প্রকল্প হচ্ছে এমন একটা ব্যাখ্যাদানের প্রচেষ্টা, যেখানে ঘটনাসমূহকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য সাময়িকভাবে কোনো ধারণা আন্দাজ করা হয়।
কোনো ঘটনার কারণ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এ ঘটনা যার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আমরা অনুমান করি। বস্তুত অনেক ক্ষেত্রে কোনো ঘটনা কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ঘটেছে, তা জানা থাকলেও ঘটনাটি যার দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, সে সম্পর্কে আমরা জানতে পারি না। আর এরূপ ক্ষেত্রেই কর্তাসংক্রান্ত প্রকল্প গঠন করা হয়।
উদ্দীপকের লোকটির আচরণ প্রকল্পের বাস্তব কারণের আওতাভুক্ত। বাস্তব কারণ অনুযায়ী, যেকোনো ঘটনার ব্যাখ্যায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পকে হতে হবে বাস্তব ঘটনাভিত্তিক, যাকে অভিজ্ঞতায় পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রকল্পটি হবে এমন ঘটনা বা বিষয়বস্তুর নির্দেশক, যার অস্তিত্ব প্রকৃতিতে থাকা সম্ভব। কাজেই এ ক্ষেত্রে কাল্পনিক, অবাস্তব, প্রমাণের অযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নয় এমন কোনো বিষয় প্রকল্প হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। কেননা, এ ধরনের প্রকল্প প্রাকৃতিক ঘটনাবলির ব্যাখ্যাদানে অক্ষম; যেমন : উদ্দীপকে উল্লিখিত উদাহরণটিতে গ্রামের লোকটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সবাই ধারণা করেছে, লোকটিকে ভূতে ধরেছে। কিন্তু ভূতে ধরা বিষয়টি হচ্ছে কাল্পনিক বা অবাস্তব, যাকে যাচাই করা সম্ভব নয়। কারণ জগতে ভূত বলে কোনো কিছুর বাস্তব অস্তিত্ব আজ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়নি। কাজেই লোকটিকে ভূতে ধরার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ অবৈধ। বরং ডাক্তার লোকটির আচরণের বাস্তব কারণ আবিষ্কার করেছেন; অর্থাৎ লোকটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়েছে, এটি হচ্ছে একটি বাস্তব কারণ। উল্লেখ্য বাস্তব কারণ বলতে এখানে মূলত সত্য কারণকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা হবে সম্পূর্ণরূপে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও অভিজ্ঞতানির্ভর। কাজেই কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে প্রণীত একটি বৈধ প্রকল্পের ভিত্তি হিসেবে সর্বদা অস্তিত্বশীল বা বাস্তব কারণকে চিহ্নিত করতে হবে, যাকে পরীক্ষা বা যাচাই করার মাধ্যমে প্রমাণ করা সম্ভম্ব।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাস্তব কারণ হচ্ছে কোনো ঘটনার প্রকৃত কারণ, যার অস্তিত্ব আমরা প্রকৃতিতে প্রত্যক্ষভাবে দর্শন করতে পারি। কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার সময় আমাদের এমন একটি কারণ সম্পর্কে ভাবতে হবে, বাস্তব ক্ষেত্রে যার অস্তিত্ব আছে। যা একেবারেই অবান্তর বা গ্রহণযোগ্য নয় এবং যার অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো প্রমাণ নেই, তেমন কোনো কিছুকে কোনো ঘটনার কারণ হিসেবে ধারণা করা মোটেও যুক্তিসংগত নয়। প্রকল্পের মধ্যে এ ধরনের প্রকল্প কখনো প্রকৃতিপ্রদত্ত ঘটনাবলির ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করতে পারে না। তাই কারণ হিসেবে এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা করতে হবে, যার একটি বাস্তব অস্তিত্ব আছে এবং যার অবস্থান আমরা প্রকৃতিতে দর্শন করতে পারি, অথবা যার অবস্থান সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণের মাধ্যমে বর্ণনা করতে পারি। এ ধরনের একটি প্রকল্পিত কারণকেই বাস্তব কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন লোক পাগলামি করছে। বলা হলো তার মধ্যে প্রেতাত্মা আশ্রয় করেছে। তাহলে কল্পিত কারণটি একটি বাস্তব কারণ বলে গণ্য হবে না, কেননা বাস্তবে প্রেতাত্মা বলতে কিছুই নেই এবং এদের অস্তিত্ব সম্পর্কে বাস্তবে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বাস্তব কারণের প্রকৃত অর্থ হলো এমন কারণ, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে সত্যি সত্যি কিছু জানা গেছে বা যার অস্তিত্বে কখনো কোনো আত্মবিরোধ নেই।
Related Question
View Allসাধারণভাবে পূর্বাপর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে একটি অধিক সম্ভাবনাপূর্ণ বিষয়কে সাময়িকভাবে কারণ হিসেবে অনুমান করাই হলো প্রকল্প।
কোনো প্রকল্পের সত্যতা বা মিথ্যাত্ব প্রমাণের ক্ষেত্রে সমর্থন প্রয়োজন। প্রকল্প অনন্যসাধারণ প্রকৃতি হতে হবে। আরোহ সমন্বয় হলো প্রকল্পের অন্যতম প্রমাণ। কোনো ঘটনাকে সুস্পষ্টরূপে ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রকল্পটির প্রকৃতি স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেই প্রকল্পটিতে প্রমাণিত হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রকল্পকে ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা থাকতে হবে এবং সেই সাথে সরল প্রকৃতির হতে হবে।
