পানি (H2O) হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন পরমাণুর সমযোজী বন্ধনের ফলে সৃষ্ট একটি সমযোজী যৌগ। কিন্তু হাইড্রোজেন অপেক্ষা | অক্সিজেন পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বেশি হওয়ায় সমযোজী রন্ধনের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন যুগলের প্রতি অক্সিজেনের আকর্ষণ অধিক হয়। ফলে শেয়ারকৃত ইলেকট্রন অক্সিজেন পরমাণুর অধিক সন্নিকটে থাকে এবং অক্সিজেন পরমাণু আংশিক ঋণাত্মক চার্জ লাভ করে। অপরদিকে হাইড্রোজেন পরমাণু আংশিক ধনাত্মক চার্জ লাভ করে। ফলে পানির অণুতে দুটি বিপরীত মেরুর সৃষ্টি হয় এবং একে পোলারিটি বলে। তাই পানি একটি পোলার অণু।
আমরা জানি, সকল পদার্থই অনু এবং পরমাণু দিয়ে গঠিত। এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত 118টি মৌলের 118টি ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু রয়েছে। এদের মধ্য থেকে এক বা একাধিক মৌলের পরমাণু দিয়েই সকল পদার্থের অণু গঠিত হয়। পদার্থের অণুতে পরমাণুসমূহ এলোমেলো বা বিক্ষিপ্তভাবে থাকে না। পরমাণুসমূহ সুবিন্যস্ততাৰে থাকে। যে আকর্ষণ শাস্তির মাধ্যমে অণুতে দুটি পরমাণু পরস্পর যুদ্ধ থাকে তাকে রাসায়নিক ৰখন বলে। এই ৰখন বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যেমন—আয়নিক বন্ধন, সমযোজী কখন কিংবা খাত বন্ধন। এ অঞ্চায়ে আয়নিক, সমযোর্থী বা ধাতব বন্ধন বিশিষ্ট যৌগের বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া ও তাদের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করা হবে।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -
যোজ্যতা ইলেকট্রনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
মৌলের প্রতীক, যৌগমূলকের সংকেত ও এগুলোর যোজনী ব্যবহার করে যৌগের সংকেত লিখতে পারব।
নিষ্ক্রিয় গ্যাসের স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে পারব। • অষ্টক ও দুইয়ের নিয়মের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
রাসায়নিক বন্ধন এবং তা গঠনের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
আয়ন কীভাবে এবং কেন সৃষ্টি হয় তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
আয়নিক বন্ধন গঠনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব।
সমযোজী বন্ধন গঠনের প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব।
আয়নিক ও সমযোজী বন্ধনের সাথে গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, বিদ্যুৎ পরিবাহিতা এবং কেলাস গঠনের ধর্ম ব্যাখ্যা করতে পারব।
ধাতব বন্ধনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
ধাতব বন্ধনের সাহায্যে ধাতুর বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
স্থানীয়ভাবে সহজপ্রাপ্য দ্রব্যের মধ্যে আরনিক ও সমযোজী যৌগ শনান্ত করতে পারব।