নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিন্দু হতে করিম OA বরাবর রওনা দিয়ে B বিন্দুতে 5.3 kmh-1 বেগে পৌঁছাল। কিন্তু রহিম OB বরাবর রওনা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ে নদী পার হয়ে R বিন্দুতে পৌছাল। প্রতিযোগিতার সময় হঠাৎ করে 10 kmh-1 বেগে বৃষ্টি শুরু হলো। উভয়ক্ষেত্রে নৌকার বেগ 5 kmh-1 ছিল।
কোনো ভেক্টর ক্ষেত্রের ডাইভারজেন্স (Divergence) হলো একটি স্কেলার রাশি যা ঐ ভেক্টর ক্ষেত্রের কোনো বিন্দু থেকে প্রতি একক আয়তনে নির্গত মোট ফ্লাক্সের (flux) পরিমাণ নির্দেশ করে।
বালির উপর দিয়ে হাঁটা কষ্টসাধ্য কারণ বালির কণাগুলো আলগা ও অসংবদ্ধ হওয়ায় এর সাথে পায়ের ঘর্ষণ বল কম উৎপন্ন হয়। ঘর্ষণ বল কম হওয়ায় হাঁটার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ সৃষ্টি হয় না এবং পা বালিতে দেবে যায়।
হাঁটার সময় আমরা মাটির উপর চাপ প্রয়োগ করে একটি ঘর্ষণ বলের (friction force) সাহায্যে সামনে অগ্রসর হই। বালির ক্ষেত্রে, পা রাখার ফলে বালি নিচের দিকে সরে যায় এবং পাশের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে মাটি থেকে প্রাপ্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বল (normal force) কমে যায় এবং ঘর্ষণ বলও কমে যায়। এই কারণে বালি স্থিতিশীল থাকে না এবং হাঁটা কঠিন হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকের তথ্য এবং চিত্র অনুযায়ী, রহিম নদী পার হওয়ার জন্য তার নৌকাকে স্রোতের সাথে লম্বভাবে OB বরাবর চালনা করেছিল। নদীটির প্রস্থ \(d = 2 \text{ km}\) (চিত্র হতে) এবং স্থির পানিতে নৌকার বেগ \(v_b = 5 \text{ kmh}^{-1}\) (উদ্দীপক হতে)। রহিম নদী পার হতে যে সময় নিয়েছিল তা হলো:
নদী পার হওয়ার সময় নির্ণয়ের ক্ষেত্রে নদীর প্রস্থ বরাবর নৌকার কার্যকরী বেগ বিবেচনা করা হয়। যদি কোনো মাঝি স্রোতের সাথে লম্বভাবে নৌকা চালায়, তবে স্রোতের বেগ শুধু নৌকাকে প্রবাহের দিকে সরিয়ে দেয় কিন্তু নদীর প্রস্থ অতিক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সময়কে প্রভাবিত করে না। এক্ষেত্রে, স্থির পানিতে নৌকার নিজস্ব বেগই নদীর প্রস্থ অতিক্রমের জন্য কার্যকর বেগ হিসেবে কাজ করে।
সুতরাং, উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম তার নৌকাকে OB বরাবর চালিয়ে 2 km প্রশস্ত নদীটি পার হতে মোট 0.4 ঘন্টা বা 24 মিনিট সময় নিয়েছিল। স্রোতের বেগ (2 kmh-1) এক্ষেত্রে রহিমকে কেবল নদী পার হয়ে R বিন্দুতে যেতে সাহায্য করেছে, কিন্তু লম্ব দূরত্ব অতিক্রমের সময়কে নয়।
বৃষ্টিতে চলন্ত অবস্থায় ছাতা ধরার কোণ নির্ণয় করতে আপেক্ষিক বেগের (relative velocity) ধারণা প্রয়োগ করতে হয়। করিম যেহেতু নৌকায় চলাচল করছে, বৃষ্টির আপেক্ষিক বেগ তার বেগের উপর নির্ভরশীল হবে। ছাতা এমনভাবে ধরতে হবে যাতে তা বৃষ্টির আপেক্ষিক বেগের দিকের সাথে লম্ব থাকে, অর্থাৎ বৃষ্টির আপেক্ষিক বেগের দিকে ছাতা হেলিয়ে ধরতে হবে।
উদ্দীপক থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির বেগ \(V_r = 10 \text{ kmh}^{-1}\) (উলম্বভাবে নিচের দিকে), নৌকার বেগ (পানির সাপেক্ষে) \(V_b = 5 \text{ kmh}^{-1}\) এবং স্রোতের বেগ \(V_c = 2 \text{ kmh}^{-1}\)। করিমের ভূমির সাপেক্ষে লব্ধি বেগ \(|V_k| = 5.3 \text{ kmh}^{-1}\) দেওয়া আছে।
ধরা যাক, স্রোতের দিক x-অক্ষ বরাবর এবং নদীর প্রস্থ বরাবর দিক y-অক্ষ। নৌকার বেগ \(V_b\) যদি স্রোতের দিকের সাথে \(\alpha\) কোণ তৈরি করে, তাহলে নৌকার বেগের উপাংশ হবে \(V_{bx} = V_b \cos\alpha\) এবং \(V_{by} = V_b \sin\alpha\)।
ধরা যাক, করিমকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ছাতাটি উল্লম্বের সাথে \(\phi\) কোণে ধরতে হবে। এই কোণটি আপেক্ষিক বৃষ্টির বেগের অনুভূমিক ও উল্লম্ব উপাংশের অনুপাত থেকে পাওয়া যায়:
সুতরাং, করিমকে বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে উল্লম্বের সাথে প্রায় \(6.74^\circ\) কোণে ছাতা ধরতে হবে। যেহেতু বৃষ্টির আপেক্ষিক বেগের অনুভূমিক উপাংশ ঋণাত্মক (স্রোতের দিকের বিপরীত) এবং উল্লম্ব উপাংশ নিচের দিকে, তাই করিমকে তার অনুভূমিক গতির দিকের বিপরীতে (অর্থাৎ, যেদিকে সে স্রোতের সাপেক্ষে যাচ্ছে তার উল্টো দিকে) সামান্য হেলিয়ে ছাতা ধরতে হবে।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে জানতে হলে কোন বা কোন ধরনের পরিমাপের প্রয়োজন হয়। পদার্থের যে সব ভৌত বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করা যায় তাদেরকে রাশি (quantity) বলে। যেমন, দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, আয়তন, বেগ, কাজ ইত্যাদি প্রত্যেকে এক একটি রাশি। পদার্থবিজ্ঞানের অন্তর্গত যে কোন রাশিকে ভৌত (physical) রাশি বলে।
কিছু কিছু ভৌত রাশিকে শুধুমাত্র মান দ্বারা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা যায়। আবার অনেক ভৌত রাশি রয়েছে যাদেরকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য মান ও দিক উভয়ই প্রয়োজন হয়। তাই ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য অনুসারে ভৌত রাশিগুলোকে আমরা দুই ভাগে বিভক্ত করতে পারি ; যথা—
(ক) স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি (Scalar quantity)।
(খ) ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বা সদিক রাশি (Vector quantity)।
(ক) স্কেলার রাশি :
যে সব ভৌত রাশির শুধু মান আছে, কিন্তু দিক নেই, তাদেরকে স্কেলার রাশি বা অদিক রাশি বলে। যেমন দৈর্ঘ্য, ভর, সময়, জনসংখ্যা, তাপমাত্রা, তাপ, বৈদ্যুতিক বিভব, দ্রুতি, কাজ ইত্যাদি কেলার বা অদিক রাশি।
(খ) ভেক্টর রাশি :
যে সব ভৌত রাশির মান এবং দিক দুই-ই আছে, তাদেরকে ভেক্টর রাশি বা দিক রাশি বলে। যেমন সরণ, বেগ, ত্বরণ, মন্দন, বল, ওজন ইত্যাদি ভেক্টর বা দিক রাশি।
১.২ ভেক্টর রাশির নির্দেশনা
Representation of a vector
কোন একটি ভেক্টর রাশিকে দুভাবে প্রকাশ করা হয়ে থাকে, যথা- (১) অক্ষর দ্বারা এবং (২) সরলরেখা দ্বারা।
১। অক্ষর দ্বারা কোন একটি ভেক্টর রাশিকে চারভাবে প্রকাশ করা হয়, যথা-
(ক) কোন অক্ষরের উপর তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখা দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। সাধারণভাবে শুধু অক্ষর দ্বারাও রাশিটির মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ | A | বা A
(খ) কোন অক্ষরের উপর রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ Ā এবং মান রূপ । A
(গ) কোন অক্ষরের নিচে রেখা চিহ্ন দ্বারা রাশিটির ভেক্টর রূপ এবং এর দুই পাশের দুটি খাড়া রেখ দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়।
A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং মান রূপ | |
(ঘ) মোটা হরফের অক্ষর দিয়ে ভেক্টর রাশি প্রকাশ করা হয়। যেমন A অক্ষরের ভেক্টর রূপ এবং এর মান A ভেক্টর রাশি নির্দেশের ক্ষেত্রে (ক)-এ ব্যবহৃত চিহ্নই শ্রেয়। তাই এই বই-এ আমরা এই পদ্ধতিই ব্যবহার করব।
২। সরলরেখা দ্বারা ভেক্টর রাশি নির্দেশ করতে হলে রাশিটির দিকে বা সমান্তরালে একটি সরলরেখা অংকন করে সরলরেখাটির শেষ প্রান্তে একটি তীর চিহ্ন দ্বারা রাশিটির দিক এবং কোন স্কেলে উত্ত সরলরেখাটির দৈর্ঘ্য দ্বারা এর মান নির্দেশ করা হয়। এ পদ্ধতিকে জ্যামিতিক উপায়ে ভেক্টরের নির্দেশনাও বলে।
চিত্র :১.১
মনে করি, একটি ভেক্টর রাশির মান 5 এবং এর দিক পূর্ব দিক। একে সরলরেখা দ্বারা প্রকাশ করতে হবে। এখন AC একটি সরলরেখা পূর্ব- পশ্চিম দিক বরাবর অংকন করে AC সরলরেখা হতে সুবিধামত দৈর্ঘ্যকে একক ধরে এর 5 গুণ দৈর্ঘ্য AB কেটে নিই এবং AB-এর শেষ প্রান্তে পূর্ব দিকে তীর চিহ্ন যুক্ত করি [চিত্র ১:১]। এই তীর চিহ্নিত সরলরেখাই ভেক্টর রাশিটি নির্দেশ করবে। ভেক্টর রাশি নির্দেশী সরলরেখার তীর চিহ্নিত প্রান্ত B-কে শীর্ষবিন্দু বা অন্ত বিন্দু এবং অপর প্রান্ত A-কে আদিবিন্দু বা মূলবিন্দু বা পাদবিন্দু বলে।
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!