নিজের কাজ নিজে করাই ভালো। নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে আনন্দ আছে এবং এটা গৌরবের। যারা নিজের কাজ নিজে করে তারা জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারে। পৃথিবীতে বিখ্যাত মানুষেরা নিজেদের কাজ নিজেরাই করতেন। সুতরাং যে কাজগুলো নিজের পক্ষে করা সম্ভব, সেগুলো নিজেই করবে আর যে কাজে অন্যের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন, সেগুলো করার জন্য বাবা-মা, ভাই-বোন বা অন্যদের সাহায্য নেবে।
নিজের কাজ নিজে করার অনেক সুবিধা আছে। যেমন:
সঠিক উপায়ে কাজ করা: নিজের কাজ নিজে করলে কাজটি যেভাবে করতে চাও সেভাবে করা সম্ভব হয়।
তোমার কাজ তুমি কীভাবে করবে, সেটি তোমার চেয়ে আর কেউ ভালো বুঝবে না। অন্য কেউ যদি তোমার কাজ করে, সে তার নিজের মতো করে করবে, যা তোমার পছন্দ নাও হতে পারে। যেমন: কাপড় ধোয়ার সময় কাপড়ের কোন অংশে ময়লা বেশি আছে সেটা তুমিই ভালো জানবে এবং তুমি সে অংশ ভালোভাবে ধোবে। কিন্তু অন্যরা তা করবে না।
কাজের চাপ তৈরি হয় না: নিজের কাজ নিজে করলে পরিবারের কোনো একজনের ওপর কাজের চাপ তৈরি
হয় না। ধরো, তোমরা দুই ভাই-বোন। তোমরা যদি তোমাদের সব কাজ বাবা-মাকে করতে বলো তাহলে তাঁদের ওপর অনেক চাপ তৈরি হবে এবং কোনো কাজই তারা সুন্দর করে করতে পারবেন না। কারণ তাঁদেরকে নিজের কাজের পাশাপাশি পরিবারের কাজ ও অন্যান্য অনেক কাজ করতে হয়।
দক্ষতা বাড়ে ও অন্য কাজের জন্য তৈরি হওয়া যায়: নিজের কাজ নিজে করলে কাজ করার দক্ষতা বাড়ে ও অন্য কাজের জন্য তৈরি হওয়া যায়। তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজে নিজেই করো, তাহলে বারবার করার ফলে ঐ কাজগুলোয় তোমার দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে তুমি কাজগুলো আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে করতে পারবে এবং অন্য কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারবে।
স্বাস্থ্য ঠিক থাকে: নিজের কাজ নিজে করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। মানুষ দৈনিক পর্যাপ্ত কাজ করলে তার শরীর ভালো থাকে। কাজ করলে শরীরের ব্যায়াম হয়। এর ফলে শরীর ভালো থাকে এবং শরীর ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে।
আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়ে নিজের কাজ নিজে করলে আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়ে।
কোনো কাজ বারবার করলে সে কাজে অনেক সাহস পাওয়া যায়, তখন বিশ্বাস জন্মায় যে কাজটি আমি সহজেই করতে পারব। এ সময়ে কাজে অনেক আনন্দ পাওয়া যায় ও আগ্রহ তৈরি হয়।
অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমে : নিজের কাজ নিজে করলে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমে। অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তুমি তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। দেখা গেল তোমার প্রয়োজনীয় সময়ে সে কাজ করে দিতে পারছে না, তখন তোমার বসে থাকা ছাড়া আর উপায় থাকবে না। আর যদি তোমার কাজ তুমি করো, তাহলে অন্যের ওপর তোমাকে নির্ভরশীল হতে হবে না।
অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়: নিজের কাজ নিজে করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে কাজের বিনিময়ে টাকা বা অন্যান্য জিনিস দিতে হয়। বাহিরে কাজ করাতে গেলে যাতায়াতের খরচও দিতে হয়। যদি কাজগুলো নিজেই করো, তাহলে তোমার ঐ অর্থ বেঁচে যাবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
নিজের কাজ নিজে না করলে অনেক ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয় এবং বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়।
যেমন:
কাজে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে : নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করালে সে কাজে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্য কেউ তোমার প্রয়োজন ভালোভাবে বুঝবে না এবং সে নিজের মতো করে কাজটি করবে। ফলে তুমি যেভাবে চেয়েছ কাজটি সেভাবে না করে ভুলভাবে করতে পারে।
দক্ষতা বৃদ্ধি পায় না: তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজে না করো তাহলে অন্যান্য কাজ করার ক্ষেত্রে তোমার দক্ষতা বাড়বে না। কাজে অদক্ষ হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন কাজে ভুল হয়, একই কাজ কয়েকবার করা লাগে, কাজে সময় অনেক বেশি লাগে ইত্যাদি।
