শিক্ষাবিদ, কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের আগামী সৈনিক 'শহিদ জননী' জাহানারা ইমাম ছিলেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী। একাত্তরে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র শাফী ইমাম রুমী বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সফল গেরিলা অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রুমী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন এবং নির্মম নির্যাতনের ফলে মৃত্যুবরণ করেন। রুমীর শহিদ হওয়ার সূত্রেই তিনি 'শহিদ জননী'র মর্যাদায় ভূষিত হন।
জাহানারা ইমাম (ডাকনাম: জুড় ৩ মে, ১৯২৯ সালে ভারতের পশ্চিবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বড়ঞ্চা থানার অন্তর্গত সুন্দরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর স্বামী প্রখ্যাত স্থপতি শরিফুল আলম ইমামও মুক্তিযুদ্ধের সময় মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর নেতৃত্বে ১৯ জানুয়ারি, ১৯৯২ সালে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট 'একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি' গঠিত হয়।
তিনি ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯২ সালে ৭০টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটি'র আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।
তিনি 'বাংলা একাডেমি পুরস্কার' (১৯৯১), 'স্বাধীনতা পুরস্কার' (১৯৯৭), 'রোকেয়া পদক' (১৯৯৮) লাভ করেন।
তিনি ২৬ জুন, ১৯৯৪ সালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ডেট্রয়েট, মিশিগান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুবরণ করেন। ৫ জুলাই, মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থগুলোঃ
'একাত্তরের দিনগুলি' (১৯৮৬): বইটি ব্যক্তিগত দিনলিপি বা ডায়েরি আকারে লেখা, যার শুরু ১ মার্চ, ১৯৭১ সাল থেকে ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত। এ দিনলিপি বা ডায়েরিই ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬ সালে 'একাত্তরের দিনগুলি' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এ গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ঢাকা শহরের অবস্থা ও গেরিলা তৎপরতার চিত্র উঠে এসেছে।
এটি বিখ্যাত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'মহেশ' গল্পের একটি অংশ। এই গল্পে দরিদ্র কৃষক গফুরের একমাত্র অবলম্বন ছিল তার প্রিয় বলদ মহেশ। গফুর মহেশকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসতো এবং মহেশও ছিল গফুরের অত্যন্ত অনুগত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে, বিশেষত খরা ও অভাবের কারণে গফুর মহেশকে ঠিকমতো খেতে দিতে পারছিল না, যার ফলস্বরূপ মহেশকে চূড়ান্ত দুঃখজনক পরিণতির শিকার হতে হয়।
গল্পটি গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র্য, মানুষের প্রতি পশুর নিবিড় ভালোবাসা, জমিদারী প্রথার শোষণ এবং তৎকালীন সমাজের নির্মম বাস্তবতাকে অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরে। এটি শরৎচন্দ্রের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বাংলা সাহিত্যের এক কালজয়ী সৃষ্টি।