ধর্ম শব্দটির বিশেষ অর্থ হচ্ছে ধরে রাখার ক্ষমতা।
প্রাণিজগতের মধ্যে মানুষ শ্রেষ্ঠ। কেননা মানুষের রয়েছে ধর্মবোধ। অন্যান্য প্রাণিদের সঙ্গে মানুষের অনেক মিল আছে। প্রাণিদের খাবার ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। মানুষেরও এগুলো আছে। তবে প্রাণীরা তাদের স্বভাব নিয়েই থাকে। কিন্তু মানুষ তার বুদ্ধি, বিবেকের মাধ্যমে সুন্দর কল্যাণকর জীবন লাভ করতে পারে।
দাদুর গল্পের শিক্ষার মাধ্যমে অলক ও অনিতা বড় হয়ে তার মাতা-পিতার প্রতি যে সকল কর্তব্য আছে তা পালনে সচেষ্ট হবে। কারণ তারা বুঝতে শিখবে মাতা-পিতার' মাধ্যমেই সন্তানের এ পৃথিবীতে আসা। শিশু অবস্থা থেকে মাতা-পিতার যত্নে আদরে তাদের বড় হওয়া অসহায় অবস্থা থেকে আস্তে আস্তে বড় হওয়া ও জ্ঞান বুদ্ধির বিকাশ সাধন সবই মাতা-পিতার জন্য। তাছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও মাতা-পিতা হচ্ছেন শ্রেষ্ঠ গুরুজন। তাই তারা মাতা-পিতার প্রতি সকল কর্তব্য পালনসহ সকল গুরুস্থানীয় ব্যক্তি ও বড়দের মান্য ও ভক্তি করতে শিখবে।
ভক্তি হচ্ছে ধর্মের অঙ্গ। কোনো দেবতা কিংবা কোনো বিষয়ের জ্ঞানবান ব্যক্তির প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা সেটিই ভক্তি। আর এ ভক্তি ভাবটি ফুটে ওঠে দেবতা বা গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণে। ভক্তি গুরুজনের নিকট থেকে জ্ঞানলাভে সমর্থ হয়। অলক ও অনিতার জ্ঞানী ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁর সহচর্যে থেকে প্রথমে জ্ঞান আরোহণ করতে হবে। আর এ কাজটি করতে হলে প্রথমে তাদেরকে জ্ঞানীর নিকট উপস্থিত হয়ে বিনীতভাবে তাঁকে প্রণাম করতে হবে এবং তাঁর অনুমতি নিয়ে বসে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করে আনলাভ করতে হবে। এ কাজগুলো করার মধ্য দিয়ে অলক ও অনিতার মধ্যে যে ভাবের উদয় হবে সেটিই হচ্ছে ভক্তি। এভাবে পর্যায়ক্রমে তারা তাদের ভক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে।
Related Question
View Allপ্রাচীনকালে সনাতন ধর্মের লোক সিন্ধুনদের তীরে বাস করত।
হিন্দু শব্দটি এসেছে সিন্ধু শব্দ থেকে। সিন্ধুনদ প্রাচীনকাল থেকেই প্রবাহিত হয়ে আসছে। এ নদের তীরে প্রাচীনকালে সনাতন ধর্মের লোক বাস করত। তাদের আচার-আচরণ, ধর্ম বিশ্বাসে একটি বিশিষ্ট রূপ ছিল। বিদেশিদের কাছে এদের পরিচয় হয় ঐ সিন্ধুনদের - নামে। এ বিদেশিরাই সিন্ধু শব্দকে হিন্দু বলে-উচ্চারণ করত। আর সেখানকার সনাতন ধর্মের লোকদেরকে তারা বলত হিন্দু। হিন্দুদের সনাতন ধর্মই তাদের ভাষায় হয়ে ওঠে হিন্দুধর্ম।
উদ্দীপকের আলোচনায় ব্রাহ্মণ যজ্ঞের মাধ্যমে দেবতাদের আহ্বান করছেন। সনাতন বা হিন্দুধর্মের প্রাচীনকালে ধর্মানুষ্ঠান ছিল যজ্ঞনির্ভর। তখন বড় বড় যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা প্রচলিত ছিল। সেটি ক্রমে ক্রমে দেব-দেবীর আরাধনায় রূপ নিয়েছে। যজ্ঞকর্মে দেব-দেবীর শক্তি ও রূপের বর্ণনা দিয়ে যজ্ঞকর্ম হতো। পরবর্তীকলে ঐ দেব-দেবীর রূপ কল্পনা করে মূর্তির মাধ্যমে পূজা-অর্চনার ব্যবস্থা হয়। সনাতন ধর্মের যে অবতার ও মোক্ষলাভের বিষয় রয়েছে এসবই হিন্দুধর্মের সম্পদ। তবে ক্রমবিকাশের স্তরে স্তরে হিন্দুধর্মের আচার-আচরণে কিছু কিছু নতুনত্বও এসেছে। বৈদিক যুগের যজ্ঞক্রিয়া পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে আধুনিক হিন্দুধর্মে শুধু ঈশ্বরের নাম ও গুণকীর্তনের প্রচলন 'হয়েছে।
বৈদিক যুগের হিন্দুধর্ম ছিল সম্পূর্ণ যজ্ঞভিত্তিক।
যে যুগে দেবতাদের কিছু কিছু নাম থাকলেও আকৃতি ছিল না। তারা ছিলেন প্রাকৃতিক শক্তি মাত্র। সে যুগে যজ্ঞক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনাই প্রচলিত ছিল। কিন্তু পৌরাণিক যুগে এসে বেদের বর্ণনা অনুযায়ী তৈরি করা হয় বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা, তখন থেকেই প্রতিমা পূজার প্রচলন শুরু হয়। প্রত্যেক দেব-দেবীরই মূর্তি তৈরি করে সাকার উপাসনা চালু হয়। এ মূর্তিপূজায় দেব-দেবীদের স্তব-ভূতির মাধ্যমে তাদের প্রশংসা ও মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়। এবং প্রত্যেক পূজাতেই যজ্ঞ করার রীতি এখনও প্রচলিত আছে। প্রত্যেক দেব-দেবীর পূজাতে পুরোহিত অগ্নি প্রজ্বলিত করে বিভিন্ন দ্রব্য বা বস্তু আহুতির মাধ্যমে যজ্ঞ করে। তাই প্রতিমা পূজার উৎপত্তির সাথে ব্রাহ্মণের যজ্ঞকর্মের গভীর সম্পর্ক আছে, এ বিষয়ে আমি একমত।
সনাতন ধর্মের অপর নাম হিন্দুধর্ম।
হিন্দুধর্মের উৎপত্তির ইতিহাস সনাতন ধর্মের পরিচিতির মধ্যেই বর্তমান। সনাতন ধর্ম কোনো একজন মাত্র মুনি, ঋষি বা অবতারপুরুষের প্রতিষ্ঠিত ধর্ম নয়। আদিম মানুষের মনে যখন সত্য-মিথ্যা ন্যায়-অন্যায়বোধ জেগেছিল এক কথায়, ধর্মবোধ জেগেছিল, সেখান থেকে এ ধর্মের বিকাশ শুরু। আর সমাজের চিন্তাশীল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের ধ্যান-ধারণার ফসল নিয়ে এ ধর্ম ক্রমশ বিকাশ লাভ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
