প্রয়োজন যখন ভোক্তার সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাস্তবে প্রকাশ পায় তখন তাকে অভাব বলে।
ভোক্তা কোনো পণ্য বা সেবা ভোগ কিংবা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সুবিধা পায় এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এদের মধ্যকার পার্থক্যকে বলা হয় ক্রেতাভ্যালু।
একটি পণ্য ব্যবহার বা ভোগ করে ক্রেতা কিছু সুবিধা পায়। অন্যদিকে, ঐ পণ্য অর্জনের জন্য তাকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। পণ্য থেকে প্রাপ্ত সুবিধা এবং পণ্যের জন্য ব্যয়িত অর্থের পার্থক্যই হচ্ছে ক্রেতার ভ্যালু। যেমন- 'ভলবো এসি' বাসে ভ্রমণ করে ক্রেতা আরাম, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি ভোগ করে। এরূপ ভ্রমণের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এ দু'য়ের পার্থক্য হচ্ছে ক্রেতাভ্যালু।
বিপণনের মৌলিক ধারণা অনুযায়ী পরগড় স্থানটিকে সেবা বলা
যায়। সেবা হচ্ছে কতিপয় কার্যাবলি, সুবিধা এবং তৃপ্তি; যা বিক্রয়ের জন্য বাজারে উপস্থাপন করা হয়। সেবা শনাক্ত করা গেলেও একে দেখা যায় না। পর্যটন কেন্দ্র, বিনোদনমূলক স্থান, বিউটি পার্লার প্রভৃতি ! হলো সেবার উদাহরণ।
|
উদ্দীপকের পঞ্চগড়ে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের কমতি নেই। এ স্থানটি শুধু পাথর ব্যবসায়ের জন্যই বিখ্যাত নয়, এখানে রয়েছে বড় বড় চা বাগান। তাছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া হলো একটি পর্যটন কেন্দ্র ও বিনোদন স্পট। এজন্যই জনাব আরহামের মতো অনেকেই এখানে বেড়াতে আসেন। আর এদের কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে নানান ধরনের হোটেল। এ সকল বিষয় বিবেচনা করলে পঞ্চগড় একটি পর্যটন কেন্দ্র। এখানে গ্রাহকরা ঘুরতে এসে তৃপ্তি পান। তাছাড়া এ স্থান থেকে প্রাপ্ত সুবিধাগুলোও অনুভবের বিষয়। কেননা নৈসর্গিক সৌন্দর্য কেবল উপলব্ধি করা যায়। এ বিষয়গুলো সেবার বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, পঞ্চগড় স্থানটি হচ্ছে একটি সেবা কেন্দ্র।
উদ্দীপকে জনাব আরহাম সাহেব হোটেল মোহনার থেকে হোটেল সুগন্ধায় অবস্থান করে বেশি সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন।
একজন ভোক্তা পণ্য ক্রয় করার পর তা থেকে প্রত্যাশার তুলনায় কম বেশি সুবিধা প্রাপ্ত হয়ে যে অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ ঘটান তাকে ক্রেতার সন্তুষ্টি বলে। এক্ষেত্রে পণ্য বা সেবার সুবিধা যদি প্রত্যাশার তুলনায় | কম হয় তাহলে ক্রেতা অসন্তুষ্ট হন। আবার পণ্য থেকে প্রাপ্ত সুবিধা | যদি ক্রেতার প্রত্যাশাকে অতিক্রম করে তাহলে ক্রেতা খুবই সন্তুষ্ট এবং | আনন্দিত হন।
উদ্দীপকে জনাব আরহাম সাহেব পঞ্চগড় জেলার পর্যটন কেন্দ্র এবং বিনোদন স্পষ্ট তেঁতুলিয়াতে বেড়াতে যান। তিনি সেখানে 'মোহনা'
নামক একটি হোটেলে উঠেন। কিন্তু এ হোটেলে টিভি, ইন্টারনেট এবং | গরম পানির ব্যবস্থা ছিল না। এসব সুবিধা না পেয়ে আরহাম সাহেব | পরদিন 'সুগন্ধা' নামক অন্য একটি হোটেলে উঠেন। এ হোটেলে | তিনি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। 'মোহনা' । হোটেলের তুলনায় ১৫% বেশি খরচ হলেও তিনি 'সুগন্ধা' হোটেলে ! অবস্থান করে আরামদায়ক ভ্রমণ উপভোগ করেন। অর্থাৎ হোটেল মোহনার তুলনায় হোটেল সুগন্ধায় অবস্থান করে আরহাম সাহেব অধিক ক্রেতাভ্যালু অর্জন করেন।
। সুতরাং বলা যায়, জনাব আরহাম মোহনা হোটেলের তুলনায় সুগন্ধা • হোটেলে অবস্থান করে বেশি সন্তুষ্ট হয়েছেন।
Related Question
View Allকোনো পণ্য বা সেবার বর্তমান ও সম্ভাব্য ক্রেতার সমষ্টিকে বাজার বলে।
বিপণন শক্তিশালী ক্রেতাসম্পর্ক তৈরি করে"- উক্তিটি সঠিক।
