প্রতীক ছুটিতে তার গ্রামের বাড়িতে যায়। তার কয়েক দিন পর গ্রামের একজন লোক হঠাৎ করে সবার সাথে অস্বাভাবিক আচরণ করতে আরম্ভ করে। কোনো কিছুতেই কিছু হয় না। এ নিয়ে লোকজনের মধ্যে ভূত বা প্রেতের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই মনে করে, তাকে ভূত-পেত্নি আশ্রয় করেছে। অবশেষে প্রতীক লোকটিকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। হাসপাতালের ডাক্তার প্রতীককে বলে, লোকটির জলাতঙ্ক হয়েছে।
কোনো প্রকল্পের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সমর্থন প্রয়োজন। প্রকল্প অনন্যসাধারণ প্রকৃতি হতে হবে। আরোহ সমন্বয় হলো প্রকল্পের অন্যতম প্রমাণ। কোনো ঘটনাকে সুস্পষ্টরূপে ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রকল্পটির প্রকৃতি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেই প্রকল্পটিতে প্রমাণিত হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রকল্পকে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সেই সাথে সরল প্রকৃতির হতে হবে।
উদ্দীপকে ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকেই চুরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে যে ধারণা করলেন, তার সাথে কাজ চালানো প্রকল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণত প্রকল্প গঠন করা হয়। তবে এমন কিছু জাগতিক ঘটনাবলি আছে, যেগুলোর কারণ সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণ গঠন করা যায় না।০ ফলে কাজ চালানোর জন্য সাময়িকভারে বিশেষ এক ধরনের প্রকল্প গঠন করা হয়। কোনো অপরিচিত নতুন ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য এ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা না থাকার ফলে আপাতত উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যখন অসম্পূর্ণ কোনো আনুমানিক ধারণাকে সাময়িকভাবে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, সেই আনুমানিক ধারণাই হলো কাজ চালানো প্রকল্প।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী যখন তার বন্ধুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এলেন, তখন তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকেই জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে অনুমান করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। অনুসন্ধান করে দেখলেন, ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে চোর ঘরে ঢুকল কি না। কিন্তু দেখলেন সবই ঠিক আছে। এই অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নিতে তিনি কাজ চালানো প্রকল্প গঠন করলেন। এ জাতীয় প্রকল্প হলো অসম্পূর্ণ এবং সাময়িকভাবে গঠিত আনুমানিক ধারণা, কিন্তু তার পরও উদ্দেশ্য থাকে সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বরূপ বিশ্লেষণ করা। প্রকৃতপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে এর চেয়ে অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো প্রকল্প না পাওয়ার কারণেই মূলত ঘটনার ব্যাখ্যায় কাজ চালানো প্রকল্পকে প্রয়োগ করা হয়। তাই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘটনার প্রাথমিক কাজ চালানোর জন্য এ প্রকল্পকে কাজে লাগিয়েছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিলে প্রকল্পের ধারণা পরিলক্ষিত হয়।
কারণ প্রকল্প হতে হলে কোনো ঘটনার উপস্থিতি আবশ্যক, যা উদ্দীপকে বর্তমান। জগতের প্রতিটি ঘটনাই কোনো না কোনো কারণ থেকে সংঘটিত হয়। সে ক্ষেত্রে এসব ঘটনা জানতে হলে এদের মূলে বিদ্যমান এসব কারণ জানা আবশ্যক। আর যুক্তিবিদ্যা মূলত এসব কারণের অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে সার্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। তবে ঘটনার মূলে নিহিত কারণ সহজে পাওয়া যায় না। কেননা এ ক্ষেত্রে কারণটি সমজাতীয় আর অনেক ঘটনার সাথে মিশ্রিত থাকে। এ অবস্থায় সঠিক কারণটি খুঁজে পাওয়ার জন্য কারণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আমরা এমন এক বা একাধিক বিষয়ে সাময়িকভাবে চিহ্নিত করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অগ্রসরই হই। আর সাময়িকভাবে গৃহীত এ জাতীয় সম্ভাব্য বিষয়কেই বলা হয় প্রকল্প। প্রকল্পকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বলে প্রমাণ করা সম্ভব হলেই কেবল তা সার্বিক নিয়মে উপনীত হতে পারে।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে ধারণা করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। তা যাচাই করার জন্য তিনি ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকল কি না তা ওপরীক্ষা করে দেখলেন সবকিছু ঠিক আছে। পরে তিনি আনুমানিক ধারণা নিলেন, চোর তালার চাবি ফাঁকে কোনো একসময় বানিয়ে নিয়েছে। তার এই আনুমানিক ধারণাই হলো প্রকল্প।
জগতে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হয়েও কোনো ঘটনা বা বিষয়ের বাস্তব কারণ অথবা সত্য কারণ হতে পারে। আর এ জাতীয় প্রকল্পই হলো প্রতিবেদক অনুকল্প।
যেকোনো প্রকল্প গঠনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংঘটনের মূলে নিহিত সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আন্দাজ করে নেওয়া হয়। এরপর আরোহ প্রক্রিয়ার সাহায্যে ঐ সম্ভাব্য কারণটি সত্য হওয়ার পক্ষে কোন কোন ঘটনা কার্যকর হতে পারে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তটি বাস্তব ঘটনার অনুরূপ কি না তা যাচাই করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ধারণ করা হয়। আর এভাবেই একটি প্রকল্প গঠিত হয়।