নিচের যে কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর:

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

স্মার্ট বাংলাদেশ

ভূমিকা

ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনের পথ ধরে আসা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বিজয়ে আজ বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুত "ডিজিটাল বাংলাদেশ" বাস্তবায়ন অনেকটা সম্পন্ন হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশর বাস্তবায়নের পর সরকারের নতুন লক্ষ্য "স্মার্ট বাংলাদেশ।" ভবিষ্যৎ স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিদীপ্ত এবং উদ্ভাবনী। অর্থাৎ সব কাজই হবে স্মার্ট।

ইতিহাস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২ই ডিসেম্বর ২০২২ সালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের (বিআইসিসি) অনুষ্ঠানে ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস-২০২২ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে সর্বপ্রথম 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, 'আমরা আগামী ২০৪১' সালে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলব এবং বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ।' এ স্মার্ট শব্দটি দেশ ও শহরের ক্ষেত্রে প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ভারতে স্মার্ট সিটি প্রকল্প নামে।

পরিকল্পনা

স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার ভিত্তি চারটি। এগুলো হচ্ছে-

  • স্মার্ট নাগরিক
  • স্মার্ট অর্থনীতি 
  • স্মার্ট সরকার 
  • স্মার্ট সমাজ

স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে এ চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে অগ্রসর হলে স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরের কোনো অবশিষ্ট থাকবে না। স্মার্ট নাগরিক ও স্মার্ট সরকার এর মাধ্যমে সব সেবা এবং মাধ্যম ডিজিটালে রূপান্তরিত হবে। আর স্মার্ট সমাজ ও স্মার্ট অর্থনীতি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করলে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

স্মার্ট বাংলাদেশ হবে সাশ্রয়ী, টেকসই, জ্ঞানভিত্তিক, বুদ্ধিদীপ্ত ও উদ্ভাবনী। এককথায় সব কাজই হবে স্মার্ট। যেমন স্মার্ট শহর ও স্মার্ট গ্রাম বাস্তবায়নের জন্য স্মার্ট স্বাস্থ্যসেবা, স্মার্ট পরিবহন, স্মার্ট ইউটিলিটিজ, নগর প্রশাসন, জননিরাপত্তা, কৃষি, ইন্টারনেট সংযোগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এক শিক্ষার্থী, এক ল্যাপটপ, এক স্বপ্নের উদ্যোগ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় সব ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত ক্লাউডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। ইতোমধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নাম পরিবর্তন করে 'স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স' গঠন করেছে বাংলাদেশ সরকার।

টাস্কফোর্স গঠন

বাংলাদেশ সরকার 'স্মার্ট বাংলাদেশ' গড়ার লক্ষ্যে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট "স্মার্ট বাংলাদেশ টাস্কফোর্স' গঠন করেছে। এ টাস্কফোর্সের চেয়ারপারসন হলেন প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বাকি ২৯ জন সদস্য।

টাস্কফোর্সের কার্যাবলী

  • অগ্রসরমান তথ্য প্রযুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান;
  • শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রমকে স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তরের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা প্রদান;
  • স্মার্ট এবং সর্বত্র বিরাজমান সরকার গড়ে তোলার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক, বাণিজ্যিক ও বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক বিধিবিধান প্রণয়নে দিক নির্দেশনা প্রদান। ইত্যাদি।

 

সম্মেলন

স্মার্ট বাংলাদেশের পরিকল্পনাকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকার ৫ অক্টোবর থেকে ৭ অক্টোবর "স্মার্ট বাংলাদেশ সম্মেলন" শুরু করেছে। ২০২৩ সালে এ সম্মেলন প্রথম শুরু হয়। ব্যবসায়ীরা স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে সম্মেলন করে থাকে।

 

স্মার্ট বাংলাদেশ বিষয়ে সুধীজনের মন্তব্য

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে মাইন্ডসেট পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের আলেম সমাজ ও বিভিন্ন ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলো। বিজ্ঞ আলেম সমাজের বক্তব্যে বলা হয়েছে, "আমরা প্রযুক্তিবান্ধব, প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে দক্ষ মানুষ তৈরি করতে চাই। যাদেরকে মানবিক ও সৃজনশীল হতে হবে।" হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও হিউম্যানওয়্যারকে একসাথে কাজে লাগানোর উপর গুরুত্বারোপ করেন বিভিন্ন মুসলিম উদ্যোক্তারা।

স্মার্ট প্রযুক্তি

২০২১ সালেই আমরা পরীক্ষামূলকভাবে দেশে ফাইভজি (5G) সেবা চালু করেছি এবং এরইমধ্যে ফাইভজি (5G) কানেক্টিভিটি সেবা নিয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে। স্মার্ট সিটি ও স্মার্ট ভিলেজ বিনির্মাণে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিক্ষা ক্ষেত্রের উন্নয়নে আমাদেরকে ফাইভজি কানেক্টিভিটি সুবিধাকে কাজে লাগাতে হবে।

উপসংহার

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অত্যাধুনিক পাওয়ার গ্রিড, গ্রিন ইকোনমি, দক্ষতা উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে স্বীকৃতি প্রদান এবং নগর উন্নয়নে বেশ জোরেসোরে কাজ চলছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সময়কে মোকাবেলা করতে ডিজিটাল সংযুক্তির জন্য যতটুকু প্রস্তুতির প্রয়োজন, সরকার তার অধিকাংশই সুসম্পন্ন করেছে। 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বলতে স্মার্ট নাগরিক, সমাজ, অর্থনীতি ও স্মার্ট সরকার গড়ে তোলা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও আর্থিক খাতের কার্যক্রম স্মার্ট পদ্ধতিতে রূপান্তর হবে। মনে রাখতে হবে, স্মার্ট বাংলাদেশ কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের নয়, এটা দেশের ১৬ কোটি মানুষের, মুসলিম জনতার ধ্যানজ্ঞান ও চিন্তা-ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু।

উত্তরঃ

অমর একুশে

ভূমিকা:

বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারি অমর, অক্ষয় এবং স্ব মহিমায় প্রোজ্জ্বল একটি দিন। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় চেতনার এক উর্বর উৎস। তেরো কোটি বাঙালির কাছে এ দিনটি অবিস্মরণীয়। ১৯৫২ সালের ভাষা সংগ্রামের সুমহান স্মৃতির মালায় গাঁথা এ দিনটিকে বাংলাদেশের মানুষ চিরকাল পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। রক্ত রঞ্জিত এ একুশে ফেব্রুয়ারিতেই মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে বাংলার কিছু তরুণ তাদের তাজা প্রাণ অকাতরে আত্মোৎসর্গ করে বাংলার ইতিহাসে লাভ করেছে অমরত্ব। এ চিহ্নিত দিনটি বাঙালি জাতীয়তাবোধের নবজন্মের দিন। এ দিনটির সাথে নির্যাতিত, শোষিত ও বঞ্চিত বাঙালি জাতির এক বিষাদবিধুর ইতিহাস জড়িত।

পাকিস্তানি শাসকচক্রের ষড়যন্ত্র:

একুশে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস খুবই বেদনাবহ। বাঙালির জাতীয় জীবনে ১৯৫২ এর ফেব্রুয়ারি অথবা পলাশ রাঙা ফাল্গুন এক ক্রান্তিলগ্ন। তখন পাকিস্তানি শাসনামল। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর হতেই পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকচক্রের পরিকল্পিত শোষণ ও বঞ্ছনায় এমনিতেই পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা ছিল ক্ষুব্ধ। তদুপরি এদেশের চিরাচরিত শিক্ষা ও সংস্কৃতির মূলে কুঠারাঘাত হানতে পাকিস্তানি শাসকচক্র ঘোষণা দেয়' উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। এর মূলে ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির মুখের ভাষা মায়ের ভাষাকে কেড়ে নিয়ে বাঙালি জাতিকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্য। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর এটা ছিল বাঙালিকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে পঙ্গু করে ফেলার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা।

ভাষা আন্দোলন:

ভাষাপ্রেমী বাঙালিরা প্রতিরোধ আন্দোলনের মাধ্যমে শাসকগোষ্ঠীর অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে দেয় নি। এদেশের দামাল ছেলেরা এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠল। রাজরোষ ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াল। তারা গড়ে তুলল রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। মিটিং, মিছিল আর শ্লোগানে মুখরিত করে তুলল তদানীত্তন পূর্ব পাকিস্তানের আকাশ বাতাস। দুর্বার ভাষা আন্দোলনে দিশেহারা হয়ে পড়ল শাসকগোষ্ঠী, জারি হলো ১৪৪ ধারা। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঙালি তরুণদের দুর্জয় প্রতিবাদ মিছিলে ১৪৪ ধারার প্রতিরোধ ব্যূহ চুরমার হয়ে গেল। আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হলো' রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই'। উপায়ান্তর না দেখে পাকিস্তানি শাসকচক্র নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে বসল ছাত্র জনতার মিছিলে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার ন্যায্য দাবির পবিত্র মিছিল রঞ্জিত হলো বুকের বুধিরে। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর প্রমুখ তরুণের বক্ষ শোণিতে ঢাকার রাজপথে আঁকা হলো রক্তের আল্পনা। অবশেষে রাজশক্তি মেনে নিল বাঙালির প্রাণের দাবি। বাংলা হলো অন্যতম রাষ্ট্রভাষা।

জাতীয় জীবনে একুশের প্রভাব বা তাৎপর্য:

জাতীয় জীবনে একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য খুবই অর্থবহ। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত একটি দিনই নয়। এখান থেকেই বাঙালির জাতীয় জীবনে যে গতিশীল চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তাই একদা পর্যায়ক্রমে স্বাধিকার, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের রূপ পরিগ্রহ করেছিল। দিনের পর দিন বছরের পর বছর শোষিত, বঞ্চিত ও পোড়খাওয়া বাঙালি জাতি ইস্পাতকঠিন দৃপ্ত শপথে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছিল। একশে ফেব্রুয়ারির প্রভাবেই বাঙালি জাতি এক জাগ্রত জাতি হিসেবে চিহ্নিত। এ জাগ্রত মানবশক্তিই বাংলাদেশের অন্যতম সক্রিয় সম্পদ। একুশের প্রেরণায় বাংলাদেশের কোটি কোটি মেহনতি মানুষ তাদের নিরলস শ্রম ও দেহ নিঃসৃত প্রতিটি স্বেদবিন্দুর বিনিময়ে স্বক্রীয় মহিমায় বিভুষিত এক সোনার বাংলার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিল। একুশ বাঙালির জাতীয়তা, স্বাধিকার ও স্বাধীনতার এক অকাট্য দলিল।

বায়ান্ন থেকে একাত্তর:

মূলত বায়ান্ন সালে বাঙালি জাতীয়তাবোধের যে সস্ফুরণ ঘটেছিল তা ই ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করে। ভাষাকে কেন্দ্র করেই গোটা জাতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছিল। একুশের চেতনাকে বুকে ধারণ করেই '৬৯ সালে বাঙালিরা অদ্ভুতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি করে। ১৯৭০ সালে নির্বাচনি বিজয়ের পরও যখন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসতে না দিয়ে বাঙালির ওপর চালানো হলো নির্মম হত্যাকাণ্ড তখন এদেশের মানুষ সংঘবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াল। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধের পর বাংলার মানুষ লাভ করল স্বাধীনতার সোনালি সূর্য। বায়ান্ন সালে যে চেতনার স্ফুরণ ঘটেছিল তারই পরিণতি ঘটে একাত্তরে। সেজন্যেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ভাষা আন্দোলন প্রাণশক্তি হিসেবে চিহ্নিত।

একুশ আমার অহঙ্কার:

বাঙালি জাতির যতগুলো অহঙ্কারের অনুষঙ্গ আছে তার মধ্যে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি অন্যতম। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্যে অকাতর আত্মদানের নজির একমাত্র বাঙালিরই রয়েছে। বাঙালি জাতি ভাষার জন্যে আত্মদানের যে অহঙ্কার অর্জন করেছে তার প্রতি বিশ্ববাসী সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি জানিয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার মধ্যদিয়ে। শিকাগোতে শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্যে আত্মদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ মে বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক শ্রমদিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। বাংলার মানুষের মাতৃভাষাপ্রীতির স্বীকৃতিতে ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। এটা আমাদের জন্যে অবশ্যই অহঙ্কার ও গর্বের বিষয়। একুশ আমাদের দিয়েছে আত্মপরিচয়ের সম্মান, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জীবনদানের প্রেরণা। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিটা তৈরি হয়েছে একুশের কল্যাণেই।

উপসংহার:

একুশ দুর্জয় ও দুর্বার বাঙালি জাতির এক কালজয়ী অমর ও অক্ষয় কীর্তির স্মৃতিময় প্রামাণ্য সনদ। একুশের নির্যাসকে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিতে হবে। জীবনের সর্বস্তরে বাংলাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে আমাদেরকে মনে প্রাণে খাঁটি বাঙালি বলে প্রমাণ করতে হবে। কথনে, লিখনে, চিত্তনে ও পঠনে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করাই একুশের মূল দাবি।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প

ভূমিকা

আধুনিক বিশ্বে শিল্পায়নের ধারণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের পরিধেয় কাপড়ের উৎপাদন এক সময় শিল্প হিসেবেও পরিচিত ছিল। আজ অনেক দেশে শিল্পায়নের ক্ষেত্রে পোশাক শিল্প নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনার সংযোজন আমাদের বাংলাদেশেও ঘটেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশে পোশাক রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। প্রকৃতপক্ষে, পোশাক শিল্প জাতীয় আয়ের প্রায় 64 শতাংশ জোগান দেয়। তাছাড়া এই শিল্প অনেক বেকারের কর্মসংস্থান করেছে। তাদের অধিকাংশই নারী। এর ফলে একদিকে যেমন নারীদের অর্থায়ন ও ক্ষমতায়নের কিছু সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে পুরুষের লাঞ্ছনার হাত থেকেও রক্ষা পাচ্ছে। পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তাদের দ্বারা শোষিত হলেও সামগ্রিকভাবে এই শিল্প আমাদের দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অতীত অবস্থা

সুদূর অতীত থেকেই বিশ্ববাজারে বাংলার পোশাক শিল্পের যথেষ্ট চাহিদা ছিল। বিশেষ করে মসলিন ও জামদানি নামক সুক্ষ্ম কাপড় ছিল বিশ্ব বিখ্যাত। কিন্তু ব্রিটিশদের আগমনে পোশাক শিল্প অনেকাংশে ধ্বংস হয়ে যায়। তারা তাঁতশিল্পকে ধ্বংস করার জন্য নানা পরিকল্পনা করে। কাপড়ের বাজার তৈরির জন্য তারা মেশিনের মাধ্যমে বস্ত্র তৈরি শুরু করে। ফলে এক পর্যায়ে পোশাক শিল্প তার নিজস্ব স্বকীয়তা হারাতে থাকে।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা

দীর্ঘ যাত্রার পর বাংলাদেশ তার তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে বস্ত্র খাতে তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে চাইছে। এই শিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি উৎসাহব্যঞ্জক অবদান রেখে চলেছে। তবে বস্ত্র খাতের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ কিছু শিল্প পণ্য বিদেশে রপ্তানি শুরু করে। 1977 সালে, বেসরকারী শিল্প উদ্যোক্তাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের বিকাশ ঘটে। তখন মাত্র কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ছিল।

1985 সালে তৈরি পোশাক শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে। শুরুতে ১৫০টি পোশাক কারখানা ছিল। এই সীমিত সংখ্যক কারখানা দিয়ে পোশাক শিল্পের সূচনা হলেও শিল্পপতিরা ধীরে ধীরে কারখানার সংখ্যা ও শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ান। দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্রিয় ভূমিকার কারণে এসব শিল্পের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজারের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৮ লাখ লোক কর্মসংস্থান করেছে, যার মধ্যে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি, প্রায় ৮৫%।

পোশাক শিল্পের ইতিহাস

জীবনধারণের জন্য যেমন খাদ্যের প্রয়োজন, তেমনি সমাজে বসবাসের জন্য মানুষের বস্ত্রের প্রয়োজন। প্রাচীনকালে, লোকেরা লতা, পাতা, বাকল এবং পশুর চামড়া দিয়ে তাদের বস্ত্রের চাহিদা মেটাত এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তন্তু, সুতা এবং কাপড়ের প্রচলন হয়। কবে, কবে এবং কোথায় প্রথম কাপড়ের ব্যবহার শুরু হয়েছিল তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও এক সময় মানুষ সুই সুতো দিয়ে সেলাই করে নিজেদের কাপড় তৈরি করত। ধীরে ধীরে মানুষ সেলাই মেশিনের সাহায্যে কাপড় তৈরি করতে থাকে। সেলাই মেশিনের সাহায্যে মানুষের কাপড় সেলাইয়ের ইতিহাস মাত্র 260 বছর আগের গল্প। সেলাই মেশিন উদ্ভাবকদের প্রাচীন ইতিহাস থেকে দেখা যায় যে ইংল্যান্ডের চার্লস ফ্রেডরিক 1755 সালে প্রথম যান্ত্রিক সেলাই মেশিন আবিষ্কার করেন। তারপর সেলাই মেশিন হাতের সেলাইয়ের মতো সেলাই তৈরি করতে পারে। আইজ্যাক মেরিট সিঙ্গার 1851 সালে বাণিজ্যিকভাবে সফল সেলাই মেশিন আবিষ্কার করেছিলেন।

বাংলাদেশের পোশাক শিল্প এবং এর ভবিষ্যৎ

বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের যাত্রা শুরু হয় ষাটের দশকে। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বৃহত্তম রপ্তানিমুখী শিল্প। 1960 সালে, বাংলাদেশের প্রথম পোশাক ঢাকার উর্দু রোডে রিয়াজ স্টোর নামে যাত্রা শুরু করে। 1967 সালে, রিয়াজ স্টোরের উৎপাদিত 10,000 পিস শার্ট প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে (যুক্তরাজ্য) রপ্তানি করা হয়েছিল। এরপর 1973 সালে তিনি রিয়াজ স্টোর" এর নাম পরিবর্তন করে "রিয়াজ গার্মেন্টস" করেন। এছাড়া এ যুগের আরও একটি পোশাকের কথা শোনা যায়, তা হলো 'দেশ গার্মেন্টস'। দেশ গার্মেন্টস তখনকার 100% রপ্তানিমুখী পোশাক ছিল। ৭০ এর দশকের শেষের দিকে এদেশে মাত্র ৯টি রপ্তানিমুখী কোম্পানি ছিল যারা ইউরোপের বাজারে প্রতি বছর ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ব্যবসা করত। সে সময় দেশে বড় ও বিখ্যাত পোশাক কারখানা ছিল ৩টি। সেগুলো হলো- রিয়াজ গার্মেন্টস, প্যারিস গার্মেন্টস, জুয়েল গার্মেন্টস। 

পোশাক শিল্পের বাজার

যেকোনো উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্যের বাজার তৈরি করা। তা না হলে পণ্য যতই ভালো হোক না কেন তা কোনো কাজে আসে না। আশার কথা, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে যথেষ্ট চাহিদা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। কানাডা, ইইসি দেশ, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ছাড়াও ২৩টি দেশে বাংলাদেশ তার পোশাক রপ্তানি করে। এসব পোশাকের মধ্যে রয়েছে শার্ট, পায়জামা, জিন্স প্যান্ট, জ্যাকেট, ল্যাবরেটরি কোট, গেঞ্জি, সোয়েটার, পুল ওভার, খেলাধুলার পোশাক, নাইট ড্রেস ইত্যাদি। বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত হচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্পের অবদান

পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী অবদান রেখে চলেছে। এই সেক্টরের অবদানের প্রধান দিকগুলি নিম্নরূপ:

অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধি

পোশাক শিল্পের বিকাশের সাথে সাথে দেশের রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশের প্রায় শতাধিক বায়িং হাউস পোশাক ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে নিয়োজিত রয়েছে। জাতীয় আয়ের প্রায় ৬৪% আসে এই খাত থেকে। তবে এই আয় নির্ভর করে রপ্তানি বাণিজ্যের ওপর।

বেকার সমস্যা সমাধান

এই শিল্প বেকারত্ব হ্রাস এবং জাতীয় জীবনে স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে কারণ এই খাতে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের এক মিলিয়নেরও বেশি নারী শ্রমিককে কর্মসংস্থান করা যেতে পারে।

দ্রুত শিল্পায়ন

পোশাক শিল্প দ্রুত শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে এদেশে বিভিন্ন স্পিনিং, উইভিং, নিটিং, ডাইং, ফিনিশিং, প্রিন্টিং ইত্যাদি শিল্প গড়ে উঠছে। এ ছাড়া গার্মেন্টস, জিপার, বাটাম, ব্যাগলা ইত্যাদি শিল্পের প্রসার ঘটছে

পরিবহন এবং পোর্ট ব্যবহার

পোশাক শিল্পের আমদানি-রপ্তানি বন্দর থেকে কারখানায় পরিবহন শিল্পের অগ্রগতি এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহারে নেতৃত্ব দিয়েছে।

অন্যান্য অবদান

পোশাক শিল্পে বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো লাভবান হচ্ছে। বীমা কোম্পানির প্রিমিয়ামের পরিমাণ বাড়ছে। বাংলাদেশে আসছে নতুন নতুন প্রযুক্তি।

ফ্যাশন শিল্পে সমস্যা

1 জানুয়ারী, 2005 থেকে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO) দ্বারা প্রবর্তিত টেক্সটাইল এবং পোশাক সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর হয়। মাল্টিফাইবার অ্যারেঞ্জমেন্ট (MFA) চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। ফলে পোশাক শিল্প কোটা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আসলে কোটামুক্ত বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার জন্য আমাদের দেশ এখনো প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি তৈরি করতে পারেনি। যেখানে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, চীন, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশ কম খরচে মানসম্মত পোশাক উৎপাদন করছে, সেখানে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। এই পশ্চাৎপদতার মূলে রয়েছে নানা সমস্যা।

পোশাক শিল্পের সম্ভাবনা

বাংলাদেশের বস্ত্র শিল্পের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। তবে আজকের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে টিকে থাকতে অনেক দূর যেতে হবে। এর জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। শিল্প প্রতিষ্ঠানের ISO সার্টিফিকেশন গ্রহণ করা উচিত। ক্রেতারা যেহেতু বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সর্বোপরি, আমাদের টেক্সটাইল ও পোশাকের মান উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দাম কমিয়ে চ্যালেঞ্জকে সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার, উদ্যোক্তা ও ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশে পোশাক শিল্পের অবস্থান

2021 সালের শেষে, পোশাক রপ্তানিতে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে 4.72 বিলিয়ন ডলার। এর ফলে পোশাক রপ্তানিতে ভিয়েতনামকে টপকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ হাজার ৫৮০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের রপ্তানি মূল্য ছিল ৩ হাজার। 108 মিলিয়ন ডলার। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে চীনের অবস্থান প্রথম। আর বাংলাদেশ থেকে এক ধাপ নিচে অর্থাৎ প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম চলে গেছে তৃতীয় স্থানে।

উপসংহার

মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে পোশাক শিল্পের ভূমিকা অনন্য। 1977 সালে হাতে গোনা কয়েকটি কারখানা নিয়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সূচনা হয়েছিল, আজ এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। জাতীয় আয়ের পাঁচ শতাংশের বেশি আসছে এ শিল্প থেকে। তাই এটা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, সব ক্ষেত্রে সরকারি অনুগ্রহ পেলে এই শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং বাংলাদেশের জন্য অসীম সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। আর পোশাক শিল্প ভবিষ্যতে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে।

উত্তরঃ

শিষ্টাচার

শিষ্টাচার

আভিধানিক অর্থে রুচিপূর্ণ ভদ্র ব্যবহারকে শিষ্টাচার বলে। শিষ্টাচার' শব্দটির মধ্যেই এর সম্পূর্ণ তাৎপর্য লুক্কায়িত। শিষ্টাচার শব্দটিকে ভাঙলে যে দুটি অংশ পাওয়া যায় তা হলো: শিষ্ট আচার শিষ্টাচার; এর অর্থ বিনীত, সংযত ও শশাভন আচার-ব্যবহার। অর্থাৎ, ভদ্রতা ও বিনম্র আচরণের যৌক্তিক মিলনের নামই শিষ্টাচার বা সৌজন্যতা। আত্মীয়-অনাত্মীয়, পরিচিত-অপরিচিত সকলের সঙ্গে প্রীতিপূর্ণ, রুচিসম্মত ব্যবহারই শিষ্টাচার। শিষ্টাচারে সকলেই মুগ্ধ হয়। শিষ্টাচার শুধু বাইরের মার্জিত ব্যবহারই নয়, এর সাথে মিশে আছে ভদ্রতার সামাজিক রীতি অনুসরণ এবং সুজনের মহৎ হৃদয়ের গভীর উষ্ণ স্পর্শ। আরও আছে নিবিড়ভাবে উৎসারিত অন্তর সৌন্দর্যের বিকশিত মহিমা।

মানবজীবনে শিষ্টাচারের গুরুত্ব

দেহের সৌন্দর্য পোশাক-আশাক-অলংকারে, কিন্তু আত্মার সৌন্দর্য সৌজন্য-শিষ্টাচারে। মানুষ। যতদিন অরণ্যচারী ছিল, ততদিন শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ প্রকাশের প্রয়োজনবোধ করেনি। যখন থেকে মানুষ সমাজবদ্ধ হলো, তখন থেকে শিষ্টাচার ও ভদ্রতাবোধের প্রয়োজন অনুভূত হলো। শিষ্টাচার কেবল আমাদের ব্যক্তিজীবনের সৌন্দর্যই নয়, আমাদের সমাজজীবনেরও গৌরবজনক প্রভাবমুকুট। শিষ্টাচারের গুণেই মানুষের সঙ্গে মানুষের যেকোনো সম্পর্ক রাখা সম্ভবপর হয়। বড়ো ও বয়স্কদের সম্মান করা, সকলকে আচরণে তুষ্ট করা, ঔদ্ধত্যকে পরিহার করা এবং সবার সঙ্গে প্রীতিময় সম্পর্ক গড়ে তোলাই হলো। মানবিক বৈশিষ্ট্য। মার্জিত রুচি ও সুন্দর মনের পরিচয় দিতে হলে কথাবার্তায় ও আচার-আচরণে আমাদের নম্র ও বিনয়ী হতে হবে। শিষ্টাচার ও সৌজন্য সামাজিক মানুষের এক দুর্লভ ঐশ্বর্য। যে সমাজ শিষ্টাচারকে যতটা সাদরে গ্রহণ করে সে সমাজ ততটা সভ্য। উন্নত জাতি তথা উন্নত সভ্যতা শিষ্টাচারেরই অবদানপুষ্ট। ফুল যেমন বাতাসে তার সুবাস ছড়ায় তেমনি মহৎ ব্যক্তির শিষ্টাচার প্রকাশ। পায় তার ব্যবহারে। সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে শিষ্টাচার অনন্য ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষাজীবনে শিষ্টাচারের তাৎপর্য: 

ছাত্রজীবন মানবজীবনের সর্বোৎকৃষ্ট সময় এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতিপর্ব বা ভিত্তি স্থাপনকাল। ভূমিকা পালন করে। এরই ওপর নির্ভর করে একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতা। পরবর্তী জীবনের গতি-প্রকৃতি ছাত্রজীবনের চরিত্র-গঠন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হয়। এ সময় শুধু পুথিগত শিক্ষা নয়, শিষ্টাচার ও সৌজন্য শিক্ষারও যথার্থ কাল। শিষ্টাচার ও সৌজন্যের ছোঁয়াতেই ছাত্র হয় বিনীত, ভদ্র ও সংযত। ছাত্রজীবনে যে গুরুজনদের শ্রদ্ধা করতে শিখল না, যার উদ্ধত ব্যবহারে শিক্ষক বিরক্ত, যার রূঢ় অমার্জিত আচরণে সহ-শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ-বেদনাহত, পরবর্তী কর্মজীবনে তার একই আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তখন সমাজ ও দেশের জন্য সে হয় অশুভ শক্তি, অকল্যাণের মূর্ত প্রতীক। হতাশা, ব্যর্থতার তিল তিল দংশন-জ্বালায় সে নিজেকে নিঃশেষ করে। ছাত্রজীবনই মানুষের সুকুমারবৃত্তি লালনের শুভক্ষণ। আর শিষ্টাচার ও সৌজন্য হলো তার মনুষ্যত্ব অর্জনের সোপান। এরই মধ্যে রয়েছে নিজেকে সুন্দর ও সার্থকতায় পরিপূর্ণ করে তোলার মহাশক্তি। ছাত্রজীবনে শিষ্টাচারের প্রকাশ ঘটে পোশাক-পরিচ্ছদে। তাই পোশাক-পরিচ্ছদে সুরুচির পরিচয় থাকতে হবে। শিষ্টাচার-সৌজন্য প্রকাশের জন্য ছাত্রদের কিছু হারাতে হয় না, কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয় না, এতে কায়িক শ্রমও দিতে হয় না। শুধু দরকার হয় অভ্যাস আর সুশিক্ষা। সে অভ্যাস নৈতিক শিক্ষার আদর্শে জীবন গঠনের পরিশীলিত অনুশীলন। যার ফলে মহৎ ও সমৃদ্ধ জীবন বিকাশের পথ প্রশস্ত হয়। বিনয়ী ভদ ছাত্র শুধু শিক্ষকের স্নেহই কেড়ে নেয় না, সে পায় শিক্ষকের আশীর্বাদ, পায় তার সাহায্য। আর সেজন্য মনীষীদের পথ অনসরণ করে শিক্ষার্থীদের মহৎ অঙ্গীকারে জীবনকে কুসুমের মতো বিকশিত করে তুলতে হবে। এমন জীবনকসম বিকাশে শিষ্টাচার। পুষ্পদণ্ড ও সৌজন্য পাপড়ির ভূমিকা পালন করে। শিষ্টাচারহীন শিক্ষা সুশিক্ষা নয়, কেননা শিক্ষার চড়ান্ত ফল বা পরিণতি হলো। সহনশীলতা- যা একমাত্র শিষ্টাচার চর্চার মাধ্যমেই আত্মস্থ করা সম্ভব।

