জীবনধারণের জন্য এবং সুন্দরভাবে জীবন পরিচালনার জন্য আমাদের সকলকেই কিছু প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজ করতে হয়। এই অধ্যায়ে এসব প্রয়োজনীয় কাজের ধারণা, গুরুত্ব, কাজে সফল হওয়ার উপায় এবং শিক্ষার্থীদের ভূমিকা আলোচনা করা হয়েছে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কাজের তালিকা তৈরি করতে পারব।
- নিজের কাজ নিজে করার সুবিধাগুলো বর্ণনা করতে পারব।
- সুষ্ঠুভাবে নিজের কাজসমূহ করার উপায় ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রাত্যহিক জীবনের আয়বহির্ভূত প্রয়োজনীয় পারিবারিক কাজসমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
- পরিবারের অন্যদের কাজ চিহ্নিত করতে পারব।
- পরিবারের বাইরের ব্যক্তিদের দ্বারা সম্পাদিত প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে পারব।
- পরিবারের সদস্যদের পেশার বিবরণ দিয়ে একটি প্রতিবেদন লিখতে পারব।
- বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের কায়িক শ্রমের কাজগুলো চিহ্নিত করতে পারব।
# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
নওমি প্রতিদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। দাঁত ব্রাশ করে অজু করে ফজরের নামাজ পড়ে। এরপর কিছুক্ষণ পড়াশুনা করে সকালের নাস্তা খায়। তারপর আবার কিছুক্ষণ পড়াশুনা করে গোসল করে পরিপাটি হয়ে স্কুলে যায়।
আত্মবিশ্বাস একটি বড় গুণ। মানুষ আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো অসাধ্যকে সাধন করতে পারে। আত্মবিশ্বাস এর মাধ্যমে যেকোনো কাজে অগ্রগ্রহ ও উদ্দীপনা পাওয়া যায়।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আমরা সবাই কোনো না কোনো কাজ করে থাকি। এর মধ্যে কিছু কাজ আছে যেগুলো অবশ্যই করতে হবে। প্রতিদিন আমরা নিজের প্রয়োজনে নিজে বা অন্যের সহায়তায় যে কাজগুলো করে থাকি, সেগুলোকে আমরা প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ বলে অভিহিত করতে পারি।
কাজ তোমরা প্রত্যেকে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে যাও। এবার প্রত্যেক দল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী কী কাজ থাকতে পারে তার একটি তালিকা তৈরি করো। প্রত্যেক দলের একজন দাঁড়িয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কাজের তালিকাটি সবার সামনে পড়ে শোনাও। | |
| ক্রম | প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ |
| ১ | ঘুম থেকে উঠে বিছানা গোছানো |
| ২ | দাঁত ব্রাশ করা ও হাত-মুখ ধোয়া |
| ৩ | ………………………………………………………… |
| ৪ | ………………………………………………………… |
| ৫ | ………………………………………………………… |
| ৬ | ………………………………………………………… |
| ৭ | ………………………………………………………… |
| ৮ | ………………………………………………………… |
এ বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা দুটো ঘটনা চিন্তা করি:
ঘটনা ১: ইমরানের বয়স নয় বছর। ইমরান প্রতিদিন সকালে ঘুমথেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নেয়। তারপর দাঁত ব্রাশ করে হাতমুখ ধোয়। নাস্তা তৈরি হলে সে নাস্তা খেয়ে পড়তে বসে। স্কুলের পড়া শেষ হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার জন্য বই-খাতা গুছিয়ে নেয়। তারপর গোসল করে পরিপাটি হয়ে পাড়ার অন্য বন্ধুদের সাথে স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি হলে বাড়িতে এসে হাত-মুখ ধুয়ে খাওয়া-দাওয়া করে একটু বিশ্রাম নেয়। বিকেলে সে বন্ধুদের সাথে খেলতে যায়।

সন্ধ্যা হলে সে বাড়ি ফিরে নিজেদের গবাদি-পশু পালনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সহযোগিতা করে এবং হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসে। পড়া তৈরি হলে রাতের খাবার খেয়ে দাঁত ব্রাশ করে। সবশেষে বিছানা তৈরি করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
ঘটনা ২: আসমার বয়স দশ বছর। আসমা প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নেয়। তারপর দাঁত ব্রাশ করে হাতমুখ ধোয়। রান্নাঘরে নাস্তা তৈরি হলে সে নাস্তা খেয়ে স্কুলের কাজ তৈরি করতে বসে। স্কুলের কাজ শেষ হওয়ার পর স্কুলে যাওয়ার জন্য বই-খাতা ও ব্যাগ গুছিয়ে রাখে। তারপর গোসল করে পরিপাটি হয়ে পাড়ার সহপাঠীদের সাথে স্কুলে যায়। স্কুল ছুটি হলে বাড়িতে এসে হাত-মুখ ধুয়ে খাওয়া-দাওয়া করে একটু বিশ্রাম নেয়। বিকেলে সে পাড়ার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করে।

সন্ধ্যা হলে সে পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করে এবং হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসে। পড়া তৈরি হলে রাতের খাবার খেয়ে দাঁত ব্রাশ করে। সবশেষে বিছানা তৈরি করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
কাজ
|
তোমরা একটু খেয়াল করলেই দেখবে আসমা ও ইমরান দুজনে একই কাজ করছে। যেমন: আসমা ও ইমরান সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নিচ্ছে, দাঁত ব্রাশ করছে, হাতমুখ ধুয়ে নিচ্ছে, পড়তে বসছে, স্কুলের কাজ তৈরি করছে, স্কুলে যাওয়ার জন্য বই-খাতা গুছিয়ে নিচ্ছে, গোসল করছে, স্কুলে যাওয়ার জন্য পরিপাটি হচ্ছে, স্কুল থেকে ফিরে বিশ্রাম নিচ্ছে, খেলার সময় বন্ধুদের সাথে খেলতে যাচ্ছে, সন্ধ্যা হলে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরছে, পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছে এবং হাত-মুখ ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসছে, ক্লাসের পড়া তৈরি করছে, রাতের খাবার খেয়ে আবার দাঁত ব্রাশ করছে, সবশেষে বিছানা তৈরি করে মশারি টাঙিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। তারা দুজনে কাজগুলোর কোনোটিই কিন্তু বাদ দিচ্ছে না। আসমা ও ইমরান সারাদিন ধরে যে কাজগুলো করেছে, এগুলোকে বলা হয় প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ।
একইভাবে তোমাদের মা-বাবাও প্রতিদিন তাদের নিজ নিজ কাজ করে থাকেন। মা ঘর-দোর গুছিয়ে রাখেন, রান্না করেন, অফিসে কাজ করেন, তোমাদের পড়া তৈরিতে সহযোগিতা করেন ও অন্যান্য কাজে সহযোগিতা করেন আর বাবা অফিসে বা মাঠে কাজ করেন, বাজার করেন, মাকে তার কাজে সহযোগিতা করেন, তোমাদের পড়া তৈরিতে সহযোগিতা করেন ও বাসার অন্যান্য কাজ করেন। এরকম প্রত্যেক মানুষ প্রতিদিন তাদের নিজ নিজ কাজগুলো করে থাকেন। প্রত্যেকের এই কাজগুলোই হচ্ছে তাদের প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ। দৈনন্দিন জীবনে প্রত্যেকেরই এমন অনেক কাজ আছে, যেগুলো অবশ্যই করতে হয়।
বাড়ির কাজ প্রাত্যহিক জীবনে তুমি কী কী কাজে সাহায্য কর বাড়ি থেকে তার একটি তালিকা তৈরি করে আনবে। |
নিজের কাজ নিজে করাই ভালো। নিজের কাজ নিজে করার মধ্যে আনন্দ আছে এবং এটা গৌরবের। যারা নিজের কাজ নিজে করে তারা জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারে। পৃথিবীতে বিখ্যাত মানুষেরা নিজেদের কাজ নিজেরাই করতেন। সুতরাং যে কাজগুলো নিজের পক্ষে করা সম্ভব, সেগুলো নিজেই করবে আর যে কাজে অন্যের সাহায্য নেয়া প্রয়োজন, সেগুলো করার জন্য বাবা-মা, ভাই-বোন বা অন্যদের সাহায্য নেবে।
নিজের কাজ নিজে করার অনেক সুবিধা আছে। যেমন:
সঠিক উপায়ে কাজ করা: নিজের কাজ নিজে করলে কাজটি যেভাবে করতে চাও সেভাবে করা সম্ভব হয়।
তোমার কাজ তুমি কীভাবে করবে, সেটি তোমার চেয়ে আর কেউ ভালো বুঝবে না। অন্য কেউ যদি তোমার কাজ করে, সে তার নিজের মতো করে করবে, যা তোমার পছন্দ নাও হতে পারে। যেমন: কাপড় ধোয়ার সময় কাপড়ের কোন অংশে ময়লা বেশি আছে সেটা তুমিই ভালো জানবে এবং তুমি সে অংশ ভালোভাবে ধোবে। কিন্তু অন্যরা তা করবে না।
কাজের চাপ তৈরি হয় না: নিজের কাজ নিজে করলে পরিবারের কোনো একজনের ওপর কাজের চাপ তৈরি
হয় না। ধরো, তোমরা দুই ভাই-বোন। তোমরা যদি তোমাদের সব কাজ বাবা-মাকে করতে বলো তাহলে তাঁদের ওপর অনেক চাপ তৈরি হবে এবং কোনো কাজই তারা সুন্দর করে করতে পারবেন না। কারণ তাঁদেরকে নিজের কাজের পাশাপাশি পরিবারের কাজ ও অন্যান্য অনেক কাজ করতে হয়।
দক্ষতা বাড়ে ও অন্য কাজের জন্য তৈরি হওয়া যায়: নিজের কাজ নিজে করলে কাজ করার দক্ষতা বাড়ে ও অন্য কাজের জন্য তৈরি হওয়া যায়। তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজে নিজেই করো, তাহলে বারবার করার ফলে ঐ কাজগুলোয় তোমার দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে তুমি কাজগুলো আগের চেয়ে অনেক কম সময়ে করতে পারবে এবং অন্য কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে পারবে।
স্বাস্থ্য ঠিক থাকে: নিজের কাজ নিজে করলে শরীর ও মন ভালো থাকে। মানুষ দৈনিক পর্যাপ্ত কাজ করলে তার শরীর ভালো থাকে। কাজ করলে শরীরের ব্যায়াম হয়। এর ফলে শরীর ভালো থাকে এবং শরীর ভালো থাকলে মনও ভালো থাকে।
আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়ে নিজের কাজ নিজে করলে আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়ে।
কোনো কাজ বারবার করলে সে কাজে অনেক সাহস পাওয়া যায়, তখন বিশ্বাস জন্মায় যে কাজটি আমি সহজেই করতে পারব। এ সময়ে কাজে অনেক আনন্দ পাওয়া যায় ও আগ্রহ তৈরি হয়।
অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমে : নিজের কাজ নিজে করলে অন্যের উপর নির্ভরশীলতা কমে। অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তুমি তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। দেখা গেল তোমার প্রয়োজনীয় সময়ে সে কাজ করে দিতে পারছে না, তখন তোমার বসে থাকা ছাড়া আর উপায় থাকবে না। আর যদি তোমার কাজ তুমি করো, তাহলে অন্যের ওপর তোমাকে নির্ভরশীল হতে হবে না।
অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়: নিজের কাজ নিজে করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে কাজের বিনিময়ে টাকা বা অন্যান্য জিনিস দিতে হয়। বাহিরে কাজ করাতে গেলে যাতায়াতের খরচও দিতে হয়। যদি কাজগুলো নিজেই করো, তাহলে তোমার ঐ অর্থ বেঁচে যাবে। ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।
নিজের কাজ নিজে না করলে অনেক ধরনের অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয় এবং বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়।
যেমন:
কাজে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে : নিজের কাজ অন্যকে দিয়ে করালে সে কাজে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অন্য কেউ তোমার প্রয়োজন ভালোভাবে বুঝবে না এবং সে নিজের মতো করে কাজটি করবে। ফলে তুমি যেভাবে চেয়েছ কাজটি সেভাবে না করে ভুলভাবে করতে পারে।
দক্ষতা বৃদ্ধি পায় না: তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজে না করো তাহলে অন্যান্য কাজ করার ক্ষেত্রে তোমার দক্ষতা বাড়বে না। কাজে অদক্ষ হলে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। যেমন কাজে ভুল হয়, একই কাজ কয়েকবার করা লাগে, কাজে সময় অনেক বেশি লাগে ইত্যাদি।