সর্বোচ্চ ভ্যালু সৃষ্টি ও প্রদানের মাধ্যমে লাভজনক উপায়ে ক্রেতাদের সন্তুষ্টিবিধান, শক্তিশালী ক্রেতাসম্পর্ক সৃষ্টি ও বজায় রাখার প্রক্রিয়াকে বিপণন বলে। বর্তমান সময়ে বিপণন বলতে লাভজনক শক্তিশালী ক্রেতা সম্পর্ককে বোঝায়। আর তাই একজন বিপণনকারী সম্পর্কভিত্তিক বিপণন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ক্রেতা, বিক্রেতা, পরিবেশক, ডিলার, সরবরাহকারী প্রভৃতি পক্ষের সাথে দীর্ঘমেয়াদি সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত সচেষ্ট থাকেন। কেননা একজন সন্তুষ্ট ক্রেতাই কোম্পানি এবং পণ্যের প্রতি অনুগত থাকে এবং সে নিজে পণ্য ক্রয় করে ও অন্যদেরকে পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত করে।
মি. পলের গাড়ি ক্রয় বিপণনের মৌলিক ধারণা চাহিদার অন্তর্গত।
কোনো পণ্য বা সেবা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তা ক্রয়ের সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা থাকাকে চাহিদা বলে। সাধারণত অভাব যখন ব্যক্তির ক্রয়ক্ষমতার শর্ত পূরণ করে তখন তা চাহিদায় রূপান্তরিত হয়।
উদ্দীপকের মি. পলের প্রাথমিক অবস্থায় গাড়ি কেনার সামর্থ্য ছিল না কিন্তু প্রচন্ড ইচ্ছা ছিল। এ ইচ্ছাকে বাস্তবায়নের জন্য তিনি একটি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মের উৎপাদিত ডিম ও মাংস উন্নতমানের হওয়ায় ব্যবসায়টি ব্যাপক লাভজনক হয়। পরবর্তীতে - তিনি ব্যবসায়ের মুনাফা দিয়ে ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি ক্রয় করেন। এক্ষেত্রে তার গাড়ি ক্রয় সম্ভব হয়েছে চাহিদার সকল শর্ত যেমন- ক্রয়ের ইচ্ছা, সামর্থ্য ও অর্থ ব্যয়ের ইচ্ছা বিদ্যমান থাকায় গাড়িটি ক্রয় করতে পেরেছেন। আর তাই বলা যায়, মি. পলের গাড়ি ক্রয় করা ছিল বিপণনের মৌলিক ধারণা চাহিদার অন্তর্গত।
মি পলের বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যে সকল প্রতিষ্ঠান মূলধন, আয়তন ও ব্যবস্থাপনায় বৃহৎ প্রকৃতির হয় তাকে বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান বা ফার্ম বলে। এরূপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৃহৎ উৎপাদন ও ব্যাপক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় বিধায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
উদ্দীপকের মি. পল নাটোরে স্বল্প পরিসরে একটি পোল্ট্রি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন। ফার্মের ডিম ও মাংস উন্নতমানের হওয়ায় এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং ব্যবসায়টিও ব্যাপক লাভজনক হয়ে উঠে।
পরবর্তীতে চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি রাজশাহীতে একটি বৃহত্তম তথা বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন; যেখানে ১,০০০ জন শ্রমিক কর্মরত থাকবেন। এর ফলে একদিকে যেমন বৃহৎ উৎপাদন সম্ভব হবে তেমনি ব্যাপক সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের আয়, ভোগ ও জীবনযাত্রার মান যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি জাতীয় আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ফলে দেশের তথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, মি. পলের বৃহদায়তন ফার্ম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রয়োজন ব্যক্তির জ্ঞান, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্ব দ্বারা নির্দিষ্ট বস্তুগত ধারণায় রূপান্তরিত হলে তাকে অভাব বলে।
ভোক্তা কোনো পণ্য বা সেবা ভোগ কিংবা ব্যবহারের মাধ্যমে যে সুবিধা পায় এবং তার বিনিময়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে এদের মধ্যকার পার্থক্যকে বলা হয় ক্রেতাভ্যালু।
একটি পণ্য ব্যবহার বা ভোগ করে ক্রেতা কিছু সুবিধা পায়। অন্যদিকে, ঐ পণ্য অর্জনের জন্য তাকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়। পণ্য থেকে প্রাপ্ত সুবিধা এবং পণ্যের জন্য ব্যয়িত অর্থের পার্থক্যই হচ্ছে ক্রেতার ভ্যালু। যেমন- 'ভলবো এসি' বাসে ভ্রমণ করে ক্রেতা আরাম, নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ইত্যাদি ভোগ করে। এরূপ ভ্রমণের জন্য তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতে হয়। এ দু'য়ের পার্থক্য হচ্ছে ক্রেতাভ্যালু।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!