উপালি কপিলাবস্তুর নীচুকুলের নাপিত বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
তিব্বতের লোকেরা একসময় ধর্মে অনেক অনাচারের প্রবেশ ঘটিয়েছিল। রাজা ধারণা করেছিলেন দীপংকর শ্রীজ্ঞানকে নিয়ে যেতে পারলে সে দেশের মানুষের প্রকৃত ধর্মীয় চেতনার বিকাশ ঘটবে। তাই তিব্বতের রাজা দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানকে তিব্বতে আমন্ত্রণ জানালেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত পটাচার ঘটনা থেকে কৃশা গৌতমীর জীবনের ঘটনার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। পটাচারা যেমন স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেল, তেমনি কৃশা গৌতমীও স্বামী-সন্তান হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে যান। গৌতমীর স্বামীর মৃত্যুর পর পুত্রটি ছিল তার একমাত্র আশার সম্বল। কিন্তু হঠাৎ একদিন পুত্রও মারা গেলে সে শোকে আত্মহারা হয়ে সবার কাছে পুত্রের জন্য ওষুধ খুঁজে বেড়ান। কিন্তু ওষুধ খুঁজে ব্যর্থ হয়ে তিনি বুঝতে পারলেন যে, সব বস্তু অনিত্য। অবশেষে গৌতমীও পটাচারের মতো বুদ্ধের কাছে গিয়ে উপস্থিত হলেন। বুদ্ধের উপদেশে তিনিও স্বস্তি ফিরে পেলেন। পরবর্তীতে পটাচারার মতো গৌতমীও ভিক্ষুণী পথ অবলম্বন করেন।
হ্যাঁ, পটাচারার অনুসৃত পথে নির্বাণ লাভ সম্ভব। পটাচারা অসময়ে তার স্বামী-সন্তান হারিয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে গেছে। তার মন দুঃখ-কষ্টে ভারাক্রান্ত। মনোবল হারিয়ে চরম বেদনায় সে নিশ্চিত. পাগলপ্রায়। পৃথিবীটা তার কাছে এখন অর্থহীন, সান্ত্বনাহীন এক চির অশান্তির গুহা। কোনোকিছুকে অবলম্বন করে বাঁচবে সে ভরসাটুকুও তার আর বাকি রইল না। সে এখন ভিক্ষুণী পথ অবলম্বন করছে। এখানে যদি সে ভিক্ষুণী জীবনের নিয়মকানুন খুব ভালোভাবে পালন করে তবে সে বেঁচে থাকার বিকল্প অবলম্বন খুঁজে পাবে। সে গভীর ধ্যানে নিমগ্ন থাকবে। সকল প্রকার লোভ-লালসা, হিংসা, মোহ, তৃষ্ণা ক্ষয় করে সে অর্হত্ব প্রাপ্ত হবে। তার অশান্ত মনপ্রাণ প্রশান্তি লাভ করবে। এভাবে তার নির্বাণ লাভ করা সম্ভব হবে।
Related Question
View Allআনন্দ থের'র দুটি উপদেশ নিচে দেওয়া হলো-
১. শ্রদ্ধাবান, শীলবান, জ্ঞানবান ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবে। তাদের সঙ্গ উত্তম।
২. ক্রোধী, অহংকারী ও সংঘভেদকারী ব্যক্তির সাথে বন্ধুত্ব করবে না। তাদের সঙ্গী হওয়া উচিত নয়।
কৃশা গৌতমীর উপদেশগুলো হলো-
ক. সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জ্ঞানিগণ প্রশংসা করেন। সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করলে জ্ঞানী হওয়া যায়।
খ. সৎ মানুষের অনুসরণ কর। এতে জ্ঞান বর্ধিত হয়।
গ. চতুরার্য সত্য সম্পর্কে জ্ঞানলাভ কর।
ঘ. আমি আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি, নির্বাণ উপলব্ধি করেছি।
ঙ. আমি বেদনামুক্ত, ভারমুক্ত। আমার চিত্ত সম্পূর্ণ মুক্ত।
অর্হত্বপ্রাপ্ত হয়ে অভিরূপা নন্দা বলেছিলেন, এ দেহ অশুচি এবং ব্যাধির আলয়। এতে অহংকারের কিছু নেই। অনিষ্টকর অহংকার পরিত্যাগ কর। মনকে শান্ত ও সংযত কর।
বুদ্ধ আনন্দ থেরকে তাঁর সেবায় নিযুক্ত করলে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি সেবা করতেন। বুদ্ধ যখন উপদেশ দিতেন, তখন তিনি মনোযোগসহকারে শুনতেন। সব মনে রাখতেন এবং বুদ্ধের যেকোনো উপদেশ প্রয়োজনে অন্যকে হুবহু বলতে পারতেন। তাই তিনি 'ধর্মভান্ডারিক' ও 'শুতিধর' আখ্যা পান।
কৃশা গৌতমী দীক্ষা লাভ করতে গেলে বুদ্ধদেব বলেন-বন্যার স্রোত যেমন গ্রাম, নগর, ভাসিয়ে নিয়ে যায়, তেমনি ভোগবিলাসে রত মানুষও মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এ জগতে সকল বস্তুই অনিত্য। জন্ম হলে তার মৃত্যু অনিবার্য। সুতরাং দুঃখ পেলেও মেনে নিতে হবে।
কৃশা গৌতমীর তিনটি উপদেশ :
১. সাধু ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করা জ্ঞানীগণ প্রশংসা করেন।
২. সৎ মানুষের অনুসরণ করলে। এতে জ্ঞান বর্ধিত হয়।
৩. চতুরার্য সত্য সমন্ধে জ্ঞান লাভ করো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!