নিচের বর্ণনামূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

হিলফুল ফুজুল হলো একটি শান্তিসংঘ। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) এটি গঠন করেছিলেন।
হিলফুল ফুজুল গঠনের কারণ একবার আরব দেশে ওকায মেলায় জুয়াখেলাকে কেন্দ্র করে কুরাইশ ও কায়েস বংশের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যা 'হারবুল ফিজার' বা 'অন্যায় সমর' নামে পরিচিত। এ ভয়াবহ যুদ্ধের দৃশ্য দেখে মহানবি (স)-এর প্রাণ কেঁদে উঠল। তিনি চিন্তা করলেন, কীভাবে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করা যায়? কীভাবে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা যায়? অসহায়দের সাহায্য করা যায়? এজন্য তিনি কয়েকজন উৎসাহী যুবককে নিয়ে একটি সেবা সংঘ গঠন করেন। আর এই সংঘের নাম রাখেন হিলফুল ফুজুল বা শান্তিসংঘ।

উত্তরঃ

মহানবি (স) যেভাবে নবুয়ত লাভ করেন- মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স) মক্কা থেকে তিন মাইল দূরে 'হেরা' নামক পর্বতের নির্জন গুহায় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এভাবে মহানবি (স)-এর ধ্যান ও ইবাদত চলতে থাকল। তাঁর বয়স ৪০ বছর হলো। রমযান মাসের কদর রাত। মহানবি (স) হেরা গুহায় ধ্যানরত। চারদিক নীরব, নিঝুম। এমন সময় আঁধার গুহা আলোকিত হয়ে উঠল। আল্লাহর নির্দেশে ফেরেশতা জিবরাইল (আ) আল্লাহর পবিত্র বাণী তাঁর নিকট সর্বপ্রথম নিয়ে আসলেন। জিবরাইল (আ) মহানবি (স)-কে লক্ষ করে বললেন,(ইব্রা-পড়ুন)। পড়তে বললেন, কুরআন, মজিদের সূরা আলাকের প্রথম ৫টি আয়াত। এভাবেই তিনি নবুয়ত লাভ করেন।

উত্তরঃ

সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াতের অর্থ হলো-
১. (হে মুহাম্মদ!) পাঠ করুন, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।
২. যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত (আলাক) থেকে।
৩. পাঠ কর আর তোমার রব মহিমান্বিত।
৪. যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে।
৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।

উত্তরঃ

মক্কায় ইসলাম প্রচারে মহানবি (স) যেসব বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন তা হলো-
১. কুরাইশ বংশের অনেক নেতা তাঁর কথা মানল না। তারা মহানবি (স)-এর ঘোর শত্রু হলো।
২. মহানবি (স)-এর ওপর রেগে গেল এবং তাঁর ওপর অত্যাচার শুরু করল।
৩. তাঁর চাচা আবু লাহাব তাঁকে পাথর ছুড়ে মারল। রক্তাক্ত করল।
৪. কেউ কেউ তাঁকে পাগল বলতে লাগল।
৫. তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু হলো।
৬. তাঁর মাথার উপর ময়লা-আবর্জনা রাখল।
৭. চলার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিল।
৮. তাঁর অনুসারীদের ওপর নির্মম অত্যাচার শুরু করল।
এভাবে তারা মহানবি (স) ও তাঁর অনুসারীদের ইসলাম প্রচারে বাধা দিতে থাকল।

উত্তরঃ

মহানবি (স) ছিলেন দয়ার উজ্জ্বল আদর্শ। তিনি মানুষ, পশুপাখি ও গাছপালা সকলের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতেন। কেউ ক্ষুধার্ত হলে তাকে খাদ্য দিতেন। অসুস্থ হলে তার খোঁজখবর নিতেন। সেবাযত্ন করতেন। গরিব, ভিক্ষুক, ইয়াতিম ও অসহায়দের প্রতি দয়া দেখাতেন।
ইসলাম শিক্ষা
একদা মহানবি (স) সাহাবিদের নিয়ে বসে আছেন। এমন সময় এক ইয়াতিম বালক মহানবি (স)-এর কাছে আসল। গায়ে তার জামাকাপড়, নেই। দুঃখকষ্ট সইতে সইতে তার বুকের হাড়গুলো বের হয়ে গেছে। বালকটি কাঁদতে কাঁদতে মহানবি (স)-কে বলল, আমার আব্বু নেই। আবু জাহল আমাদের সম্পদ কেড়ে নিয়েছে।

