সালেহার প্রতিবেশী বলেন, সঠিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করলে সালেহা বেগম বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। তার বক্তব্যটি যথার্থ।
সালেহা গর্ভবতী। কিন্তু সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায় না। পূর্বের মতোই খাদ্যগ্রহণ করে থাকে। কিন্তু এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাবার খেতে হবে। গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার। সালেহা বেগম যদি নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা না করেন তাহলে তিনি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। গর্ভকালীন সময়ে eclampsia বা pre-eclampsia হলে উচ্চ রক্তচাপ, হাতে-পায়ে পানি জমা, এলবুমিন বের হওয়া ইত্যাদি দেখা দেয়। সালেহা বেগমও এরূপ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। লৌহ ও ভিটামিনের অভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তিবোধ, বুক ধড়ফড়, ফ্যাকাশে চেহারা প্রভৃতি রক্তস্বল্পতার লক্ষণ। সালেহা বেগম যদি পুষ্টিকর খাবার, লৌহ ও ভিটামিন ট্যাবলেট গ্রহণ না করেন এবং পরিচ্ছন্ন না থাকেন তাহলে তিনি রক্তস্বল্পতার শিকার হতে পারেন। গর্ভবতী মায়ের প্রস্রাবে এবং রক্তে গ্লুকোজের উপস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকলে ডায়াবেটিস শনাক্ত করা হয়। ডায়াবেটিস দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় ডাক্তারি পরীক্ষায় মায়ের ঝুঁকি ও জটিলতা দুটোই পরীক্ষা করা হয়।
সালেহা বেগমের এধরনের পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। সুতরাং বলা যায়, প্রতিবেশীর বক্তব্যটি যথার্থ।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন, বয়স, পজিশন এবং অ্যামনিউটিক ফ্লুইডের পরিমাণ পরীক্ষা করার পদ্ধতি হলো আলট্রাসনোগ্রাম।
২০ বছরের নিচে গর্ভধারণকারী মা-কে ঝুঁকিপূর্ণ মা বলার কারণ হলো এদের মা হওয়ার মতো মানসিক পরিপক্কতা ও শারীরিক পূর্ণতা থাকে না।
অপরিণত বয়সে যেসব মেয়ে মা হয়, তারা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগে। এছাড়াও এ বয়সে একটি মেয়ের সন্তান ধারণ করা, জন্ম দেওয়া ও পালন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে সে নিজে ও তার গর্ভের সন্তান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
রহিমা ৩ মাসের গর্ভবর্তী। গর্ভবতীর ১ম তিন মাস হলো গর্ভসঞ্চারের পর থেকে ১২ সপ্তাহ।
গর্ভাবস্থায় ভ্রূণের বৃদ্ধি-সামান্য হয় বলে পুষ্টির চাহিদা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। তাই রহিমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য, দেহের প্রয়োজনীয় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো-
১. মূত্র পরীক্ষা: গর্ভসঞ্চার নির্ধারণের জন্য করা হয়।
২. রক্তের নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন, হেপাটাইটিস ভাইরাস, যৌনবাহিত রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা।
৩. আলট্রাসনোগ্রাম: ফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন ইত্যাদি নির্ণয় করা।
রহিমার মানসিক বিপর্যয় তার গর্ভের শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
রহিমার আশেপাশের পরিবেশে ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ ও অশান্তি লেগেই রয়েছে। ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
রহিমা গর্ভবতী, এই অবস্থায় শারীরিক যত্নের সাথে সাথে মানসিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ শরীর ও মন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জন্মের পূর্বে মায়ের অনুভূতি, আবেগ, ক্রোধের সাথে ভ্রূণ শিশুর কোনো রকম যোগাযোগ থাকে না। তবুও মায়ের মনের তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা, মায়ের দেহে রাসায়নিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে, যার প্রভাবে ভ্রূণ শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মায়ের হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াসহ দেহের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এতে ভ্রূণ শিশুর অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। রহিমার পারিবারিক ক্লেশ, ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্বেগ ভ্রূণের গঠনে অস্বাভাবিকতা আনতে পারে এবং গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ ধরনের মানসিক ক্লান্তি ও ক্লেশ শিশুর মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। মায়ের মনের মানসিক অশান্তির কারণে সন্তানেরা পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।
তাই রহিমার উচিত গর্ভাবস্থায় পরিবারের সকলের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা। সবসময় ইতিবাচক পরিবেশে অবস্থান করা। রহিমা যাতে আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে থাকেন, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দেখা যায়।
গর্ভাবস্থায় রুবেলা (German measels), সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং ধনুষ্টংকার প্রভৃতি রোগ হতে পারে। এ জাতীয় রোগ ভ্রূণের ক্ষতিসাধন করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!