'পরমাণু যুগে বাংলাদেশ’ এ বিষয়ে আপনার মতামতসহ আলোচনা করুন

Updated: 1 month ago
উত্তরঃ

প্রথমে স্বপ্ন। অতঃপর আকাক্সক্ষা। তারপর ইচ্ছাশক্তি। পরিশেষে অনুশীলন। যোগফলে স্বপ্নপূরণ। ৫৭ বছরের লালিত স্বপ্নকে ইচ্ছাশক্তির সুনিপুণ কারুকাজের নান্দনিক তৎপরতায় পরমাণু যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পাবনার রূপপুর পরমাণু প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে বিশ্ব নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হওয়ার পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল দেশটি। বর্তমানে এ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা মাত্র ৩১। আর এসব দেশেই রয়েছে সাড়ে ৪০০ পারমাণবিক চুল্লি। আর বিশ্বের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১১ শতাংশ উৎপাদিত হয় এ চুল্লি থেকেই।

পাকিস্তান আমলে এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। স্বাধীনতার পর হাঁটি হাঁটি পা পা করে এগিয়েছে প্রকল্পটি এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টা ও ইচ্ছাশক্তির বদান্যতায় আজ তা বাস্তবতার আকাশ স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে। ২০১০ সালে রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিয়ে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট সম্পন্ন হয়। একই বছর জাতীয় সংসদে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। ২০১২ সালে বাংলাদেশ অ্যাটোমিক এনার্জি রেগুলেটরি অ্যাক্ট পাস করা হয়। অতঃপর আরো কিছুটা পথ পরিক্রমণ শেষে প্রকল্পটি এখন আলোর মুখ দেখতে চলেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শুধুই একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; এর মাধ্যমে আমরা নিউক্লিয়ার জাতিগোষ্ঠীর সদস্য হওয়ারও যোগ্যতা অর্জন করলাম। বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বেলারুশ। দেশটির প্রথম পারমাণবিক কেন্দ্রটি চালু হবে ২০১৮ সালে। বাংলাদেশ আশা করছে, প্রথম ইউনিটটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে ২০২২ সালে। ২০১৩ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের দুটি ইউনিট থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পাঁচ স্তরের বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনকালীন সময়ে কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এ ছাড়াও রয়েছে রুশ প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। এর পরও যদি অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে-এর তেজষ্ক্রিয় পদার্থ জনগণের সংস্পর্শে যাবে না। সুতরাং আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি, আমাদের আকাঙ্খা এবং ইচ্ছাশক্তি আমাদের স্বপ্নপূরণের জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে । আগামীতে যে জ্বালানিশক্তি আমাদের ইচ্ছাশক্তিকে আরো আলোকিত করবে।

423

নিউক্লিয় শক্তি (Nuclear Energy)

নিউক্লিয়াস ভেঙ্গে বা বিভাজন করে অথবা দুটি হাল্কা নিউক্লিয়াসকে একত্রিত করে যে শক্তি পাওয়া যায়, এই শক্তিকে বলা হয় নিউক্লিয় শক্তি (Nuclear energy)। একে পারমাণবিক শক্তি (Atomic energy) নামেও অভিহিত করা হয়। পরমাণু হতে দুটি পদ্ধতিতে নিউক্লিয় শক্তি উৎপন্ন করা যায়-

ক) নিউক্লিয় ফিউশান (Nuclear Fusion)

খ) নিউক্লিয় ফিশান (Nuclear Fission)

যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশান বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া বলে। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশান বিক্রিয়া। নিউক্লিয় ফিউশান নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম, ট্রাইটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরী করা হয়।

পারমাণবিক চুল্লি (Nuclear Reactor)

যে যান্ত্রিক ব্যবস্থার সাহায্যে নিউক্লিয়াসের নিয়ন্ত্রিত বিভাজন দ্বারা বিপুল পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি অর্জন করা যায় তাকে পারমাণবিক চুল্লি বলে। পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়, ইউরেনিয়াম পরমাণু স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে নিম্নতর ভর বিশিষ্ট পরমাণু সৃষ্টি হয়ে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয় এবং উচ্চ গতি সম্পন্ন নিউট্রন নির্গত হয়। এই অতিরিক্ত নিউট্রনকে শোষণ করার জন্য চুল্লীতে ক্যাডমিয়াম ও বোরন দণ্ড ব্যবহার করা হয়, যা অতিরিক্ত নিউট্রনকে শোষণ করে নেয়। পারমাণবিক চুল্লিতে তাপ পরিবাহক হিসাবে সোডিয়াম ব্যবহৃত হয়।

জেনে রাখা ভালো

১. PCR-এর পরিপূর্ণ অর্থ পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন।

২. ফিশন আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী অটোহ্যান; ১৯৩৯ সালে।

৩. মানবকল্যাণে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার প্রথম শুরু হয়- ১৯৫৪ সালে। ঐ সময় তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রথম নিউক্লিয় তড়িৎ কেন্দ্রে তড়িৎ উৎপাদন শুরু করে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

বাংলাদেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পাবনা জেলার রূপপুরে অবস্থিত । 

বাংলাদেশের একমাত্র  পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র  রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত । 

271
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews