মানুষ বেঁচে থাকার জন্য এবং অন্যের উপকারে যে কাজ করে, তাকেই শ্রম বলে। শ্রম কায়িক বা শারীরিক হতে পারে, আবার মানসিকও হতে পারে।
আমরা যেসব কারণে শ্রম দেব-
১. নিজেদের ও সমাজের উন্নয়নের জন্য শ্রম দেওয়া প্রয়োজন।
২. শ্রমের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও সেবা পাই।
৩. অলসতা দূর করে নিজেকে একজন দক্ষ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শ্রম দরকার।
যে কাজে শরীরের শক্তি বেশি ব্যবহার করা হয় তাকে কায়িক শ্রম বলে, আর যে কাজে বুদ্ধি ও চিন্তার ব্যবহার বেশি হয় তাকে মানসিক শ্রম বলে।
একজন শিক্ষকের মানসিক শ্রমের গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো-
১. শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেখানোর মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়ে দেন।
২. তিনি শিক্ষার্থীদের ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝিয়ে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন।
৩. শিক্ষকের মেধা ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক তৈরি করতে সাহায্য করে।
পোশাক শ্রমিকরা কারখানায় সেলাই মেশিনের সাহায্যে কাপড় দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করেন। তারা দিনরাত পরিশ্রম করে আমাদের পরার উপযোগী জামাকাপড় প্রস্তুত করেন।
পোশাক শ্রমিকের কাজের ৩টি গুরুত্ব হলো-
১. পোশাক শ্রমিকদের তৈরি পোশাক পরেই আমরা আমাদের লজ্জা নিবারণ ও সাজসজ্জা করি।
২. তাদের তৈরি পোশাক বিদেশে রপ্তানি করে আমাদের দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
৩. এই পেশার মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে বড়ো ভূমিকা রাখে।
যারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা রক্ষা করেন এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের ট্রাফিক পুলিশ বলা হয়।
আমাদের জীবনে ট্রাফিক পুলিশের গুরুত্ব হলো-
১. ট্রাফিক পুলিশ যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে রাস্তায় বড়ো বড়ো দুর্ঘটনা থেকে আমাদের রক্ষ্য করেন।
২. ট্রাফিক পুলিশ নিরাপদভাবে পথচারীদের রাস্তা পারাপারে সাহায্য করেন।
৩. শহরের রাস্তায় যানবাহনের জট কমিয়ে মানুষের যাতায়াত সহজ ও দ্রুত করতে তারা কাজ করেন।
পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা আমাদের সমাজ ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তারা প্রতিদিন রাস্তাঘাট, নর্দমা এবং আমাদের চারপাশ থেকে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। তাদের এই, কায়িক শ্রমের ফলেই আমরা একটি সুন্দর ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারি। যদি তারা কাজ না করতেন, তবে চারদিকে ময়লার স্তূপ জমে বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ত। তারা আমাদের পরিবেশকে সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সরাসরি সাহায্য করেন। তাই আমাদের উচিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের শ্রদ্ধা করা এবং তাদের কাজকে সম্মান জানানো?
চিকিৎসক আমাদের সমাজের একজন সম্মানিত পেশাজীবী যিনি অসুস্থ মানুষের সেবা করেন। তার প্রধান দায়িত্ব হলো রোগীর সঠিক রোগ নির্ণয় করা, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলা। ডাক্তাররা শুধু হাসপাতালেই রোগীদের দেখেন না, বরং স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে মানুষকে রোগমুক্ত থাকতে সাহায্য করেন। তাদের এই মানসিক শ্রমের মাধ্যমে অনেক মুমূর্ষু মানুষের জীবন রক্ষা পায়। চিকিৎসকের আন্তরিক সেবার মাধ্যমেই একটি সুস্থ ও সবল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব হয়। সমাজের প্রতিটি মানুষের বিপদের সময়ে চিকিৎসকের ভূমিকা অপরিসীম।
আমি আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখতে পারি। আমি নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকব। ভালোভাবে পড়াশোনা করব। সহপাঠী এবং শিক্ষকদের সাথে ভালো আচরণ করব। বিদ্যালয় পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করব। বিদ্যালয়ের চারপাশে গাছ লাগাতে সাহায্য করব। বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রমে উৎসাহের সাথে অংশগ্রহণ করব। এভাবে আমি আমার বিদ্যালয়কে উন্নত করতে সাহায্য করতে পারি।
Related Question
View Allপ্রত্যেক পেশার মানুষ দৈহিক ও মানসিক শ্রম দেন।
যিনি ভালো কাজের জন্য প্রচুর শ্রম দেন, তাঁকে সকলে পছন্দ করে।
পরিবার ও সমাজের কল্যাণের জন্য শ্রম প্রয়োজন।
প্রত্যেক বিক্রেতার উচিত ন্যায্য মূল্যে দ্রব্য বিক্রি করা।
প্রতিটি পেশার মানুষ দৈহিক ও মানসিক শ্রম দিয়ে থাকেন।
কোনো পেশায় দৈহিক শ্রম বেশি, আবার কোনো পেশায় মানসিক শ্রম বেশি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!