পরশপাথরে কী সোনা হয়ে যায়?

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

পরশপাথরে ধাতুর তৈরি যেকোনো জিনিস সোনা হয়ে যায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
256

নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক-শিক্ষক নিশানাথবাবু কিছুদিন হলো রিটায়ার করেছেন। আরো বছরখানেক চাকরি করতে পারতেন; কিন্তু করলেন না। কারণ দুটো চোখেই ছানি পড়েছে। পরিষ্কার কিছু দেখেন না। ব্ল‍্যাকবোর্ডে নিজের লেখা নিজেই পড়তে পারেন না।

নিশানাথবাবুর ছেলেমেয়ে কেউ নেই। একটা মেয়ে ছিল। খুব ছোটোবেলায় টাইফয়েডে মারা গেছে। তার স্ত্রী মারা গেছেন গত বছর। এখন তিনি একা একা থাকেন। তার বাসা নান্দিনা বাজারের কাছে। পুরান আমলের দু-কামরার একটা পাকা দালানে তিনি থাকেন। কামরা দুটির একটি পুরোনো লক্কড় জিনিসপত্র দিয়ে ঠাসা। তার নিজের জিনিস নয়। বাড়িওয়ালার জিনিস। ভাঙা খাট, ভাঙা চেয়ার, পেতলের তলা-নেই কিছু ডেগচি, বাসনকোসন। বাড়িওয়ালা নিশানাথবাবুকে প্রায়ই বলেন, এই সব জঞ্জাল দূর করে ঘরটা আপনাকে পরিষ্কার করে দেবো। শেষপর্যন্ত করেন না। তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না। পাশে একটা হোটেলে তিনি খাওয়া দাওয়া সারেন। বিকেলে নদীর ধারে একটু হাঁটতে যান। সন্ধ্যার পর নিজের ঘরে এসে চুপচাপ বসে থাকেন। তার একটা কেরোসিনের স্টোভ আছে। রাতের বেলা চা খেতে ইচ্ছা হলে স্টোভ জ্বালিয়ে নিজেই চা বানান।

জীবনটা তার বেশ কষ্টেই যাচ্ছে। তবে তা নিয়ে নিশানাথবাবু মন খারাপ করেন না। মনে মনে বলেন, আর অল্প-কটা দিনই তো বাঁচব, একটু না হয় কষ্ট করলাম। আমার চেয়ে বেশি কষ্টে কত মানুষ আছে। আমার আর আবার এমনকি কষ্ট।

একদিন কার্তিক মাসের সন্ধ্যাবেলায় নিশানাথবাবু তার স্বভাবমতো সকাল সকাল রাতের খাওয়া সেরে নিয়ে বেড়াতে বেরোলেন। নদীর পাশের বাঁধের ওপর দিয়ে অনেকক্ষণ হাঁটলেন। চোখে কম দেখলেও অসুবিধা হয় না, কারণ গত কুড়ি বছর ধরে এই পথে তিনি হাঁটাহাঁটি করছেন।

আজ অবশ্য একটু অসুবিধা হলো। তার চটির একটা পেরেক উঁচু হয়ে গেছে। পায়ে লাগছে। হাঁটতে পারছেন না। তিনি সকাল সকাল বাড়ি ফিরলেন। তার শরীরটাও আজ খারাপ। চোখে যন্ত্রণা হচ্ছে। বাঁ চোখ দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়ছে।

