হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখক। তাঁর 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে স্কুল-শিক্ষক নিশানাথবাবুর চরিত্রের মহৎ ও নির্লোভ দিকটি ফুটে উঠেছে।
'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে নিশানাথবাবু গণিতের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল-শিক্ষক। স্ত্রী, একমাত্র কন্যার মৃত্যু ও অবসর গ্রহণের পর তিনি খুব নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেন। একদিন তাঁর ছেঁড়া চটিজোড়ার উঁচু হওয়া পেরেক ঠিক করতে একটি ধাতব পুরোনো চেরাগ দিয়ে বাড়ি দেন। আকস্মিকভাবে সেখান থেকে একটি দৈত্য বের হয়ে আসে। দৈত্য তার কাছে ইচ্ছা পূরণের কথা বললে তিনি তার কাছে অর্থসম্পদ না চেয়ে কেবল চটির উঁচু হয়ে থাকা পেরেকটি ঠিক করে দিতে বলেন। এখানে তাঁর নির্লোভমানসিকতার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। নিশানাথবাবু আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করাতে পারছেন না দেখে তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী চাঁদা তুলে তাঁকে দিলে তিনি বড়ো লজ্জা পান। দৈত্য স্বেচ্ছায় তাঁকে পরশপাথর দিতে চাইলেও তিনি তা নেন না। তাঁর চিকিৎসার অর্থের জন্য দৈত্য একটি সোনার বালতি দিলেও তিনি তা স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মহানুভবতার পরিচয় দেন। তাঁর নিজের আর্থিক সংকট থাকলেও অর্থসম্পদ, সোনা, ধনী হওয়ার লোভ তাকে গ্রাস করতে পারেনি।
অনাড়ম্বর, নির্লোভ, মহানুভবতার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে নিশানাথবাবুর চরিত্রের মধ্যে।
Related Question
View Allনিশানাথবাবুর অবসর জীবন দারিদ্র্যে ও দুঃখকষ্টে কাটছে।
নিশানাথবাবু নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের গণিতের শিক্ষক ছিলেন। দুই চোখে ছানি পড়ায় তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। এই অবসর গ্রহণের পর তিনি নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছিলেন। স্ত্রী ও কন্যা মারা যাওয়ায় একাকী দু-কামরার একটি পাকা দালানে ভাড়া থাকতেন। খাবারের জন্য তার ভরসা ছিল পাশের হোটেল। বিকালে নদীর পাশে হাঁটতে গেলেও সন্ধ্যায় নিজের ঘরে ফিরে আসার পর তার জীবন একঘেয়ে হয়ে উঠত।
অসুস্থ হলেও চিকিৎসা করার অর্থ কিংবা সেবা করার জন্য কোনো মানুষও ছিল না তার।
অবসর গ্রহণের পর এভাবেই দুঃখ-দৈন্য ও একাকিত্বের মধ্য দিয়ে নিশানাথবাবুর জীবন অতিবাহিত হচ্ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!