Related Question
View Allগৃহ নির্মাণের জন্য যেসব জিনিস ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে নির্মাণসামগ্রী বলে।
নীল, সবুজ ও বেগুনি শীতল বর্ণ। এসব বর্ণের ব্যবহার ঘরে শীতল ভাব আনে।
নীল রং মনকে সতেজ, স্নিগ্ধ ও নির্মল করে। সবুজ রং মনকে সরল, সতেজ ও নবীন রাখে। বেগুনি রং মনের ওপর একটি স্নিগ্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। শোবার ঘরের দেয়াল ও পর্দায় এসব রঙের ব্যবহার করলে ঘরে স্নিগ্ধ, শীতল ও আরামদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয়। সুতরাং, শোবার ঘরের জন্য শীতল বর্ণ উপযোগী।
আলম সাহেবের বাড়িতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়।
সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় তাকে সৌর বিদ্যুৎ (Solar Energy) বলে।সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি তেলের ব্যবহার হ্রাস করে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। সেই অর্থ গ্রামের উন্নয়নে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া এ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে পরিবেশ দূষিত হয় না। এটি ব্যবহারে বিপদের কোনো সম্ভাবনা নেই। এমনকি জ্বালানি হিসেবে এতে কাঠের প্রয়োজন হয় না। ফলে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার হ্রাস পায়। এতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হয়।
কবিরের কেনা সামগ্রী দিয়ে আলমের মতো বাড়ি তৈরি করা সম্ভব না। গৃহ নির্মাণের জন্য যেসব সামগ্রী প্রয়োজন সেগুলোকে বলা হয় গৃহ নির্মাণ সামগ্রী। পাকা বাড়ি তৈরি করতে প্রয়োজন ইট, সিমেন্ট, বালি, লোহা, কাঠ, পাথর, টাইলস ইত্যাদি নির্মাণসামগ্রী।
আলম গ্রামে দোতলা বাড়িতে বাস করে। তার ভাই কবির আলমের মতো বাড়ি তৈরির কথা চিন্তা করল। তাই সে টিন, টাইলস, কাঠ, বাঁশ কিনে আনল। কিন্তু এসব নির্মাণসামগ্রী দিয়ে পাকা দোতলা বাড়ি তৈরি করা সম্ভব নয়। তার যেসব নির্মাণ সামগ্রী প্রয়োজন সেগুলো হলো-
| ১. ইট | মাটি পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হয়। ইট তৈরি করার জন্য মাটিতে শতকরা ২০-৩৫ ভাগ এলুমিনা, ৫০-৭০ ভাগ সিলিকা থাকা উচিত। এটি গৃহ নির্মাণের অন্যতম প্রধান সহজলভ্য উপকরণ। |
| ২. সিমেন্ট | নির্মাণ কাজের মূল উপাদান হলো সিমেন্ট। এটি প্রস্তুতে প্রয়োজন ৭২% চুনাপাথর, ২৫% কাদামাটি ও ৩% জিপসাম। |
| ৩. পাথর | গৃহ নির্মাণে বিভিন্ন ধরনের পাথর ব্যবহৃত হয়। যেমন-গ্রানাইট, মার্বেল, স্লেট, চুনাপাথর ইত্যাদি। গৃহ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত পাথরের স্থায়িত্ব, সৌন্দর্য, বর্ণ, ওজন, চাপ সহ্য করার ক্ষমতা, কাজ করার সুবিধা, শক্তভাব ইত্যাদি বিশেষত্ব থাকা আবশ্যক। |
| ৪. বালু | বালু কংক্রিট তৈরিতে ব্যবহৃত একটি নির্মাণসামগ্রী। এটি মোটা, মিহি, ভিটি এ তিন প্রকারের হয়। |