সামাজিক দৃষ্টিতে শিষ্টাচার :

ক্রমাগত বিবর্তনের ধারায় জ্ঞান-বিজ্ঞানে চরম উৎকর্ষ সাধিত একুশ শতকে এসে আমরা একটু মানব। সভ্যতার দিকে ফিরে তাকাতে চাই। সভ্যতার দেনা-পাওনার হিসাবে করলে আমরা দেখতে পাই, সভ্যতা আমাদের উন্নত জীবন। ব্যবস্থার সাথে অমূল্য ধন শিষ্টাচার উপহার দিয়েছে এবং সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে শিষ্টাচারই হলো মানুষের শ্রেষ্ঠতম সম্পদ। কেবল এর জন্যই আমরা সুসভ্য মানুষ হিসেবে তথা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে গর্ববোধ করতে পারি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সমাজ যত সভ্য, তার লোক-ব্যবহার তত মার্জিত, সম্ভাবমূলক এবং সুরুচিব্যঞ্জক। কিন্তু সেই লোক-ব্যবহার কেবল রীতিনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক অনুষ্ঠানে সৌভ্রাতৃত্ব ও সৌষ্ঠব রক্ষার্থে কতকগুলো নিয়ম অনুসরণ করতে হয় তাকে রীতি বলে। কিন্তু ভদ্রতা বা শিষ্টাচার রীতিমাত্র নয়; রীতি কেবল বাইরের অভ্যাস, তাতে অন্তরের স্পর্শ থাকে না। আর হৃদয়ানুভূতিহীন অভ্যাস ভণ্ডামির নামান্তর। শিষ্টাচার আত্মা থেকে উৎসারিত মাধুর্য, শোভন হৃদয়ের অকৃত্রিম সৌন্দর্য। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিষ্টাচারের গুরুত্ব ব্যাপক। দলবদ্ধ সমাজব্যবস্থায় রীতি বা সংস্কারের শৃঙ্খলে আমাদের জীবন যাপিত হলেও মৌলিক শিষ্টাচার আমাদের পালন করতেই হয়। আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখতে সৌহার্দ ও সম্প্রীতির বলয় সৃষ্টিতে শিষ্টাচারের তাৎপর্য অপরিসীম।

শিষ্টাচার অর্জনের উপায়:

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে 'Courtesy costs nothing but buys everything.' কিন্তু এই শিষ্টাচার কীভাবে অর্জন করা যায়? হ্যা, আশৈশব আত্মসংযম ও মার্জিত প্রকাশভঙ্গির অনুশীলনের দ্বারা শিষ্টাচার অর্জন করা সম্ভব। তারপরও আত্যন্তিক স্পষ্টবাদিতার সঙ্গে শিষ্টাচারের মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। স্পষ্টবাদিতার দোহাই দিয়ে ইতরতা বা রূঢ়তার অস্ত্র-প্রয়োগ সামাজিক শালীনতাবোধকে পীড়িত করে। তথাকথিত স্পষ্টবাদীর দল লোক-সমক্ষে নিজেদের অসাধারণরূপে জাহির করার ঘৃণ্য লোভ সংবরণ করতে না পেরে সামাজিক শিষ্টাচারকে পদদলিত করে অত্যন্ত রূঢ় কথা বলে ফেলে। অথচ সেই অপ্রিয় সত্য বাক্যটি রূঢ়-স্বরে না বলে মার্জিত ভঙ্গিতে প্রকাশ করতে পারলে আত্মিক সমুন্নতি প্রকাশ পায়। আর তার জন্য প্রয়োজন শিষ্টাচার। শিষ্টাচারের গুণে মানুষের হৃদয়ে অতি সহজেই জায়গা করে নেওয়া যায়।

শিষ্টাচার ও খোশামোদ-বৃত্তি: 

দ্রতা হলো সব মানুষের প্রতি সমান দৃষ্টি, আর খোশামুদির দৃষ্টি কেবল নিজের প্রতি নিবদ্ধ। সৌজন্যবোধ নিজেকে অপেক্ষমাণ রেখে পরের সুবিধা আগে করে দিতে তৎপর; অন্যদিকে, খোশামোদ বা তৈল বৃত্তি বোঝে শুধু। নিজের সুবিধা। তৈলবাজের উদ্দেশ্যই থাকে আত্মসুখ ও আত্মসমৃদ্ধি। কিন্তু শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধ সৌষ্ঠবমণ্ডিত, সরল ও সুন্দর। তৈল-বৃত্তি সৌষ্ঠবহীন, কুটিল ও কুৎসিত। শিষ্টাচার বিশ্বমুখীনতায় উজ্জ্বল আর খোশামোদ-বৃত্তি আত্মমুখীনতায় অন্ধ।

চক্ষুলজ্জা ও শিষ্টাচার

 চক্ষুলজ্জা নামে একটি সামাজিক উপসর্গ শিষ্টাচারের বেনামিতে লোক-সমাজে প্রচলিত আছে। চক্ষুলজ্জার খাতিরে অসত্যকে সত্য বলে স্বীকার করা একটি গুরুতর সামাজিক ব্যাধি। শিষ্টাচারের সঙ্গে দৃঢ়তার মিশ্রণই এই ব্যাধির সঠিক চিকিৎসা। এদেশে অমায়িক এবং লোকপ্রিয় মানুষের খুবই অভাব। তাই আমাদের সমাজে এখনও শিষ্টাচার নামক স্বভাবটি যথার্থভাবে গড়ে ওঠেনি। তাছাড়া দারিদ্র্য, অশিক্ষা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অপরিকল্পিত জীবন-যাপনের ফলে আমাদের সমাজব্যবস্থায় শিষ্টাচার বা সৌজন্যবোধের সংস্কৃতি খুব একটা প্রসারতা লাভ করেনি। শুনতে আপত্তিকর হলেও সত্য যে, শিষ্টাচার-সংস্কৃতি তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে এবং তার সর্বজনীন সুফলতা অর্জন করতে বাঙালিকে আরও অনেক সাধনা করতে হবে।

শিষ্টাচার ও রাষ্ট্র: 

পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে শিষ্টাচারের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শিষ্টাচারের অভাবে মানুষে-মানুষে, জাতিতেজাতিতে বিরোধ ও দ্বন্দ্বযুদ্ধ লেগেই থাকে। সাম্প্রতিককালে দেশের অভ্যন্তরে রাজনীতিক দলগুলোর পারস্পরিক সাংঘর্ষিক সম্পর্ক শিষ্টাচার বর্জনের সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ। শিষ্টাচার না থাকার ফলে রাজনীতিক সংস্কৃতি যেমন বিপর্যস্ত হয় তেমনি গণতন্ত্র হয় ভুলুণ্ঠিত। তাই জনসাধারণের আচার-ব্যবহারে যেমন শিষ্টতা বজায় রাখতে হবে তেমনি রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নেতৃত্ব প্রদানে মন্ত্রীএমপি-নেতা-নেত্রীদের যথার্থ শিষ্টতার পরিচয় দেওয়া অপরিহার্য। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষ তার নিজ নিজ কর্মে শিষ্টতা বজায় রাখলে সমাজে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করবে। সামাজিক সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিষ্টাচারের কোনো বিকল্প নেই। যে জাতি যত বেশি সভ্য, সে জাতি তত বেশি শিষ্টাচারী। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড আর শিষ্টাচার জাতির সভ্যতার ভিত।

শিষ্টাচার না থাকার কুফল: 

আজ সমাজের ও রাষ্ট্রের নানা ক্ষেত্রেই অশিষ্টাচার ও সৌজন্যহীনতার নিষ্ঠুর চিত্র পরিলক্ষিত হয়। দিন দিনই মানুষের উচ্ছঙ্খলতা বাড়ছে। বাড়ছে সীমাহীন ঔদ্ধত্য। আজকাল তো বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করার রীতি প্রায় উঠেই গেছে। অতি আধুনিকতার নামে এবং পাশ্চাত্য অনুকরণে গা ভাসিয়ে আমরা যেমন আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ভুলতে বসেছি তেমনি ভুলেছি শিষ্টাচার-সৌজন্যবোধ। তাই তো গুণীজনদের অবজ্ঞা করি আর নমস্যদের করি অশ্রদ্ধা। মানুষের ভিতরের সুকুমারবৃত্তিগুলো কেমন যেন নেতিয়ে পড়ছে দিন দিন। প্রকট হয়ে উঠছে শুধু জনে জনে দ্বন্দ্ব আর সংঘাত। শিষ্টাচারের অভাবে সমাজ অন্তঃসারশূন্য ও জাতি বিবেকহীন হয়ে পড়ছে। চারদিকে আজ নিষ্ঠুর বিত্তবানের নির্লজ্জ ঔদ্ধত্য; সবলের সীমাহীন নির্মম অত্যাচার। আজকাল ভদতাই যেন ভীরুতার প্রকাশ; সৌজন্যই যেন দুর্বলতার পরিচয়; শিষ্টাচার প্রদর্শন করাই যেন অসহায়ত্বকে তুলে ধরা; নম্রভাব দেখালে মানুষ যেন তাকেই আজ মনে করে হাঁদা-বুদ্ধ! তাই জীবনানন্দ দাশ যথার্থই বলেছেন-

