Anthropos' শব্দের অর্থ 'মানুষ'।
মনোবিজ্ঞানকে মানুষের আচরণের বিজ্ঞান বলা হয়।
আভিধানিক অর্থে মনোবিজ্ঞান বলতে মন সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে বোঝায়। মূলত যে বিজ্ঞান মানুষের বা প্রাণীর মন তথা আচার-আচরণ নিয়ে আলোচনা করে, তাকেই মনোবিজ্ঞান বলা হয়। মনস্তাত্ত্বিক বিষয়াবলি, আচরণ, শিক্ষা, সামাজিকীকরণ প্রভৃতি মনোবিজ্ঞানের আলোচনার বিষয়বস্তু। তাই বলা যায়, সমাজে মানুষ বা প্রাণীর সামগ্রিক আচার-আচরণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়নই মনোবিজ্ঞান।
উদ্দীপকে উল্লিখিত তথ্যানুসারে নীলার পঠিত বিষয়টি সামাজিক বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা অর্থনীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামাজিক সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করে অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছে। অর্থনীতি সামাজিক বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা যাতে সম্পদ উৎপাদন, বণ্টন, ভোগ, বিনিয়োগ প্রভৃতি সংক্রান্ত মানুষের কার্যাবলি আলোচনা করা হয়।
উদ্দীপকে এ বিষয়গুলোই উল্লিখিত হয়েছে।
উদ্দীপকে নীলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি বিষয়ে অনার্স করছে। উক্ত বিষয়ের জ্ঞান তাকে সম্পদ অর্জন, বিনিয়োগ, বণ্টন ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চতকরণে সহায়তা করবে। এ থেকেই বোঝা যায়, সে অর্থনীতি বিষয়ে অনার্স পড়ছে। অর্থনীতির সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলেই বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ অর্থনীতিকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাদের সংজ্ঞাসমূহ সাধারণীকরণ করে বলা যায়, ব্যক্তি ও সমাজ কীভাবে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে অভাব পূরণ ও পছন্দমতো বণ্টন করে তা নিয়ে আলোচনা করে, তাই হলো অর্থনীতি। এ সংজ্ঞার ভেতরেই উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্পদ অর্জন, সম্পদের সঠিক ব্যবহার, বিনিয়োগ, বণ্টন প্রভৃতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা অর্থনীতিকেই নির্দেশ করে।
সমাজকর্ম ও অর্থনীতির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের আলোকে বলা যায়, সমাজকর্মীদের অর্থনীতি বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার।
অর্থনীতি ও সমাজকর্ম সামাজিক বিজ্ঞানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। উভয় শাখাতেই সমাজবদ্ধ মানুষের আচরণ ও কল্যাণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সমাজ বহির্ভূত মানুষের আচার-আচরণ সমাজকর্ম ও অর্থনীতির বিবেচ্য বিষয় নয়। মানুষের আর্থ-সামাজিক সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য বিধায় উভয় শাস্ত্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র গড়ে উঠেছে।
সমাজকর্ম ও অর্থনীতি উভয় শাস্ত্রের লক্ষ্য হলো সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে, যাতে সমস্যার যথোপযুক্ত ও স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়। সুতরাং এক্ষেত্রে অর্থনীতির জ্ঞান সমাজকর্মীকে সহায়তা করে। একজন সমাজকর্মী সম্পদ ও অর্থনীতির জ্ঞান ব্যবহার করে ব্যক্তিকে তার নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে পারে। এক্ষেত্রে সম্পদের বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বন অর্জনে গুরুত্বারোপ করা হয়। তাছাড়া একজন সমাজকর্মী অর্থনীতির জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তির মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণে কার্যকরভাবে সমাজকর্মের জ্ঞান ও পদ্ধতির প্রয়োগ করতে সক্ষম হন। উপরিউক্ত আলোচনায় এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, সমাজকর্ম ও অর্থনীতি পরস্পর পরিপূরক দুটি শাস্ত্র। তাই সমাজকর্মীদের জন্য অর্থনীতির জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক।
Related Question
View All১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে সমাজকর্মের সূচনা হয়।
সুশাসন বলতে অংশীদারিত্বমূলক, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রশাসনকে বোঝায়।
সুশাসন একটি গতিশীল ও চলমান ধারণা। এটি শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে। মূলত বলিষ্ঠ ও ন্যায়ানুগ উন্নয়নকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং তা বজায় রাখাই হলো সুশাসন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যাটির সমাধান কার্যক্রম অর্থাৎ কিশোর অপরাধ সংশোধন কার্যক্রম সমাজকর্মের আওতাভুক্ত।.
