ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারাকে সম্মান জানিয়ে আমরা সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের মনোভাব পোষণ করব। গারোদের বিশেষভাবে তৈরি ঘরের নাম নকমান্দি। গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা। গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। সমাজে সন্তানদের বংশপরিচয় ও উত্তরাধিকার মায়ের গোত্রের দিক থেকে হয়। গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। তবেক বর্তমানে বেশিরভাগ গারো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তারা ভাত, মাছ, মাংস এবং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেতে পছন্দ করে। গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দকবান্দা ও দকসারি। পুরুষেরা শার্ট, গেঞ্জি, লুঙ্গি, ধুতি ইত্যাদি পরিধান করে। গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম ওয়ানগালা। এই সময়ে তারা দেবতা সালজং-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নতুন শস্য উৎসর্গ করে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বলতে বাংলাদেশে বসবাসকারী সেসব আদিবাসী সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে এবং তারা রাঙালি জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে।
খাসি মেয়েরা কাজিম পিন নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি পরে। আর ছেলেরা পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি পরে, যার নাম ফুংগ' মারুং। খাসিরা 'খাসি সেং কুটস্নেম' বা বর্ষবিদায় উৎসব পালন করে। এ উৎসবে তারা নতুন বছরকেও বরণ করে। এই উৎসবে তারা মেলাসহ নাচ, গান ও খেলার আয়োজন করে। এছাড়াও সকল ধরনের অনুষ্ঠান যেমন- পূজাপার্বণ, বিয়ে, খরা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে নাচ, গান করে। 'এই উপলক্ষ্যে খাসি জনগোষ্ঠী উৎসবের আয়োজন করে।
বাংলাদেশে বসবাসকারী ওঁরাও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। সমাজে সন্তানদের পরিচিতি, বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার প্রথা বাবার গোত্রের দিক থেকে হয়। এই জনগোষ্ঠী 'বিভিন্ন দেবতার পূজা করে। তাদের প্রধান দেবতার নাম ধার্মেশ। ওঁরাওদের ভাষার নাম কুড়ুখ ও সাদরি। ওঁরাওদের জীবন কৃষিনির্ভর। তাদের প্রধান খাবার ভাত। এছাড়া তারা গম, ভুট্টা, মাছ, মাংস ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খেয়ে থাকে। পুরুষেরা ধুতি, লুঙ্গি, শার্ট ও প্যান্ট পরে। মেয়েরা শাড়ি-ও ব্লাউজ পরে। ওঁরাওদের প্রধান উৎসবের নাম কারাম। ভাদ্র মাসে এই উৎসব পালন করা হয়। ওঁরাওদের ঘরের দেয়াল সাধারণত মাটির এবং ছাউনি ছন ও খড়ের। তাদের অধিকাংশ ঘর আকৃতিতে ছোটো ও চারচালা বিশিষ্ট।
বাংলাদেশে বসবাসকারী চারটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নাম হচ্ছে-
১. গারো
২. খাসি
৩. ওঁরাও
৪. ম্রো
মোরা প্রকৃতিপূজারি এবং বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। তারা সৃষ্টিকর্তাকে থোরাই নামে ডেকে থাকে। বর্তমানে তাদের মধ্যে অনেকে নতুন প্রবর্তিত ধর্ম ক্রামা এবং খ্রিষ্টধর্ম পালন করছে। তাদের প্রধান খাবার ভাত, শাকসবজি, শুঁটকিমাছ ও বিভিন্ন ধরনের মাছ-মাংস। যেকোনো তরকারি রান্না করতে তারা নাপ্পি ব্যবহার করে থাকে।
সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী বাংলাদেশের দিনাজপুর, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, রংপুর ও বগুড়া জেলায় বসবাস করে। সাঁওতাল নৃগোষ্ঠী পিতৃতান্ত্রিক। তাদের প্রধান পেশা কৃষি। কৃষিকাজে তারা খুবই পারদর্শী। সাঁওতালদের প্রধান খাবার ভাত। এছাড়াও তারা মাছ, মাংস ও সবজি খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের নিজস্ব ভাষার নাম সাঁওতাল ভাষা। তারা প্রকৃতিপূজারি ও বিভিন্ন দের-দেবীর পূজা করে। তাদের ঘরগুলো ছোটো এবং মাটি, ছন ও খড়ের তৈরি। সাঁওতালরা অতিথিপরায়ণ। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে ভালোবাসেন। মেয়েদের দুই খণ্ড কাপড়ের উপরের অংশকে বলা হয় 'পানচি' এবং নিচের অংশকে বলা হয় 'পাড়হাট'। ছেলেরা আগে ধুতি পরতেন। বর্তমানে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও শার্ট পরেন। তাদের প্রধান উৎসব সোহরাই। ফসল তোলার পর পৌষ মাসে এই উৎসব পালন করা হয়।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বসবাস করে। তাদের জীবনযাপনে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য ও: ঐতিহ্য। তারা গ্রামকে পুঞ্জি বলে। খাসি জনগোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক। তারা কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। তারা প্রচুর পান ও সুপারি চাষ করে। বাড়িতে অতিথি এলে পান-সুপারি ও চা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। খাসি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষার নাম মনখেমে। তারা বিভিন্ন দেবতার পূজা করে। তাদের প্রধান দেবতার নাম উব্লাই নাংথউ। খাসিদের প্রধান খাবার ভাত, মাছ, মাংস, শুঁটকি। খাসি মেয়েরা কাজিম পিন নামক ব্লাউজ ও লুঙ্গি পরে। আর ছেলেরা পকেট ছাড়া শার্ট ও লুঙ্গি পরে, যার নাম ফুংগ মারুং। তারা 'খাসি সেং কুটয়েম' বা বর্ষবিদায় উৎসব পালন করে। এ উৎসবে তারা নতুন বছরকেও বরণ করে।
বাংলাদেশের সাঁওতাল ও ম্রো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য নিচে বর্ণনা করা হলো-
১. ভাষা: সাঁওতালদের নিজস্ব ভাষার নাম সাঁওতাল ভাষা। ম্রোদের নিজস্ব ভাষার নাম মো।
২. পোশাক: সাঁওতাল মেয়েদের পোশাকের নাম- পানচি ও পাড়হাট এবং ছেলেরা ধুতি, লুঙ্গি, গেঞ্জি ও শার্ট পরে। ম্রো পুরুষেরা খাটো সাদা পোশাক বা লেংটি পরে, এর নাম দংকের। মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম ওয়াংক্লাই।
৩. খাদ্যাভ্যাস: সাঁওতালদের প্রধান খাবার ভাত। এছাড়াও তারা মাছ, মাংস ও সবজি খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। ম্রোদের প্রধান খাবার ভাত, শাকসবজি, শুঁটকি মাছ ও মাছ-মাংস।
৪. উৎসব ও অনুষ্ঠান: সাঁওতালদের প্রধান উৎসব সোহরাই। মোরা বর্ষবরণের জন্য চাংক্রান উৎসব পালন করে।
৫. ধর্ম: সাঁওতালরা প্রকৃতিপূজারি ও বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করে। ম্রোরা প্রকৃতিপূজারি এবং বৌদ্ধধর্মের অনুসারী।
৬. পরিবার ব্যবস্থা: সাঁওতাল ও ম্রো উভয়ের পরিবার ব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক।
Related Question
View Allগারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক।
গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দকবান্দা ও দকসারি।
ওয়ানগালা গারোদের ঐতিহ্যৰাহী উৎসব।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগে খাসি জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
খাসিয়া গ্রামকে পুঞ্জি বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!