কৃষি সমাজের উদ্বৃত্ত ফসল সভ্যতার সূচনা করে।
ক্ষমতার প্রত্যাশিত ও বৈধ প্রভুত্বকারিকে কর্তৃত্ব বলে।
সংজ্ঞায় প্রত্যাশিত কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে নীতি বা রাজনৈতিক ফর্মুলা অনুযায়ী কর্তৃত্ব যার বা যাদের ওপর ন্যস্ত করা উচিত এই অর্থে। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার কর্তৃত্বের সংজ্ঞা প্রদানে, বলেন, 'কর্তৃত্ব প্রায়শই ক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়, যে ক্ষমতা অন্যকে মেনে চলতে বাধ্য করে।' তবে কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগই শেষ কথা নয়, বরং ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার যখন স্বীকৃতি লাভ করে তখনই প্রকৃত কর্তৃত্বের উদ্ভব সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনপদের জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ রাষ্ট্রের উৎপত্তির সামাজিক চুক্তি তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সামাজিক চুক্তি মতবাদ অনুযায়ী জনসাধারণের মধ্যকার চুক্তি, আইনসম্মত চুক্তিপত্র-অথবা মতৈক্যের মাধ্যমে রাষ্ট্র জন্ম হয়েছে। এ বিষয়ে যেমন প্লেটো, এরিস্টটলের মতামত জানা যায়, তেমনি আধুনিককালে হবস, লক, রুশো এর জোরালো সমর্থক। তাদের মতানুসারে রাষ্ট্র জন্মের পূর্বে মানুষ প্রকৃতির রাজ্যে বাস করত। কিন্তু প্রকৃতির রাজ্যের অবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ায় মানুষ তা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঁচশত বছর পূর্বের একটি জনপদে ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সম্পদের স্বল্পতা দেখা দেয়। এর ফলে নিজেদের মধ্যে হানাহানি সৃষ্টি হয়। অনেক সময় ভিন্ন জনপদের লোক এদের ওপর আক্রমণ করত। তাই এসব সমস্যা মীমাংসার জন্য জনপদবাসী সংগঠিত হয়ে সামাজিক নিয়ম তৈরি করে কিছু লোকের নিকট তাদের নিয়ন্ত্রণভার তুলে দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে রাষ্ট্রের উৎপত্তির সামাজিক চুক্তি মতবাদের প্রতিফলন ঘটেছে।
না, সামাজিক নিয়ম তৈরির পূর্বে উদ্দীপকের জনপদটি রাষ্ট্র ছিল না। এ সম্পর্কে আমার মতামত তুলে ধরা হলো-
আমরা জানি রাষ্ট্র গঠনের জন্য চারটি উপাদান অপরিহার্য। যথা- জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্ব।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনপদটির নির্দিষ্ট ভূ-খন্ড ও জনসংখ্যা থাকলেও সরকার ও সার্বভৌম ক্ষমতা ছিল না। তাই জনপদটিকে রাষ্ট্র বলা যায় না। সরকার হচ্ছে রাষ্ট্রের বাহক। সরকার রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ও নীতি প্রণয়ন করে রাষ্ট্রের সকল ক্রিয়াকর্ম পরিচালনা করে। এক কথায় সরকার হলো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। আর সার্বভৌমত্ব হলো সর্বোচ্চ ও চূড়ান্ত আইনানুগ কর্তৃত্ব। এটা এমন এক অবিভাজ্য নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব যার দ্বারা অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বহিঃশত্রুর হস্তক্ষেপ থেকে দেশকে রক্ষার চূড়ান্ত ক্ষমতা। সার্বভৌমত্ব ছাড়া কোনো সংগঠনই রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। উদ্দীপকের জনপদটির সরকার ছিল না। কারণ জনপদটি পরিচালনার জন্য কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। ফলে প্রায়ই সেখানে হানাহানি লেগে থাকত। এছাড়া জনপদটি প্রায় বহিঃশক্তির দ্বারা আক্রান্ত হতো। সার্বভৌম ক্ষমতার অভাবে মূলত এরূপ হয়েছে। সার্বভৌম ক্ষমতা থাকলে সরকার অবশ্যই বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে জনগণকে রক্ষা করত।
পরিশেষে বলা যায়, সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতার অভাবে উদ্দীপকের জনপদটি সামাজিক নিয়ম তৈরির আগে রাষ্ট্র ছিল না।
Related Question
View All'Authority' শব্দের অর্থ কর্তৃত্ব।
সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।
অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।
উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।
ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।
মানবসৃষ্ট সবকিছুর সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!