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ 

যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা 

যাদের হৃদয়ে কোন প্রেম নেই- প্রীতি নেই 

করুণার আলোড়ন নেই 

পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।

মানুষকে অপমান করতে পারলে, হেনস্তা করতে পারলেই যেন মানুষের পৈশাচিক তৃপ্তি। দুর্ব্যবহার, মিথ্যাচার, দুর্নীতি, লাম্পট্য এবং যাবতীয় বিবেকবর্জিত কু-কাজের কলুষতায় মানুষ আজ নিমজ্জিত। শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধের সৌন্দর্য হারিয়ে মানুষ আজ নিঃস্ব, হৃদয়হীন। অন্তরের প্রস্ফুটিত শতদল আজ ছিন্নভিন্ন। আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে শিষ্টাচারের বিকল্প কিছু নেই।

উপসংহার: 

শিষ্টাচারের মাধ্যমে মানবিক সত্তার বিকাশ ঘটে বলে ঔদ্ধত্য আর উচ্ছঙ্খলতা এখানে পরাজিত হয়। দূর হয় কদর্য ও অশীলতা। শিষ্টাচারের গুণেই মানুষ হয়ে ওঠে সহজ-সরল, স্পষ্ট, সৎ ও মার্জিত। মোটকথা, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সংসার চক্রের অনিবার্য ঘর্ষণে যে শ্বাসরোধকারী ধূম্রজাল উত্থিত হতে থাকে, শিষ্টাচারের স্নিগ্ধ শান্তি-বারি সিঞ্চনেই তা নিবারিত হতে পারে। শিষ্টাচার ধলি-মান পৃথিবীর রুক্ষতাকে কোমলতা দান করে প্রাত্যহিক জীবনযাত্রাকে শোভামণ্ডিত করে তোলে। শিষ্টাচার সভ্যতার। আতিক সম্পদ যুগ-যুগান্তরের চিপ্রকর্ষের অনবদ্য যোগফল। তাই সমাজ হতে শিষ্টাচারের দুর্ভিক্ষ দূর হোক এটাই আমাদের সনির্বন্ধ প্রার্থনা।

উত্তরঃ

শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার

ভূমিকা: 

শিক্ষার প্রাথমিক লক্ষ্যই হলো শিক্ষার্থীদেরকে যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা প্রদান করে তাদেরকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা। প্রযুক্তিগত কৌশলে শিক্ষার্থীদেরকে দক্ষ ভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চারপাশেই প্রযুক্তি ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া সমাজে চলাফেরা করা অনেকটা দুর্বিষহ বলা যায়।

UNESCO কর্তৃক গঠিত Information and Communication on Education for Twenty-Fast Century এর একটি প্রতিবেদনে তথ্য প্রযুক্তি বা আইসিটিকে একবিংশ শতাব্দির জন্য আবশ্যকীয় দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটির ব্যবহার নিশ্চিত করণে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই সরকারি-বেসরকারি ভাবে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা কার্যক্রমে আইসিটি ভিত্তিক পড়াশোনা চালু করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে।

তথ্য প্রযুক্তি কি?

তথ্য প্রযুক্তি বলতে বোঝায় তথ্য সংগ্রহ, সংস্করণ, বিশ্লেষণ, প্রক্রিয়াকরণ, উৎপাদন ও যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সকল উপকরণ।

তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিনিয়তই নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হচ্ছে, তবে বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, স্যাটেলাইট, মাল্টিমিডিয়া, টেলিভিশন ও রেডিও ইত্যাদি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার মূলত হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার সম্পর্কিত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করাকে বোঝায়।

বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তির সম্ভাবনা প্রবল। আমরা যদি কর্মক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার প্রোপারলি করতে পারি তবে তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে আমাদের দেশকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির গুরুত্ব

দিন দিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আমাদের সমাজের ব্যপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। বর্তমানে বলতে গেলে আমরা প্রতি মিনিটেই প্রযুক্তির ব্যবহার করছি। সমাজের অগ্রযাত্রায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা কত বেশি তা সংক্ষিপ্ত আকারে বলা মুশকিল। বিশ্বের যে সকল দেশ সবচেয়ে বেশি উন্নত তাদের প্রযুক্তির ব্যবহার সবেচেয়ে বেশি। এখন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও আইসিটির বহুমুখী ব্যবহার করা হচ্ছে।

তাই এখন বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হচ্ছে। একুশ শতকের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। যার অর্থ কৃষি, খনিজ সম্পদ কিংবা শক্তির উৎস নয়, শিল্প কিংবা বাণিজ্যও নয়, এখন পৃথিবীর সম্পদ হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এখন আমাদের প্রয়োজনীয় সকল কাজের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে যথেষ্ঠ দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। তাছাড়া ভবিষ্যত পৃথিবীর অগ্রযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়।

একজন শিক্ষার্থী যতক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহারে অভ্যস্ত না হবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, সংযোজন করে নতুন তথ্য সৃষ্টি করতে পারবে না। এই দক্ষতা অর্জন করতে না পারলে সে একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জ্ঞান ভিত্তিক সমাজে স্থান করে নিতে পারবে না।

তাই নিচে আমি টেকনোলোজি ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি।

কর্মসংস্থানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ভূমিকা

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে একজন কর্মী অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই স্বল্প কর্মী দিয়ে বেশি কাজ করিয়ে নিতে পারে। 

উদাহরণ হিসেবে নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।

  • বিভিন্ন কারখানার বিপজ্জনক কাজগুলো মানুষের পরিবর্তে রোবট কিংবা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে।
  • কর্মস্থলে কর্মীদের উপস্থিতির সময়কাল, তাদের বেতন, ভাতাদি ইত্যাদি হিসাব করার জন্য বেশ কিছু কর্মীর প্রয়োজন হয়। কিন্তু ষয়ংক্রিয় উপস্থিতি যন্ত্র, বেতন, ভাতাদি হিসাবের সফটওয়্যার ইত্যাদির ব্যবহারের মাধ্যমে এ সকল কাজ সম্পন্ন করা যায়।
  • বিভিন্ন গুদামে মালামাল সুসজ্জিত করার কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায়।
  • টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে পৃথক জনবলের প্রয়োজন হয় স্বয়ংক্রিয় ইন্টারেকটিভ ভয়েস প্রযুক্তি ব্যবহার করে দিন রাত যেকোনো সময় গ্রাহকের নির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দেওয়া যায়।
  • ব্যাংকের এটিএম এর মাধ্যমে যেকোনো সময় নগদ অর্থ তোলা যায়।

 

অন্যদিকে আইসিটির কারণে অনেক কাজের ধরন প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে-

  • পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য নিজেকে ক্রমাগত দক্ষ করে তুলতে হয়। ফলে দক্ষতা উন্নয়নের কর্মসূচিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।
  • কম্পিউটারের সাহায্যে অনেক ধরনের কাজ ঘরে বসেই করা সম্ভব হচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে কাজে বিশেষ দক্ষতা না থাকলে যে কাজ সম্পন্ন করা যেত না, এরূপ অনেক কাজ কম্পিউটারের সহায়তা সহজে সম্পন্ন করা যাচ্ছে। যেমন ফটোগ্রাফি (photography) বা ভিডিও এডিটিং (video editing)।
  • অনেকে ঘরে বসে কাজ করছে। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন ভার্চুয়াল (virtual) প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে সহায়ক কর্মীর সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনি তাদের কাজের ধরনও পাল্টে গেছে।
  • স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হওয়াতে কর্মীদের কাজে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

 

যোগাযোগ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় প্রণোদনা হলো এর মাধ্যমে নিত্যনতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়। ফলে অনেক বেশি কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা ও গুরুত্ব

শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব রয়েছে। একটি সময় ছিল, যখন শিক্ষার্থী কোনো বিষয় জানার প্রয়োজন হতো তখন ব্যক্তি বা বইয়ের ওপর পুরোপুরি ভাবে নির্ভর করতে হতো।

অনেক ক্ষেত্রে জানার বিষয়গুলো আজীবন অমিমাংশিতই থেকে যেতো। যেই বিষয়ে জানা যেতো, তাও ছিল সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু প্রযুক্তি আসার পর সকল অনিশ্চয়তা কাটিয়ে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের জ্ঞানভান্ডার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রমে নিয়ে এসেছে সহজলভ্যতা। সেই সাথে তৈরি হয়েছে অপার সম্ভাবনা।

প্রযুক্তি ভিত্তিক পড়াশোনা মূলত সামাজিক জীবনে শিক্ষার্থীদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে রাখে। তাছাড়া, Teaching-Learning কার্যক্রমকেও আকর্ষণীয় ও কার্যকর করার এক অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করেছে আইসিটি।

গবেষণায় দেখা গেছে প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষা উপকরণ গতানুগতিক শিক্ষা উপরকণের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর।

শিক্ষকগণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদেরকে সফলভাবে পাঠদান করতে পারেন।

আবার শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও বইয়ের সীমানা ছাড়িয়ে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (WWW) ব্যবহার করে পৃথিবীর যে কোনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের তথ্য সহজেই জানতে পারে।

এতে করে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন অনেক বেশি সহজ হয়। তাছাড়া, প্রযুক্তি নির্ভর পড়াশোনা অনেকটা কর্মমুখী, যা শিক্ষার্থীদেরকে ক্যারিয়ার জীবনে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রস্তুত করতে অনুপ্রাণিত করে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রযুক্তির নাম

একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাক্ষেত্রে যেই প্রযুক্তি গুলো ব্যবহার করে তারমধ্যে রয়েছে-

  • কম্পিউটার/ল্যাপটপ
  • ইন্টারনেট
  • স্মার্টফোন/ট্যাব
  • মাল্টিমিডিয়া ইত্যাদি।

 

এগুলো ছাড়াও শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার হয়। তবে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারের দিক দিয়ে উপরোল্লিখিত প্রযুক্তি গুলোই বেশি ব্যবহার করে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির গুরুত্ব

শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য। জীবনযাপনে সহজলভ্যতা আসার পাশাপাশি মানব সম্পদ উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়।

একজন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আইসিটি ভিত্তিক শিক্ষাক্রমের উদ্দেশ্য গুলো হলো:-

  • শিক্ষার্থীদেরকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অপচুনিটি ও অসীম সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত করা।
  • তথ্য প্রযুক্তির প্রভাবে ক্রমবর্ধমান পরিবর্তনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ সাধন করা।
  • প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদেরকে সমর্থ করা।
  • ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষার্থীদেরকে প্রযুক্তির ব্যবহারে অনুপ্রাণিত করা।
  • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক আচরণের অভ্যাস গড়ে তোলা।
  • প্রযুক্তির মাধ্যমে বেকরত্ব নিরসন, দারিদ্র্যতা বিমোচন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতি উৎসাহ দেওয়া।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার যদি নিশ্চিত করা যায়, তবে উপরোল্লিখিত বিষয় গুলো একজন শিক্ষার্থীকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

তাই শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থী সবাইকেই গুরুত্বের সাথে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভিত্তিক পড়াশোনাকে গ্রহণ করা উচিত।

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার

শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদেরকে সহজেই সমৃদ্ধ করে। তবে শিক্ষাজীবনে প্রযুক্তির অপব্যবহার শিক্ষার্থীদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

প্রযুক্তির খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ইন্টারনেট। বর্তমান সময়ে শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার ও গুরুত্ব অপরসীম।

তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষার প্রয়োজন বা জ্ঞানার্জনের লক্ষ্য ব্যতীত অধিক সময় বিনা প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহার করার ক্ষেতেও তাই ঘটে।

প্রযুক্তি ব্যবহারের বিভিন্ন ভালো দিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ হারানোর কারণ হয়ে যায় প্রযুক্তি।

এজন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করতে হবে। তাইলেই শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সমৃদ্ধ করবে।

উপসংহারঃ

আধুনিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। তবে শিক্ষার মাধ্যমেই কেবল প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়, বরং তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত মান উন্নত করতে হবে।

বিশেষ করে প্রযুক্তি ব্যবহারে কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়া উচিত। যেমন প্রযুক্তিগত হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার বিষয়ে। তাহলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

92

লেখক তার নিজের কল্পনাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তিকে কাজে লাগিয়ে কোনো মননশীল ভাব কিংবা তথ্য বা তত্ত্ব উপযুক্ত ভাষার মাধ্যমে যুক্তি পরম্পরায় উপস্থাপনের মাধ্যমে যে নাতিদীর্ঘ সাহিত্য রচনা করেন তাকে প্রবন্ধ রচনা বলে। এর সাধারণত তিনটি অংশ থাকে। যথা:

০১। ভূমিকা: ভূমিকা হচ্ছে প্রবন্ধের প্রারম্ভিক অংশ যেখানে লেখার মূল বিষয়গত ভাবের প্রতিফলন ঘটে। ভূমিকা যত আকর্ষণীয় হবে রচনাটিও পাঠকের কাছে ততো হৃদয়গ্রাহী হবে। ভূমিকাতে অপ্রাসঙ্গিক ও অনাবশ্যক বিষয়ের অবতারণা করা উচিত নয়।

০২। মূল অংশ: এ অংশে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য উপস্থাপিত হবে। পরিবেশনের আগে বিষয়টিকে প্রয়োজনীয় সংকেত (Points) এ ভাগ করে নিতে হবে। সংকেতের বিস্তার কতখানি হবে তা ভাব প্রকাশের পূর্ণতার ওপর নির্ভরশীল। এর আয়তনগত কোনো নির্দিষ্ট পরিমাপ নেই।

০৩। উপসংহার: এটি প্রবন্ধের সিদ্ধান্তমূলক বা সমাপ্তিসূচক অংশ। এখানে লেখক তার আলোচনার সিদ্ধান্তে উপনীত হন এবং তার নিজস্ব অভিমত বা আশা-আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন।

Related Question

View All
উত্তরঃ

একজন লেখক তিনিই যিনি লেখেন। তবে সব লেখা লিখেই লেখক হওয়া যায় না। লেখক সব ধরনের হতে পারে। তবে সৃজনশীল লেখকই হচ্ছে আমাদের মূল কেন্দ্রবিন্দু। লেখক হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম একটি স্বাধীন সত্ত্বা।

একজন লেখক পুরোপুরি তার নিজের সত্ত্বার ওপরে বেঁচে থাকে। অনেকেই লেখক হবার সহজ উপায় খোঁজ করে। কিন্তু পড়তে পড়তে আর লিখতে লিখতেই শুধুমাত্র লেখক হওয়া যায়। এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। লেখক অনেক ধরনের হতে পারে।

একজন সাংবাদিকও একজন লেখক। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, ছড়া, সাহিত্য, প্রবন্ধ, রম্য, ব্লগ সব ধরনের লেখা যারা লেখে তারাই লেখক। অনেকেই মস্তিষ্কের মধ্যে ওকটা লেখার শক্তি পেয়ে যায় আর অনেকে হয়ত শিখে শিখে লেখক হয়।

সমাজ সভ্যতা কখনোই পুরোপুরি একজন লেখকের পক্ষে থাকে না। বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিপক্ষে চলে যায়। স্বাভাবিকভাবেই একজন লেখক তার কলমের আঘাতে জর্জরিত করতে চায় সকল অন্যায়, অপবাদ। তাই হয়ত বেঁধে যেতে পারে সংঘাত। কলমই হচ্ছে একজন লেখকের দাঁড়ানোর জায়গা। কলম ছাড়া লেখকের অস্তিত্ব বিলীন। তবে সবাইকে যে প্রতিবাদ লিখতে হবে এমন কোনো কথা। কেউ কেউ মনোরঞ্জনের জন্যও লেখে। অনেকে আবার চাটুকারিতা করতে লেখে। কেউ আবার কীভাবে পুরষ্কার তুলে নেওয়া যায় সেই ধান্দা করার জন্য লেখে।

একজন লেখক হয়ে উঠতে পারে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যকারী। সে কলমের ছোঁয়ায় প্রতিবাদ করতে অন্যায়ের আর ফুটিয়ে তুলবে ন্যায়ের কথা। লেখকের কলমের কালি প্রেরণার সুর হয়ে গান গাইবে। আর অশ্রুসিক্ত নয়নে হাসির ঝলক আনবে লেখকের কলম। একজন লেখকের প্রাণ তার লেখা, তার লেখার ভঙ্গি। সে তার লেখা দিয়ে বাঁচিয়ে তুলতে পারবে অসুস্থ কোনো সভ্যতাকে। লেখক তার কলম দিয়ে জাগ্রত করতে পারবে মানুষের ভীতরে লুকিয়ে থাকা অদম্য সাহস।

একজন লেখক কল্পনাকে নিয়ে আসতে পারে বাস্তবে। আমাদের নিয়ে যেতে পারে কল্পনার গহীন বনে। লেখক আমাদের সবাক যুগ থেকে অবাক যুগে নিয়ে যেতে পারে মুহূর্তের মাঝেই। লেখক জাগাতে পারে প্রেম, লেখক জাগাতে পারে নতুন কাজের স্পৃহা।

অনেকেই মনে করে লেখকের সকল বিষয়ে দ্বায় আছে। কিন্তু লেখকের মূলত কারো কাছেই কোনো দ্বায় নেই। তার দ্বায় থাকে শুধু নিজের মনের কাছে, নিজের বিবেকের কাছে, নিজের সুপ্ত চেতনার কাছে। সমাজ কি ভাববে তা নিয়ে লেখক মাথা ঘামাবে না। লেখক ভয়ে নাথা নোয়াবে না। লেখক যতদিন বাঁচবে বীরের মতোই বাঁচবে।

সারা বিশ্বেই লেখকরা নির্যাতনের শিকার হয়। অনেকেই বলে থাকে লিখে কিছুই হয় না। তাই যদি হতো তাহলে লেখার জন্য লেখকের শাস্তি হতো না। লেখকের ফাঁসি হতো না।

লেখকের কলমে অনেক জোর। সেই জোর ভেঙে চুরে গুড়িয়ে দিতে পারে যেকোনো কিছু। বিশেষ করে সাংবাদিকরা বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত হয় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে। শাস্তি, সাজা বহু কিছু তাদের সহ্য করতে হয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখলে হুমকি আসে, হামলা মামলা বহু ঘটনাই ঘটে। কারণ শাসক, শোষক আর অন্যায়কারীদের অনেক ক্ষমতা। লেখকের সমাজের দায়মুক্তির জন্য জীবনও দিতে হয়। তাইতো একজন লেখক সমাজের শক্তি, সমাজের সম্পদ।

