বীজ থেকে নতুন চারাগাছ জন্মানোর প্রক্রিয়াই হলো অঙ্কুরোদগম।
বীজ মাটিতে পড়ে পানি, আলো ও বাতাস পেলে অঙ্কুরিত হয়। এরপর ছোটো চারাগাছ তৈরি হয়, ধীরে ধীরে তা বড়ো হয়ে পূর্ণবয়স্ক গাছে পরিণত হয়। পূর্ণবয়স্ক হওয়ার একপর্যায়ে গাছে ফুল ফোটে ও ফল ধরে এবং ফলের মধ্যে নতুন বীজ তৈরি হয়।
বীজে অভিকুরোদগমের জন্য চারটি উপাদান প্রয়োজন। যথা-তাপ, আলো, বাতাস ও পানি।
১।সতাপ: বীজের বৃদ্ধি ও অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য তাপ সাহায্য করে।
২। আলো: অঙ্কুরোদগমের পর গাছের সবুজ পাতাকে খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
৩। বাতাস: বীজের শ্বাসকার্যের জন্য প্রয়োজন হয়।
৪। পানি: বীজকে নরম করে এবং ভেতরের অংশকে জীবন্ত করে।
বীকারের প্রথম বীজটি তাপ, আলো ও বাতাস পেয়েছে, কিন্তু পানির অভাব রয়েছে। এ কারণে প্রথম বীজটি অঙ্কুরিত হয়নি। দ্বিতীয় বীজটি তাপ, আলো, বাতাস ও পানি যথাযথভাবে পেয়েছে। এই কারণে দ্বিতীয় বীজটি ভালোভাবে অঙ্কুরিত হয়েছে। তৃতীয় বীজটি শুধু পানি পেয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় তাপ, আলো ও বাতাস না পাওয়ায় তৃতীয় বীজটি ভালোভাবে অঙ্কুরিত হয়নি।
একটি ছোটো বীজ যখন অঙ্কুরিত হয়ে ধীরে ধীরে ছোটো থেকে বড়ো হয় তাকে উদ্ভিদের বৃদ্ধি বলা হয়। উদ্ভিদের বৃদ্ধি সূর্যের আলো; পানি, বায়ু এবং পরিবেশ থেকে পুষ্টি ও শক্তি পেয়ে হয়ে থাকে।
উদ্ভিদের বৃদ্ধির জন্য আলো, পানি এবং বায়ু প্রয়োজন। কারণ হলো-
১। আলো : খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে উদ্ভিদের বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে।
২। পানি : উদ্ভিদের পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।
৩। বায়ু : উদ্ভিদের শ্বাসকার্যে বায়ুর প্রয়োজন হয়।
ফুল এক ধরনের রূপান্তরিত পাতা। যেমন- গোলাপ, শাপলা, হাসনাহেনা ইত্যাদি।
সপুষ্পক উদ্ভিদ ও অপুষ্পক উদ্ভিদের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
| সপুষ্পক উদ্ভিদ | অপুষ্পক উদ্ভিদ |
| ১। যেসব উদ্ভিদের ফুল ও ফল হয় সেগুলোকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। | ১। যেসব উদ্ভিদের ফুল ও ফল হয় না সেগুলোকে অপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। |
| ২। এদের ফুল হতে ফল ও বীজ হয়। | ২। এরা ফল ও বীজ তৈরিচা করতে পারে না। |
| ৩। উদাহরণ: মরিচ, টমেটো, আম ইত্যাদি। | ৩। উদাহরণ : শৈবাল, ছত্রাক, ফার্ন ইত্যাদি। |
ফুলের বাইরে থেকে ভেতর দিকে দ্বিতীয় উজ্জ্বল ও রঙিন অংশ হলো দল বা পাপড়ি। কতকগুলো পাপড়ি মিলে দলমণ্ডল গঠন করে।
পুস্তবক ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এক বা একাধিক পুংকেশর নিয়ে পুংস্তবক গঠিত। পুংকেশরের শীর্ষে থলির মতো পরাগধানী থাকে। পরাগধানীর মধ্যে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এই পরাগরেণুর মধ্যে সৃষ্টি হয় পুরুষ কোষ। এভাবেই পুরুষ কোষ সৃষ্টি হয়।
স্ত্রীস্তবক ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশ। এটি এক বা একাধিক গর্ভপত্র বা স্ত্রীকেশর নিয়ে গঠিত। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ রয়েছে। যথা- গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুন্ড। গর্ভাশয়ের ভেতরে ডিম্বক থাকে।
ডিম্বক হলো স্ত্রী কোষ। এটি গর্ভাশয়ের ভেতরে থাকে।
পরাগায়ন প্রক্রিয়ায় ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলের স্ত্রীকেশরের গর্ভমুণ্ডে পতিত হয়। এরপর পরাগরেণুর পুরুষ কোষ গর্ভদণ্ডের ভিতর দিয়ে গর্ভাশয়ের ডিম্বক অর্থাৎ স্ত্রীকোষের সাথে মিলিত 'হয়। এই প্রক্রিয়াকে নিষেক বলে। নিষেকের পর ফুলের সম্পূর্ণ গর্ভাশয়টি ফলে এবং গর্ভাশয়ের ভিতরের ডিম্বকটি বীর্জে পরিণত হয়। এভাবেই ফল ও বীজ সৃষ্টি হয়।
