উদ্দীপকে রিয়ার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজের বিভিন্ন উপাদানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
কেননা উদ্দীপকে উল্লিখিত রিয়া যে নাট্য সংগঠনে অভিনয় শিখে তা স্থানীয় সমাজের উপাদান। পরিবারের পরে স্থানীয় সমাজই রিয়াদের মতো মেয়েদের সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্থানীয় সমাজের উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাহিত্য সমিতি, সাংস্কৃতিক সংঘ বা নাট্য সংগঠন, খেলাধুলার ক্লাব, সংগীত শিক্ষাকেন্দ্র, বিজ্ঞান ক্লাব প্রভৃতি। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এসব সংগঠন ব্যক্তির চিন্তা, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার-আচরণের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। রিয়া পড়ালেখার পাশাপাশি একটি নাট্য সংগঠনে অভিনয় শেখে। নাট্য সংগঠনে অভিনয় শেখার মাধ্যম সে এখানে একটি নতুন পরিবেশ পায় যা তার বৃদ্ধিবৃত্তি, সুকুমার বৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধ ইত্যাদি গুণাবলি জাগ্রত করতে সহায়ক। রিয়ার আচরণে যা ইতিবাচক পরিবর্তন আনয়ন করে।
সুতরাং বলা যায়, রিয়ার জীবনে সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজের প্রতিষ্ঠানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allসামাজিকীকরণ হলো একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে মানুষ সমাজের রীতিনীতি, নিয়মকানুন ও মূল্যবোধ শেখে। জন্মের পর থেকেই মানব শিশু পরিবার, প্রতিবেশী, সমবয়সী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এর ফলে সে সমাজের একজন উপযোগী সদস্য হিসেবে গড়ে ওঠে।
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। এটি পরিবার, প্রতিবেশী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যক্তির মূল্যবোধ, আচরণ ও চিন্তাধারা গঠনের প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া সমাজের সঙ্গে মানুষের সামঞ্জস্য সাধনে সাহায্য করে।
পরিবার সামাজিকীকরণের প্রথম ও প্রধান মাধ্যম। শিশুর আবেগ, আচরণ, খাদ্যাভ্যাস, ধর্মচর্চা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মতো বিষয়গুলো পারিবারিক পরিবেশে গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠন হয়। এজন্য পরিবারকে সামাজিকীকরণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম বলা হয়।
প্রতিবেশী শিশুর সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুর চারপাশের মানুষের আচরণ, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ তার আচরণে প্রভাব ফেলে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে শিশু সমাজের নিয়ম ও রীতিনীতি সহজে আয়ত্ত করে। এটি তার সামাজিক দক্ষতা বাড়ায়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সাংস্কৃতিক সংঘ, বিজ্ঞান ক্লাব এবং খেলাধুলার ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সাহায্য করে। এসব সংগঠনে অংশগ্রহণ করে শিশু সহনশীলতা, বুদ্ধিবৃত্তি ও সৌন্দর্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এতে শিশু স্থানীয় সমাজের অংশ হয়ে ওঠে এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
স্থানীয় সমাজের সাহিত্য, সংগঠন এবং ক্লাব শিশুর চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশু সহনশীলতা, সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা শেখে। এটি তাকে সমাজের কার্যকর অংশীদার হতে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!