সমাস হলো এমন একধরনের শব্দ যা দুটি অথবা ততোধিক পূর্ববর্তী শব্দের যোগফলে গঠিত হয়েছে এবং একই সময়ে ঐ শব্দগুলির অসমর্থনকে দূর করে। সমাসের মাধ্যমে শব্দগুলির যোগফল একটি নতুন শব্দ তৈরি করে তাকে বলা হয় সমাস। এখানে কিছু সমাস এবং তাদের উদাহরণ দেওয়া হলো:
দ্বিনিম্নগুণ সমাস (বহুবচনার সমাস):
উদাহরণ: বাগধারা (বাগ + ধারা)
এখানে "বাগ" এবং "ধারা" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "বাগধারা" গঠিত হয়েছে।
বাহ্যিক সমাস (বাহ্যিক যোগগুলির সমাস):
উদাহরণ: হাতকড়ি (হাত + কড়ি)
এখানে "হাত" এবং "কড়ি" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "হাতকড়ি" গঠিত হয়েছে।
কর্মধারয় সমাস (কর্মধারযোগের সমাস):
উদাহরণ: পুস্তকপাঠ (পুস্তক + পাঠ)
এখানে "পুস্তক" এবং "পাঠ" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "পুস্তকপাঠ" গঠিত হয়েছে।
বহুব্রীহি সমাস (অনেকগুলি ব্রীহি শব্দের যোগগুলির সমাস):
উদাহরণ: মহাভারত (মহা + ভারত)
এখানে "মহা" এবং "ভারত" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "মহাভারত" গঠিত হয়েছে।
বাহ্যিক সমাস (বাহ্যিক যোগগুলির সমাস):
উদাহরণ: দূরদর্শন (দূর + দর্শন)
এখানে "দূর" এবং "দর্শন" দুইটি পূর্ববর্তী শব্দ, এবং এই দুটি শব্দের মাঝের বিন্দুতে একটি নতুন শব্দ "দূরদর্শন" গঠিত হয়েছে।
শব্দটির শুদ্ধ বানান কৃতিত্ব। ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দ 'কৃতী'-এর সাথে 'ত্ব' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ায় প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী দীর্ঘই-কার (ী) পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্বই-কার (ি) হয়।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শব্দের শেষে দীর্ঘই-কার (ী-কার) রয়েছে (ইন-প্রত্যয়ান্ত শব্দ), সেগুলোর সাথে 'ত্ব', 'তা', 'নী', 'সভা', 'পরিষদ', 'জগত' ইত্যাদি প্রত্যয় বা শব্দ যুক্ত হলে পূর্বপদের দীর্ঘই-কার (ী) হ্রাস পেয়ে হ্রস্বই-কার (ি) হয়।
শব্দ বিশ্লেষণ: কৃতী + ত্ব = কৃতিত্ব। (এখানে 'কৃতী' শব্দের দীর্ঘই-কার 'ত্ব' প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার পর হ্রস্বই-কারে পরিণত হয়েছে)।
প্রদত্ত বাক্যটিতে দুটি প্রধান ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে:
শব্দপ্রয়োগজনিত ভুল: 'স্বাক্ষী' শব্দটি 'স্বাক্ষর' (দস্তখত) থেকে এসেছে, যার অর্থ স্বাক্ষরকারী। কিন্তু আদালতে জবানবন্দি বা প্রমাণ পেশ করার ক্ষেত্রে সঠিক শব্দ হলো 'সাক্ষ্য'। তাই 'স্বাক্ষী দেওয়া'-র পরিবর্তে 'সাক্ষ্য দেওয়া' হবে।
বাহুল্য বা পুনরুক্তি দোষ: 'আমরণ' অব্যয়ীভাব সমাসবদ্ধ শব্দ, যার অর্থ 'মরণ পর্যন্ত'। ফলে 'আমরণ' শব্দটির পর পুনরায় 'পর্যন্ত' ব্যবহার করলে বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ বা পুনরুক্তি দোষ ঘটে। তাই 'আমরণ পর্যন্ত'-এর বদলে কেবল 'আমরণ' অথবা 'আমৃত্যু' লিখতে হবে।
উত্তরঃ