বাড়ি ফিরে তিনি খানিকক্ষণ বারান্দায় বসে রইলেন। রাত নটার দিকে তিনি ঘুমুতে যান। নটা বাজতে এখনো অনেক দেরি। সময় কাটানোটাই তার এখন সমস্যা। কিছু-একটা কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারলে হতো। কিন্তু হাতে কোনো কাজ নেই। বসে থাকা ছাড়া কিছু করার নেই। চটির উঁচু-হয়ে-থাকা পেরেকটা ঠিক করলে কেমন হয়? কিছুটা সময় তো কাটে। তিনি চটি হাতে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। হাতুড়িজাতীয় কিছু খুঁজে পেলেন না। জঞ্জাল রাখার ঘরটিতে উঁকি দিলেন। রাজ্যের জিনিস সেখানে; কিন্তু হাতুড়ি বা তার কাছাকাছি কিছু নেই। মন খারাপ করে বের হয়ে আসছিলেন, হঠাৎ দেখলেন, ঝুড়ির ভেতর একগাদা জিনিসের মধ্যে লম্বাটে ধরনের কী-একটা যেন দেখা যাচ্ছে। তিনি জিনিন্সটা হাতে নিয়ে জুতার পেরেকে বাড়ি দিতেই অদ্ভুত কাণ্ড হলো। কালো ধোঁয়ায় ঘর ভর্তি হয়ে গেল।

তিনি ভাবলেন, চোখের গন্ডগোল। চোখ-দুটো বড়ো যন্ত্রণা দিচ্ছে। কিন্তু না, চোখের গন্ডগোল না। কিছুক্ষণের মধ্যে ধোঁয়া কেটে গেল। নিশানাথবাবু অবাক হয়ে শুনলেন, মেঘগর্জনের মতো শব্দে কে যেন বলছে, আপনার দাস আপনার সামনে উপস্থিত। হুকুম করুন। এক্ষুনি তালিম হবে।

নিশানাথবাবু কাঁপা গলায় বললেন, কে? কে কথা বলে?
: জনাব আমি। আপনার ডান দিকে বসে আছি। ডান দিকে ফিরলেই আমাকে দেখবেন।

নিশানাথবাবু ডান দিকে ফিরতেই তার গায়ে কাঁটা দিল। পাহাড়ের মতো একটা কী যেন বসে আছে। মাথা প্রায় ঘরের ছাদে গিয়ে লেগেছে। নিশ্চয়ই চোখের ভুল।
নিশানাথবাবু ভয়ে ভয়ে বললেন, বাবা তুমি কে? চিনতে পারলাম না তো।
: আমি হচ্ছি আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য। আপনি যে-জিনিসটি হাতে নিয়ে বসে আছেন এটাই হচ্ছে সেই বিখ্যাত আলাউদ্দিনের চেরাগ।
: বলো কী!
: সত্যি কথাই বলছি জনাব। দীর্ঘদিন এখানে-ওখানে পড়ে ছিল। কেউ ব্যবহার জানে না বলে ব্যবহার হয়নি। পাঁচ হাজার বছর পর আপনি প্রথম ব্যবহার করলেন। এখন হুকুম করুন।
: কী হুকুম করব?
: আপনি যা চান বলুন, এক্ষুনি নিয়ে আসব। কোন জিনিসটি আপনার প্রয়োজন?
: আমার তো কোনো জিনিসের প্রয়োজন নেই।
চেরাগের দৈত্য চোখ বড়ো বড়ো করে অনেকক্ষণ নিশানাথবাবুর দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর গম্ভীর গলায় বলল, জনাব, আপনি কি আমাকে ভয় পাচ্ছেন?
: প্রথমে পেয়েছিলাম, এখন পাচ্ছি না। তোমার মাথায় ওই দুটা কী? শিং নাকি?
: জি, শিং।
: বিশ্রী দেখাচ্ছে।
চেরাগের দৈত্য মনে হলো একটু বেজার হয়েছে। মাথার লম্বা চুল দিয়ে সে শিং দুটো ঢেকে দেবার চেষ্টা করতে করতে বলল, এখন বলুন কী চান?
: বললাম তো, কিছু চাই না।
: আমাদের ডেকে আনলে কোনো-একটা কাজ করতে দিতে হয়। কাজ না করা পর্যন্ত আমরা চেরাগের ভেতর ঢুকতে পারি না।
অনেক ভেবেচিন্তে নিশানাথবাবু বললেন, আমার চটির পেরেকটা ঠিক করে দাও। অমনি দৈত্য আঙুল দিয়ে প্রচণ্ড চাপ দিয়ে পেরেক ঠিক করে বলল,
: এখন আমি আবার চেরাগের ভেতর ঢুকে যাব। যদি আবার দরকার হয় চেরাগটা দিয়ে লোহা বা তামার ওপর খুব জোরে বাড়ি দেবেন। আগে চেরাগ একটুখানি ঘষলেই আমি চলে আসতাম। এখন আসি না। চেরাগ পুরোনো হয়ে গেছে তো, তাই।
: ও আচ্ছা। চেরাগের ভেতরেই তুমি থাক?
: জি।
: কর কী?
: ও আচ্ছা। চেরাগের ভেতরেই তুমি থাক?
: জি।
: কর কী?
: ঘুমোই। তাহলে জনাব আমি এখন যাই।
বলতে বলতেই সে ধোঁয়া হয়ে চেরাগের ভেতর ঢুকে গেল। নিশানাথবাবু স্তম্ভিত হয়ে দীর্ঘ সময় বসে রইলেন। তারপর তার মনে হলো-এটা স্বপ্ন ছাড়া কিছুই নয়। বসে ঝিমাতে ঝিমাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঘুমের মধ্যে আজেবাজে স্বপ্ন দেখেছেন।
তিনি হাতমুখ ধুয়ে শুয়ে পড়লেন। পরদিন তার আর এত ঘটনার কথা মনে রইল না। তার খাটের নিচে পড়ে রইল আলাউদ্দিনের বিখ্যাত চেরাগ।
মাসখানেক পার হয়ে গেল। নিশানাথবাবুর শরীর আরো খারাপ হলো। এখন তিনি আর হাঁটাহাঁটিও করতে পারেন না। বেশির ভাগ সময় বিছানায় শুয়ে-বসে থাকেন। এক রাতে ঘুমোতে যাবেন। মশারি খাটাতে গিয়ে দেখেন, একদিকের পেরেক খুলে এসেছে। পেরেক বসানোর জন্যে আলাউদ্দিনের চেরাগ দিয়ে এক বাড়ি দিতেই ওই রাতের মতো হলো। তিনি শুনলেন গম্ভীর গলায় কে যেন বলছে-
: জনাব, আপনার দাস উপস্থিত। হুকুম করুন।
: তুমি কে?
: সে কি! এর মধ্যে ভুলে গেলেন? আমি আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য।
: ও আচ্ছা, আচ্ছা। আরেক দিন তুমি এসেছিলে।
: জি।
: আমি ভেবেছিলাম- বোধ হয় স্বপ্ন।
: মোটেই স্বপ্ন না। আমার দিকে তাকান। তাকালেই বুঝবেন- এটা সত্য।
: তাকালেও কিছু দেখি না রে বাবা। চোখ-দুটো গেছে।
: চিকিৎসা করাচ্ছেন না কেন?
: টাকা কোথায় চিকিৎসা করার?
: কী মুশকিল! আমাকে বললেই তো আমি নিয়ে আসি। যদি বলেন তো এক্ষুনি এক কলসি সোনার মোহর এনে আপনার খাটের নিচে রেখে দেই।
: আরে না, এত টাকা দিয়ে আমি করব কী? কদিনই-বা বাঁচব।
: তাহলে আমাকে কোনো-একটা কাজ দিন। কাজ না করলে তো চেরাগের ভেতর যেতে পারি না।
: বেশ, মশারিটা খাটিয়ে দাও।
দৈত্য খুব যত্ন করে মশারি খাটালো। মশারি দেখে সে খুব অবাক। পাঁচ হাজার বছর আগে নাকি এই জিনিস ছিল না। মশার হাত থেকে বাঁচার জন্য মানুষ যে কায়দা বের করেছে, তা দেখে সে মুগ্ধ।
: জনাব, আর কিছু করতে হবে?
: না, আর কী করবে! যাও এখন।
: অন্য কিছু করার থাকলে বলুন, করে দিচ্ছি।
: চা বানাতে পারো?
: জি না। কীভাবে বানায়?
; দুধ-চিনি মিশিয়ে।
: না, আমি জানি না। আমাকে শিখিয়ে দিন।
: থাক বাদ দাও, আমি শুয়ে পড়ব।
দৈত্য মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, আপনার মতো অদ্ভুত মানুষ জনাব আমি এর আগে দেখিনি।
: কেন?
: আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পেলে সবার মাথা খারাপের মতো হয়ে যায়। কী চাইবে, কী না চাইবে, বুঝে উঠতে পারে না, আর আপনি কিনা...
