যে সকল সম্পদ প্রাকৃতিক নিয়মে তৈরি হয় তাদেরকে প্রাকৃতিক সম্পদ বলে। বাংলাদেশে যে সকল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে তার একটি তালিকা নিম্নরূপ –
১। সূর্যের আলো,
২। বায়ুপ্রবাহ (রাতাস),
৩। পানি,
৪। বনজ সম্পদ (বনের নানা ধরনের গাছপালা),
৫। খনিজ সম্পদ (খনিজ তেল, কয়লা, সোনা, রূপা, লোহা, তামা ধাতু, প্রাকৃতিক গ্যাস, সোনা, বালি, কঠিন শিলা, চুনাপাথর),
৬। ভূমি সম্পদ (খেলার মাঠ, ফসলের মাঠ, রাস্তাঘাট)।
বন উজাড় বা ধ্বংস করা মানে বনের একটি বিশাল এলাকার গাছ কেটে ফেলা। গাছপালা আমাদের অক্সিজেন দেয়। এরা অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুকে নির্মল করে। প্রাণীদের বসবাস করার জায়গা দেয়। বন উজাড় করার ফলে পরিবেশের পরিবর্তন ঘটে। এতে জীবের বাসস্থান নষ্ট হয় এবং জীবের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়। কোনো স্থানের বন উজাড় করে ফেললে ঐ স্থানের মাটির উপরের আবরণ সরে যায়। এতে বনের মাটির ক্ষয় হয়, মাটি উর্বরতা হারায়। ঐ স্থানে নতুন গাছ জন্মাতে পারে না।
আমাদের বাড়িতে বা স্কুলে প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণে আমার যেসব ভূমিকা রাখা উচিত তার চারটি উপায় হলো-
১। বাড়ি বা স্কুলের পানির ট্যাপ অযথা খুলে না রাখার জন্য সহপাঠীসহ সবাইকে সচেতন করবো।
২। গাছপালার যাতে ক্ষতি না হয় সেজন্য সবাইকে গাছপালার গুরুত্ব বোঝাবো।
৩। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার জন্য সবাইকে সচেতন করবো। কারণ এতে বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়।
৪। অযথা বিদ্যুৎ বা গ্যাসের অপচয় না করার জন্য সবাইকে সচেতন করবো ।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হলে আমাদের নিচের কাজগুলো করা উচিত-
সম্পদের অতি ব্যবহার কমানো সম্পদ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের একটি ভালো উপায়। যেমন-প্রয়োজন শেষে বৈদ্যুতিক বাতির সুইচ বন্ধ করা; ধোয়ামোছা বা গোসলের সময় পানির অপচয় রোধ করা।
সম্পদের পুনর্ব্যবহার করা: ব্যবহৃত কোনো জিনিসকে ফেলে নাদিয়ে আমরা অন্য কোনো কাজে এর পুনর্ব্যবহার করতে পারি। যেমন- পুরোনো কাপড়, খেলনা ফেলে না দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া। প্লাস্টিকের ফেলে দেওয়া বোতল বা কৌটা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা। কোনো জিনিস ভেঙে গেলে তা মেরামত করে ব্যবহার করা।
সম্পদের পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা: রিসাইকেল বা সম্পদের পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পুরোনো বস্তুকে নতুন রূপ দেওয়া যায়। কাগজ, প্লাস্টিক, গ্লাস ও বিভিন্ন ধাতু পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ কমানো সম্ভব। যেমন- পুরানো কাগজ থেকে মণ্ড তৈরি করে পুনরায় কাগজ তৈরি করে ব্যবহার করা।
অনবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কমানো : প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের একটি ভালো উপায় হলো, অনবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য সম্পদ যেয়ন- সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ, পানির স্রোত ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করা।
প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন যা কিছু মানুষের কাজে লাগে তা-ই প্রাকৃতিক সম্পদ। আমরা আমাদের চারপাশে অনেক ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ দেখতে পাই, যা আমরা প্রতিনিয়ত ব্যবহার করে থাকি। যেমন-
সূর্যের আলো, বায়ু, পানি, গাছপালা, ভূমি, বৃষ্টিপাত, জীবজন্তু, পশুপাখি, বন, খনিজ তেল, কয়লা, ধাতু, প্রাকৃতিক গ্যাস, চুনাপাথর, মার্বেল, সমুদ্র, সূর্যের তাপ, সাদা মাটি, সোনা, রুপা ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক সম্পদ প্রধানত দুই ধরনের, যথা-
১। নবায়নযোগ্য ও ২। অনবায়নযোগ্য।
নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে নিঃশেষ হয়ে যায় না। প্রকৃতি থেকে এগুলোকে প্রতিনিয়ত পাওয়া যায় এবং ব্যবহার করা যায়। যেমন- সূর্যের আলো। অপরদিকে, অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের ফলে মজুদ শেষ হয়ে যায়। যেমন- তেল, কয়লা ইত্যাদি।
মানুষ গাছ, কেটে এবং বায়ু, পানি, ভূমি দূষিত করে পরিবেশের পরিবর্তন ঘটায়। পরিবেশ পরিবর্তনের মানবসৃষ্ট কারণগুলো নিম্নরূপ-
১। বন উজাড় করে গাছপালা ধ্বংস করা।
২। গাড়ি ও কলকারখানা চালানো, যা থেকে নির্গত ধোঁয়া পরিবেশ দূষণ করে।
৩। বিভিন্ন কাজে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো।
৪। আবর্জনা রাসায়নিক পদার্থ ও বর্জ্যপদার্থ নদী-নালা, খালবিল, হ্রদ, সাগর-মহাসাগরে ফেলে দেওয়া।
৫। বিভিন্ন বর্জ্যপদার্থ ও রাসায়নিক পদার্থ যেখানে-সেখানে মাটিতে ফেলা।
প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং এর পরিকল্পিত ব্যবহারই হলো প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ। প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের উপায়গুলো-হলো-
১। সম্পদের অতি ব্যবহার কমানো।
২। সম্পদের পুর্নব্যবহার করা।
