আলোচ্য হাদিসটি বুখারী শরীফের প্রথম হাদিস, যা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটিতে নিয়তের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে বলা হয়েছে। রাসূল (স) বলেন, প্রত্যেক কর্মের ফলাফল তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ যে ব্যক্তি যেমন নিয়ত করবে সে তেমন ফল পাবে। একই কাজের নিয়তের তারতম্যের কারণে এর ফলাফল ভিন্ন হতে পারে। সুতরাং সকল কাজে অবশ্যই নিয়তকে সহীহ করতে হবে। আর প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হলো সকল কাজ আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা। আলোচ্য হাদিসটিতে আরো বলা হয়েছে কেউ যদি দুনিয়া লাভের জন্য হিজরত করে তবে তার হিজরত সেদিকেই গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের জন্য হিজরত করবে তার হিজরত আল্লাহর জন্যই বলে গণ্য হবে। সুতরাং কোনো ভালো কাজ যদি কোনো মানুষের উদ্দেশ্য হয় তবে তার সওয়াব হবে কি না আল্লাহ ভালো জানেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত আমাদের সকল কাজের নিয়তকে সহীহ করা আর নিয়তের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সন্তুষ্টি অর্জন।
Related Question
View Allঅর্থ : হে মুহাম্মদ (স)!] বলুন, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তিনি কারো হতে জন্ম লাভ করেননি। এবং তাঁর সমকক্ষ আর কেউই নেই।
ব্যাখ্যা: মক্কার কাফির-মুশরিকরা প্রিয় নবীর নিকট আল্লাহর বংশ পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর পরিচয় দিয়ে যে পূর্ণাঙ্গ সূরা অবতীর্ণ করেন তার নাম সূরা ইখলাস।
এ সূরার শুরুতে আল্লাহ তাআলা কাফির-মুশরিকদের প্রশ্নের জবাবে রসূল (স)-কে লক্ষ করে বলেন, হে রসূল! আপনি বলুন, আল্লাহ এক, তিনি অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং নিজেও কারো থেকে জন্ম নেননি। আর তার সমকক্ষ কেউ নেই। অর্থাৎ হে রসূল আপনি তাদের বলে দিন আমার আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, তার কোনো শরীক নেই। পৃথিবীর সমস্ত কিছু তিনি একাই সৃষ্টি করেছেন। এতে তিনি কারো নিকট মুখাপেক্ষী হননি। বরং সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনি একাই। আর এ বিষয়ে তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়। সুতরাং আমাদের সকলের উচিত আল্লাহর জাত ও সিফাতকে সঠিকভাবে জেনে তাঁর ইবাদত করা ও শিরক থেকে বিরত থাকা।
মদিনা সনদ বা কিতাব-উর-রসূল ইসলামের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে হযরতের মদিনা পৌঁছার পর তিনি সেখানে নেতৃত্বের আসনে সমাসীন হন এবং শতধা বিভক্ত ইহুদি, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিক ও আগত মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য, শান্তি ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করেন। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখেই তিনি একটি সনদ প্রণয়ন করেন যা ইসলামের ইতিহাসে 'মদিনা সনদ' নামে পরিচিত। ইবনে হিশাম তাঁর 'সীরাত' গ্রন্থে একে 'কিতাব-উর-রাসূল' S. M. Watt তাঁর গ্রন্থে একে 'The Charter of Medina' বলে আখ্যায়িত করেন। নিচে সনদের বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা করা হলো :
সনদের বৈশিষ্ট্য : মহানবী (স) কর্তৃক প্রদত্ত মদিনা সনদের ধারাগুলো পর্যালোচনা করলে এর নিম্নোক্ত বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় :
প্রথমত, মদিনা সনদে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির আভাস রয়েছে। কারণ এখানে বলা হয়েছে সকল ধর্মাবলম্বী লোক একটি উম্মাহ করবে এবং তারা স্ব স্ব ধর্ম পালন করবে। এছাড়া উম্মাহভুক্ত অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিচারকার্যও স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ অনুসারে করার নীতি গৃহীত হয়।
দ্বিতীয়ত, সনদে গোত্রীয় প্রাধান্য রহিত করা হয়নি। তবে সংস্কার সাধন করে গোত্রীয় প্রাধান্যকে বৃহত্তর মুসলিম জাতির উপযোগী করে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হয় এবং সামগ্রিকভাবে সকল গোত্রের ওপর মহানবী (স)-এর প্রাধান্য স্বীকৃত হয়।
তৃতীয়ত, সনদের মাধ্যমে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে গাঢ় ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ভ্রাতৃত্ববোধ একটি উজ্জ্বল আদর্শ হিসেবে নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করে।