নিশানাথবাবু বিছানায় শুয়ে পড়লেন। দৈত্য বলল, আমি কি আপনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেব? তাতে ঘুমোতে আরাম হবে।
: আচ্ছা দাও।
দৈত্য মাথায় হাত বুলিয়ে দিল। নিশানাথবাবু ঘুমিয়ে পড়লেন। ঘুম ভাঙলে মনে হলো, আগের রাতে যা দেখেছেন সবই স্বপ্ন। আলাউদ্দিনের চেরাগ হচ্ছে রূপকথার গল্প। বাস্তবে কি তা হয়? হয় না। হওয়া সম্ভব না।
দুঃখেকষ্টে নিশানাথবাবুর দিন কাটতে লাগল। শীতের শেষে তার কষ্ট চরমে উঠল। বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেন না এমন অবস্থা। হোটেলের একটা ছেলে দুবেলা খাবার নিয়ে আসে। সেই খাবারও মুখে দিতে পারেন না। স্কুলের পুরোনো স্যাররা মাঝে মাঝে তাকে দেখতে এসে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলেন। নিজেদের মধ্যে বলাবলি করেন, এ-যাত্রা আর টিকবে না। বেচারা বড়ো কষ্ট করল। তারা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে তিন শ টাকা নিশানাথবাবুকে দিয়ে এলেন। তিনি বড়ো লজ্জায় পড়লেন। কারো কাছ থেকে টাকা নিতে তার বড়ো লজ্জা লাগে।
এক রাতে তার জ্বর খুব বাড়ল। সেই সঙ্গে পানির পিপাসায় ছটফট করতে লাগলেন। বাতের ব্যথায় এমন হয়েছে যে বিছানা ছেড়ে নামতে পারছেন না। তিনি করুণ গলায় একটু পরপর বলতে লাগলেন- পানি, পানি।
গম্ভীর গলায় কে-একজন বলল, নিন জনাব পানি।
: তুমি কে?
: আমি আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য।
: ও আচ্ছা, তুমি।
: নিন, আপনি খান। আমি আপনাতেই চলে এলাম। যা অবস্থা দেখছি, না এসে পারলাম না।
: শরীরটা বড়োই খারাপ করেছে রে বাবা।
: আপনি ডাক্তারের কাছে যাবেন না, টাকাপয়সা নেবেন না, আমি কী করব, বলুন?
: তা তো ঠিকই, তুমি আর কী করবে।
: আপনার অবস্থা দেখে মনটাই খারাপ হয়েছে। নিজ থেকেই আমি আপনার জন্য একটা জিনিস এনেছি। এটা আপনাকে নিতে হবে। না নিলে খুব রাগ করব।
: কী জিনিস?
: একটা পরশপাথর নিয়ে এসেছি।
: সে কী! পরশপাথর কি সত্যি সত্যি আছে নাকি?
: থাকবে না কেন? এই তো, দেখুন। হাতে নিয়ে দেখুন।
নিশানাথবাবু পাথরটা হাতে নিলেন। পায়রার ডিমের মতো ছোটো। কুচকুচে কালো একটা পাথর। অসম্ভব মসৃণ।
: এটাই বুঝি পরশপাথর?
: জি। এই পাথর ধাতুর তৈরি যে-কোনো জিনিসের গায়ে লাগালে সেই জিনিস সোনা হয়ে যাবে। দাঁড়ান, আপনাকে দেখাচ্ছি।
দৈত্য খুঁজে খুঁজে বিশাল এক বালতি নিয়ে এল। পরশপাথর সেই বালতির গায়ে লাগাতেই কাঁচা হলুদ রঙের আভায় বালতি ঝকমক করতে লাগল।
: দেখলেন?
: হ্যাঁ, দেখলাম। সত্যি সত্যি সোনা হয়েছে?
: হ্যাঁ, সত্যি সোনা।
: এখন এই বালতি দিয়ে আমি কী করব?
: আপনি অদ্ভুত লোক, এই বালতির কত দাম এখন জানেন? এর মধ্যে আছে কুড়ি সের সোনা। ইচ্ছা করলেই পরশপাথর ছুঁইয়ে আপনি লক্ষ লক্ষ টন সোনা বানাতে পারেন।
নিশানাথবাবু কিছু বললেন না, চুপ করে রইলেন। দৈত্য বলল, আলাউদ্দিনের চেরাগ যে-ই হাতে পায়, সে-ই বলে পরশপাথর এনে দেবার জন্য। কাউকে দিই না।
: দাও না কেন?
: লোভী মানুষদের হাতে এসব দিতে নেই। এসব দিতে হয় নির্লোভ মানুষকে। নিন, পরশপাথরটা যত্ন করে রেখে দিন।
: আমার লাগবে না। যখন লাগবে তোমার কাছে চাইব।
নিশানাথবাবু পাশ ফিরে শুলেন।
পরদিন জ্বরে তিনি প্রায় অচৈতন্য হয়ে গেলেন। স্কুলের স্যাররা তাকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিলেন। ডাক্তাররা মাথা নেড়ে বললেন-
: অবস্থা খুবই খারাপ। রাতটা কাটে কি না সন্দেহ।
নিশানাথবাবু মারা গেলেন পরদিন ভোর ছটায়। মৃত্যুর আগে নান্দিনা হাইস্কুলের হেডমাস্টার সাহেবকে কানে কানে বললেন, আমার ঘরে একটা বড়ো বালতি আছে। ওইটা আমি স্কুলকে দিলাম। আপনি মনে করে বালতিটা নেবেন।
: নিশ্চয়ই নেব।
: খুব দামি বালতি...
: আপনি কথা বলবেন না। কথা বলতে আপনার কষ্ট হচ্ছে। চুপ করে শুয়ে থাকুন।
কথা বলতে তার সত্যি সত্যি কষ্ট হচ্ছিল। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। বালতিটা যে সোনার তৈরি এটা তিনি বলে যেতে পারলেন না।
হেডমাস্টার সাহেব ওই বালতি নিয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন- বাহ্, কী সুন্দর বালতি! কী চমৎকার ঝকঝকে হলুদ! পেতলের বালতি, কিন্তু রংটা বড়ো সুন্দর।
দীর্ঘদিন নান্দিনা হাইস্কুলের বারান্দায় বালতিটা পড়ে রইল। বালতি-ভরতি থাকত পানি। পানির ওপর একটা মগ ভাসত। সেই মগে করে ছাত্ররা পানি খেত।
তারপর বালতিটা চুরি হয়ে যায়। কে জানে এখন সেই বালতি কোথায় আছে!