তার কাছে সম্পদের কিছু চাইলে সে আমাকে মারধর করে, অত্যাচার করে এবং তাড়িয়ে দেয়। বালকটির কথা শুনে মহানবি (স)-এর মনে দয়া হলো। তিনি বালকটিকে নিয়ে আবু জাহলের কাছে গেলেন। বালকটির সব পাওনা আবু জাহলের কাছ থেকে আদায় করে দিলেন। ইয়াতিম বালকটি খুব খুশি হলো।

উত্তরঃ

আমাদের আদর্শ হলেন বিশ্বনবি হযরত মুহাম্মদ (স)। আমি তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে কাজের লোকদের সাথে নিম্নরূপ আচরণ করব-
১. আমি কাজের লোকদের সাথে ভালো ব্যবহার করব।
২. বয়সে ছোট হলে আদর-স্নেহ করব।
৩. নিজেরা যা খাব তাদেরও তাই খেতে দেব।
৪. মাত্রাতিরিক্ত কাজ দেব না।
৫. তাদের কাজে সাহায্য করব।
৬. তাদের কষ্ট দেব না, দুঃখ দেব না।
৭. তাদের মর্যাদা দেব।
৮. তাদের ন্যায্য মজুরি প্রদান করব।

উত্তরঃ

হযরত মূসা (আ)-এর ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল করা হয়। তাঁর সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
১. হযরত মূসা (আ) খ্রিষ্টপূর্বে ১০৪০ অব্দে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন।
২. তাঁর বংশের নাম বনি ইসরাইল।
৩. তাঁর পিতার নাম ইমরান।।
৪. তাঁর মাতার নাম ইউখাবেজ।
৫. তাঁর সময়ে মিশরের শাসক ছিলেন ওলীদ।
৬. তিনি পাহাড়ের পাদদেশে, 'তুয়া' নামক পবিত্র উপত্যকায় নবুয়ত লাভ করেন।
৭. হযরত শুয়াইব (আ)-এর কন্যা সফুরাকে তিনি বিয়ে করেন।
৮. হযরত মূসা (আ)-এর উপাধি ছিল 'কলিমুল্লাহ'। তিনি ১২০ বছর জীবিত ছিলেন।

উত্তরঃ

আটজন নবি-রাসুলের নাম হলো- ১. হযরত মুহাম্মদ (স), ২. হযরত মূসা (আ), ৩. হযরত হূদ (আ), ৪. হযরত সালিহ (আ), ৫. হযরত লূত (আ), ৬. হযরত শুয়াইব (আ), ৭. হযরত ইলিয়াস (আ) ও ৮. হযরত যুলকিফল (আ)।

143

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের খুব ভালোবাসেন। তাঁর ইচ্ছায় আমরা সুন্দর জীবন গড়ে তুলব। দুনিয়াতে সুখ-শান্তি পাব। আখিরাতে জান্নাত লাভ করব। জান্নাতে রয়েছে চরম শান্তি ও পরম আনন্দ।

কীভাবে আমরা সুন্দর জীবন গড়ে তুলব। কোন পথে চললে আল্লাহ খুশি হবেন? কী কাজ করলে দুনিয়াতে সুখে বসবাস করব ও শান্তিতে থাকব? এসবের সন্ধান পেয়েছি আমরা নবি-রাসুলের মাধ্যমে। নবি-রাসুল আমাদের শিক্ষক। তাঁরা আমাদের আল্লাহর ইবাদত করার নিয়মকানুন শিখিয়েছেন। সঠিক পথে জীবনযাপন করার পদ্ধতি শিখিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা অনেক নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন। কুরআন মজিদে ২৫ জন নবি-রাসুলের নাম উল্লেখ আছে। এদের মধ্যে হযরত আদম আলাইহিস সালাম পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানুষ এবং প্রথম নবি। আর আমাদের মহানবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবি। এখন আমরা কয়েকজন নবি-রাসুলের জীবনাদর্শ জানব।

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews