সার্ক একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের একটি জনবহুল অঞ্চল। এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সার্ক গঠিত হয়। বিশেষ করে সদস্য দেশগুলো যেন অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটিয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করাও সার্কের অন্যতম উদ্দেশ্য। সদস্য দেশগুলো একে অপরের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে। অন্য সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। এমন উদ্দেশ্য নিয়েই সার্ক গঠিত হয়।
ওআইসি আর্ন্তজাতিক সংস্থা। এর সদস্য সংখ্যা ৫৭টি। ওআইসির ৪টি উদ্দেশ্য হলো-
১. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থরক্ষায় ভূমিকা রাখা।
২. বর্ণবৈষম্য নির্মূল করা।
৩. আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি প্রয়োজনীয় সমর্থন প্রদান করা।
৪. পবিত্র স্থানসমূহের নিরাপত্তা বিধানে সহযোগিতা করা।
জাতিসংঘ ১৯৫৪ সালের ২৪শে অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর কাজগুলো হলো-
১. বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
২. জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
৩. সদস্য দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানব সেবামূলক কাজে সহযোগিতা প্রদান।
৪. আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিভেদ নিষ্পত্তি করে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ই অক্টোবর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। এর সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একে অন্যের উপর নির্ভরশীলতার ক্ষেত্রগুলো হলো- ১. শিক্ষা; ২. স্বাস্থ্য; ৩. কৃষি; ৪. অর্থনীতি; ৫. পরিবেশ; ৬. জলবায়ু; ৭. যোগাযোগ; ৮. তথ্য ও ৯. প্রযুক্তি।
প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে বিশ্বের সব দেশ খুব কাছাকাছি চলে এসেছে।
মানুষের মতো বিশ্বের রাষ্ট্রগুলোও একে অন্যের সহযোগিতা ছাড়া চলতে পারে না। বিশ্বের দেশগুলো নানা--ক্ষেত্রে একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রগুলো হলো- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ, জলবায়ু, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ইত্যাদি। এক্ষেত্রে সার্ক, ওআইসি, জাতিসংঘ এবং অন্য সংস্থাসমূহ সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করে আসছে। এসব আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা একটি
বিশ্ব পরিবারের সদস্য। নিজেদের গড়ে তুলতে হবে বিশ্ব নাগরিক হিসেবে। আমার কাজ দ্বারা পরিবার ও সমাজ যেমন উপকৃত হবে, ঠিক তেমনি রাষ্ট্র ও বিশ্ব উপকৃত হবে। কোনো জনকল্যাণমূলক আবিষ্কারের সুবিধা সকল দেশের মানুষই ভোগ করতে পারে। আবার কারও কর্মে যদি জলবায়ুর ক্ষতি হয়, তার প্রভাবও অন্য দেশ ভোগ করে। যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সুবিধা কেউ বা কোনো দেশ একা ভোগ করে না। এভাবেই নিজের প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক।
আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নানা ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোকে সাহায্য করে আমাদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন-
১. অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সাহায্য-সহযোগিতা করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করে জীবনমান উন্নয়ন করতে পারে।
২. সামাজিক ও মানবসেবামূলক কাজে সদস্য দেশগুলোকে সাহায্য করে জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।
৩. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অনগ্রসর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে মূল স্রোতে এনে জীবনমান উন্নয়ন করতে পারে।
৪. বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে।
৫. মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে পারে।
Related Question
View Allসার্ক একটি আঞ্চলিক সংস্থা।
সার্ক হলো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সার্ক গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
১৯৮৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশ নিয়ে সার্ক গঠিত হয়।
সার্কের সদর দপ্তর নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অবস্থিত।
সর্বশেষ আফগানিস্তান সার্কের সদস্যভুক্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!