| ৫. লৌহ | নির্মাণ কাজের জন্য ব্যবহৃত লৌহ সোজা ও অবিকৃত হতে হয়। লোহার গায়ে তেল, সিমেন্টের প্রলেপ ও মরিচা যেন না থাকে তা দেখে নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা উচিত। |
| ৬. কাঠ | আমাদের দেশে মেহগনি, কড়ই, চন্দন, কাঁঠাল, সেগুন, গজারি ইত্যাদি কাঠ নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। নির্মাণ কাজের আগে অবশ্যই এটি সিজনিং করে নিতে হবে। |
টাইলস: বর্তমানে গৃহ নির্মাণে টাইলস বেশ জনপ্রিয়। ঘরের মেঝে, দেয়াল ও সিঁড়িতে টাইলস ব্যবহার করা হয়। ভালো টাইলসের আকার ও আকৃতি সমান হয়।
উপরিউক্ত নির্মাণসামগ্রীগুলো আলমের মতো বাড়ি তৈরি করতে প্রয়োজন। কিন্তু কবির টিন, টাইলস, কাঠ ও বাঁশ কিনে আনে। তাই বলা যায়, কবিরের কেনা সামগ্রীগুলো দিয়ে আলমের মতো বাড়ি তৈরি করা সম্ভব নয়।
বালি গৃহ নির্মাণসামগ্রীর মধ্যে অন্যতম।
বালি তিন ধরনের হয়। যথা- ১. মোটা বালি, ২. মিহি বালি, ৩. ভিটি বালি। ভালো বালি ধুলা-ময়লা ও কাদামাটিমুক্ত হয়। মোটা বালুতে কংক্রিট ভালো হয় এবং মিহি বালু দিয়ে প্লাস্টারের কাজ করা হয়। ভিটি বালু ভরাট করার কাজে ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' বস্তুটি দ্বারা গৃহ নির্মাণসামগ্রী ইটকে বোঝানো হয়েছে।
রাজিন সাহেব গৃহ নির্মাণের জন্য কোন ইট ব্যবহার করবে, সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এ ব্যাপারে মিহির সাহেবকে জানালে তিনি তাকে বিভিন্ন ইট সম্পর্কে ধারণা দিলেন। ইট বিভিন্ন ধরনের হয়। যথা-
১. ১ম শ্রেণির ইট: ১ম শ্রেণির ইটের পিঠ, পার্শ্ব, উপর ও নিচ সবদিকেই সমতল ও ধারগুলো তীক্ষ্ম। এ ধরনের ইট সঠিক তাপমাত্রায় পোড়ানো। এই ইটে আঘাত করলে ঠনঠন শব্দ হয়। এতে কোনো চির বা ফাঁক থাকে না। তিন ফুট উপর থেকে আরেকটি ইটের উপর পড়লেও ভাঙে না। পানিতে ডোবালে এর শোষণ ক্ষমতা ১৫% এর বেশি হয় না।
২. ২য় শ্রেণির ইট: এই ইটের রং ১ম শ্রেণির মতোই। সাইজ অসমান ও তলা অমসৃণ। এগুলো কম পোড়ানো এবং আঘাত করলে তীক্ষ্ম শব্দ হয় না। এই ইটের গায়ে ফাটল থাকে। এর পানি শোষণ ক্ষমতা ২০% এর অধিক।
৩. ৩য় শ্রেণির ইট: এ ধরনের ইট পর্যাপ্ত পোড়ানো থাকে না। ফলে সহজে ভেঙে যায়। এ ধরনের ইটে আঘাত করলে ঠনঠন শব্দ হয় না এবং পানি শোষণ ক্ষমতা ২৫% এর বেশি।
৪. ঝামা ইট: অতিরিক্ত তাপে পোড়ালে ইট কালো ও ফাঁপা হয়, একে ঝামা ইট বলে।
৫. পিকেড ইট: ১ম শ্রেণির ইটের চেয়ে পিকেড ইট বেশি পোড়ানো হয়। এই ইট শক্ত হয়। এ ধরনের ইটে আঘাত করলে তীক্ষ্ম শব্দ হয় এবং উপর থেকে পড়লে ভাঙে না। এর ধার আঁকাবাঁকা ও অসমতল।
৬. সিরামিক ইট: এটি মেশিনে তৈরি, লাল রঙের ও টেকসই হয়। উপরিউক্ত ধারণাগুলোই মিহির সাহেব রাজিন সাহেবকে অবগত করলেন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!