3.7k
উত্তরঃ

সাহিত্য হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অনুভূতি তথা মানব-অভিজ্ঞতার কথা বা শব্দের বাঁধনে নির্মিত নান্দনিক বহিঃপ্রকাশ। এই অর্থে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ইত্যাদি উচ্চতর গুণাবলি সমন্বিত বিশেষ ধরনের সৃজনশীল মহত্তম শিল্পকর্ম। সাহিত্য-শিল্পীগণ যখন ‘অন্তর হতে বচন আহরণ’ করে আত্মপ্রকাশ কলায় ‘গীতরস ধারা’য় সিঞ্চন করে ‘আনন্দলোকে’ নিজের কথা- পরের কথা- বাইরের জগতের কথা আত্মগত উপলব্ধির রসে প্রকাশ করেন- তখনই তা হয়ে ওঠে সাহিত্য। রবীন্দ্রনাথের কথায় “বহিঃপ্রকৃতি এবং মানব-চরিত্র মানুষের মধ্যে অনুক্ষণ যে আকার ধারণ করিতেছে, যে-সঙ্গীত ধ্বনিত করিয়া তুলিতেছে, ভাষা-রচিত সেই চিত্র এবং সেই গানই সাহিত্য।…সাধারণের জিনিসকে বিশেষভাবে নিজের করিয়া – সেই উপায়ে তাহাকে পুনরায় বিশেষভাবে সাধারণের করিয়া তোলাই হচ্ছে সাহিত্যের কাজ।” [রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাহিত্য] সাহিত্য সত্য-সুন্দরের প্রকাশ হিসেবে প্রবহমাণ সময়ে যা ঘটে – সে-সবের মধ্য থেকে যা মহৎ, যা বস্তুসীমাকে ছাড়িয়ে বাস্তবাতীত প্রকাশ করে, যা জীবনের জন্য কল্যাণময় এবং মহৎ আদর্শের দ্যোতক তাকেই প্রকাশ করে। আসলে মহৎ সাহিত্য তাই- যা একাধারে সমসাময়িক-শাশ্বত-যুগধর্মী-যুগোপযোগী-যুগোত্তীর্ণ। সাহিত্য কেবল পাঠককে আনন্দ দেয় না- সমানভাবে প্রভাবিত করে পাঠক এবং সমাজকে।

আভিধানিকভাবে ‘সহিতের ভাব’ বা ‘মিলন’ অর্থে ‘সাহিত্য’ হলো কাব্য, নাটক, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি সৃজনশিল্পের মাধ্যমে এক হৃদয়ের সঙ্গে অন্য হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন; সাহিত্য¯্রষ্টা-সাহিত্যের সাথে পাঠকের এক সানুরাগ বিনিময়। কিন্তু আভিধানিক অর্থের নির্দিষ্ট সীমায় সাহিত্যের স্বরূপ-গতি-প্রকৃতি-বৈচিত্র্য ও বিস্তৃতির সম্যক ধারণা দেওয়া যেমন অসম্ভব, কোনো বিশেষ সংজ্ঞায় তাকে সুনির্দিষ্ট করে দেওয়াও তেমন দুঃসাধ্য। বাচ্যার্থ ও ব্যঞ্জনার্থর সীমাকে অতিক্রম করে নানা রূপে, রসে, প্রকরণ ও শৈলীতে সাহিত্যের নিরন্তর যাত্রা সীমা থেকে অসীমে। প্রত্যক্ষ সমাজপরিবেশ তথা সমকালীন বাস্তব পারিপার্শ্বিক, নিসর্গপ্রীতি ও মহাবিশ্বলোকের বৃহৎ-উদার পরিসরে ব্যক্তিচৈতন্য ও কল্পনার অন্বেষণ ও মুক্তি- আর এইভাবেই শ্রেণিবিভাজন, নামকরণ ও স্বরূপমীমাংসার প্রচেষ্টাকে ছাপিয়ে উঠে সাহিত্যের যাত্রা সীমাহীনতায়। প্রকৃত সাহিত্য তাই যেমন তার সমসময় যা যুগমুহূর্তের, তেমনই তা সর্বকালের সর্বজনের। মার্কসবাদী সাহিত্যতত্ত্বে বাস্তব সমাজজীবনকে ‘ভিত্তি’ আর শিল্প-সাহিত্যকে সমাজের উপরিকাঠামোর [ঝঁঢ়বৎংঃৎঁপঃঁৎব] অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়। সাহিত্যের মৌল উপকরণসামগ্রী আহৃত হয় জীবনের ভা-ার থেকে- সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, প্রেম-বৈরিতার বিচিত্র-অনিঃশেষ ভা-ার থেকে। সাহিত্যসৃষ্টির মূলে সক্রিয় যে সৃজনী-ব্যক্তিত্ব তা নিছক বিমূর্ত কোনো সত্তা নয়; আত্মপ্রকাশ ও মানবিক সংযোগ ও বিনিময়ের বাসনায় অনুপ্রাণিত সে সত্তা তার ভাব-ভাবনা, বোধ ও বিশ্বাসকে এক আশ্চর্য কৌশলে প্রকাশ করে জনসমক্ষে কোনো একটি বিশেষ রূপ-রীতি-নীতির আশ্রয়ে। ব্যক্তিক অনুুভূতি-যাপিতজীবন-মিশ্রকল্পনার জগৎ থেকেই সৃষ্টি হয় সাহিত্যের; যুগান্তরের আলোকবর্তিকা হিসেবে সাহিত্য সত্যের পথে সবসময় মাথা উঁচু করে থেকেছে- সত্যকে সন্ধান করেছে। আসলে সাহিত্য এমনি এক দর্পণ- যাতে প্রতিবিম্বিত হয় মানবজীবন, জীবনের চলচ্ছবি, পরিবেশ-প্রতিবেশ, সমাজজীবনে ঘটমান ইতিহাস- ইতিহাসের চোরাস্রােত নানাবিধ কৌণিক সূক্ষ্মতায়।

সাধারণত আত্মপ্রকাশের বাসনা, সমাজ-সত্তার সঙ্গে সংযোগ কামনা, অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ এবং রূপপ্রিয়তা- এই চতুর্মাত্রিক প্রবণতাই মানুষের সাহিত্য-সাধনার মৌল-উৎস। চতুর্মাত্রিক প্রবণতার [আত্মপ্রকাশের কামনা, পারিপার্শ্বিকের সাথে যোগাযোগ বা মিলনের কামনা, কল্প-জগতের প্রয়োজনীয়তা এবং সৌন্দর্য-সৃষ্টির আকাক্সক্ষা বা রূপমুগ্ধতা] মধ্যে সমাজসত্তার সঙ্গে সংযোগ-কামনা এবং অভিজ্ঞতার আলোয় কল্পলোক নির্মাণ- এই উৎসদ্বয়ের মধ্যে নিহিত রয়েছে সাহিত্য ও সমাজের মধ্যে আন্তর-সম্পর্কের প্রাণ-বীজ। সমাজ শিল্পীকে সাহিত্য-সাধনায় প্রণোদিত করে। ‘সহৃদয়-হৃদয় সংবাদ’এর মাধ্যমে সাহিত্যিকগণ লেখক-পাঠকের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করেন- উভয়ের হৃদয়বীণার তারগুলোকে একই সুতায় গেঁথে দেন। এর কারণে সাহিত্য দেশ-কাল-সমাজের সীমা অতিক্রম করে সর্বসাধারণের হৃদয়কে আকর্ষণ করে। এর ফলে সাহিত্য হয়ে ওঠে সার্বজনীন-সর্বকালের মানুষের হৃদয়ের সামগ্রী এবং সাহিত্য¯্রষ্টাও হয়ে ওঠেন অনেক বড়। কিন্তু বর্তমান বাংলা সাহিত্যচর্চার গতি-প্রকৃতি, সমস্যা-সংকট-সমাধান কোন দিকে? এসব বিষয়ের সন্ধান- এ প্রবন্ধের অন্বিষ্ট।

3.1k
উত্তরঃ

আমাদের লোকশিল্প প্রবন্ধটি আমাদের লোককৃষ্টি গ্রন্থ থেকে গৃহীত হয়েছে। লেখক এ প্রবন্ধে বাংলাদেশের লোকশিল্প ও লোক-ঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন । এ বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি তার গভীর মমত্ববোধের পরিচয় রয়েছে।
আমাদের নিত্যব্যবহার্য অধিকাংশ জিনিসই এ কুটিরশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ।

শিল্পগুণ বিচারে এ ধরনের শিল্পকে লোকশিল্পের মধ্যে গণ্য করা যেতে পারে । পূর্বে আমাদের দেশে যে সমস্ত লোকশিল্পের দ্রব্য তৈরি হতো তার অনেকগুলোই অত্যন্ত উচ্চমানের ছিল। ঢাকাই মসলিন তার অন্যতম। ঢাকাই মসলিন অধুনা বিলুপ্ত হলেও ঢাকাই জামদানি শাড়ি অনেকাংশে সে স্থান অধিকার করেছে।

বর্তমানে জামদানি শাড়ি দেশে-বিদেশে পরিচিত এবং আমাদের গর্বের বস্তু। নকশি কাথা আমাদের একটি গ্রামীণ লোকশিল্প। এ শিল্প আজ বিলুপ্তপ্রায় হলেও এর কিছু কিছু নমুনা পাওয়া যায়। আপন পরিবেশ থেকেই মেয়েরা তাদের মনের মতো করে কীথা সেলাইয়ের অনুপ্রেরণা পেতেন । কাঁথার প্রতিটি সুচের ফোঁড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে এক-একটি পরিবারের কাহিনী, তাদের পরিবেশ, তাদের জীবনগাঁথা ।

আমাদের দেশের কুমোরপাড়ার শিল্পীরা বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্র ছাড়াও পোড়ামাটি দিয়ে নানা প্রকার শৌখিন দ্রব্য তৈরি করে থাকে। নানা প্রকার পুতুল, মূর্তি ও আধুনিক রুচির ফুলদানি, ছাইদানি, চায়ের সেট ইত্যাদি তারা গড়ে থাকে।
খুলনার মাদুর ও সিলেটের শীতলপাটি সকলের কাছে পরিচিত। আমাদের দেশের এই যে লোকশিল্প তা সংরক্ষণের দায়িত আমাদের সকলের । লোকশিল্পের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

arif
arif
3 years ago
3.6k
উত্তরঃ

আমাদের অর্থনৈতিক সম্পদ

 