একটি ফলের ছবি অঙ্কন করে বিভিন্ন অংশ চিহ্নিত করা হলো-
ফুলের পরাগায়নের পর স্ত্রীস্তবকের গর্ভাশয় থেকে যে অংশটি তৈরি হয় তাই ফল।
ফল উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি ফলের দুটি অংশ রয়েছে। যেমন- পেরিকার্প এবং বীজ। পেরিকার্পের তিনটি স্তর রয়েছে। যেমন- বহিঃত্বক, মধ্যত্বক ও অন্তঃত্বক। বহিঃত্বক হলো ফলের খোসা। এটি ফলের ভিতরের অংশকে রক্ষা করে। মধ্যত্বক অংশটি সাধারণত রসালো। এতে ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে। এই অংশটি আমরা খাই। সবচেয়ে ভেতরের অন্তঃত্বক দিয়ে বীজ ঢাকা থাকে। অর্থাৎ বীজের উপরের পাতলা আবরণই অন্তঃত্বক। এই বীজ থেকেই নতুন গাছ জন্মায়।
জীবের প্রজনন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জীব জীবনচক্রের কোনো এক পর্যায়ে অনুরূপ নতুন জীব সৃষ্টি করে।
জীবের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১। জীব মাত্রই মৃত্যু হবে।
২। অনুরূপ নতুন জীব সৃষ্টি করে।
৩। দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।
জীবের প্রজনন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীব মাত্রই মৃত্যু হবে। জীবের মৃত্যু হলে পৃথিবী থেকে একসময় সকল জীব বিলীন হয়ে যেত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা হয় না। একদিকে জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে যেমন জীবের মৃত্যু ঘটে, তেমনি অন্য কোনো পর্যায়ে প্রজননের মাধ্যমে নিজের মতো আরেকটি জীবের জন্ম হয় এবং এরা সংখ্যায় বাড়ে। অর্থাৎ প্রজনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জীব তার প্রতিরূপ সৃষ্টি করে ভবিষ্যৎ বংশধর রেখে যায়। এভাবেই প্রজননের মাধ্যমে বছরের পর বছর জীব পরিবেশে টিকে আছে।
ফুলের বিভিন্ন অংশ রয়েছে। যেমন- বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক, স্ত্রীস্তবক ইত্যাদি। ফুলের বিভিন্ন অংশের কাজ চিত্রসহ বর্ণনা করা হলো-

১। বৃতি: কুঁড়ি অবস্থায় বৃতি ফুলের অন্যান্য অংশকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করে।
২। দলমণ্ডল দলমণ্ডল রঙিন হওয়ায় পোকামাকড় ও পশুপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়ন নিশ্চিত করে।
৩। পুংস্তবক: পুংস্তবকের প্রধান কাজ পরাগরেণু উৎপন্ন করা এবং তা অন্য ফুলের স্ত্রী কেশরের গর্ভমুণ্ডে পৌঁছাতে সাহায্য করা, যাতে পরাগায়ন ও নিষেক সম্পন্ন হয়।
৪। স্ত্রীস্তবক: স্ত্রীস্তবকের কাজ বীজ ও ফল তৈরি করার জন্য ডিম্বাণুর উৎপাদন ও নিষেক সম্পন্ন করা।
বাড়ির পাশের আম গাছ ও নিজের পোষা বিড়ালের জীবনচক্র নিচে উপস্থাপন করা হলো-

আম গাছ ও বিড়ালের জীবন চক্রের মিল-
১. দু'টিরই জন্ম হয় চারা আম গাছ জন্মায় বীজ থেকে, অন্যদিকে, বাচ্চা বিড়াল জন্মায় মা বিড়াল থেকে।
২. ধীরে ধীরে বড়ো হয় আম গাছ ও বিড়াল দুটিই ছোটো থেকে ধীরে ধীরে বড়ো হতে থাকে
৩. প্রাপ্তবয়স্ক হয়: এক সময় দুটিই পূর্ণ বড়ো হয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হয়।
৪. নিজেদের বংশ বৃদ্ধি: আম গাছে ফল হয় এবং ফলের মধ্যে বীজ তৈরি হয়; এই বীজ থেকে নতুন চারা গাছ 'জন্মায়। অন্যদিকে, পূর্ণবয়স্ক মা বিড়াল বাচ্চা বিড়ালের জন্ম দেয়।
৫. বুড়িয়ে যায় ও মৃত্যুবরণ করে আম গাছ ও বিড়াল দুটিরই জীবন শেষে মৃত্যু ঘটে।
Related Question
View Allজীব মাত্রই খাদ্য গ্রহণ করে।
খাদ্য তৈরির জন্য উদ্ভিদের সূর্যের আলো পানি ও রায়ু প্রয়োজন।
ফুলের উজ্জ্বল ও রঙিন অংশ হলো পাপড়ি ।
বীজ থেকে নতুন চারাগাছ হয়।
বীজ থেকে নতুন চারাগাছ জন্মানোর প্রক্রিয়াই হলো অঙ্কুরোদগম ।
বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য পরিবেশের তাপ, আলো বাতাস ও পানি প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