চতুর্থত, সনদে সামগ্রিকভাবে আল্লাহকে জিম্মা প্রদান করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র হিসেবে মদিনা একটি সাধারণতন্ত্রের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছে।
পঞ্চমত, সনদে মদিনার সকল ইহুদিদের সমঅধিকার দেওয়া হয়, কিন্তু তাদের বিষয়ে পুনঃপুন উল্লেখ করে মুসলমানদের সতর্কও করে দেওয়া হয়। কারণ, প্রথম থেকেই তাদের উদ্দেশ্য ছিল দুরভিসন্ধিমূলক। পাশাপাশি মক্কার কুরাইশদের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ষষ্ঠত, সর্বোপরি এ সনদে মহানবী (স)-এর মর্যাদা একাধারে প্রশাসক, বিচারক, সেনাপতি, আইন প্রণয়নকারী ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে চূড়ান্তভাবে স্বীকৃত হয়। অর্থাৎ 'Supreme leadership of the Prophet'-এর স্বীকৃতি পাওয়া যায় এই সনদে। এছাড়া এর কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। যেমন-
i. সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার সার্বভৌমত্ব।
ii. মুসলিম সম্প্রদায় একটি অখণ্ড জাতি হিসেবে স্বীকৃত।
iii. মদিনার নিরাপত্তায় সকলের যৌথ দায়িত্ব।
iv. সকল সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা দান।
v. মুসলিম-অমুসলিম সম্মিলিত একটি জাতি হিসেবে স্বীকৃতি।
vi. অপরাধীকে কেউ আশ্রয় দেবে না।
vii. নিজ অপরাধের জন্য নিজেই দায়ী হবে।
viii. প্রতিশোধ হবে সমমাত্রিক। তবে প্রতিশোধের চেয়ে ক্ষমাই শ্রেয়।
পরিশেষে বলা যায়, মদিনা সনদ হচ্ছে পৃথিবীর ইতিহাসে ম্যাগনাকার্টা স্বরূপ। বস্তুত মদিনার রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও নাগরিক জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে মদিনা সনদ। ধর্ম প্রচারক ছাড়াও মহানবী (স) বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবী নেতা, এ সনদে তাই প্রমাণিত হয়েছে।
ইসলামী সমাজে প্রতিটি মানুষ আত্মীয়-অনাত্মীয় নির্বিশেষে একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত এবং একে অপরের প্রতি প্রত্যেকের কিছু না কিছু অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য আছে। সমাজ জীবনে মানুষের যত অধিকার ও কর্তব্য আছে, তার মধ্যে আত্মীয়দের অধিকার ও কর্তব্যই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা বলেন- অর্থাৎ "আমিই স্বয়ং আল্লাহ এবং আমিই রহমান করুণাময়। আমিই 'রাহিম' (আত্মীয়তাকে) সৃষ্টি করেছি এবং আমার নিজ নামের সাথে এর নামকরণ করেছি। অতএব, যে ব্যক্তি এর সাথে সম্পর্ক রাখে, আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখি। আর যে ব্যক্তি সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলে, আমিও তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলি।”
মহানবী (স) আরো ঘোষণা করেন- “যে সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মীয়তা ছিন্নকারী লোক রয়েছে, সে সম্প্রদায়ের প্রতি মহান প্রভুর রহমত বর্ষিত হয় না।” (বায়হাকী)
তিনি আরো বলেন, “আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।"
আত্মীয়দের অধিকারসমূহ :
আত্মীয়ের প্রাপ্য আদায় করা: আত্মীয়স্বজনের অধিকার ও হকসমূহ যথাযথভাবে আদায় করার জন্য ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে। কুরআনের ঘোষণা- “তোমরা আত্মীয়স্বজনের প্রাপ্য দিয়ে দাও।" - (সূরা বনী ইসরাইল: ২৬)
“তারাই সত্যিকার ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি, যারা মহান আল্লাহ পাকের মহ্ববতে আত্মীয়স্বজনকে ধন-সম্পদ দান করে।”
সদ্ব্যবহার করা : ইসলাম আত্মীয়স্বজনের সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দান করেছে। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী- “আল্লাহ পাক ন্যায়বিচার কায়েম করতে, পরস্পরের প্রতি ইহসান করতে ও আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায় করতে নির্দেশ দিচ্ছেন।"
সুসম্পর্ক বজায় রাখা : ইসলাম বলে আত্মীয়স্বজনদের সাথে সর্বদা সুসম্পর্ক বজায় রাখা উচিত। তাদের সাথে কখনো ঝগড়া-ফ্যসাদ করা উচিত নয়।