৩। সম্পদের পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা।
৪। অনবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কমানো।
ময়লা-আবর্জনা ও বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থ পানিতে মিশে পানিকে পানের অযোগ্য করে তোলাকে পানি দূষণ বলে।
পানি দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১। গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা পানিতে ফেলা।
২। কলকারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ পানিতে ফেলা।
৩। বিভিন্ন কীটনাশক কৃষি জমিতে ব্যবহার করা।
পানি দূষণরোধে করণীয়:
১। গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা, কলকারখানার বর্জ্য ইত্যাদি পানিতে না ফেলা।
২। জমিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিমাণ কমানো।
প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা এবং সম্পদের পরিকল্পিত 'ব্যবহারই হচ্ছে প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ। প্রাকৃতিক সম্পদ. সংরক্ষণ করলে তা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করা যায়। নিম্নোক্ত উপায়ে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব-
১. সম্পদ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়া প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের একটি ভালো উপায়। যেমন- প্রয়োজন শেষে বৈদ্যুতিক বাতির সুইচ বন্ধ করা; ধোয়ামোছা বা গোসলের সময় পানির অপচয় রোধ করা।
২. ব্যবহৃত কোনো জিনিসকে ফেলে না দিয়ে আমরা অন্য কোনো কাজে এর পুনর্ব্যবহার করতে পারি। যেমন- পুরোনো কাপড়, খেলনা ফেলে না দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া।
৩. সম্পদের পুনঃপ্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে পুরোনো বস্তুকে নতুন রূপ দেওয়া যায়। এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ কমানো যায়। যেমন- পুরোনো কাগজ থেকে মণ্ড তৈরি করে পুনরায় কাগজ তৈরি করে ব্যবহার করা।
৪. প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের একটি ভালো উপায় হলো, অনবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য সম্পদ যেমন- সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ, পানির স্রোত ব্যবহার করে শক্তি উৎপাদন করা।
মাটির গভীরে খনি থেকে যে সকল সম্পদ উত্তোলন করা হয়, তা-ই খনিজ সম্পদ।
তিনটি খনিজ ধাতু হলো যথাক্রমে: ১. সোনা, ২. রূপা এবং ৩. লোহা।
খনিজ সম্পদের তিনটি ব্যবহার:
১। চক, ধাতব মুদ্রা ও নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করতে নানা ধরনের খনিজ ব্যবহার করা হয়।
২। তেল, কয়লা পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
৩। প্রাকৃতিক গ্যাস পুড়িয়ে উৎপন্ন তাপ রান্নার কাজে, যানবাহন চালানোতে ব্যবহৃত হয়।
প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার বা অপচয় রোধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদের প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সম্পদের টেকসই ব্যবহার।
সম্পদের অত্যধিক ব্যবহারের তিনটি কুফল হলো-
১। পরিবেশ দূষিত হয়।
২। জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়ে যায়।
৩। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়।
সামাজিক কল্যাণে প্রাকৃতিক সম্পদের ভূমিকা: প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সামাজিক কল্যাণকেও উৎসাহিত করে। সম্পদগুলোর সুষম ও টেকসই ব্যবহার করা হলে সামাজিক বিরোধ কমে। ফলে সবাই প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণ করতে পারে। যেমন- বিশুদ্ধ পানি স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। পানি সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে সবার জন্য বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যায়।
আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই আমাদের পরিবেশ। পরিবেশের তিনটি প্রধান উপাদান হলো- মাটি, পানি ও বায়ু।
বন ধ্বংসের কুফল:
১। পরিবেশ দূষিত হয়।
২। অক্সিজেনের স্বল্পতা সৃষ্টি হয়।
৩। পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
৪। জীবজন্তু ও পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হয়।
৫। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র তৈরির কাঠের জোগান কমে যায়।
৬। ভূমি বা মাটি ক্ষয় হয়ে মাটির উর্বরতা হারায়।
৭। ফসলের ফলন কমে যায়।
৮। পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allপ্রকৃতিতে গাওয়া যায় এমন যা কিছু মানুষের কাজে লাগে তাই প্রাকৃতিক সম্পদ ।
অনবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ একবার ব্যবহার করলে নিঃশেষ হয়ে যায়।
প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদ প্রাপ্তি নিশ্চিত করে।
মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে পরিবেশের উপাদানগুলো দূষিত হয়।
আমরা শক্তির ব্যবহার কমিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারি।
আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সবই সম্পদ ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!