Related Question

View All

নিশানাথবাবু কোন স্কুলের শিক্ষক ছিলেন? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

নিশানাথবাবু নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
133

"তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না।"- কোন প্রসঙ্গে এ কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। (অনুধাবন)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

"তাতে নিশানাথবাবুর খুব একটা অসুবিধাও হয় না।"-নিশানাথবাবুর বসবাসের পরিবেশ ও ঘরের অবস্থা প্রসঙ্গে একথা বলা হয়েছে।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে নিশানাথবাবু নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্কের শিক্ষক। তাঁর কোনো ছেলে-মেয়ে নেই। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তিনি একা। পুরনো আমলের দু-কামরার একটা পাকা দালানে তিনি থাকেন। কামরা দুটির একটি পুরনো লব্ধর জিনিসপত্র দিয়ে বাড়িওয়ালা ঠেসে রেখেছে। সেগুলোর মধ্যে ভাঙা খাট, ভাঙা চেয়ার, পেতলের তলা নেই কিছু ডেগচি, বাসনকোসন। বাড়িওয়ালা প্রায়ই তাকে বলেন- এইসব জঞ্জাল দূর করে ঘরটা আপনাকে পরিষ্কার করে দেব। শেষ পর্যন্ত তিনি তা করেন না। নিশানাথবাবু একা একা থাকেন বলেন এসব জঞ্জাল তার কাছে খুব একটা অসুবিধা বলে মনে হয় না। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
104

