যখন একজন অপরজনের কাজ ও আচার-আচরণ হুবহু নকল করে তখন তাকে অনুকরণ বলে।
বিশ্বায়নের ফলে সারাবিশ্ব এখন বিশ্বপল্লিতে রূপান্তরিত হয়েছে। যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে মানুষের কর্ম, ব্যবসায় বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পৃথিবীর সমস্ত জায়গা উন্মুক্ত হয়ে গেছে। গণমাধ্যম ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ আজ ঘরে বসেই পৃথিবীর নানা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছে। নিজেকে আজ আর কেউ নিজের মধ্যে আটকে রাখছে না বা রাখতে পারছে না। অতএব বলা যায়, "আধুনিক যুগে বিশ্বায়নের প্রভাব ছাড়া সামাজিকীকরণ অসম্ভব।
উদ্দীপকে রিয়ার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
কেননা উদ্দীপকে উল্লিখিত রিয়া যে নাট্য সংগঠনে অভিনয় শিখে তা স্থানীয় সমাজের উপাদান। পরিবারের পরে স্থানীয় সমাজই রিয়াদের মতো মেয়েদের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় সমাজের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাহিত্য সমিতি, সাংস্কৃতিক সংঘ বা নাট্য সংগঠন, খেলাধুলার ক্লাব, সংগীত শিক্ষাকেন্দ্র, বিজ্ঞান ক্লাব প্রভৃতি। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এসব সংগঠন ব্যক্তির চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার-আচরণের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। রিয়া পড়ালেখার পাশাপাশি একটি নাট্য সংগঠনে অভিনয় শেখে। নাট্য সংগঠনে অভিনয় শেখার মাধ্যম সে এখানে একটি নতুন পরিবেশ পায় যা তার বৃদ্ধিবৃত্তি, সুকুমার বৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলি জাগ্রত করতে সহায়ক। রিয়ার আচরণে যা ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করে।
সুতরাং বলা যায়, রিয়ার জীবনে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজের প্রতিষ্ঠানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকে সুমনের সামাজিকীকরণের মাধ্যমটি হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। যা মানুষের জীবনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বলতে বোঝায় সেই প্রযুক্তি যার সাহায্যে তথ্য সংরক্ষণ ও তা ব্যবহার করা যায়। যেমন- ইন্টারনেট, ফেসবুক, মোবাইল, কম্পিউটার প্রভৃতি। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বর্তমানে দেশ বা দেশের বাইরে একজনের সঙ্গে অন্যজনের যোগাযোগকে খুবই সহজ করে দিয়েছে। আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাববিনিময়, পরস্পরের খোঁজখবর নেওয়া কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের সঙ্গে পণ্য বিনিময় সংক্রান্ত আলোচনা, চুক্তি ইত্যাদি ঘরে বসে অল্প সময়েই করা যায়। কিছুদিন আগেও যা ভাবা যেত না। এছাড়াও ই-মেইল পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে, ই-কমার্স অনলাইনে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে পণ্য লেনদেনের ক্ষেত্রে এবং সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ফেসবুক ও টুইটার এগুলো সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। এভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে এ প্রযুক্তির কিছু মন্দ বা নেতিবাচক দিক আছে। মানুষের হাতে এগুলোর অপব্যবহার ব্যক্তি ও সমাজ দুইয়ের জন্যই মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আজকাল প্রায়ই তরুণ সমাজে ইন্টারনেট ও ফেসবুকের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। সুতরাং বলা যায়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের জীবনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।
Related Question
View Allসামাজিকীকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ শেখে। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু পরিবার, প্রতিবেশী, সমবয়সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে সে সমাজের একজন উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। এটি পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ ও চিন্তাধারা গঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সমাজের সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য সাধনে সাহায্য করে।
পরিবার সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শিশুর আবেগ, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো বিষয়গুলো পারিবারিক পরিবেশে গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। এজন্য পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
প্রতিবেশী শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আচরণ, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ তার আচরণে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে শিশু সমাজের নিয়ম ও রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করে। এটি তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং খেলাধুলার ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে। এসব সংগঠনে অংশগ্রহণ করে শিশু সহনশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এতে শিশু স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সংগঠন এবং ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সহনশীলতা, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা শেখে। এটি তাকে সমাজের কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!