পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলো নিচে আলোচনা করা হলো-
১. ভাষা: পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার, চেষ্টা করেছিল।
২. সংস্কৃতি: পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের, খাবার, পোশাক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে অনেক পার্থক্য ছিল। কিন্তু তারা তাদের বিভিন্ন সংস্কৃতি বাঙালিদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
৩. সরকারি সুযোগ-সুবিধা: সরকারি সুযোগ-সুবিধা, চাকরি ও সামরিক বাহিনীসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হয়েছিল।
৪. অর্থনৈতিক বৈষম্য: পূর্ব পাকিস্তান থেকে উৎপাদিত পাট, চা, চামড়া বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো, তা পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো।
৫. শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষা খাতে পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় অর্ধেক অর্থ ব্যয় করা হতো।
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতির প্রথম বড়ো আন্দোলন, যা পাকিস্তানিদের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনার জন্ম দেয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালিরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দারি প্রতিষ্ঠা করে। এ আন্দোলনের মাধ্যমেই পূর্ব পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয় এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের পথ খুলে যায়। এ আন্দোলনের মাধ্যয়ে বাঙালিরা তাদের ভাষাভিত্তিক সাংস্কৃতিক পরিচয়কে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছিল'।
পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বিভিন্ন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যেই। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দারি উত্থাপন করা হয়। ছয় দফার চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো-
১. এই অঞ্চলের (পূর্ব পাকিস্তানের) জন্য একটি নিজস্ব মুদ্রা চালু করা।
২. খাজনা-ট্যাক্স আদায়ের ক্ষমতা প্রদেশের হাতে থাকবে।
৩. রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রা প্রদেশের অধীনে থাকবে।
৪. আধা সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রণ থাকবে আঞ্চলিক সরকারের হাতে।
১৯৬৮ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে ১ নম্বর আসামি করে আরও ৩৪ জনের বিরুদ্ধে 'আগরতলা ষড়যন্ত্র' মামলা দেওয়া হয় এবং তাদের কারাগারে বন্দি করা হয়। এ গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ছাত্র-জনতা মামলা প্রত্যাহার এবং সর্কল কারাবন্দির মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এই আন্দোলন একসময় 'উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান'-এ রূপ নেয়। এই অভ্যুত্থানে আসাদ, ড. শামসুজ্জোহা, সার্জেন্ট জহুরুল হক, শিশু মতিউরসহ অনেকে শহিদ হন। পাকিস্তান সরকার শেষ পর্যন্ত সকল রাজবন্দিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। শুধু তাই নয়, প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে-বিদায় নেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
Related Question
View Allপাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষের ভাষা ছিল বাংলা।
ছয় দফার মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়।
উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে।
সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানিরা বৈষম্যের শিকার ছিল।
ব্রিটিশরা ভারতবর্ষকে প্রায় দুইশ বছর শাসন-শোষণ করেছে।
১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন দেশে' ভাগ হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!