ধর্মগ্রন্থ পাঠ করলে আমাদের অনেক উপকার হয়। কেননা-ধর্মগ্রন্থে থাকে ধর্মের কথা, ঈশ্বরের কথা ও জ্ঞানের কথা। মানুষের মঙ্গল করা, জীবকে সেবা করা ইত্যাদি আমরা ধর্মগ্রন্থ পাঠ করে জানতে পারি এবং জীবনে সেগুলোর প্রয়োগ ঘটাতে পারি।
উদ্যোগ পর্বে পাণ্ডবরা তাদের শর্ত পূরণ করে দ্রৌপদীসহ হস্তিনাপুরে ফিরে এলেন। কিন্তু দুর্যোধন তাঁদের প্রাপ্য রাজ্য ফিরিয়ে দিলেন না। যুধিষ্ঠির এখন পাঁচ ভাইয়ের জন্য পাঁচটি গ্রাম চাইলেন। দুর্যোধন তাও দিলেন না। কৃষ্ণ উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের চেষ্টা করলেন। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো। তখন পাণ্ডব ও কৌরব উভয়পক্ষ যুদ্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করল।
যদুবংশ ধ্বংসের কারণ যাদবরাই। একদিন মহর্ষি বিশ্বামিত্র, কণ্ঠ এবং নারদ দ্বারকায় এলেন। তখন কয়েকজন যাদব মহর্ষিদের প্রতারণা করার ফন্দি আঁটেন। তাঁরা শাম্বকে মহিলা সাজিয়ে মহর্ষিদের বললেন, দেখুন তো এর ছেলে না মেয়ে হবে? মহর্ষিগণ প্রতারণা বুঝতে পারলেন। তাঁরা বললেন এর পেট থেকে একটা লোহার মুসল বের হবে এবং এর দ্বারাই যদুবংশ ধ্বংস হবে। এ মুসলের কারণেই শ্রীকৃষ্ণের সাক্ষাতে যদুবংশ ধ্বংস হয়।
পাণ্ডব ও কৌরবদের মধ্যে দশ দিন ধরে ভীষণ যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের সময় ভীষ্মের শরীরে এত শর নিক্ষিপ্ত হয় যে, তাঁর দেহ মাটিতে পড়ে না। তিনি শরের ওপর শুয়ে থাকেন। একেই বলে 'ভীষ্মের শরশয্যা'।
হস্তিনাপুরে কৌরব ও পাণ্ডবদের মধ্যে ধর্ম নিয়ে মতবিরোধের ফলে যুদ্ধের জন্য দুপক্ষই প্রস্তুত। কৌরব পক্ষের সেনাপতি ভীষ্ম। আর পাণ্ডব পক্ষের সেনাপতি অর্জুন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হন অর্জুনের রথের সারথি। যুদ্ধক্ষেত্রে বিপক্ষে গুরুজন ও আত্মীয়স্বজনদের দেখে অর্জুনের মন বিষাদগ্রস্ত হয়। তিনি শ্রীকৃষ্ণকে বলেন, আত্মীয়স্বজনরাই যদি না থাকে তাহলে সেই রাজ্যে সুখ কোথায়? শ্রীকৃষ্ণ তখন অর্জুনকে বলেন- এ যুদ্ধ ধর্মযুদ্ধ। ধর্মের জন্য, ন্যায়ের জন্য যুদ্ধ করলে তাতে পাপ হয় না। এতে অর্জুনের মন শান্ত হয়। তিনি যুদ্ধ করতে উদ্যোগী হন। মহাভারতে বর্ণিত অর্জুনের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের এসব উপদেশসমূহই হচ্ছে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার বিষয়বস্তু।
মহাভারতের প্রধান শিক্ষা হলো-
১. সত্যের জয় অসত্যের পরাজয়।
২. যথা ধর্ম তথা জয়।
৩. কখনোই কেবল নিজের সুখ কামনা করতে নেই।
৪ সকলকে নিয়ে সুখী হওয়াই মানুষের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
৫. অধর্ম আচরণ করলে তার বিনাশ হয়।
মহাভারতের রচয়িতা কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেব। তিনি সংস্কৃত ভাষায় মহাভারত রচনা করেন।
মহাভারতের ১৮টি পর্ব আছে। যার একটি হলো আদি পর্ব।
মহাভারতের আদিপর্বে দেখা যায়-
১. হস্তিনাপুরের রাজা শান্তনুর তিন ছেলে দেবব্রত, চিত্রাঙ্গদ ও বিচিত্রবীর্য।
২. শান্তনুর পর বিচিত্রবীর্য রাজা হন।
৩. তাঁর দুই ছেলে ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু। ধৃতরাষ্ট্র জন্মান্ধ হওয়ার কারণে বিচিত্রবীর্যের মৃত্যুর পর পাণ্ডু রাজা হন।
৪. পান্ডুর মৃত্যুর পর যুধিষ্ঠিরকে যুবরাজ করা হলো কিন্তু দুর্যোধন তা মেনে নিলেন না ফলে তিনি পাণ্ডবদের মেরে ফেলার জন্য অনেক চেষ্টা করেন কিন্তু তাঁরা রক্ষা পেয়ে যান।
৫. পরে ধৃতরাষ্ট্র পাণ্ডবদের অর্ধেক রাজ্য দান করলেন, খাণ্ডবপ্রস্থ হলো পাণ্ডবদের রাজ্য।
মহাভারতে মোট আঠারোটি পর্ব রয়েছে। এ আঠারোটি পর্বের মধ্যে স্বর্গারোহণ পর্বটি শেষ পর্ব। মহাভারতের স্বর্গারোহণ পর্বের মূল বিষয়বস্তু হলো-
১. স্বর্গে গিয়েও যুধিষ্ঠিরের মন ভালো নেই।
২. এজন্য দেবরাজ দেবদূতকে আদেশ দিলেন যুধিষ্ঠিরকে তাঁর ভাইদের কাছে নিয়ে যেতে, তাঁরা তখন নরকে।
৩. সামান্য পাপ করলেও কিছু না কিছু নরক ভোগ করতে হয়।
৪. যুধিষ্ঠির নরকে গিয়ে নরকবাসীদের ভীষণ কষ্ট দেখতে পেলেন কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে নরকবাসীদের কষ্ট দূর হয়ে গেল।
৫. তিনি দ্রৌপদী, চার ভাই এবং অন্যান্য আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হলেন।
৬. তাদের নিয়ে তিনি স্বর্গে গেলেন এবং শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে স্বর্গে অবস্থান করতে লাগলেন।
Related Question
View Allমহাভারত একটি বিশাল গ্রন্থ ।
সংস্কৃত ভাষায় মহাভারত রচনা করেছেন র্যাসদেব।
মহাভারতের মূল কাহিনি কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধ।
ধৃতরাষ্ট্র ছিলেন জন্মান্ধ ।
কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের সারথি হয়েছিলেন।
যেখানে ধর্ম, সেখানেই জয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!