কোনো প্রকার বিরক্ত না করা: আত্মীয়স্বজনকে কোনোক্রমেই কষ্ট দেওয়া ও বিরক্ত করা উচিত নয়। তারা যদি কষ্টও দেয় তবুও তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন না করে সদ্ভাব বজায় রাখা কর্তব্য। যদি কোনো আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং দুর্ব্যবহার করে, তথাপি তার সাথে ভালো ব্যবহার করা উচিত। অত্যাচার করলে তাকে বাধা দান করা উচিত, এটাই প্রকৃত আত্মীয়তার দাবি। কেননা, যারা সদ্ভাব বজায় রাখে, তাদের সাথে তো ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা স্বাভাবিক কিন্তু যারা কষ্ট দেয়, তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করার মধ্যেই কৃতিত্ব।
আত্মীয়স্বজনের সেবা-যত্ন করা: আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে যারা পীড়িত, রোগাক্রান্ত, দুস্থ তাদের সেবা শুশ্রূষা করা একান্ত কর্তব্য। বিপদে-আপদে তাদের সাহায্য-সহানুভূতি প্রদর্শন করা জরুরি। অভাব-অনটনে পড়লে তাদেরকে আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দান করা কর্তব্য।
পরিশেষে বলা যায়, কুরআন ও হাদিসের নির্দেশ ও ভাষাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আত্মীয়স্বজনের সাথে উত্তম সম্পর্ক ও সদ্ভাব বজায় থাকলে মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক তথা সামগ্রিক জীবন সুখী ও শান্তিময় হয়। আত্মীয়স্বজনদের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার মাধ্যমে এক মনোরম ও আনন্দময় পরিবেশ গড়ে ওঠে।
হাদিসটিতে নামাজের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। রসূল (স) ইরশাদ করেন, 'নামায হলো মুমিনের জন্য মিরাজ স্বরূপ'। শবে মিরাজে যখন মহানবী (স) আল্লাহ তায়ালার দরবারে হাজির হয়েছিলেন, তখন আল্লাহর বিশেষ দানস্বরূপই তিনি নিয়ে আসলেন নামাজের এ বিধান। তাই নামাজ শবে মিরাজের সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারণিক এবং আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়ার ও তার নৈকট্য লাভের এক অপূর্ব সুযোগ। এ যেন বিশ্ব প্রতিপালকের পক্ষ থেকে বিশ্বমানবের জন্য শবে মিরাজের উপঢৌকন, যা বহন করে এনেছিলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স)। যারা নামাজের প্রতি অবহেলা, উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করে তারা যেন বিশ্ব স্রষ্টার উপঢৌকনের প্রতিই অবহেলা, উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করে।
নামাযের মাধ্যমে আল্লাহর অধিকতর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ হয়। এ সম্পর্কে হুজুর (স) ইরশাদ করেন-
اَقْرَبُ مَا يَكُونُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فاكثروا الدعاء
অর্থাৎ, 'বান্দা যখন সিজদায় রত থাকে তখনই তার প্রতিপালকের অধিকতর নিকটবর্তী হয়। অতএব সিজদায় রত অবস্থায় তোমরা অধিক পরিমাণে দোয়া করো।'
মূলত নামাজের মাধ্যমে বান্দা তার সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্র সাথে কথোপকথন করে। এজন্যই বলা হয়েছে- নামাজ এমনভাবে পড়, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো। আর যদি তা না হয় তবে এই খেয়াল মনে আনা যে, আমার আল্লাহ তো আমাকে দেখছে। সুতরাং আমাদের উচিত একাগ্রতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত নামাজকে আদায় করা।
আমরা মানুষ নিখিল সৃষ্টিজগতের সদস্য। আমাদেরকে আল্লাহ সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ করে সৃষ্টি করেছেন। আমরা এ পৃথিবীতে বসবাস করছি। পৃথিবীর সব কিছু আমাদের জন্য আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির সবকিছু ঘিরে আল্লাহর পরিচয়। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবকিছু আছে সবই আমাদের কল্যাণে নিয়োজিত। এগুলো আল্লাহ নিরর্থক সৃষ্টি করেননি। আল্লাহ তাআলা আমাদের চারপাশের পরিবেশকে বাসোপযোগী ও ভারসাম্য করে সৃষ্টি করেছেন। আমাদের এই পরিবেশ নষ্ট বা দূষিত করে তুললে আমাদেরই ক্ষতি। তাই আমাদের জীবনের জন্য সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশটাকে সংরক্ষণ করা খুবই জরুরি। কেননা মানুষই পরিবেশকে নষ্ট করে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট আমরাই করি। তা কোনো মতেই ঠিক নয়।
পরিবেশ: আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে সবকিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। এ নিখিল বিশ্বের সবকিছুই আমাদের পরিবেশের আওতায়। মহাবিশ্বে আমরা মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি পরিবারের এক সদস্য। আমাদের জীবন ধারণ ও বাসোপযোগী করে সবকিছুকে আল্লাহ অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ : আল্লাহ তা'আলা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে আমাদের বাসোপযোগী করে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাআলা আমাদের অশেষ কল্যাণে ও উপকারের জন্য পশুপাখি ও জীবজন্তু ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ও প্রাণিকুলের বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদ ও গাছ-পালা সৃষ্টি করেছেন। আবার পানি ও বায়ুরও প্রয়োজন এ উদ্ভিদ ও প্রাণীকুলের। আল্লাহর এই নিখিল সৃষ্টি পরিবেশের সকল কিছুরই প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সৃষ্টির একটিকে আরেকটির ওপর নির্ভরশীল করে সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই এ সৃষ্টির পরিবেশ সংরক্ষণ করা ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা অপরিহার্য। আর এ পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব নিখিল সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের ।
পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষের দায়িত্ব: মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের জন্যই এই পরিবেশের সবকিছু। মানুষই পরিবেশকে নষ্ট করে। মানুষের কর্মকাণ্ডে আল্লাহর প্রতিটি করুণা স্মরণ রাখতে হবে। আমরাই বায়ুকে নানাভাবে দূষিত করে তুলি। ময়লা-আবর্জনা ফেলে গাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, ধূমপানের ধোঁয়া ইত্যাদি দিয়ে অহেতুক আমরা নিরন্তর বায়ু দূষিত করে চলেছি। সারা বিশ্বে তাই আমাদের সৃষ্ট দূষণে বায়ু দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এগুলোর ব্যাপারে সজাগ হতে হবে। বিশ্ববিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সীনা বলেছেন- “পৃথিবীর এত ধূলি, ধোঁয়া ও গ্যাস যদি মানুষের ফুসফুসে না ঢুকত, তাহলে মানুষ হাজার বছর
ধরে সুস্থ অবস্থায় জীবিত থাকত।"
আমাদের জীবন ধারণের আরও একটি বড় উপাদান পানি। পানির অপর নাম জীবন। সকল শ্রেণির প্রাণী ও উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য। বিশুদ্ধ পানি সুস্থ জীবনের জন্য আরও বেশি প্রয়োজন। পানি দূষিত করা মারাত্মক অমার্জনীয় অপরাধ। আল্লাহর রসূল পানিতে প্রস্রাব করতে পর্যন্ত নিষেধ করেছেন। পানির উৎস মুখে ময়লা-আবর্জনা ফেলা, পানির অপচয় করা, অপবিত্র শরীর নিয়ে বদ্ধ পানিতে গোসল করা ইত্যাদি ইসলামে নিষিদ্ধ কাজ। মহানবী (স) বলেছেন- “প্রয়োজন হলে পানি তুলে গোসল করবে।” সুন্দর ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষই তখন কষ্ট পায়। কিন্তু এটা মানুষ জানতে চায় না।
ইসলাম পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিশেষ তাগিদ দিয়েছে। আল্লাহর নবী বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের কথা বলেছেন। কেননা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এজন্য বিনা প্রয়োজনে বৃক্ষ নিধন বা বৃক্ষের পাতা পর্যন্ত ছিঁড়তে মহানবী (স) নিষেধ করেছেন। তিনি যুদ্ধকালীন সময়েও বৃক্ষ কর্তন ও ফসল বিনষ্ট থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। জনৈক ব্যক্তি একটি গাছের পাতা ছিঁড়লে রসূল (স) বলেন- "প্রত্যেকটি পাতা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করে।" কাজেই পাতা ছিঁড়বে না। গাছপালা বায়ুদূষণ রোধ করে। বায়ু থেকে দূষিত গ্যাস শোষণ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে। আমাদের বেঁচে থাকার জন্য বায়ু এক অপরিহার্য উপাদান। আর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য বিশুদ্ধ বায়ুর একান্ত প্রয়োজন। বায়ু যাতে দূষিত না হয় সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অনুরূপভাবে আমাদের সামাজিক পরিবেশের সব কিছুকে সংরক্ষণ করাও আমাদের সকলের দায়িত্ব। সেগুলোর অপব্যবহার ও নষ্ট করা খুবই অন্যায় কাজ।
আমরা সৃষ্টির সেরা জীব। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদেরকেই প্রাণী ও উদ্ভিদকুলের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, আমরা মানুষেরাই পরিবেশ নষ্ট করছি। নানাভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করার জন্য আমরাই দায়ী। তাই পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। আর আমাদের জন্য, সৃষ্টিকুলের জন্য আমাদেরকেই পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হবে। অন্যথা পরিবেশ নষ্টের জন্য, অন্যের কষ্টের জন্য আমাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!