উদ্দীপকে ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকেই চুরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে যে ধারণা করলেন, তার সাথে কাজ চালানো প্রকল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণত প্রকল্প গঠন করা হয়। তবে এমন কিছু জাগতিক ঘটনাবলি আছে, যেগুলোর কারণ সম্পর্কে উপযুক্ত প্রমাণ গঠন করা যায় না।০ ফলে কাজ চালানোর জন্য সাময়িকভারে বিশেষ এক ধরনের প্রকল্প গঠন করা হয়। কোনো অপরিচিত নতুন ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য এ সম্পর্কে যথার্থ ধারণা না থাকার ফলে আপাতত উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যখন অসম্পূর্ণ কোনো আনুমানিক ধারণাকে সাময়িকভাবে প্রকল্প হিসেবে গ্রহণ করা হয়, সেই আনুমানিক ধারণাই হলো কাজ চালানো প্রকল্প।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী যখন তার বন্ধুর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে এলেন, তখন তিনি ঘরের ভেতরে ঢুকেই জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে অনুমান করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। অনুসন্ধান করে দেখলেন, ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে চোর ঘরে ঢুকল কি না। কিন্তু দেখলেন সবই ঠিক আছে। এই অনুসন্ধান কাজ এগিয়ে নিতে তিনি কাজ চালানো প্রকল্প গঠন করলেন। এ জাতীয় প্রকল্প হলো অসম্পূর্ণ এবং সাময়িকভাবে গঠিত আনুমানিক ধারণা, কিন্তু তার পরও উদ্দেশ্য থাকে সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বরূপ বিশ্লেষণ করা। প্রকৃতপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে এর চেয়ে অধিক স্বয়ংসম্পূর্ণ কোনো প্রকল্প না পাওয়ার কারণেই মূলত ঘটনার ব্যাখ্যায় কাজ চালানো প্রকল্পকে প্রয়োগ করা হয়। তাই ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘটনার প্রাথমিক কাজ চালানোর জন্য এ প্রকল্পকে কাজে লাগিয়েছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিলে প্রকল্পের ধারণা পরিলক্ষিত হয়।
কারণ প্রকল্প হতে হলে কোনো ঘটনার উপস্থিতি আবশ্যক, যা উদ্দীপকে বর্তমান। জগতের প্রতিটি ঘটনাই কোনো না কোনো কারণ থেকে সংঘটিত হয়। সে ক্ষেত্রে এসব ঘটনা জানতে হলে এদের মূলে বিদ্যমান এসব কারণ জানা আবশ্যক। আর যুক্তিবিদ্যা মূলত এসব কারণের অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে সার্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। তবে ঘটনার মূলে নিহিত কারণ সহজে পাওয়া যায় না। কেননা এ ক্ষেত্রে কারণটি সমজাতীয় আর অনেক ঘটনার সাথে মিশ্রিত থাকে। এ অবস্থায় সঠিক কারণটি খুঁজে পাওয়ার জন্য কারণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আমরা এমন এক বা একাধিক বিষয়ে সাময়িকভাবে চিহ্নিত করে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অগ্রসরই হই। আর সাময়িকভাবে গৃহীত এ জাতীয় সম্ভাব্য বিষয়কেই বলা হয় প্রকল্প। প্রকল্পকে পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বলে প্রমাণ করা সম্ভব হলেই কেবল তা সার্বিক নিয়মে উপনীত হতে পারে।
উদ্দীপকে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঘরে ঢুকে জিনিসপত্র এলোমেলো দেখে ধারণা করলেন, তার ঘরে চুরি হয়েছে। তা যাচাই করার জন্য তিনি ঘরের ভেন্টিলেটর, জানালা কিংবা সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকল কি না তা ওপরীক্ষা করে দেখলেন সবকিছু ঠিক আছে। পরে তিনি আনুমানিক ধারণা নিলেন, চোর তালার চাবি ফাঁকে কোনো একসময় বানিয়ে নিয়েছে। তার এই আনুমানিক ধারণাই হলো প্রকল্প।
জগতে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না হয়েও কোনো ঘটনা বা বিষয়ের বাস্তব কারণ অথবা সত্য কারণ হতে পারে। আর এ জাতীয় প্রকল্পই হলো প্রতিবেদক অনুকল্প।
যেকোনো প্রকল্প গঠনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট সংঘটনের মূলে নিহিত সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আন্দাজ করে নেওয়া হয়। এরপর আরোহ প্রক্রিয়ার সাহায্যে ঐ সম্ভাব্য কারণটি সত্য হওয়ার পক্ষে কোন কোন ঘটনা কার্যকর হতে পারে, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শেষ পর্যায়ে সিদ্ধান্তটি বাস্তব ঘটনার অনুরূপ কি না তা যাচাই করার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির সত্যতা বা মিথ্যাত্ব নির্ধারণ করা হয়। আর এভাবেই একটি প্রকল্প গঠিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!