অসুস্থতা: তোমরা জানো, ব্যায়াম না করলে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে না এবং বিষণ্ণতা, অবসাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় ভুগতে হয়। কাজ করলে শরীরের ব্যায়াম হয়। সুতরাং তোমার নিজের কাজ যদি তুমি না করো, তাহলে তোমার শরীরের ব্যায়ামও হবে না এবং তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
আত্মবিশ্বাস কমে যাবে: তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজে না করো, তাহলে তুমি আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে না। আত্মবিশ্বাসের অভাবে তোমার মনে হবে তুমি কোনো কাজই করতে পারো না। ফলে তুমি যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে আগ্রহ ও উদ্দীপনা পাবে না এবং কাজ করার সাহস পাবে না। এজন্য নিজের কাজ নিজেরই করা উচিত।
অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা : নিজের কাজ নিজে না করলে অন্যের আশায় বসে থাকতে হয়। কোনো কাজে অন্যের ওপর নির্ভর করলে স্বাধীনতা নষ্ট হয় এবং কাজটির ভালো মন্দের জন্য তার মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়।
আর্থিক ক্ষতি: অনেক ক্ষেত্রে নিজের কাজ নিজে না করলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তার জন্য তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া লাগে। যার ফলে তুমি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারবে না। দেখা গেল, অন্য সময় তুমি অর্থের অভাবে অন্য একটি প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছ না।
Related Question
View Allকাজের সফলতা নির্ভর করে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার ওপর।
প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ বলতে বোঝায় প্রতিদিনের বাড়ির কাজ ও ক্লাসের পড়া প্রতিদিন শেষ করা, সময়মতো ক্লাসে যাওয়া, পড়া শেষে টেবিল গুছিয়ে রাখা, স্কুল ব্যাগ গোছানো, টিফিন তৈরি করা, নিজের জামা কাপড় নিজে পরিষ্কার করা। তাছাড়া খাবার শেষে দাঁত ব্রাশ করা, মশারি টাঙানো, বিছানা পরিষ্কার করা, জামাকাপড় গোছানো ইত্যাদি প্রাত্যহিক কাজ। এ কাজগুলো নিজের কাজ হিসেবে প্রতিদিনই করতে হয়।
নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে আনন্দ এবং গৌরব রয়েছে। তন্বীর সফলতার ক্ষেত্রে সে সেই উপায়টি অনুসরণ করেছিল। সে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করত এবং সময়মতো ক্লাসে যেত। ক্লাসের কাজগুলো সময়মতো শেষ করে জমা দিত। নিজের গড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখত। নিজের কাজের পাশাপাশি তার ছোট ভাইয়ের কাজেও সহযোগিতা করত। নিয়ম মেনে সময়মতো প্রাত্যহিক নিজের কাজ নিজে করার ফলে এবং নিয়মিত পড়াশোনা করার কারণে সে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে পারত। এভাবেই সে তার জীবনে সফলতা অর্জন করেছে।
অয়ন খুবই অলস প্রকৃতির ছেলে। আর এজন্য তার প্রতিটি কাজে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাবে। সে নিজের কাজ নিজে করে না। তার টেবিল গোছানো, স্কুল ব্যাগ গোছানো সবই তার বোন তন্বী করে দেয়। এমনকি নিজের খাবার নিজে খেতে পারে না, তার মা তাকে খাইয়ে দেন। অয়নকে তার সব ধরনের কাজে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। এর ফলে অয়নের আত্মবিশ্বাস কমে যাচ্ছে এবং সে প্রতিনিয়ত অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তাছাড়া নিজের কাজগুলো নিজে না করায় অয়ন কাজ করার মানসিকতা একসময় হারিয়ে ফেলবে। কাজ করার দক্ষতা অর্জন করতে পারবে না। এতে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে। পরবর্তীতে সে কোনো কাজই করতে পারবে না। এতে তাকে সকল কাজে পরনির্ভরশীল হতে হবে এবং নিজে নিষ্কর্মনা হয়ে পড়বে।
হযরত ওমর রাষ্ট্রীয় কাজে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার সময় কিছুটা পথ নিজে উটের পিঠে চড়তেন এবং বাকি পথ তাঁর সহযাত্রী চাকরকে উটের পিঠে চড়তে দিতেন।
আমার প্রতিদিনের নিজের কাজগুলো হলো-
১. সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত মুখ ধোওয়া।
২. বিছানা গোছানো।
৩. কাপড় ধোয়া।
৪. স্কুল ব্যাগ গোছানো।
৫. বিদ্যালয়ে নিয়মিত এবং সময়মতো হাজির হওয়া।
৬. বিদ্যালয় থেকে ফিরে বিকালে বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলাধুলা করা।
৭. সন্ধ্যায় পড়তে বসা এবং
৮. রাতে বিছানা তৈরি করে ঘুমানো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