তার কনিষ্ঠা কন্যা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত।
ব্যাখ্যা:
প্রদত্ত বাক্যটিতে ব্যাকরণগত ভুল রয়েছে:
আতিশয্যজনিত ভুল (বাহুল্য দোষ): 'কনিষ্ঠ' শব্দটির অর্থই হলো 'সবচেয়ে ছোট'। তাই 'কনিষ্ঠ' শব্দের সাথে পুনরায় 'তম' প্রত্যয় যুক্ত করে 'কনিষ্ঠতম' লেখা আতিশয্যজনিত অশুদ্ধি বা বাহুল্য দোষের অন্তর্ভুক্ত।
লিঙ্গ সংক্রান্ত প্রয়োগ: 'কন্যা' শব্দটি স্ত্রীবাচক বিশেষ্য। তাই এর পূর্বে ব্যবহৃত বিশেষণটি স্ত্রীবাচক রূপ 'কনিষ্ঠা' হওয়া অধিক সংগত।
অতএব, বাক্যটির সঠিক ও শুদ্ধ রূপ হলো: তার কনিষ্ঠা কন্যা দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত।
ক্লাস চলাকালীন 'ইউনিফর্ম' ছাড়া অন্য পোশাক পরা নিষেধ।
প্রদত্ত বাক্যটিতে দুটি প্রধান অশুদ্ধি রয়েছে:
বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি: 'চলাকালীন' শব্দের মধ্যেই 'কাল' বা 'সময়' অর্থটি নিহিত রয়েছে। ফলে 'চলাকালীন সময়ে' বললে একই অর্থ প্রকাশে শব্দের দ্বিরুক্তি বা বাহুল্য দোষ ঘটে। তাই সঠিক রূপ হবে কেবল 'চলাকালীন' অথবা 'ক্লাসের সময়ে'।
বানান ও শব্দপ্রয়োগগত অশুদ্ধি: পোষাক পরিধান করা অর্থে 'পরা' ('র' দিয়ে) ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে, 'পড়া' ('ড়' দিয়ে) বলতে কোনো কিছু পাঠ করা (যেমন: বই পড়া) বা নিচে পতিত হওয়া বোঝায়।
উত্তরঃ
কাহাকেও ব্যতিব্যস্ত বা হয়রান করা, বা নিজের ইশারায় নাচানো।
'লেজে খেলানো' একটি বাংলা প্রবাদ, যার আভিধানিক অর্থ হলো কোনো ব্যক্তিকে ক্রমাগত বিরক্ত করা, হয়রান করা বা নিজেদের ইচ্ছামতো পরিচালনা করা। এই প্রবাদটি সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয় যখন একজন ব্যক্তি অন্য কারো উপর সম্পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে এবং তাকে নিজেদের মর্জিমাফিক কাজ করিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেখানে একজন ক্ষমতাবান ব্যক্তি তার প্রভাব খাটিয়ে অন্যকে তার ইচ্ছেমতো নাচায় বা অস্থির করে তোলে।
একই পরিশ্রমে বা একই সঙ্গে দুটি কাজ সম্পাদন করা বা দুটি উদ্দেশ্য সফল করা।
রথ দেখা কলা বেচা প্রবাদটির নিহিতার্থ হলো, একই সময়ে একটি কাজ করার মাধ্যমে দুটি ভিন্ন উদ্দেশ্য বা ফল লাভ করা। এটি এমন একটি পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে গিয়ে তার পাশাপাশি অন্য একটি কাজও সেরে ফেলেন, যা তাকে দ্বৈত সুবিধা প্রদান করে। যেমন, কোনো উৎসব দেখতে গিয়ে একই সাথে ব্যবসার কাজও সেরে ফেলা। এই প্রবাদটি সাধারণত দক্ষতা, সময়োপযোগিতা এবং বিচক্ষণতার পরিচায়ক, যেখানে সীমিত সম্পদ বা প্রচেষ্টায় সর্বোচ্চ ফল লাভের চেষ্টা করা হয়।
উত্তরঃ
নিজের জিনিস বা সম্পদ ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজন মেটানো বা নিজের উপায় দ্বারা কাজ সিদ্ধ করা।