বাংলাদেশ, একটি দ্রুত উন্নতি লক্ষ্য নির্ধারণ করা দেশ, যা প্রচুর অর্থনৈতিক সম্পদের বেশিরভাগ সম্পদ নিয়ে এগিয়ে চলেছে। এই দেশের অর্থনৈতিক সম্পদ মৌলিকভাবে চারটি প্রধান উৎস থেকে আসে: জমি, কাজ, উদ্যোগ, এবং মানুষের কাজের দক্ষতা। এই সম্পদের বিকাশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদের মূল স্তম্ভ হল কৃষি। দেশটি একটি প্রধানত কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতির মূল হিসেবে প্রধানত শস্য ও ফসল চাষ প্রসঙ্গে বিকাশ হয়েছে। বাংলাদেশে প্রধানত ধান, পাট, মশুর ডাল, আখ, পটল, পেঁপে, তেল সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। অত্যন্ত উচ্চ মানের খাদ্য সামগ্রী উৎপাদনের ফলে এই খাদ্য পণ্য রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সম্পদের গড়াতে সাহায্য করে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উৎস হল প্রবৃদ্ধি ও শিক্ষাগত উন্নতি। বাংলাদেশে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাব কমে আসছে এবং মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির আগমন এবং বিনিয়োগে বৃদ্ধি নেওয়া হচ্ছে, যা অর্থনৈতিক সম্পদের উন্নতির পথে সাহায্য করছে।

অন্যান্য উৎস হিসেবে প্রযুক্তিবিদ্যা এবং সেবা অংশ গুলির অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক সম্পদ হল তার মানুষের চাকরিভার্থী শ্রমিকেরা। তাদের দক্ষতা, উদ্যোগ, ও সামর্থ্য বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যদিও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে অনেক উত্সাহজনক প্রগতি হয়েছে, তবে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ র

য়েছে। প্রধানতঃ গরিব মানুষের জন্য আর্থিক সম্পদের অগ্রগতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও বেশিরভাগ লোকের মধ্যে বৃদ্ধির অভাব আছে। তাছাড়া, পরিবেশের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সঠিক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

পুনর্নির্মাণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পদের বিস্তার ও উন্নতি নিশ্চিত করতে পারে। সঠিক নীতি নির্ধারণ, উদ্যোগের বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত প্রবর্তন এবং শিক্ষাগত উন্নতি এমন পরিবর্তন নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

শেষ কথায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পদ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা দেশটির সমৃদ্ধি ও উন্নতির সাথে অবিভাজ্যভাবে সংযোগিত। একটি দ্রুত বৃদ্ধির উপায় হল সঠিক পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং উদ্যোগের বৃদ্ধি করা। এই প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে, বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্পদ উন্নতির পথে আরও এগিয়ে যেতে পারে এবং তার মানুষের জন্য আরো উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।

2.4k
উত্তরঃ

"বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" বলতে পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৯৮৯ সালের পর সাম্যবাদী শাসনের পতন এবং এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বোঝায়। এই সময়কালে, পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতন্ত্র ও বাজার অর্থনীতির দিকে ধাবিত হয়, যার ফলে নতুন জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক পরিবর্তন দেখা যায়। 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও কারণ: 

সাম্যবাদের পতন:

১৯৮৯ সালের ঐতিহাসিক বছরটি পূর্ব ইউরোপে সাম্যবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটায়, যা ছিল একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই পরিবর্তনের ফলে দেশগুলো তাদের সাম্যবাদী অতীত থেকে মুক্তি পেতে শুরু করে।

গণতন্ত্রের পথে যাত্রা:

সাম্যবাদের পতনের পর পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির দিকে ঝুঁকে পড়ে।

বিক্ষোভ ও অস্থিতিশীলতার কারণসমূহ: 

অর্থনৈতিক সংকট:

সাম্যবাদী অর্থনীতি থেকে বাজার অর্থনীতিতে উত্তরণ অনেক দেশে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে। বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি, এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য বাড়ে, যা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করে।

জাতীয়তাবাদের উত্থান:

অনেক দেশে সাম্যবাদী শাসনের অবসানের পর বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে জাতীয়তাবোধ তীব্র হয়, যা নতুন করে জাতিগত সংঘাতের জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

নতুন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সুসংহত হতে সময় লাগে, ফলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। অনেক দেশে ক্ষমতা ও আদর্শের লড়াইয়ের কারণে সহিংসতাও ঘটে।

সামাজিক পরিবর্তন:

পুরনো সাম্যবাদী নীতি ও ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন সামাজিক কাঠামো ও মূল্যবোধের জন্ম হতে থাকে, যা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক: 

  • এই বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যেখানে তারা তাদের নিজস্ব পথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পায়।
  • যদিও এই পরিবর্তন প্রক্রিয়াটি কঠিন ছিল, এটি এই অঞ্চলে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এইভাবে, "বিক্ষুব্ধ পূর্ব ইউরোপ" মূলত সেই সময়ের পরিবর্তন, অস্থিরতা এবং নতুন করে গড়ে ওঠার জটিল প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে, যা সাম্যবাদের পতন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার ফলস্বরূপ ঘটেছিল। 

Joy Roy
Joy Roy
8 months ago
2.2k
উত্তরঃ

পররাষ্ট্রনীতি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির সম্প্রসারণ। পররাষ্ট্রনীতি হলো কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের গৃহীত সেসব নীতি যা রাষ্ট্র তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য অন্যান্য রাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে সম্পাদন করে থাকে। অন্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে তুলে ধরে।

১৯৭১ সালে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্বাধীনতা লাভের পরবর্তী সময়ে ভৌগোলিক অবস্থান, স্বল্প পরিসরের ভূখন্ড এবং সীমিত অর্থনৈতিক সম্পদ ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামক বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের সুযোগকে সীমাবদ্ধ করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি মূলত বহিঃশক্তির প্রভাব থেকে  দেশের সাবভৌমত্ব ও ভূখন্ডকে রক্ষা করার মতো বিষয়েই সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কীয় সাংবিধনিক বিধান  বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নির্দেশনা রয়েছে। এই নির্দেশনাসমূহ বাংলাদেশ সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। এগুলি হলো:

জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা, অপর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা, আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা, এ সকল নীতিই হবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এ সকল নীতির ভিত্তিতে-

১. রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকা এবং সাধারণ ও পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবে; প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবে; এবং সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ বা বর্ণ্যবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবে।

২. রাষ্ট্র ইসলামী সংহতির ভিত্তিতে মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক সংহত, সংরক্ষণ এবং জোরদার করতে সচেষ্ট হবে। সংবিধানের ৬৩ অনুচ্ছেদে যুদ্ধ-ঘোষণা সংক্রান্ত নীতি উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে সংসদের সম্মতি ব্যতিত যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে না, কিংবা প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না। অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক)তে বৈদেশিক চুক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘বিদেশের সাথে সম্পাদিত সকল চুক্তি রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করা হবে, এবং রাষ্ট্রপতি তা সংসদে পেশ করার ব্যবস্থা করবেন। তবে শর্ত হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট অনুরূপ কোন চুক্তি কেবলমাত্র সংসদের গোপন বৈঠকে পেশ করা হবে।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতিসমূহ  পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কিছু মূলনীতি অনুসরণ করে থাকে। জাতিসংঘ এবং ন্যামের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ এসব সংগঠনের মূলনীতিসমূহ মেনে চলে, এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান নীতিসমূহ এসব সংগঠনের নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান চারটি মূলনীতি হলো:

সকলের প্রতি বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়  একটি দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বৈদেশিক সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হবার কারণে বাংলাদেশকে বিভিন্ন মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হতে হয়। এ কারণেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি হিসেবে বলেছিলেন, ‘আমাদের একটি ক্ষুদ্র দেশ, কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়, আমরা চাই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব’।

অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন  বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য। জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারায় বলা হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সকল সদস্য-রাষ্ট্র আঞ্চলিক অখন্ডতার বিরুদ্ধে কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রের রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন থেকে এবং জাতিসংঘের উদ্দেশ্যের সংঙ্গে সামঞ্জস্যহীন কোনো উপায় গ্রহণ করা থেকে নিবৃত্ত থাকবে’।

অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা  জাতিসংঘ সনদের ২(৭) ধারায় বলা হয়েছে যে,  ‘বর্তমান সনদ জাতিসংঘকে কোনো রাষ্ট্রের নিছক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অধিকার দিচ্ছে না বা সেরূপ বিষয়ের নিষ্পত্তির জন্য কোনো সদস্যকে জাতিসংঘের দারস্থ হতে হবে না; কিন্তু সপ্তম অধ্যায় অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে এই নীতি অন্তরায় হবে না’। জাতিসংঘের একটি সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ এই মূলনীতির উপর তার পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছে, যা অন্য রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রকাশিত।

২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসে, এবং প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়নের কথা ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা ধারণা বিবেচনায় রেখে প্রায় তিন দশক পর ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ঘোষণা করা হয়। সম্প্রতি সরকার রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে রাশিয়ার সাহায্যে দেশে পারমাণবিক প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যত অর্জনের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ তার প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রসমূহের সাথে এবং বিশ্বের আরো কিছু রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’ একটি সত্তুরের দশকের ধারণা, যা প্রায় ৪০ বছরের পুরনো। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে পুরনো ধারার পরররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত তার অর্জনের সম্ভাবনা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সুতরাং পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য নিয়ে নতুন কৌশল-পরিকল্পনা করা উচিত, যার মাধ্যমে পরিবর্তিত বিশ্বে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে।  [ঊর্মি হোসেন]

Md. Aminul Islam
Md. Aminul Islam
2 years ago
4.4k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews