অসতর্কতা ও অসচেতনতা অগ্নিকাণ্ড ঘটার মূল কারণ। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, রান্নার চুলা, দিয়াশলাইয়ের কাঠি বা মোমবাতির ব্যবহার থেকে সাধারণত আগুন লাগে।
রান্নার কাজ শেষে চুলাটি সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে হবে। বাসার বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে কোনো ত্রুটি আছে কি না। এছাড়া আগুন বা দিয়াশলাই নিয়ে খেলাধুলা করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ফলে প্রচুর ধন-সম্পদের ক্ষতি হয় এবং অনেক মানুষ প্রাণ হারায়। অনেকে তাদের ঘরবাড়ি ও জীবনযাপনের সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে।
বস্তিতে আগুন লাগলে শত শত ঘর ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং মানুষ গৃহহীন হয়ে রাস্তায় রাত কাটায়। এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অনেকে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এছাড়া অনেকের আয়ের পথ বা ছোট্টো দোকানপাট পুড়ে গিয়ে 'ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়।
অগ্নিকাণ্ড রোধে আমাদের প্রথমেই সচেতন হতে হবে এবং রান্নার কাজ শেষ হলে চুলার আগুন সম্পূর্ণভাবে নিভিয়ে ফেলতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার বা সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে এবং ছোটোদের আগুন নিয়ে খেলা করা থেকে বিরত রাখতে হবে। যদি অগ্নিকাণ্ড ঘটেই যায়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিতে হবে। আগুন নেভানোর জন্য হাতের কাছে থাকা পানি বা অগ্নিনির্বাপণ সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে। সবার আগে নিজের জীবন বাঁচাতে হবে এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
ঘূর্ণিঝড় সিডর হলো ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশে আঘাত হানা একটি প্রলয়ংকরী ঝড়। এই ঝড়ে উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ ও গবাদি পশু প্রাণ হারিয়েছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় প্রচুর গাছপালা উপড়ে যায় এবং বনের অনেক বন্যপ্রাণী পানিতে ভেসে যায়। জলোচ্ছ্বাসের লবণাক্ত পানি ফসলের মাঠে ঢুকে জমির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদন কমিয়ে দেয়। এছাড়া পানির তীব্র চাপে উপকূলীয় অঞ্চলের রাস্তাঘাট ও বাঁধ ভেঙে যাতায়াত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে উপকূলীয় অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ ও গবাদি পশু প্রাণ হারায়। জলোচ্ছ্বাসের লবণাক্ত পানি ফসলের মাঠে প্রবেশ করার ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা লন্ডভণ্ড হয়ে যায়, ফলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক মানুষ তাদের উপার্জনের প্রধান উৎস হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে. এবং অভাবের কারণে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। কাজের-সন্ধানে অনেকে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাওয়ার ফলে সামাজিক, কাঠামোতে বড়ো পরিবর্তন আসে।
ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত শুনলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত পরিবারের সবাইকে জানাতে হবে। এরপর আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। তাসিন ও তার পরিবার রান্নার চুলা নিভিয়ে এবং বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে ঘর থেকে বের হয়েছিল'। তারা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও শুকনো খারার একটি পানিরোধী বা প্লাস্টিকের কৌটায় ভরে সাথে নিয়েছিল। এছাড়া পশুপাখি নিরাপদ স্থানে রেখে তারা সবাই মিলে একসাথে কাছের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গিয়েছিল।
ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি হারিয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়ে এবং পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। কাজের খোঁজে অনেকে নিজের এলাকা ছেড়ে বড়ো বড়ো শহরে পাড়ি জমায়।
সরকারি ও স্থানীয় পর্যায় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। গৃহহীন মানুষদের জন্য নতুন ঘর তৈরি এবং পশুপাখির জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদের জন্য বীজ ও ঋণের ব্যবস্থা করে তাদের পুনর্বাসন করা যেতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ সংকেত শোনার পর ঘরের বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করতে হবে এবং রান্নার চুলা নিভিয়ে দিতে হবে। জরুরি দলিলপত্র, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ একটি পানিরোধী কৌটা বা ব্যাগে ভরে সাথে নিতে হবে। গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিরাপদ স্থানে বা উঁচুতে রেখে দ্রুত সবাই মিলে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব দেখাতে হবে এবং বড়োদের কথা মেনে চলতে হবে। সেখানে থাকাকালীন খাবার ও পানির অপচয় রোধ করতে হবে এবং দুর্যোগ না থামা পর্যন্ত কেন্দ্রের বাইরে বের হওয়া যাবে না।
আগুন লাগা রোধে বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেমন-
১. চুলা জ্বালানোর পর ভালোভাবে আগুন নিভিয়ে বন্ধ করতে হবে।
২. দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর পর ভালোভাবে নেভাতে হবে।
৩. বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
৪. মশার কয়েল, মোমবাতি জ্বালাতে হলে সেগুলো নিরাপদ জায়গায় রাখতে হবে।
৫. আগুন নেভানোর জিনিজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।
নানা কারণে আগুন লাগতে পারে। আগুন লাগার বিভিন্ন কারণ হলো-
১. চুলার আগুন ভালোভাবে না নেড়ালে আগুন লাগে।
২. গ্যাসের লিকেজ থেকে আগুন লাগতে পারে।
৩. বাচ্চারা আগুন বা আতশবাজি নিয়ে খেললে আগুন লাগতে পারে।
৪. দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালানোর পর ভালোভাবে না নেভালে আগুন লাগতে পারে।
৫. মশার কয়েল, মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে দিয়াশলাই নিরাপদ স্থানে না রাখলে আগুন লাগে।
ঘূর্ণিঝড়ের সংবাদ জেনে আমরা যে ধরনের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করব তা হলো-
১. আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেব।
২. বাসার চুলার আগুন নিভিয়ে দেব।
৩. বিদ্যুতের সংযোগের মেইন সুইচ বন্ধ করে দেব।
৪. হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল নিরাপদ জায়গায় রাখব।
৫. শুকনো খাবার, মোমবাতি, ওষুধ, খাওয়ার পানি, কাপড় ব্যাগে ভরে সাথে নেব।
৬. জমির দলিল ও জরুরি কাগজপত্র পানি নিরোধক কৌটায় ভরে সাথে নেব।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবাংলাদেশে আজকাল অগ্নিকান্ডের ঘটনা বাড়ছে ।
অসতর্কতা ও অসচেতনতা আগুন লাগার প্রধান কারণ।
অগ্নিকান্ডে অনেক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়।
বসতঘর হারানো মানুষগুলো সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করতে স্থানীয় ও সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঘূর্ণিঝড় শুরুর আগে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!