এই প্রবাদটির মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, কোনো ব্যক্তি বা পক্ষ তার নিজস্ব সম্পদ, উপায় বা ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের প্রয়োজন মেটায় বা নিজের উদ্দেশ্য সাধন করে। এটি স্বাবলম্বিতা এবং বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে, যেখানে বাইরের সাহায্যের অপেক্ষা না করে উপলব্ধ উপকরণ দিয়েই সমস্যার সমাধান করা হয়। যেমন, কৈ মাছের নিজের শরীর থেকে বের হওয়া সামান্য তেল দিয়েই সেই মাছ ভাজা যায় – এর অর্থ হলো, বাইরের কোনো উপকরণের প্রয়োজন নেই, নিজের থেকেই সব ব্যবস্থা করা সম্ভব।
যে সমাজে বহু মানুষের মন তারুণ্যে ভরপুর, সেই সমাজ চিরযৌবনা। মনের এই তারুণ্য ধরে রাখতে হলে বার্ধক্যকে জয় করতে হয়। দেহের তারুণ্য শেষ হলেও সমাজের কাছ থেকে আমরা বার্ধক্যের রাজ্যে যৌবনের অধিকার প্রতিষ্ঠার শক্তি পাই। ব্যক্তিগত জীবনে ফাল্গুন বারবার না এলেও সমাজে নতুন জীবন, নতুন মন, নতুন আশা, ভালোবাসা ও চিন্তার জন্ম হয় প্রতিনিয়ত। যে ব্যক্তি সমাজের এই জীবনধারা নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারে, তার মনের যৌবন কখনো মলিন হয় না। বরং, সে তার কর্ম ও কথায় সেই তারুণ্য সমাজকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ এই শৃঙ্গার সাহিত্যে মানব জীবন, মানব সম্পর্ক, এবং ভাবনার বিশেষ দিক উপস্থাপন করে। চর্যাপদ বা শৃঙ্গার সাহিত্যের মাধ্যমে লেখকরা মানবকে একে অপরের সাথে জড়িত করার চেষ্টা করে, সাহিত্যিক ভাবনা এবং ভাষার মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের সম্পর্কে বিশেষ পরিকল্পনা প্রদান করে।
চর্যাপদ বা শৃঙ্গার সাহিত্যে ভাষা, ভাবনা, এবং কল্পনা একই সঙ্গে একত্র হয়ে সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়, এবং এটি লেখকের ভাবনা এবং বিশেষ ভাবে যোগান্তর করে। এটি মানব প্রেম, রোমান্টিক আবেগ, সৃষ্টিতত্ত্ব, সুন্দরতা, প্রাকৃতিক বৃদ্ধি, এবং সাধারণ মানব জীবনের অমুক দিক আলোচনা করতে সক্ষম। চর্যাপদ ভাষার সৌন্দর্য্য, সংগতি, এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে পাঠকদের মাধ্যমে অভিজ্ঞান করার জন্য এক অদৃশ্য দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি করতে সক্ষম।
চর্যাপদের সাহিত্যিক উপাদানগুলি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক অধ্যয়নে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, এবং এটি সমাজের অধিকাংশ মানুষের জীবনে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এটি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি অভিরুচি, রুচি, এবং সংবাদের সঙ্গে একইভাবে সম্পর্কিত, এবং এর মাধ্যমে চরিত্র, ভাষা, এবং সমাজের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করা হয়।
চর্যাপদ একটি সংক্ষেপমূলক, সুসংবাদ এবং অসাধারণ সাহিত্যিক উপাদান যা বাংলা সাহিত্যে একটি অমূল্য সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