উদ্দীপকের আলী ও পীরের মতো আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথবাবুর বৈসাদৃশ্য কিসে? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আলী ও পীরের সঙ্গে 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নিশানাথবাবুর বৈসাদৃশ্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতায়।

হিংসা মানুষকে ধ্বংস করে। হিংসা-বিদ্বেষ মনে পুষে রাখলে মানুষ ভালো কাজ করতে পারে না। কাজেই প্রকৃত মানুষ হতে চাইলে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সবার সঙ্গে সবার বন্ধুত্বময় সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

উদ্দীপকে আলী এবং পীরের মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাবটি প্রকাশ পেয়েছে। তারা একে অন্যের সঙ্গে মোকদ্দমা করে সব হারিয়ে নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি। একের সঙ্গে অন্যের হিংসা-বিদ্বেষের পরিণাম তারা ভোগ করেছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। তারা দূর দেশে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মরুভূমির পথ ধরে। একসময় তারা তৃষ্ণায় কাতর হয়ে পড়ে। সঙ্গে থাকা এক বদনা পানি নিয়ে কাড়াকাড়ি করে মাটিতে ফেলে দেয়। সেখান থেকে এক জিন উঠে এসে তাদের পুরষ্কৃত করতে চাইলে তারা একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া শুরু করল। তারা একে অন্যকে হিংসা করে পুরস্কার প্রার্থনা করলে একজনের এক চোখ কানা ও এক পা খোঁড়া এবং অন্যচোখের দুই চোখ কানা ও দুই পা খোঁড়া হয়ে গেল। নিশানাথবাবুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও মানসিকতা তাদের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ তিনি কাউকে হিংসা করেন না এবং কোনো জিনিসের প্রতি তাঁর কোনো লোভ নেই। দৈত্য তাকে সুবিধা দিতে চাইলেও তিনি নেননি।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
115

"উদ্দীপকের মূলভাব 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মূলভাবের বিপরীত।"- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

"উদ্দীপকের মূলভাব 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মূলভাবের বিপরীত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

মানুষ যত পায় তত চায়। এই অতৃপ্তির কারণে মানুষ একে অন্যকে হিংসা করে। নিজের স্বার্থের জন্য অন্যকে কষ্ট দেয়। আবার অনেকে আছেন যারা অল্পে তুষ্ট থাকেন। অতি সাধারণ জীবনযাপন করে। অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ করেন না।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের নান্দিনা পাইলট হাইস্কুলের অঙ্ক শিক্ষক নিশানাথবাবু অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী মানুষ। তিনি একা একা থাকার কষ্ট অনুভব করলেও মনে করেন, তার চেয়েও অনেকে কষ্টে আছে। স্ত্রী-সন্তানহীন জীবনের কষ্ট নিয়ে নিশানাথবাবু মন খারাপ করেন না। মনে মনে বলেন- আর অল্প-কটা দিনই তো বাঁচব, একটু না হয় কষ্ট করলাম। শিক্ষক নিশানাথবাবুর এ বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ চরিত্র উদ্দীপকের আলী ও পীর। তারা অন্যের ভালো সহ্য করতে পারে না। একে অন্যকে হিংসা করে। মরুভূমিতে হেঁটে চলার সময় তৃষ্ণাকাতর দুজনে কাড়াকাড়ি করে এক বদনা পানি মাটিতে ফেলে দিয়েছে। অথচ সেই পানি দুজনে ভাগ করে পান করে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারত।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে দৈত্য নিশানাথবাবুকে এক কলসি সোনার মোহর এনে দিতে চাইলেও তিনি তা নিতে চাননি। দৈত্য তাকে পরশপাথর দিতে চাইলেও তিনি তার প্রতি লোভ করেননি। অন্যদিকে উদ্দীপকের আলী ও পীর উভয়ই লোভী এবং হিংসুটে। মোকদ্দমা করে তারা উভয়ই সবকিছু হারিয়েছে। শেষে জিন তাদের উভয়কে পুরস্কার দেওয়ার শর্ত-দিলে পীর নিজের এক চোখ অন্ধ ও এক. পা খোঁড়া করে দেওয়ার কথা বলে যাতে আলীর দুই চোখ অন্ধ এবং দুই পা খোঁড়া হয়ে যায়। তাদের হিংসার এই ভয়াবহ পরিণাম 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের মূলভাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। এভাবে মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
89

লোভী মানুষের হাতে কী দিতে নেই।'- ব্যাখ্যা কর। (অনুধাবন)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

লোভী মানুষের হাতে পরশপাথর দিতে নেই। একথাটি পরশপাথর দেওয়া প্রসঙ্গে আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য শিক্ষক নিশানাথবাবুকে বলেছিল।

'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পে শিক্ষক নিশানাথবাবু তাঁর চটির উঁচু হয়ে থাকা পেরেক ঠিক করতে লম্বাটে ধরনের একটি পরিত্যক্ত জিনিস দিয়ে বাড়ি দেন। এতে পুরো ঘর ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় এবং একজন মেঘ গর্জনের মতো আওয়াজে বলে সে আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্য, তার হুকুমের দাস। সে তার সব কাজ করে দিবে। দৈত্য তাকে চিকিৎসার জন্য কলসি ভর্তি মোহর দিতে চায়, তার জন্য পরশপাথর নিয়ে আসে। পরশপাথর ছুঁইয়ে একটি সোনার বালতি বানিয়ে তাকে দেয়। কিন্তু নির্লোভ শিক্ষক কিছুই নিতে চায় না। তখন দৈত্য তাঁকে বলে, 'আলাউদ্দিনের চেরাগ যে-ই হাতে পায় সে-ই বলে পরশপাথর এনে দেওয়ার জন্যে, কাউকে দিই না।' নিশানাথবাবু ঐ পাথর কাউকে না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে দৈত্য তাকে বলে লোভী মানুষের হাতে পরশপাথর দিতে নেই।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
417

উদ্দীপকের বিষয়টি আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের কোন দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 5 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বিষয়টি 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল-শিক্ষক নিশানাথবাবুর সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সংসার জীবনে মানুষ নানা রকম সমস্যায় থাকে। যারা অভাবে পড়েও অন্যায় করেন না, অন্যের জিনিসের প্রতি লোভ করেন না, তারা সৎ ও ভালো মানুষ। একজন ভালো মানুষ অভাবে থাকলেও নিজেকে অসুখী মনে করেন না।

উদ্দীপকে একজন কাঠুরিয়ার অভাবী সংসারে নির্লোভ থাকার কথা বলা হয়েছে। সে জঙ্গলে কাঠ কেটে সেগুলো বিক্রি করে যা আয় করত তা দিয়েই সংসার চালাত। তাকে টাকা-পয়সার অভাবে কষ্টে থাকতে হতো। তবুও সে অন্যায়ভাবে টাকা রোজগার করত না। লোভকরত না। টাকা না থাকলেও স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে কাঠুরিয়া সৎ জীবন-যাপন করত। উদ্দীপকের কাঠুরিয়ার এই নির্লোভ ও সৎ জীবন 'আলাউদ্দিনের চেরাগ' গল্পের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিশানাথবাবুর সৎ ও নির্লোভ জীবনযাপনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনিও কোনো জিনিসের প্রতি লোভ করতেন না। দৈত্য তাঁকে সোনার মোহর, পরশপাথর, টাকা-পয়সা দিতে চাইলেও তিনি কিছুই নেননি। নিজে কষ্টে থেকেও তিনি মনে করতেন তাঁর চেয়েও অনেকে কষ্টে আছে। এভাবে উদ্দীপকটি গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
101
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews