ধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সমাজের সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় থাকা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত হয়।
ইসলাম সব ধর্মের মানুষের প্রতি সহনশীল আচরণ করতে নির্দেশনা দেয়। ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীল আচরণের ফলে সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠে। দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দূর হয়। শান্তিপূর্ণ সমজা প্রতিষ্ঠিত, হয়। সকলের মধ্যে সাহায্য-সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। এজন্যই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সহনশীল আচরণ করা প্রয়োজন।
মহানবি (স.) মদিনার মুসলমান, ইহুদি ও পৌত্তলিকদের অধিকার রক্ষায় 'মদিনা সনদ' প্রণয়ন করেন। এ সনদ তাদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করে।
দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) জেরুজালেম জয়ের পর ঘোষণা করেন যে, অমুসলিমদের জীবন, সম্পদ, গির্জা ও ক্রুশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। কেউ তাদের গির্জায় বাস করবে না বা সেগুলো ধ্বংস করবে না। তাদের সম্পত্তি থেকে কিছুই নিবে না। ধর্মের ব্যাপারে তাদের ওপর কোনো জবরদস্তি করবে না এবং তাদের কারো ক্ষতি করবে না। এভাবেই হজরত উমর (রা.) ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার সুনিশ্চিত করে।
হজরত উমর (রা:) গির্জার ভিতরে নামাজ আদায় করতে রাজি হননি কারণ হলো যদি তিনি গির্জার ভিতরে নামাজ পড়েন তাহলে ভবিষ্যতে অন্যরা গির্জাকে মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করবে। যার কারণে হজরত উমর (রা.) গির্জার বাইরে নামাজ আদায় করেন।
বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং শান্তিতে বসবাস করাকেই ধর্মীয় সম্প্রীতি বলে। এটি এমন এক সামাজিক অবস্থা যেখানে সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে। সম্প্রীতি বজায় থাকলে সমাজে কোনো রকম কলহ বা বিবাদ সৃষ্টি হয় না।
একটি দেশে বা সমাজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে, তাই শান্তি বজায় রাখার জন্য সম্প্রীতি অত্যন্ত জরুরি। এটি মানুষের মধ্যে একতা তৈরি করে এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। সম্প্রীতি না থাকলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও হিংসা ছড়িয়ে পড়ে যা -কারও জন্যই কাম্য নয়।
ইসলাম ধর্ম অন্য ধর্মের মানুষের সাথে সম্ভাব ও সুন্দর আচরণ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহান আল্লাহ ও 'তার রাসুল (স.) সবসময় অমুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তা ও 'অধিকার নিশ্চিত করতে বলেছেন। ইসলাম আমাদের শেখায় যে জোরপূর্বক কাউকে ধর্মান্তরিত করা যাবে না।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে, দ্বীন বা ধর্মের ব্যাপারে কোনো' জবরদস্তি নেই। এর অর্থ হলো, 'প্রত্যেকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ধর্ম বেছে নেওয়ার ও পালন করার অধিকার রাখে। ইসলাম কাউকে বাধ্য করে নিজের ধর্মে অ্যনার অনুমতি দেয় না।
মহানবি (স.) মদিনায় একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠন করেছিলেন। যেখানে সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার পেত। তিনি অমুসলিমদের সাথে সর্বদা হাসিমুখে কথা বলতেন এবং বিপদে তাদের সাহায্য করতেন। তার মহানুভবতা ও ন্যায়ের কারণে মদিনায় চমৎকার ধর্মীয় সম্প্রীতি বিরাজ করত।
মদিনা সনদ ছিল বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান, যা মদিনার বিভিন্ন ধর্ম ও গোত্রের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল। এই সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, মুসলমান ও অমুসলিমরা নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করতে পারবে। এটি ধর্মীয় সহাবস্থান ও অধিকার রক্ষার এক ঐতিহাসিক দলিল।
ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.)। হযরত আবু বকর (রা.) অমুসলিমদের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি তাঁর শাসনামলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং উপাসনালয়ের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেন'।
প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তাদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা এবং ভালো ব্যবহার করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। তারা অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া এবং অভাবী হলে সাহায্য করা ইমানের দাবি। আমাদের আচরণে যেন কোনো প্রতিবেশী কখনও কষ্ট না পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষের উপাসনালয় বা ধর্মীয় স্থান ভাঙচুর করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। যুদ্ধের সময়ও মহানবি (স.) অমুসলিমদের উপাসনালয় ও ধর্মীয় যাজকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিতেন। তাদের উপাসনালয়কে সম্মান করা সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্য ধর্মের মানুষ যখন তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করে, তখন আমাদের উচিত তাদের প্রতি সম্মান দেখানো। আমরা তাদের উৎসবে কোনো বাধা দেব না এবং উসকানিমূলক কোনো কাজ করব না। শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালনের পরিবেশ বজায় রাখাই, হলো প্রকৃত সম্প্রীতি।
সম্প্রীতি নষ্ট হলে সমাজে ঘৃণা ও মারামারি শুরু হয়, এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। এর ফলে জাতীয় ঐক্য ভেঙে যায় এবং দেশের অগ্রগতি থমকে দাঁড়ায়। ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতা সমাজকে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করে তোলে।
অন্যের মত 'বা বিশ্বাসের প্রতি ধৈর্যশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকাকেই সহনশীলতা রলে। আমরা যদি অন্যের বিশ্বাসের সমালোচনা না করে তা সহ্য করার মানসিকতা রাখি, তবে ভুল বোঝাবুঝি দূর হয়। সহনশীলতা মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের বন্ধন দৃঢ় করে।
একবার নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধি দল মহানবি (স.)-এর কাছে মদিনায় এলে তিনি তাদের মসজিদে নববিতে ইবাদত করতে দিয়েছিলেন। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে মহানবি (স.) অন্য ধর্মের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও উদার ছিলেন। এটি বিশ্ববাসীর জন্য সম্প্রীতির এক অনন্য শিক্ষা।
ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) জেরুজালেম শহর জয় করার সময় সেখানের একটি গির্জার ভিতরে থাকা অবস্থায় নামাজের ওয়াক্ত হয়। তখন গির্জার পাদ্রি খলিফাকে গির্জার ভিতরে নামাজ পড়তে অনুরোধ করেন।
স্কুলে আমাদের ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীদের সাথে হাসি-খুশি থাকব এবং তাদের সাহায্য করব। তাদের কোনো বিশ্বাস বাকাজ নিয়ে আমরা কখনও উপহাস করব না। টিফিন ভাগ করে খাওয়া এবং একসাথে পড়াশোনা করার মাধ্যমে আমাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের সৃষ্টি হবে।
একজন আদর্শ শিক্ষার্থী হিসেবে আমার অঙ্গীকার হবে সবসময় সত্য কথা বলা এবং সকল মানুষকে সম্মান করা। আমি কখনও অন্য ধর্মকে নিয়ে কটূক্তি করব না এবং সমাজে শান্তি বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকব। সকল মানুষের সাথে মানবিক ও ভ্রাতৃত্বসুলভ আচরণ করাই হবে আমার জীবনের ব্রত।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান হলো ধর্ম ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সকলে সম্প্রীতি ও সৌহার্দের সঙ্গে বসবাস করা। অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্বাধীনভাবে প্রকাশ ও চর্চা করতে দেওয়া। পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করা। সুসম্পর্ক বজায় রাখা। একে অন্যকে সহযোগিতা করা ইত্যাদি।
Related Question
View Allধর্মীয় সম্প্রীতি হলো সকল ধর্মের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত।
ইসলাম ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর গুরুত্ব দেয়।
মহানবি (স.) অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনার প্রতিও সহনশীল ছিলেন।
আমরা ভিন্ন ধর্মের মানুষের কাজে সহযোগিতা করব।
ধর্মে দীক্ষিত করার ব্যাপারে কাউকে জোর করা বা বাধ্য করা যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!