মহাস্থানগড় বগুড়া শহরে থেকে প্রায় ১৩ কি.মি. উত্তরে করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত। মৌর্য আমলে এই স্থানটি পুন্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল।
মহাস্থানগড় আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত নগর। এটি আয়তাকার বিশিষ্ট। উত্তর-দক্ষিণে ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত। এখানে বৈরাগীর ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদার পাথর ভিটা প্রভৃতি প্রত্নস্থল আবিষ্কৃত হয়। এটি প্রায় ৬ মিটার উঁচু প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত।
মহাস্থানগড় বাংলার ইতিহাসে ১৮ শত বছরের বেশি সময়ের সাক্ষ্য বহন করে।
মহাস্থানগড়ের প্রাপ্ত নিদর্শনসমূহ হলো-
১. চওড়া খাদ বিশিষ্ট প্রাচীন দুর্গ,
২. প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি,
৩. মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় ভগ্নাবশেষ
৪. পোড়ামাটির ফলক, ভাস্কর্য, স্বর্ণমুদ্রা, রৌপ্যমুদ্রা, প্রস্তরের পুঁতি, কাচের পুঁতি।
৫. ৩.৩৫ মিটার লম্বা খোদাই পাথর।
উয়ারী-বটেশ্বর নরসিংদী জেলায় অবস্থিত। এখানে খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের মৌর্য আমলের পূর্বের নিদর্শন পাওয়া যায়।
উয়ারী-বটেশ্বরে প্রাপ্ত নিদর্শনসমূহ হলো-
১. ছাপাঙ্কিত রৌপ্যমুদ্রা,
২. পাথরের হাতিয়ার,
৩. লৌহ নির্মিত নানা বস্তু,
৪. পাথর ও কাচের পুঁতি।
পাহাড়পুর রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলায় অবস্থিত। এটি ৭৮১ ৮২১ খ্রিষ্টাব্দে পাল রাজা ধর্মপালের শাসনমালে নির্মিত হয়।
পাথরের ভাস্কর্য, পোড়ামাটির ফলকচিত্র, তাম্রশাসন, ব্রোঞ্জের তৈরি বুদ্ধের আবক্ষ অংশ, লিপিসহ প্রস্তরখণ্ড, মুদ্রা, চুনাপাথরের মূর্তি, ধাতবমূর্তি, মৃৎপাত্রের টুকরা, অলংকৃত ইট, জীবজন্তুর মূর্তি ও টেরাকোটা ইত্যাদি। মন্দিরের চতুর্দিকে বেষ্টন করে ৬৩টি পাথরের মূর্তি রয়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে কুমিল্লা শহরের কাছে ময়নামতি অবস্থিত। ময়নামতি স্থানটি অষ্টম শতকের রাজা মানিকচন্দ্রের স্ত্রী ময়নামতির কাহিনির সঙ্গে জড়িত।
ময়নামতিতে প্রাপ্ত নিদর্শনসমূহ হলো-
তাম্রশাসন, স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা, অসংখ্য জীবজন্তু অঙ্কিত পোড়ামাটির ফলক, পোড়ানো মাটির সিল ও সিলিং, বহু সংখ্যক পাথর, ব্রোঞ্জ ও পোড়ামাটির ভাস্কর্য। এখানে প্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে ছয় থেকে সাত শতকের বিরাটকায় প্রস্তর বুদ্ধমূর্তি এবং খাদযুক্ত স্বর্ণমুদ্রা অন্তর্ভুক্ত।
ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন আমাদের অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করে। এর মাধ্যমে দেশের অতীত ইতিহাস জানা যায়। এ স্থানগুলো ও নিদর্শন একটি জাতির আত্মপরিচয় সংরক্ষণ করে এবং ইতিহাসের বাহক হিসেবে কাজ করে। এগুলোর স্থাপত্যশৈলী দেশে গড়ে ওঠা অতীত সভ্যতার নিদর্শন ও উন্নত নির্মাণশৈলীর পরিচায়ক হিসেবে কাজ করে। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মানুষের জীবনধারার পরিচয় বহন করে ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন। তাছাড়া এ স্থান ও নিদর্শনগুলো শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অতীতের সাথে বর্তমানের তুলনা করতে শেখায়।
তাই আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অতীত ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জানানোর জন্য ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন সংরক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম।
ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণে আমার করণীয় হলো-
১. ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের গায়ে দাগ দেবো না।
২. প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার গায়ে কোনো কিছু লিখব না।
৩. ঐতিহাসিক স্থান ধ্বংস করতে দেবো না।
৪. ঐতিহাসিক স্থান ও প্রাপ্ত পুরাকীর্তি বিষয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী হবো।
৫. ঐতিহাসিক স্থান ও নিদর্শন রক্ষায় সমাজের মানুষকে সচেতন করব।
Related Question
View Allমহাস্থানগড় বাংলার ইতিহাসে ১৮ শত বছরের বেশি সময়ের সাক্ষ্য বহন করে।
মৌর্য আমালে মহাস্থানগড় পুণ্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল।
মহাস্থানগড় উত্তর-দক্ষিণে ১৫০০ মিটার এর পূর্ব পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
মহাস্থানগড়ে প্রাচীন ব্রাহ্মী শিলালিপি পাওয়া গেছে।
নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলায় উয়ারী-বটেশ্বর গ্রাম।
উয়ারী-বটেশ্বর খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দের মৌর্য আমলের পূর্বের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!