সাহিত্যিকরা, ভারতের সাহিত্যিক জগতের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও, এখানে অতি গভীর ও সংঘর্ষবাদী আবেগ থাকায় তারা সমস্যাগুলি নিজেদের সমাধান প্রস্তুত করতে চাননি।
এই সময়ে ভারতে অসমিক্ষ্য সময়, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, এবং অস্তিত্ব ও নাগরিক অধিকারের লড়াই ছিল একটি মুখোমুখি সংঘর্ষের দিকে, যা সাহিত্যিকরা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে অভিব্যক্তি করতে চেষ্টা করেছিল। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যে "অন্ধকার যুগ" হয়তো একটি মৌলধর যুগ, যেটি সমাজে অবৈচারিক এবং প্রজন্ম বিতর্কিত ঘটনাগুলির চরম দক্ষতা এবং বিশেষ করে সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে ব্যক্ত হয়।
জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যে একজন প্রমুখ লেখক এবং বিখ্যাত কবি, কাহিনিকার মাধ্যমে তার বিশিষ্ট শৈলী এবং বৈশিষ্ট্যগুলি জনপ্রিয় হয়েছে। জসীম উদ্দীনের কাহিনিকাব্যসমূহের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
1. **সামাজিক চিত্রণ:** জসীম উদ্দীনের কাহিনিকার মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক সমস্যা গুলির বিশেষ চিত্রণ রয়েছে। তার লেখায় সামাজিক অসমতা, মূল্যবাদ, পারিবারিক বন্ধন, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে উপস্থাপনা করা হয়েছে।
2. **চিন্তামূলক লেখার শৈলী:** জসীম উদ্দীনের লেখার শৈলী চিন্তামূলক এবং গভীর। তার কাহিনিগুলি সাহিত্যিক উপন্যাস এবং ছোট গল্পের সমন্বিত সংমিশ্রণ, যা পাঠকদের জীবনের বিভিন্ন দিকে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।
3. **মানবিক ভাবনা ও মনের ভাষা:** উদ্দীনের লেখায় মানবিক ভাবনা ও মানসিক চোখে সমস্যা এবং অনুভূতি নিজের ভাষায় অভিব্যক্ত করা হয়েছে। তার লেখায় কয়েকটি অধ্যায় আপনার হৃদয়ে ভূমিকায়িত হবে এবং তার মনের ভাষা পড়ে যাবে।
4. **সাংস্কৃতিক উদ্যানের সাহচর্য:** জসীম উদ্দীনের লেখায় বাংলার সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্যিক উদ্যান উপস্থিত থাকে। তার কাহিনিগুলি বাংলার মানবতা, সংস্কৃতি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!