মূল্য সংযোজন কর (Value Added Tax)-কে সংক্ষেপে VAT (ভ্যাট) বলে।
সরকার করের মাধ্যমে যে আয় সংগ্রহ করে তাকে কর রাজস্ব (Tax Revenue) বলে।
কর রাজস্ব থেকে সরকার অধিক হারে আয় পেয়ে থাকে। সরকার দেশে বসবাসরত দেশি ও বিদেশি নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের ওপর এ কর আরোপ করে। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর, মল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক ইত্যাদি সরকারি আয়ের প্রধান উৎস।
উদ্দীপকে উল্লেখিত বাজেটটি ঘাটতি বাজেটকে নির্দেশ করে, কেননা এতে মোট আয়ের চেয়ে মোট ব্যয় বেশি।
কোনো আর্থিক বছরে সরকারের প্রত্যাশিত আয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। সরকার বাজেটের এ ঘাটতি পূরণ করার জন্য নতুন অর্থ সৃষ্টি, অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ, নতুন কর আরোপ, অতীতের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য গ্রহণ করে থাকে।
উদ্দীপকের কাল্পনিক বাজেটে লক্ষ করা যায়, আয়ের ক্ষেত্রে এনবিআর কর ১,৫৫,৭২০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর ৫,৬৮০ কোটি টাকা, কর বহির্ভূত প্রাপ্তি ৩৫,৮৪১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক অনুদান ৪,২৭২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট আয় (১,৫৫,৭২০ + ৫,৬৮০ + ৩৫,৮৪১ + ৪,২৭২) বা ২,০১,৫১৩ কোটি টাকা। একইভাবে অনুন্নয়নমূলক ব্যয় ও উন্নয়নমূলক ব্যয় যথাক্রমে ১,১০,৮০৫ ও ৯০,৭১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মোট ব্যয় (১,১০,৮০৫ + ৯০,৭১৮) বা ২,০১,৫২৩ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে মোট আয় মোট ব্যয়, যা (২,০১,৫১৩ ২,০১,৫২৩) বা ১০ কোটি টাকা। সুতরাং উদ্দীপকে প্রস্তাবিত কাল্পনিক বাজেটে আয় অপেক্ষা ব্যয় ১০ কোটি টাকা বেশি। তাই উক্ত বাজেটটি একটি ঘাটতি বাজেট।
একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, দেশরক্ষা, বেসামরিক প্রশাসন পরিচালনা এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণের জন্য সরকার বিভিন্ন খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। এ খাতগুলোতে ব্যয়ের মাধ্যমে সরকার দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাষ্ট্র পরিচালনার জন্যে সরকার বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে। বিদ্যুৎসহ জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ ও সঞ্চালন, তেল, এলপিজি /এলএনজি আমদানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন ইত্যাদি খাতে প্রতিবছর সরকারকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া জনগণের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান, মহামারি প্রতিরোধ, টিকাদান কর্মসূচি, ডাক্তার ও নার্সদের প্রশিক্ষণ ইত্যাদি খাতে সরকার অনেক অর্থ ব্যয় করে থাকে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনধারণের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যও সরকারকে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার শিক্ষা, শিল্প ও সেবা খাত, অবকাঠামো ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সরকারের দরকার হয় প্রচুর অর্থ। তাছাড়া সরকার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে।
বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণকামী উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। এ দেশে গণতন্ত্রের উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক নতুন নতুন খাত সরকারি ব্যয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের উন্নয়নের গতি অব্যাহত রাখতে প্রাকৃতিক সম্পদের পরিপূর্ণ ব্যবহার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি ও শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ বিনিয়োগ করা দরকার। এভাবেই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও জনগণের জীবনযাত্রার মানের উন্নয়ন সম্ভব।
উপরের সরকারি ব্যয়ের খাতগুলোর পর্যালোচনা থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, সরকারি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি হলে প্রদত্ত বাজেটটি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
Related Question
View Allভূমির মালিকানা অধিকার ভোগের জন্য ভূমির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয় তাকে ভূমি রাজস্ব বলে।
সম্পূরক শুল্ক হলো একটি পরোক্ষ কর। বিশেষ অবস্থায় এটি ধার্য করা হয়।
অনেক সময় কিছু দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপ করেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যায় না। তখন এসব কর ও শুল্কের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এটি সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পরিচিত। যেমন- সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক। সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎস।
ইসরাতের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ছিল মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি উৎস।
উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বলে।
এটি একটি পরোক্ষ কর। দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে (১৫%) এ কর ধার্য করা হয়। সাধারণত ফার্মের মোট বিক্রয়মূল্য থেকে বিভিন্ন উপকরণের ক্রয়মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার সাথে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করলে মূল্য সংযোজন কর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মূল্য সংযোজন কর = (মোট উৎপাদন মূল্য মোট উপকরণ মূল্য) VAT হার। VAT আরোপের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব আদায় করে থাকে যা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ইসরাত পণ্যের প্রকৃত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে, যা ছিল ভ্যাট। এটি তার কৃত পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ধার্য করা হয়েছে, যা সে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না। অর্থাৎ উক্ত অর্থ প্রদানে সে আইনগতভাবে বাধ্য। তাই বলা যায়, ইসরাতের প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ হলো কর বহির্ভূত রাজস্বের একটি উৎস এবং মূল্য সংযোজন কর হলো কর রাজস্বের উৎস। তবে উভয় উৎসই সরকারি আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) থেকে বছর শেষে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে, যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। লভ্যাংশ ও মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের আয় হলো ২,২৪১ কোটি টাকা, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ থেকে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হচ্ছে কর রাজস্বের প্রধান উৎস। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য যুক্ত হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে ১,০৪,৫৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দেশি-বিদেশি ৩০টি খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। কাজেই বলা যায়, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের লভ্যাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর অর্থ সংগ্রহের দুটি আলাদা উৎস হলেও উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণীকে বাজেট বলে।
অর্থনীতির যে শাখা সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
সরকার কোন কোন উৎস থেকে কীভাবে এবং কোন নীতিতে অর্থ সংগ্রহ করে সে অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সমস্যা ছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয় নীতি ও কার্যক্রম কীভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশ্লেষণ করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!