আধুনিক সমাজকর্ম যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে সংশোধনমূলক কার্যক্রম সেগুলোর অন্যতম। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্টকারী অপরাধী এবং কিশোর অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে কিশোর অপরাধ সংশোধন, কিশোর আদালত, প্রবেশন, প্যারোল, মুক্ত কয়েদি পুনর্বাসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এতে অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। একদিন ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে অন্য গ্যাংয়ের মারামারি হলে একজন কিশোর খুন হয়। এক্ষেত্রে দুই গ্যাংয়ের সদস্যরাই কিশোর এবং এরা সবাই কিশোর অপরাধী। এসব কিশোর অপরাধমূলক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যা সমাধান কার্যক্রম সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
আলিফের চাচার পেশা তথা আইন পেশার সাথে উক্ত বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
আইন পেশা একটি সেবা প্রদানকারী পেশা। এ পেশার প্রধান দিক হলো আইনজীবীরা সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে কাজ করেন। বর্তমানে সমাজকর্ম পেশায় সমাজকর্মীদের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আইনবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। অনেক সময় সমাজকর্মীরা মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সরাসরি আইন পেশার সাহায্য নেন। তবে বৃহত্তর পরিসরে আইন পেশা সমাজকর্মের একটি অংশ। তাই অনেক সময় ব্যক্তি একাধারে সমাজকর্মী ও আইনজীবী উভয় পেশাই গ্রহণ করতে পারেন। এখানে সমাজকর্মের লক্ষ্য পূরণে তিনি আইন পেশাকে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। আধুনিক সমাজকর্ম অপরাধ ও কিশোর অপরাধ নিরসনে শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনমূলক কার্যক্রম যেমন- প্রবেশন, প্যাারোল, কিশোর আদালত প্রভৃতিতে সমাজকর্মীদের পাশাপাশি আইনজীবীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এতে দেখা যায়, আইন পেশা ও সমাজকর্ম ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে অন্য গ্যাংয়ের সাথে মারামারি হলে একজন কিশোর মারা যায়। এরপর পুলিশ এসে আলিফ ও তার বন্ধুদের থানায় নিয়ে যায়। আলিফের আইনজীবী চাচা আলিফকে সহায়তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেন। এক্ষেত্রে আলিফের মতো কিশোরদের সংশোধন ও মুক্তির জন্য সমাজকর্মী এবং আইনজীবী একসাথে কাজ করবে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আলিফের চাচার পেশা অর্থাৎ আইন পেশার সাথে সমাজকর্মের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৫৭ সালে সুইজারল্যান্ডে 'Study Group' সমাজকর্মীদের জন্যে পেশাগত নীতিমালা নির্ধারণ করে।
ইংল্যান্ডে সামাজিক বিমা পদ্ধতি মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
সামাজিক বিমা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণ কিছু সুবিধা ও সেবা পায়। এই সেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণত অবসরভোগীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, অক্ষমতা বিমা, বেঁচে থাকার সুযোগ-সুবিধা, সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল এবং বেকারত্ব বিমা। এ বিমায় সমহারে চাঁদার পরিবর্তে আয়ভিত্তিক চাঁদা ও সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!