"অন্ধকার যুগ" বাংলা সাহিত্যে একটি গভীর এবং উদার প্রয়াস, যা সময়ের মোড়ে আসার প্রথম দিকে আত্ম-সচেতনতা এবং জনসাধারণের জীবনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করতে কাজ করেছে। এই প্রয়াসের মাধ্যমে, লেখকরা সমাজের সমস্যা এবং অস্তিত্বের সম্পর্কে আলোচনা করে, আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ করে এবং সমাজের চেতনা উত্তরাধিকার করতে চেষ্টা করেছে।
"অন্ধকার যুগ" হয়তো সৃষ্টি হয়েছিল বিশেষভাবে 20শ শতাব্দীর দশকে, যখন সমাজে বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ উত্থান করতে আরও বেড়ে গেছিল। এই যুগে বিশ্বের বৃহত্তম সাহিত্যিকরা, ভারতের সাহিত্যিক জগতের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও, এখানে অতি গভীর ও সংঘর্ষবাদী আবেগ থাকায় তারা সমস্যাগুলি নিজেদের সমাধান প্রস্তুত করতে চাননি।
এই সময়ে ভারতে অসমিক্ষ্য সময়, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, এবং অস্তিত্ব ও নাগরিক অধিকারের লড়াই ছিল একটি মুখোমুখি সংঘর্ষের দিকে, যা সাহিত্যিকরা এবং সাহিত্যের মাধ্যমে অভিব্যক্তি করতে চেষ্টা করেছিল। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যে "অন্ধকার যুগ" হয়তো একটি মৌলধর যুগ, যেটি সমাজে অবৈচারিক এবং প্রজন্ম বিতর্কিত ঘটনাগুলির চরম দক্ষতা এবং বিশেষ করে সাহিত্যিক প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে ব্যক্ত হয়।
জসীম উদ্দীন বাংলা সাহিত্যে একজন প্রমুখ লেখক এবং বিখ্যাত কবি, কাহিনিকার মাধ্যমে তার বিশিষ্ট শৈলী এবং বৈশিষ্ট্যগুলি জনপ্রিয় হয়েছে। জসীম উদ্দীনের কাহিনিকাব্যসমূহের কিছু বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
1. **সামাজিক চিত্রণ:** জসীম উদ্দীনের কাহিনিকার মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক সমস্যা গুলির বিশেষ চিত্রণ রয়েছে। তার লেখায় সামাজিক অসমতা, মূল্যবাদ, পারিবারিক বন্ধন, বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ে উপস্থাপনা করা হয়েছে।
2. **চিন্তামূলক লেখার শৈলী:** জসীম উদ্দীনের লেখার শৈলী চিন্তামূলক এবং গভীর। তার কাহিনিগুলি সাহিত্যিক উপন্যাস এবং ছোট গল্পের সমন্বিত সংমিশ্রণ, যা পাঠকদের জীবনের বিভিন্ন দিকে চিন্তা করতে উৎসাহিত করে।
3. **মানবিক ভাবনা ও মনের ভাষা:** উদ্দীনের লেখায় মানবিক ভাবনা ও মানসিক চোখে সমস্যা এবং অনুভূতি নিজের ভাষায় অভিব্যক্ত করা হয়েছে। তার লেখায় কয়েকটি অধ্যায় আপনার হৃদয়ে ভূমিকায়িত হবে এবং তার মনের ভাষা পড়ে যাবে।
4. **সাংস্কৃতিক উদ্যানের সাহচর্য:** জসীম উদ্দীনের লেখায় বাংলার সাংস্কৃতিক এবং সাহিত্যিক উদ্যান উপস্থিত থাকে। তার কাহিনিগুলি বাংলার মানবতা, সংস্কৃতি
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীসমাজকে অন্ধকার ও কুসংস্কারের গহ্বর থেকে মুক্ত করতে তিনি সাহিত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তাঁর সাহিত্যকৃতির প্রধান স্বাতন্ত্র্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
নারী জাগরণ ও মুক্তিচিন্তা: বেগম রোকেয়ার সাহিত্যের মূল সুরই হলো নারীমুক্তি ও নারীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা। 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'অর্ধাঙ্গী' ও 'গৃহ' প্রবন্ধে তিনি অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও শিক্ষার মাধ্যমে নারীজাতির স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ ও শ্লেষাত্মক রসবোধ: পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র শ্লেষ ও ব্যঙ্গাত্মক ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাঁর 'অবরোধবাসিনী' গ্রন্থে অবরোধপ্রথার অসংগতি ও নির্মম বাস্তবতাকে উপহাসের ছলে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
প্রথম নারীবাদী বিজ্ঞান কল্পকাহিনী (Science Fiction): বাংলা সাহিত্যে তো বটেই, বিশ্বসাহিত্যেও তিনি অন্যতম প্রথম নারী যিনি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী রচনা করেছেন। তাঁর কালজয়ী গ্রন্থ 'Sultana's Dream' (সুলতানার স্বপ্ন) একটি অনন্য নারীবাদী ইউটোপিয়ান বিজ্ঞান কল্পকাহিনী, যেখানে প্রযুক্তিনির্ভর নারীশাসিত সমাজের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে।
যুক্তিভিত্তিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি: তিনি অন্ধ ধর্মীয় প্রথা ও সামাজিক কুসংস্কারকে ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত মূল চেতনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেননি। 'মতিচূর' (১ম ও ২য় খণ্ড) প্রবন্ধগ্রন্থে তাঁর এই বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তাধারার সুস্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে।
স্পষ্টভাষিতা ও বলিষ্ঠ গদ্যরীতি: রোকেয়ার গদ্যরীতি অলংকারবহুল জটিলতা মুক্ত, অত্যন্ত প্রত্যক্ষ, প্রাঞ্জল ও দূরদর্শী। কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়াই তিনি সমাজের মৌলিক সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন।
পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়ার সাহিত্য কেবল নান্দনিকতার সৃষ্টি নয়; বরং তা ছিল সামাজিক সংস্কার ও নারীমুক্তির এক বলিষ্ঠ আন্দোলন—যা তাঁকে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক একক ও স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। এর ভাষা ও বিষয়বস্তু দুর্বোধ্য এবং এর কবিরা ছিলেন বৌদ্ধ সাধক। এতে বিধৃত হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা। এ সময়ের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো গোষ্ঠী কেন্দ্রিকতা ও ধর্মনির্ভরতা। ধর্মের বিষয়টি সমাজজীবনের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রিত করেছে, তাই সাহিত্যে ধর্মের কথা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।
প্রাচীন যুগের সময়কাল-
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে
৬৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে
৯৫০-১২০০ খ্রি.
ড. সুকুমার সেনের মতে
৯০০-১৩৫০ খ্রি.
চর্যাপদ: বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য/কবিতা সংকলন চর্যাপদ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদিযুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন। ডক্টর হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে ১৯০৭ সালে 'চর্যাচর্য বিনিশ্চয়' নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন। চর্যাপদের সাথে 'ডাকার্ণব' ও 'দোহাকোষ' নামে আরও দুটি বই নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার হতে আবিষ্কৃত হয়। ১৯১৬ সালে সবগুলো বই একসাথে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে প্রকাশ করেন।
বাংলার পাল বংশের রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধর্মালম্বী। তাদের আমলে চর্যাগীতিগুলোর বিকাশ ঘটেছিল। সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে পদগুলো রচিত। পাল বংশের পরে আসে সেন বংশ। সেন বংশ হিন্দুধর্ম এবং ব্রাহ্মণ্যসংস্কার রাজধর্ম হিসাবে গ্রহণ করে। ফলে বৌদ্ধ সিদ্ধচার্যেরা এদেশ হতে বিতাড়িত হয় এবং নেপালে আশ্রয় গ্রহণ করে। তাই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন বাংলাদেশের বাহিরে নেপালে পাওয়া গেছে।
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
চর্যাপদের শব্দগুলো অপরিচিত, শব্দ ব্যবহারের রীতি বর্তমানের রীতি থেকে ভিন্ন --এর কবিতাগুলো পড়ে বুঝতে কষ্ট হয়। এজন্য চর্যাপদের ভাষাকে 'সন্ধ্যা ভাষা'ও বলে। চর্যাপদের কবিতাগুলো গাওয়া হত। তাই এগুলো একইসাথে গান ও কবিতা।
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তার 'বাঙলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশ' (Origin and Development of Bengali language) নামক গ্রন্থে ধ্বনি তত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, পদসংকলনটি আদি বাংলা ভাষায় রচিত। কেউ কেউ একে মৈথিলি, উড়িয়া বা আসামি ভাষা বলে দাবি করেন। ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, সেকালের বাংলা, উড়িয়া বা আসামি ভাষার পার্থক্য ছিল সামান্যই। উল্লেখ্য যে, চর্যাপদ উড়িষ্যা, বিহার, আসাম, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের নিজ নিজ ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসাবে বিবেচিত।
এতে মোট ৫১ টি পদ'রয়েছে। কয়েক পাতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সর্বমোট সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া গেছে। ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে উদ্ধার করা হয়েছে অর্থাৎ এর শেষাংশ পাওয়া যায়নি। ২৪, ২৫ ও ৪৮ নং পদগুলো পাওয়া যায়নি। চর্যাপদের মোট পদকর্তা ২৪। অনেকের মতে, আদি চর্যাকার লুইপা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীনতম চর্যাকার শবরপা এবং আধুনিকতম সরহ বা ভুসুকু। কাহ্নপা সর্বাধিক ১৩ টি পদ রচনা করেন।
রাজশাহী কলেজ গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুর্লভ চর্যাপদ এর অংশবিশেষ
চর্যাপদের কবি / পদকর্তা-
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে
২৩ জন
ড. সুকুমার সেনের মতে
২৪ জন
পদকর্তা: লুই, শবর, ককুরী, বিরুআ, গুণ্ডারী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, আজদেব, ঢেণ্টণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জঅনন্দি, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী। পদকর্তাদের নামের শেষে সম্মানসূচক 'পা' যোগ করা হয়। যেমন: লুই থেকে লুইপা, শবর থেকে শবরপা।
কাহ্ন : ১৩ টি পদ রচনা করেন।
ভুসুকু : ৮ টি পদ রচনা করেন।
সরহ : ৪ টি পদ রচনা করেন।
লুই, শান্তি ও শবরী: ২ টি করে পদ রচনা করেন।
বাকিরা : ১ টি করে পদ রচনা করেন।
লাড়ীডোম্বী : কোন পদ পাওয়া যায়নি।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫০টি এবং প্রাপ্ত পদ সাড়ে ছেচল্লিশটি।
ড. সুকুমার সেনের 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থের মতে, পদ সংখ্যা ৫১টি।
লুইপা। তিনি ২টি পদ রচনা করেন। যথা: ১, ২৯। হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, তিনি রাঢ় অঞ্চলের বাঙালি কবি হিসেবে পরিচিত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, তিনি শবরপার শিষ্য ছিলেন। লুইপাকে আদি চর্যাকার হিসেবে ধরে নেয়া হয়।
চর্যাপদের প্রথম পদটিঃ
কাআ (শরীর) তরুবর পঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল ॥
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ।
লুই ভণই (বলে) গুরু পুচ্ছিঅ জাণ ॥
সঅল সহিঅ কাহি করিঅই।
সুখ দুখেতে নিচিত মরিঅই ॥
এড়ি এউ ছান্দক বান্ধ করণক পাটের আস।
সুনুপথ ভিতি লেহু রে পাস ॥
ভণই লুই আমহে ঝাণে দিঠা।
ধমণ চমণ বেণি পিত্তি বইঠা ॥
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষা বা আলো-আঁধারির ভাষা।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, এর ভাষার নাম 'বঙ্গকামরূপী'। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
সমাজে বসবাস করতে হলে মানুষকে একে অপরের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলতে হয় এবং সমাজে শত্রু-মিত্র উভয়ের সাথেই কোন না কোনভাবে মেলামেশা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় সেটি হল শিক্ষা। মানুষের বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডটি অতীব জরুরি। কেননা, অশিক্ষিত বন্ধুর যত আন্তরিকতাই থাক না কেন, সে যে কোন মুহূর্তে নিজের অজ্ঞতাবশত অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বলা হয়, মূর্খ ব্যক্তি পশুর সমান। ভালোমন্দ বিচার করার যথাযথ ক্ষমতা তার নেই। অনেক সময় বন্ধুর ভালোর জন্য কিছু করলেও তার অজ্ঞতার কারণে তা বন্ধুর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। এজন্য তাকে দোষও দেওয়া যায় না। অন্যদিকে, শত্রুকে আমরা সাধারণত অনিষ্টের কারণ হিসেবেই বিবেচনা করি। কিন্তু তুলনামূলক বিচারে দেখা যায়, একজন মুর্খ বন্ধু অজ্ঞতাবশত যা করতে পারে, একজন শিক্ষিত শত্রু সজ্ঞানে তেমনটি করতে পারে না। জ্ঞানের নির্মল পরশ অন্তত তাকে এ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে। যদি অনিষ্ট সে করে তবে সেটা হবে তার দুরাচার। আর মানুষ সব সময়ই শত্রুর দুরাচার সম্পর্কে সজাগ থাকে। ফলে শত্রুর এ চেষ্টা সফল নাও হতে পারে। কিন্তু বন্ধুর ব্যাপারে কোন সন্দেহ না থাকায় মানুষ এতটা সতর্ক থাকে না। অথচ এ অসতর্কতার ফাঁকে মূর্খ বন্ধুর অজ্ঞতাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তাই বন্ধু নির্বাচনে জ্ঞান, প্রজ্ঞা আর শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা, জ্ঞান আলো এবং মূর্খতা অন্ধকারের সমতুল্য। আলোতে অনেক বিপদেও নিরাপদ থাকা যায়, অন্যদিকে অন্ধকারে সর্বদাই বিপদের আশঙ্কা থাকে
"ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন, কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন।"
এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "যতদিন ছিলে" কবিতার একটি অংশ।
**ভাব-সম্প্রসারণ:**
এই উদ্ধৃতিটি একটি গভীর জীবনদর্শনের প্রতিফলন। এখানে 'ভাবের ললিত ক্রোড়ে না রাখি নিলীন' বলতে বোঝানো হচ্ছে যে, ব্যক্তিগত চিন্তা, অনুভূতি বা ভাবনাগুলোকে শুধুমাত্র মনস্তাত্ত্বিক বা আবেগগতভাবে না রেখে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে হবে। 'নিলীন' শব্দের মাধ্যমে এখানে অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অন্তরেও লুকিয়ে থাকলে চলবে না। অন্যদিকে, 'কর্মক্ষেত্রে করি দাও সক্ষম স্বাধীন' বাক্যে বলা হচ্ছে যে, আমাদের দক্ষতা, কর্মক্ষমতা ও স্বাধীনতা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিতে পারি এবং যে কাজ করতে পারি, তা যেন আমাদের স্বাধীনতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হয়। এখানে স্বাধীনতার সাথে সক্ষমতার সম্মিলন প্রস্ফুটিত হচ্ছে, যেখানে ব্যক্তি নিজের দক্ষতা অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার স্বাধীনতা পায়। সংক্ষেপে, এই উদ্ধৃতিটি আমাদেরকে উৎসাহিত করে যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ ভাবনা বা চিন্তাকে শুধু মনে সীমাবদ্ধ না রেখে, বাস্তব জীবনের কাজে লাগিয়ে কার্যকরীভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রমাণ করতে হবে।
উত্তরঃ
আমরা সবসময় ভাবের গহনায়, অনুভূতির গভীরতায় হারিয়ে থাকি, যেখানে কোনো এক নিস্তব্ধতা বা মাধুর্য লুকিয়ে থাকে। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে, বাস্তব জীবনে সেই ভাবনার পরিবর্তে আমাদের প্রমাণিত করতে হয় আমাদের ক্ষমতা এবং স্বাধীনতার। সেখানে ভাবের বন্দি হয়ে থাকার সুযোগ নেই। আমরা যদি শুধু ভাবনায় নিমজ্জিত থাকি, তবে বাস্তবতার চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারব না।
এখানে "ভাবের ললিত ক্রোড়ে" বলতে বোঝানো হচ্ছে যে আমরা আমাদের ভাবনাগুলোকে এতটাই গুরুত্ব দিই যে সেগুলো আমাদের কর্মক্ষমতা বা স্বাধীনতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবিকভাবে আমাদের শক্তি এবং স্বাধীনতা আমাদের কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। আমাদের উচিত আমাদের ভাবনার সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে কাজ করা, যাতে আমাদের সক্ষমতা এবং স্বাধীনতা স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ পায়।
এইভাবে, কবি আমাদের শেখাতে চাইছেন যে ভাবনা ও কর্মের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। ভাবনার সৌন্দর্য বা গভীরতা তার স্থানেই মূল্যবান, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রয়োগই আসল বিষয়।
তরুণদের উচিত তাদের অমূল্য জীবনকে সার্থক করার জন্য তাদের অনন্ত শক্তিকে কাজে লাগানো।পূর্বপুরুষদের লিখিত পুঁথি ঘেঁটে বসে না থেকে বরং বর্তমানের নতুন পরিবেষ্টনের সাথে খাপ খাওয়ানো ।তাদের বর্তমানের বেদনাকে উপেক্ষা করে ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ স্থাপন করার চেষ্টা করা উচিত।অতীতের প্রতি আসক্তি মানুষকে অন্ধ করে দেয়, বর্তমানের পরিস্থিতি বুঝতে বাধা দেয়, ফলে দ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ, বিগ্রহ-বিপ্লব এবং রক্ত-বন্যার মতো ঘটনা ঘটে।মানুষের উচিত অতীতের সৃষ্টিকে অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা না করে বর্তমানের নব পরিবেষ্টনের সাথে খাপ খাওয়ানো।তরুণদের চিরকালই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে।
এ কালের দৃশ্যটি অত্যন্ত মন্দ এবং চিন্তামূলক। সমাজের প্রতিনিধিত্ব করা উচিত পরিস্থিতির মধ্যে পর্যায়ক্রমে হেঁটে যাচ্ছে অস্ত্রোচ্চারণ, অন্ধ প্রতিদ্বন্দ্বীতা, স্বতন্ত্রতার অভাব, এবং নৈতিক মূল্যবোধের হারানো অবস্থা। এ দৃশ্যে অনুভব হচ্ছে ক্রুরতা, অসহ্য প্রহরণ, এবং অমানুষিক ব্যবহারের উত্কৃষ্ট উদাহরণ। প্রত্যাশা ও নিরাপদতা এ সময়ে অস্তিত্বে নেই। এই সময়ে সতর্কতা ও শান্তিপূর্ণতা অত্যন্ত প্রয়োজন।