এদেশের লাখ লাখ নাগরিক নানা সময়ে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, দাবদাহ ও খরার মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের অনেক অংশ ডুবে যাবে।
পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার লক্ষ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট হুমকিসমূহ নিরসনে প্রথম করণীয় উপায় হলোঃ ম্যানগ্রোভের সংরক্ষণ। বাংলাদেশ উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভের সংরক্ষণের পাশাপাশি পুনরায় বৃক্ষ রোপণ করতে পারে, যেটি পরিবেশকে কার্বনমুক্ত করার পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ের বিরুদ্ধে একটি প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবেও কাজ করবে। ম্যানগ্রোভ ক্রমবর্ধমান জীববৈচিত্র্য, মাছের আবাসস্থল ও ইকোট্যুরিজম সুবিধাসহ কিছু অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে। কিন্তু এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল, কারণ এই ব্যবস্থায় প্রতিবছর প্রায় ৪০ কিলোমিটার উপকূলরেখায় ম্যানগ্রোভ রোপণ করতে হবে। সুন্দরবনের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণে পরবর্তী ৩০ বছরে প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে জলবায়ু সুরক্ষা ও পর্যটনের উন্নয়নের পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ সংরক্ষণ এবং পুনর্বনায়নের পেছনে ব্যয়িত প্রতি টাকায় ২ দশমিক ৮ টাকার কল্যাণ সাধিত হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবটি হলো আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা তৈরি করা এবং আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে যেখানে মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। অনেকে বর্তমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ব্যবহার করে না, কারণ সেখানে তারা তাদের গবাদিপশু ও অন্যান্য মূল্যবান প্রাণিসম্পদ রাখার ব্যবস্থা করতে পারে না, তাই প্রস্তাবিত কাঠামো মানুষ এবং গবাদিপশু উভয়ের বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ৫৩০টি আশ্রয় কেন্দ্রের প্রয়োজন, কিন্তু প্রতিটি ঘূর্ণিঝড় বিবেচনায় নিলে এগুলো বেশ ব্যয়বহুল হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়গুলো কালেভদ্রে ঘটে। প্রতিটি বহুমুখী আশ্রয়কেন্দ্রের পেছনে খরচ হবে প্রায় ৮ দশমিক ৫ কোটি টাকা এবং ব্যয়িত প্রতি টাকা ১ দশমিক ৮ টাকার কল্যাণ সাধন করবে।
তৃতীয় সম্ভাব্য সমাধানটি হলো নিচু জমির চারপাশে বাঁধ দেওয়া, যা বন্যা থেকে কৃষিজমি, বাড়িঘর ও অবকাঠামোকে রক্ষা করবে। তবে এর উপকারিতাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বন্যার ধরনের ওপর নির্ভর করে। বন্যার পানি যদি ৩ মিটারের বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হয়, কিছু এলাকায় যা নিয়মিতভাবে ঘটে থাকে, তাহলে জমির বাঁধগুলোতে প্রায়ই ফাটল ধরে যায় এবং এটি কোনো উপকারেই আসে না। এগুলোও অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও এগুলো করতে বাংলাদেশের খরচ হবে ৩৭ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি। বন্যার পানি যেখানে ৩ মিটারের বেশি উচ্চতা ছাড়িয়ে যায়, সেখানে বাঁধ নির্মাণের খরচ প্রাপ্ত সুবিধার চেয়ে বেশি হবে। একটি উত্তম প্রস্তাব হলো, এমন এলাকাগুলোর দিকে নজর দেওয়া বন্যার পানি ৩ মিটারের চেয়ে কম উচ্চতায় প্রবাহিত হয়, তারপরেও যা মৃত্যু ও ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। এসব ক্ষেত্রে ব্যয়িত প্রতি টাকায় ১ দশমিক ৮ টাকার সুবিধা পাওয়া যাবে।
Related Question
View AllLoss and Damage আন্তর্জাতিক তহবিলের জলবায়ু পরিবর্তন-এর সাথে সম্পর্কিত ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবএরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায়, দক্ষিণ এশিয়া সবচেয়ে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত অঞ্চলগুলির মধ্যে রয়েছে। পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাবের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু আলোচনা সংঘটিত হচ্ছে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, সার্বিক বাস্তুতন্ত্র এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, স্থায়ীভাবে তাদের টিকিয়ে রাখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যাহত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কূটনীতিতে, এই অপূরণীয় পরিণতিগুলি ‘জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি’ বা ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নামে পরিচিত।
২০২৩ সালে কপ ২৮ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক সংযুক্ত আরব আমিরাত
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০২৩ সালে দুবাই অনুষ্ঠিত হয়
গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য দায়ী প্রধান গ্যাসগুলো হলো: কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেচ (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্লোরোকার্বন বা কৃত্রিম গ্রীনহাউস গ্যাস (CFCs, HFCs ইত্যাদি)। এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে তাপ ধরে রাখে, যার কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!