উদ্দীপকে কবির সাহেবের পরিবারটি হলো যৌথ পরিবার এবং তার প্রতিবেশী হান্নান সাহেবের পরিবারটি হলো একক পরিবার। আর এ দুই ধরনের পরিবারের মধ্যে যথেষ্ট সুবিধা-অসুবিধা পরিলক্ষিত হয়। প্রথমত, যৌথ পরিবারে সিদ্ধান্ত সমষ্টিগত ব্যাপার যাতে পরিবার প্রধানের একচ্ছত্র ভূমিকা থাকে, কিন্তু একক পরিবারের সিদ্ধান্ত ব্যক্তির একক ব্যাপার। যৌথ পরিবারের সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেশি লাগে। আর একক পরিবারের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া যায়। দ্বিতীয়ত, যৌথ পরিবারের সদস্যরা অনেক মানুষের মধ্যে বসবাস করে, যার ফলে তাদের মধ্যে মানসিক একাকীত্বের সমস্যা সৃষ্টি হয় না। কিন্তু একক পরিবারে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তৃতীয়ত, যৌথ পরিবারে যেহেতু সদস্যসংখ্যা অনেক, কাজেই সেখানে সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত। অন্যদিকে, একক পরিবারে সদস্যসংখ্যা কম এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য পর্যাপ্ত জনশক্তির অভাব রয়েছে। চতুর্থত, যৌথ পরিবারের পারিবারিক পরিসর বৃহৎ হওয়ায় ব্যক্তি বৃহত্তর পরিসরে অনেক মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ পায়। কিন্তু একক পরিবারের পারিবারিক পরিসর সংকীর্ণ হওয়ায় ব্যক্তি অনেক মানুষের সাথে মেলামেশার সুযোগ পায় না এবং ব্যক্তির চিন্তাচেতনার পরিধিও সংকীর্ণ হয়। পঞ্চমত, যৌথ পরিবারের সদস্যরা পরিবার প্রধান ও অন্যান্য বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিদের শাসনে শৃঙ্খলার মধ্যে বসবাস করে। অন্যদিকে, একক পরিবারের সদস্যরা অনেক বেশি ব্যক্তিস্বাধীনতা ভোগ করে এবং তাদের ওপর পারিবারিক নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। ষষ্ঠত, যৌথ পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা পর্যাপ্ত সেবাযত্ন পায়। কিন্তু একক পরিবারে তেমনটি অধিকাংশ সময়ই সম্ভব হয় না। কারণ পরিবারের বাবা-মাকে বিভিন্ন ধরনের পারিবারিক কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।
তাই বলা যায়, একক ও যৌথ পরিবারের মধ্যে সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই বিদ্যমান।
Related Question
View Allকর্তৃত্বের ভিত্তিতে পরিবার দু ধরনের।
পরিবার হলো অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল কেন্দ্রস্থল। একসময় পরিবারের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বস্তুগুলো গৃহে উৎপাদিত হলেও সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে পরিবারের অর্থনৈতিক কাজগুলো মিল, কারখানা, দোকান, বাজার, ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পাদিত হচ্ছে। এখন পরিবারের সদস্যরা অর্থ উপার্জনের জন্য ঘরের বাইরে কাজ করে। আর তাই পরিবারকে আয়ের একক বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিদিতার আচরণে সামাজিকীকরণের জ্ঞাতিগোষ্ঠী ও প্রতিবেশীর প্রভাব লক্ষ করা যায়।
নিজ পরিবার ব্যতীত যাদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে তারাই আমাদের জ্ঞাতিগোষ্ঠী। আর যারা বাড়ির আশপাশে বসবাস করেন তারা হলো আমাদের প্রতিবেশী। শৈশব থেকেই মানুষ প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হতে থাকে। পরিবার ও জাতিগোষ্ঠীর পরেই প্রতিবেশীর অবস্থান। শিশুর জীবনের সুষ্ঠু বিকাশে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাসা বা বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। আর এ দল থেকে তারা সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য ও নেতৃত্ব ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা ইত্যাদিতে অংশ নিয়ে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে। যার মধ্য দিয়ে তারা সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীরাই বেশি ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের রিপা বিদিতার প্রতিবেশী হলেও রিপা যখন তার আত্মীয়স্বজনসহ তাদের বাসায় আসে তখন বিদিতা সবাইকেই যত্নসহকারে আপ্যায়ন করে। অর্থাৎ রিপাদের আত্মীয়স্বজনকেও বিদিতা নিজের আত্মীয়স্বজনই মনে করে।
তাই বলা যায়, প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার যা উদ্দীপকের বিদিতার আচরণে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
'শহুরে জীবনে প্রতিবেশীরাই ঘনিষ্ঠজন'- আমি এ বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নই।
আমরা বাস্তবে দেখি গ্রাম ও শহরভেদে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ভিন্ন হয়। গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হয়ে থাকে। অর্থাৎ গ্রামীণ সমাজে প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তেমন কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। অপরদিকে শহরে প্রতিবেশীদের পারস্পরিক সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ হয় না। এ সম্পর্কের ভিতর কেমন জানি একটা কৃত্রিমতা লুকিয়ে থাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে। তবে আনন্দ-উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শহর জীবনের প্রতিবেশীরা একে অন্যে অনেকটা আপন হয়ে যায়। অথচ সামাজিকীকরণে প্রতিবেশীর ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। শৈশব থেকেই আমরা প্রতিবেশীদের সংস্পর্শে বড় হই। আমাদের পাশাপাশি বাড়িগুলোতে সমবয়সী শিশুদের মধ্যে প্রতিবেশী দল গড়ে ওঠে। এ দল থেকে শিশু সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ঐক্য, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণাবলি অর্জন করে। প্রতিবেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান; যেমন- বিয়ে, জন্মদিন, ঈদ, পূজা, বড়দিন প্রভৃতিতে অংশগ্রহণ করে শিশুরা আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে ওঠে এবং সহিষ্ণুতা, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে। আবার কেউ অসুস্থ হলে নিকট আত্মীয়ের চেয়ে প্রতিবেশীই বেশি ভূমিকা পালন করে। বস্তুত প্রতিবেশীরাই সুখ-দুঃখের প্রথম অংশীদার। কিন্তু শহুরে জীবনে এ অংশীদারিত্বে আন্তরিকতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা গ্রামের চেয়ে অনেক কম।
তাই বলা যায়, শহরে জীবনে প্রতিবেশীর সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ নয়।
বৃহৎ জনগোষ্ঠীর নিকট সংবাদ, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বিষয়বস্তু, বিশেষ ধ্যানধারণা, বিনোদন প্রভৃতি পরিবেশন করার মাধ্যমই হচ্ছে গণমাধ্যম ।
শিশুর জন্মের পর হতে মৃত্যু পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন ও খাপখাওয়ানোর প্রক্রিয়াই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তি যখন এক পর্যায় হতে আরেক পর্যায়ে প্রবেশ করে তখন তাকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে হয়। এ খাপ-খাওয়ানো প্রক্রিয়ার ফলে তার আচরণে পরিবর্তন আসে। নতুন নিয়মকানুন, রীতিনীতি এবং নতুন পরিবেশ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রক্রিয়ার নাম সামাজিকীকরণ।
তাই বলা যায়, সামাজিকীকরণ একটি জীবনব্যাপী প্রক্রিয়া।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!