অসুস্থতা: তোমরা জানো, ব্যায়াম না করলে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে না এবং বিষণ্ণতা, অবসাদসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় ভুগতে হয়। কাজ করলে শরীরের ব্যায়াম হয়। সুতরাং তোমার নিজের কাজ যদি তুমি না করো, তাহলে তোমার শরীরের ব্যায়ামও হবে না এবং তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
আত্মবিশ্বাস কমে যাবে: তুমি যদি তোমার কাজগুলো নিজে না করো, তাহলে তুমি আত্মবিশ্বাসী হতে পারবে না। আত্মবিশ্বাসের অভাবে তোমার মনে হবে তুমি কোনো কাজই করতে পারো না। ফলে তুমি যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে আগ্রহ ও উদ্দীপনা পাবে না এবং কাজ করার সাহস পাবে না। এজন্য নিজের কাজ নিজেরই করা উচিত।
অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা : নিজের কাজ নিজে না করলে অন্যের আশায় বসে থাকতে হয়। কোনো কাজে অন্যের ওপর নির্ভর করলে স্বাধীনতা নষ্ট হয় এবং কাজটির ভালো মন্দের জন্য তার মর্জির ওপর নির্ভর করতে হয়।
আর্থিক ক্ষতি: অনেক ক্ষেত্রে নিজের কাজ নিজে না করলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তার জন্য তাকে পারিশ্রমিক দেওয়া লাগে। যার ফলে তুমি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারবে না। দেখা গেল, অন্য সময় তুমি অর্থের অভাবে অন্য একটি প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছ না।

| ক্রম | নিজের কাজ নিজে করার সুবিধা | নিজের কাজ নিজে না করার অসুবিধা |
| ১ | আত্মবিশ্বাস, আগ্রহ ও উদ্দীপনা বাড়ে | আত্মবিশ্বাস কমে যায় |
| ২ | ||
| ৩ | ||
| ৪ | ||
| ৫ | ||
| ৬ | ||
| ৭ |
তোমরা সবাই মনোযোগসহ নিচের ছোট্ট গল্পটি পড়ো
প্রায় পাঁচশত বছর আগের কথা। একদিন অন্য রাজ্যের এক দূত বিশেষ কাজে বাদশাহর সাথে দেখা করার জন্য এক রাজ-দরবারে এলেন। রাজ-দরবারে বাদশাহকে দেখতে না পেয়ে তিনি বাদশার এক সভাসদকে বাদশাহর কথা জিজ্ঞেস করলেন। সভাসদ জানালেন, বাদশাহ একটু পরে রাজ্য পরিদর্শনে যাবেন, তাই তিনি তাঁর কাজগুলো সেরে নিচ্ছেন। রাজদূত ভাবলেন, সভাসদ হয়তো তাঁর সাথে রসিকতা করছেন। বাদশাহ কেন কাজ করবেন। এও আবার হয় নাকি? তাঁর অনেক চাকর-বাকর সেবক থাকতে তিনি কেন কাজ করতে যাবেন। তিনি আর কিছু না বলে বাদশাহর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন।
কিন্তু দূতের হাতে সময় কম ছিল। তাই তিনি বাদশাহর সাক্ষাৎ লাভের জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলেন। পরে দরবারের এক প্রহরী তাকে বাদশাহর খাস কামরায় নিয়ে গেলেন। বাদশাহর খাস কামরায় গিয়ে রাজদূত যা দেখলেন তাতে তিনি তাঁর নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারলেন না।
তিনি দেখলেন বাদশাহ নিজেই তাঁর জামা সেলাই করছেন। রাজদূতের চোখে অপার বিস্ময়। তিনি বাদশাহকে অভিবাদন জানালেন। কুশলাদি বিনিময় শেষে বাদশাহ তাঁর নিজের কাজের পাশাপাশি রাজদূতের সাথে প্রয়োজনীয় আলাপ করে নিলেন। রাজদূত অবাক দৃষ্টিতে দেখলেন, বাদশাহ তাঁর জামা সেলাই করে জুতা সেলাই করলেন ও পরিষ্কার করলেন। তারপর তিনি পরিপাটি হয়ে আস্তাবল থেকে ঘোড়া নিয়ে রাজ্য পরিদর্শনের জন্য বের হয়ে গেলেন।
বাদশাহর সাথে কাজ শেষে রাজদূত প্রাসাদ থেকে বের হয়ে গেলেন। রাজদূতের চোখেমুখে রাজ্যের বিস্ময়। তাঁর বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছিলই না। তিনি বুঝতেই পারলেন না বিশাল সাম্রাজ্যের অধিপতি প্রবল ক্ষমতাধর বাদশাহ কেন এই কাজগুলো নিজে করছেন। তোমরা কি জানো তিনি কে ছিলেন? কী তাঁর পরিচয়?
তিনি সম্রাট আওরঙ্গজেব। একজন মহৎপ্রাণ শাসক। তোমরা হয়ত তাঁর নাম শুনে থাকবে। তিনি ছিলেন মোগল সাম্রাজ্যের অধিপতি। উদার মানসিকতা, প্রজার প্রতি অনুরাগ ও ন্যায়বিচারের জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন। তাঁর সময়ে প্রজারা সুখে-শান্তিতে দিন যাপন করত। রাজপরিবারের অনেক চাকর-বাকর সেবক থাকা সত্ত্বেও তিনি সব সময় নিজের কাজ নিজেই করতেন।
হযরত ওমর রাষ্ট্রীয় কাজে দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণে যাবার সময় কিছুটা পথ তিনি উটের পিঠে চড়েছেন এবং তাঁর সহযাত্রী চাকর উটের রশি ধরে হেঁটে গিয়েছেন। কিছু সময় পরে তিনি নিজে রশি ধরে হাঁটলেন এবং চাকর উটের পিঠে বসল। পর্যায়ক্রমে একবার তিনি ও একবার চাকর এই ভাবে তারা গন্তব্যে পৌঁছালেন। এটি দেখে সকলে খুব অবাক হলো। ওমর বিশ্বাস করতেন যে, পরিশ্রমের কাজ এককভাবে তাঁর চাকরের উপর চাপিয়ে দিলে তা হতো তার প্রতি অত্যাচার। তাঁই তিনি কাজ ভাগাভাগি করে নিজে অর্ধেক করলেন চাকরকে অর্ধেক করতে দিলেন। এইভাবে কাজ করলে চাকর ও মুনিবের মাঝে একটি আন্তরিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এককভাবে কারো উপর কাজের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় না ।
সুষ্ঠুভাবে কাজ করার ওপর নির্ভর করে কাজের সফলতা। নিয়ম মেনে মনোযোগসহ কোনো কাজ করলে সে কাজে সফলতা আসবেই। যদি তুমি তোমার কাজের ক্ষেত্রে কিছু উপায় অনুসরণ কর তাহলে তুমি সহজেই সফল হতে পারবে।
আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহের সাথে কাজ করা : যে কাজটি তুমি করতে চাও সেকাজে আগ্রহ ও মনে সাহস রাখতে হবে এবং এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে কাজটি আমি করতে পারব। তাহলে দেখবে কাজটি অনেক সহজ হয়ে গেছে।
সময়ের কাজ সময়ে করা : যে কাজ যখন করার কথা, তখনি করে ফেল। আজকের কাজ পরে করব- এমন চিন্তা করে কাজ ফেলে রাখা যাবে না। তাতে কাজ জমে যাবে ও কাজের চাপ বেড়ে যাবে। পরে সব কাজ একসাথে করতে চাইলে কাজে ভুল হবে, কাজ শেষ হবে না এবং এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে।
সঠিক উপায়ে কাজ করা : কাজটি যেভাবে করলে সহজ হবে এবং ভালো ফল আসবে সেভাবে করবে। কীভাবে কাজটি করবে তা আগেই ঠিক করে নাও। অনেক সময় অনেক সহজ কাজ ভুল উপায়ে করার কারণে কাজটি শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে ও কাজে ব্যর্থ হতে হয়। যেমন মিতু তার নিজের কাপড় নিজে পরিষ্কার করার জন্য এক বালতি পানিতে এক চামচ গুড়া সাবান মিশিয়ে কাপড়গুলো ভিজিয়ে দিল। ভেজানোর পরেই সেগুলো ধুয়ে সে দেখতে পেলো কাপড়ের ময়লা রয়েই গেছে। মা এই কাপড় দেখে মিতুকে কাপড় ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি বুঝিয়ে দিলেন কাপড়ের পরিমাণ অনুসারে কতটুকু পানিতে কী পরিমাণ গুড়া সাবান মিশাতে হবে, ভিজিয়ে কতক্ষণ রাখতে হবে ইত্যাদি।

ধাপে ধাপে কাজ করা: যেকোনো ধরনের কাজ সহজে করার উপায় হচ্ছে কাজটিকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে নেয়া। পরে ধাপে ধাপে কাজগুলো শেষ করা। এতে কাজে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে কম এবং কাজটি দ্রুত শেষ করা সম্ভব হবে। যেমন- বাবা রবির জন্য একটি বুক সেলফ কিনে আনলেন। রবির বইগুলো মেঝেতে স্তূপাকারে ছিল। সবগুলো বই রবি একবারে সেলফের কাছে নিতে পারছে না। তখন বাবা বললেন, তুমি বইগুলো ভাগে ভাগে সেলফের কাছে নিয়ে যাও এবং সাজাও। বাবার কথামতো কাজ করে রবি দেখতে পেল কাজটি খুব দ্রুত ও সুন্দরভাবে শেষ হলো।

অন্যকে দিয়ে না করানো : যে কাজটি তুমি করতে পারো সে কাজ অন্যকে দিয়ে করাবে না। অন্যে কাজ করলে সে কাজ তোমার পছন্দ নাও হতে পারে এবং কাজটি দুই-তিনবার করা লাগতে পারে। তাছাড়া অন্য কেউ তোমার জামা-কাপড় ধুলে নষ্ট করে ফেলতে পারে।
