রাজা বিম্বিসার ছিলেন মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা।
রাজা বিম্বিসার প্রথম সাক্ষাতে সিদ্ধার্থকে ভিক্ষা করার কারণ জানতে চাইলেন এবং সেনাপতির পদ গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন। তখন সিদ্ধার্থ রাজা বিম্বিসারকে বলেন, "মহারাজ! আমি সুখ প্রার্থী নই। আমি কপিলাবস্তুর রাজা শুদ্ধোদনের পুত্র। বুদ্ধত্ব লাভের আশায় আমি সবকিছু ত্যাগ করে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণ করেছি।"
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় রাজা বিম্বিসারের জীবনের ধর্মানুরাগের দিক তুলে ধরা হয়েছে।
নিঝুম শহরে শ্রমণ ভাবনারত জনৈক ব্যক্তির মতো একদা সিদ্ধার্থও এসেছিলেন রাজা বিম্বিসারের রাজধানীতে। উদ্দীপকে উল্লিখিত শহর রক্ষীদের মতো বিম্বিসারের নগর রক্ষীরাও রাজাকে একথা বলেন। নিঝুম শহরের মেয়রের ন্যায় রাজা সিদ্ধার্থের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সিদ্ধার্থের আসার উদ্দেশ্য জেনে রাজা ও মেয়রের মতো খুব খুশি হয়েছিলেন। সিদ্ধার্থ বুদ্ধত্ব লাভ করলে ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য মেয়রের মতো রাজাও নানা পদক্ষেপ নেন। ব্যবস্থা করেন বহুবিধ সুযোগ-সুবিধার। রাজ্য অত্যন্ত শ্রদ্ধাচিত্তে তার রাজ্যের অতি মনোরম বেণুবন উদ্যান বুদ্ধ এবং তার ভিক্ষুসংঘকে দান করেন।
আমার মতে, উদ্দীপকে বর্ণিত মেয়রের মতো ব্যক্তিরা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের মতো মানুষের আন্তরিকতায় ধর্মের প্রচার ও প্রসার বেগবান হয়। এ বিষয়টি আমার পাঠ্যবই পড়ে আমি খুব ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি। পাঠ্যবইয়ের বৌদ্ধধর্মে রাজন্যবর্গের অবদান পড়ে আমি জেনেছি রাজা বিম্বিসারের কথা। তিনি ছিলেন খুব প্রতাপশালী, ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদরদি ও ধর্মানুরাগী এক মহান সুশাসক। তার অনুরোধেরই বৃদ্ধ তার রাজ্যে ধর্মদেশনা দেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে প্রথম ত্রিপিটক সংকলিত হয়। তার অনুরোধে বুদ্ধ ভিক্ষুদের উপোসথ পালন ও ধর্ম আলোচনার নির্দেশ দেন। ধর্মোপদেশ গ্রহণ করে তিনি নিজেই উপাসক হন এবং বেণুবন উদ্যান রুদ্ধ ও তার ভিক্ষু সংঘকে দান করেন। এভাবে রাজা বিম্বিসার, উদ্দীপকের মেয়র তথা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
Related Question
View Allবিম্বিসার ছিলেন রাজা মহাপদ্মের পুত্র এবং মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা।
জীবক ছিলেন তৎকালীন ভারতবর্ষের একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক। রাজা বিম্বিসারের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন জীবক।
বিম্বিসার ছিলেন মগধ রাজ্যের বিখ্যাত রাজা এবং হর্ষঙ্ক বংশের খ্যাতিমান নৃপতি। তাঁর নামের সাথে 'শেনিয়' বা 'শ্রেণিক' বিশ্লেষণ যুক্ত হয়ে তিনি 'মগধরাজ শ্রেণিক বিম্বিসার' নামে খ্যাত ছিলেন। এটি ছিল তার বংশের উপাধিবিশেষ। বিম্বিসারের রাজত্বকাল থেকেই মগধের অগ্রগতি শুরু হয়।
বুদ্ধের সময়কালে প্রাচীন ভারতবর্ষ ছোট ছোট ষোলোটি রাজ্যে বিভক্ত ছিল। রাজ্যের রাজারা ছিরেন অনেক ক্ষমতাধর। তবে গৌতম বুদ্ধের সাথে তাঁদের সুসম্পর্ক ছিল। অনেক রাজা যুদ্ধের বাণ ও উপদেশ গ্রহণ করে রাজ্যে প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। এমনকি যজ্ঞের নামেও পশুহত্যা নিষিদ্ধ করেছিলেন। অর্থাৎ জীব ও জনকল্যাণে বুদ্ধ রাজাদের উপদেশ দিতেন।
রাজা বিম্বিসার সুশাসক ছিলেন। তিনি ন্যায় ও ধর্মের সঙ্গে রাজ্য শাসন করতেন। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। সব সময় প্রজাদের মঙ্গলের কথা চিন্তা করতেন। এছাড়াও তিনি ছিলেন শান্তিপ্রিয় ও উত্তম সংগঠক। প্রতাপশালী হলেও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাথে সুসম্পর্ক রাখতেন।
রাজা বিম্বিসারের সময়কালে তাঁর রাজ্যে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্ম সমসাময়িককালে বিকাশ লাভ করেছিল। মহাবীর জৈন, গৌতম বুদ্ধ ও রাজা বিম্বিসার প্রায় সমকালীন ব্যক্তিত্ব। রাজা বিম্বিসার বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করলেও জৈনধর্মসহ সে সময়ে প্রচলিত অন্যান্য ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!