নতুন ও জটিল কাজের ক্ষেত্রে বড় ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া: নতুন ও জটিল কাজের ক্ষেত্রে ওই কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নিলে সহজেই কাজে সফলতা লাভ করা যায়। কারণ যারা আমাদের থেকে বয়সে বড়ো এবং কাজে অভিজ্ঞ তারা জানেন কাজ করার সঠিক ও সহজ উপায় কোনটি।
এজন্য তোমরা পরিবারে বা আশেপাশে বড়ো যারা আছেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে পরামর্শ নিতে পারো। কাজের মাঝে মাঝে তারা জানিয়ে দিবেন তুমি কাজটি ঠিকমত করছ কি-না। যেমন: তুমি যদি প্রথম নিজে
চা বানাতে যাও এখন কীভাবে চুলা জালাতে হয়, ফুটন্ত পানি কেটলি থেকে কীভাবে ঢালতে হয়, কতটুকু চাপাতা, চিনি, দুধ মিশ্রিত করতে হয় তা যদি তুমি তোমার মা বা বাড়ির বড়োদের কাছ থেকে জেনে নাও তবে তোমার তৈরি চা সুস্বাদু হবে এবং দুর্ঘটনা থেকেও তুমি রক্ষা পাবে।
কাজ করার সময় লজ্জা ও হীনম্মন্যতায় না ভোগা : যে কাজই করো না কেন তাতে লজ্জা করা যাবে না এবং কাজটি আমি করতে পারব কি পারব না অথবা করব কি করব না- এরকম দোটানায় থাকা যাবে না। দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করতে হবে। মনে রাখবে, কাজে কোনো লজ্জা নেই, আছে সম্মান ও গৌরব।
দলগতভাবে কাজ করা : কিছু কাজ আছে যা এককভাবে না করে পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে দলগতভাবে করলে কাজটি ভালোভাবে সম্পন্ন হয়।
চেষ্টা করা এবং হতাশ না হওয়া : একবারে কোনো কাজ শেষ না করতে পারলে সে কাজটি আবার করার চেষ্টা কর। আমি ব্যর্থ হয়ে গেছি এমন মনে করা যাবে না। কোনো ধরনের হতাশা বা সংশয়কে মনে স্থান দেয়া যাবে না। এতে মনের জোর কমে যায়, কাজে সফল হওয়া যায় না।
দলগত কাজ: নিজের যে কোনো একটি কাজের কথা ভাবো। এই পাঠ থেকে তুমি যা শিখেছো তার পরিপ্রেক্ষিতে- তুমি তোমার ওই কাজে কীভাবে সফল হতে পারবে তা নিয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করো। প্রয়োজনে শিক্ষকের / বন্ধুর সহায়তা নাও |
মানুষ পরিবারে বাস করে। কেউ কেউ মা-বাবা, ভাই-বোনসহ একত্রে বাস করে আবার কেউ কেউ মা-বাবা, দাদা-দাদি, চাচা-চাচির সাথে একত্রে বসবাস করে।

তোমরা জানো, পরিবারে একত্রে বসবাস করতে গেলে নানা ধরনের কাজ করার দরকার হয়। তোমরা দেখবে পরিবারের বড়রা প্রত্যেকে কোনো না কোনো কাজ করছে। যে কাজগুলো পরিবারের সদস্যদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বা সকলের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেগুলোকে পারিবারিক কাজ বলে। যেমন: আমরা বলতে পারি বাজার করা, রান্না করা, খাবার টেবিল গোছানো, ঘরদোর পরিচ্ছন্ন রাখা, গবাদি পশু-পাখি পালন করা, বাসার বিভিন্ন বিল পরিশোধ করা ইত্যাদি।
বিভিন্ন পারিবারিক কাজের মাঝে কোনগুলো তুমি নিজে করতে পারবে আর কোন কোন কাজে অন্যকে সাহায্য করতে পারবে তা নিচের ছকে উল্লেখ কর।
| ক্রম নং | দৈনন্দিন পারিবারিক কাজ | যে কাজগুলো তুমি নিজে করতে পারবে | যে কাজগুলো পরিবারের অন্যকে সাহায্য করতে পারবে |
| ১. | খাবার টেবিল গোছানো | ||
| ২. | বাজার করা | ||
| ৩. | তোমার শোবার ঘর পরিচ্ছন্ন রাখা | ||
| ৪. | |||
| ৫. | |||
| ৬. | |||
| ৭. | |||
| ৮. | |||
| ৯. | |||
| ১০. |
আমরা দেখি সাধারণত মা-বাবা বা পরিবারের বড়োরাই পারিবারের কাজগুলো করে থাকেন। তবে বয়স, কাজের ক্ষমতা ও দক্ষতা অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের অনেকেই কোনো না কোনো কাজ করে থাকেন। বেশিরভাগ সময় পরিবারের সদস্যরা কাজ করলেও পরিবারের কাজের তুলনায় সদস্যসংখ্যা কম হলে বা অন্যান্য কাজে ব্যস্ততা থাকলে কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মাঝে মাঝে অন্য লোকের সাহায্য নেয়া হয়।
পরিবারের আর কোন কোন কাজে তুমি অংশগ্রহণ করতে পার নিচের ছকে তা উল্লেখ কর:
| ক্রম | পারিবারিক কাজ |
| ১ | মাকে রান্নায় সহযোগিতা করা |
| ২ | বাবার সাথে বাজার করা |
| ৩ | |
| ৪ | |
| ৫ | |
| ৬ | |
| ৭ | |
| ৮ | |
| ৯ | |
| ১০ |
আমাদের জীবনধারণের জন্য যা যা প্রয়োজন, তার মধ্যে এমন অনেক কাজ আছে যেগুলো পরিবারের সদস্যদের পক্ষে করা সম্ভব হয় না। সে কাজগুলো পরিবারের বাইরে অন্য লোকেরা করে থাকেন।যেমন: আমরা বলতে পারি বাসায় রং করা, বাসার বৈদ্যুতিক পাখা-ফ্রিজ-টেলিভিশন ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করা, মাঠে ফসল বোনা, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি বেশি হলে তাদের জন্য খাবার সংগ্রহ ও লালন-পালন ইত্যাদি। এসব কাজ করার জন্য আমরা পরিবারের বাইরের লোকের সহায়তা নিয়ে থাকি। নিচের ছকে প্রাত্যহিক জীবনে যেসব কাজ পরিবারের বাইরে অন্যদের সহায়তায় করা হয় তা উল্লেখ কর:
| ক্রম | প্রাত্যহিক জীবনে যেসব কাজ পরিবারের বাইরে অন্যদের সহায়তায় করা হয় |
| ১ | গবাদি পশু বেশি হলে তাদের জন্য খাবার সংগ্রহ ও লালন-পালন |
| ২ | বাসার বৈদ্যুতিক পাখা-ফ্রিজ-টেলিভিশন ইত্যাদি নষ্ট হয়ে গেলে মেরামত করা |
| ৩ | |
| ৪ | |
| ৫ |
পারিবারিক আয়ের উৎস
তোমাদের বাবা-মা বাজার করেন, বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনেন। বাবা-মা বাইরে থেকে প্রায়ই তোমাদের জন্য কিছু না কিছু নিয়ে আসেন। তোমরা কি জানো কীভাবে তারা এগুলো আনেন? এগুলো আনতে হলে যে টাকার দরকার হয় এবং সেই টাকা আয় করতে হয় তা হয়তো তোমরা জানো।
তোমরা কি জানো, তোমাদের পরিবারে কে কে আয় করেন? কীভাবে আয় করেন? নিচের ছকে এগুলো লিখ।
| ক্রম | সদস্য | |
| ১ | বাবা | কি করে আয় করেন |
| ২ | মা | |
| ৩ | ||
| ৪ | ||
| ৫ |
সবার পরিবারের আয়ের উৎস একরকম নয়। আয় করার জন্য কেউ অফিসে কাজ করেন, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ মাঠে কাজ করেন কিংবা কেউ শিক্ষকতা করেন। আবার পরিবারের সবাই যে আয় করেন তাও কিন্তু নয়। পরিবারে যারা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, বয়সে ছোটো এবং প্রতিবন্ধী তারা আয় করতে পারেন না। অনেক মায়েরা সরাসরি চাকরি বা ব্যবসা না করে ঘরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকেন, যাতে পরিবারের অনেক উপকার হয়। যেমন: সন্তান লালন-পালন, রান্না করা, বাজার করা, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, ফসল তোলা ও সংরক্ষণ, বীজ সংরক্ষণসহ অন্যান্য কৃষিকাজে সহায়তা করা। মায়েদের এসব কাজের মাধ্যমেও পরিবারের অনেক উপকার হয় আবার কিছু কিছু কাজ থেকে আয়ও হয়।
দলগত কাজ তোমরা কয়েকজন মিলে একটি পরিবার গঠন কর, যেখানে একজন মা হবে, একজন বাবা হবে, একজন ভাই/বোন এবং একজন চাচা হবে। এবার প্রত্যেক পরিবারে কে কী কাজ করে আয় করেন তার একটি তালিকা তৈরি কর। প্রত্যেক পরিবারের একজন দাঁড়িয়ে নিজেদের তৈরি করা কাজের তালিকাটি সবার সামনে পড়ে শোনাও। |
তুমিও তোমার পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখতে পারো। লেখাপড়ার পাশাপাশি অবসর সময়ে তুমি তোমার পরিবারের বড়োদেরকে তাদের হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু পালন, বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি উৎপাদন, মাঠে চাষাবাদ ও ব্যবসায় সহযোগিতা করতে পার। এসবের মাধ্যমে পরিবারের যে আয় হবে তাতে তোমারও অবদান থাকবে।
বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কাজ
তোমরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নানা ধরনের কায়িক কাজ করে থাক। বিদ্যালয়েও অনেকে বিভিন্ন ধরনের কায়িক কাজ করে থাকেন। যেমন পিয়ন, দারোয়ান, মালি, ঝাড়ুদার, দপ্তরি ইত্যাদি। তোমরা কি কখনো মনোযোগের সাথে লক্ষ করেছ তারা কী কী কাজ করেন? মনোযোগ দিয়ে লক্ষ করলে বুঝতে পারবে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য তাদের এসব কায়িক শ্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কায়িক শ্রমে কারা যুক্ত তা উল্লেখ করে তারা কী কী কায়িক শ্রম করেন নিচের ছকে তা উল্লেখ কর:
| ক্রম | কারা কায়িক কাজ করেন | কী কী কায়িক কাজ করেন |
| ১ | দপ্তরি | নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঘণ্টা বাজান (বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে, ক্লাস শুরু ও শেষ হলে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম সমাপ্ত হলে) |
| ২ | ঝাড়ুদার | বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাঠ ও অন্যান্য স্থান ঝাড়ু দেন |
| ৩ | ||
| ৪ |
বিদ্যালয়ে কিছু কায়িক কাজ আছে, যেগুলোতে তোমরাও অংশগ্রহণ করতে পার। যেমন: শ্রেণিকক্ষ সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা, বিদ্যালয়ের মাঠ পরিষ্কার করা, বিদ্যালয়ে বাগান করা ইত্যাদি। বিদ্যালয়ে এসব কায়িক কাজে তোমরা অংশগ্রহণ করলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো হবে। ভালো পরিবেশে আমাদের শরীর ও মন ভালো থাকবে এবং লেখাপড়ার মানও ভালো হবে।
| কাজ বিদ্যালয়ে কী কী কায়িক কাজে তোমরা অংশগ্রহণ করতে পার তার একটি তালিকা তৈরি করো। *এ কাজে একটি শ্রেণি কার্যক্রম বরাদ্দ করতে হবে। |
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. কীভাবে পরিবারের আয়ে ভূমিকা রাখা যায়?
ক. কৃষিকাজে সাহায্য করে
খ. মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করে
গ. পারিবারিক গৃহস্থালি কাজে সাহায্য করে
ঘ. ভাইবোনদের যত্ন নিয়ে
২. অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা বলতে বুঝায়-
ক. নিজে কাজ করতে না পারা
খ. কাজে আগ্রহ না থাকা
গ. কাজে অন্যের পরামর্শ নেওয়া
ঘ. অন্যের পছন্দে কাজ করা
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর দাও:
মিতা ভাই-বোনদের মধ্যে বড়ো। তার মার অসুস্থতার কারণে তাকে কিছু কিছু কাজ করতে হয়।
ছোটো ভাই-বোনদের গোসল করানো, তাদের পড়াশুনা দেখা, স্কুলের টিফিন ঠিক করে দেওয়া ইত্যাদি। সে খুশি মনেই কাজগুলো করে। এ কারণে বাড়ির সবাই তাকে খুব আদর করে।
৩. অনুচ্ছেদে প্রাত্যাহিক জীবনের কোন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে?
ক. ব্যক্তিগত কাজ
খ. অন্যের কাজ
গ. পারিবারিক কাজ
ঘ. সামাজিক কাজ
৪. মিতার এ ধরনের কাজের মাধ্যমে-
i. বন্ধন সুদৃঢ় হয়
ii. কাজের চাপ কমে
iii. আয় বৃদ্ধি পায়
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. i ও ii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সৃজনশীল প্রশ্ন
তন্বী খুব গোছানো স্বভাবের মেয়ে। সে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করে। সময়মত ক্লাসের কাজ জমা দেয়। পড়া শেষে প্রতিদিন সে নিজে তার টেবিল গুছিয়ে রাখে। তার পড়ার টেবিল দেখে সবাই মুগ্ধ হয়। পরীক্ষায়ও সে সব সময় ভালো ফলাফল করে। তার ছোটো ভাই অয়ন খুবই অলস। তার টেবিল গোছানো, স্কুল ব্যাগ গোছানো সবই তন্বীকে করে দিতে হয়। অয়ন নিজের খাবারটাও নিজে খেতে চায় না, মাকে খাইয়ে দিতে হয়।
ক. কাজের সফলতা কিসের উপর নির্ভর করে?
খ. প্রাত্যহিক জীবনে নিজের কাজ বলতে কী বুঝায় ব্যাখ্যা কর।
গ. তন্বীর সফলতার ক্ষেত্রে সে কোন উপায়টি অনুসরণ করেছিল ব্যাখ্যা কর।
ঘ. অয়নের মতো মানুষ কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারে বলে তুমি মনে কর? পাঠ্যবইয়ের আলোকে মূল্যায়ন কর।
Read more