'জীবন-সঙ্গীত' কবিতাটি ইংরেজি A Psalm of Life কবিতার ভাবানুবাদ।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় 'মানব জনম সার' বলতে মানবজীবন যে অত্যন্ত মূল্যবান সেই বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি আমাদের জীবনের নানা স্বপ্ন, প্রেম-ভালোবাসা, পরিবার গঠন, সংসারের নানা যন্ত্রণা-কাতরতায় জীবনবিমুখ হয়ে ওঠা, হতাশায় ভোগা ইত্যাদি সম্পর্কে তাঁর মতামত তুলে ধরেছেন। মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে তার জীবন। জগতের নানা রকম কল্যাণকর কাজের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জীবন সার্থক করে তোলা যায়। মানব জন্ম একবারই। জীবনের প্রতি তাই বীতশ্রদ্ধ ও হতাশ হলে চলে না। এ কারণে কবি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জীবনকে সুন্দর ও আনন্দময় করার কথা বলেছেন।
উদ্দীপকটিতে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে জগতে বরণীয় হওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মানবজীবন যুদ্ধক্ষেত্র। এখানে স্মরণীয়-বরণীয়দের পথ অনুসরণ করে জীবনে সফল হতে হয়। ক্ষণস্থায়ী জীবনকে অমর করতে আমাদের বীর সাহসী ও মহাজ্ঞানীদের জীবনের আদর্শ গ্রহণ করা উচিত।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মহাজ্ঞানী ও মহাজনরা যে পথে গমন করেছেন সে পথে সাধারণ সব মানুষকে গমন করতে বলেছেন। মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করলে মানুষ হতে পারবে বরণীয়। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। সক্রেটিস সংসার সমরাঙ্গনে যুদ্ধ করে নিজেকে বরণীয় করেছেন। আর প্লেটো ও এরিস্টটল গুরুদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পৃথিবীতে হয়েছেন স্মরণীয় ও বরণীয়। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটিতে 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতার মহাজ্ঞানী ও মহান ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করে বরণীয় হওয়ার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মানব জনম সার্থক করতে উক্ত দিক ছাড়াও 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি আরও কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন- মন্তব্যটি যথার্থ।
কাজের মধ্য দিয়ে মানুষ পৃথিবীতে টিকে থাকে। কারণ মহৎ ও কল্যাণকর্ম অবিনশ্বর। জগতে পরিশ্রম ও কল্যাণচিন্তার মধ্য দিয়েই মানুষ অমরত্ব লাভ করে।
উদ্দীপকে তিনজন বিখ্যাত ও প্রভাবশালী দার্শনিকের কথা প্রকাশ পেয়েছে। সক্রেটিস, প্লেটো ও এরিস্টটল। এদের মধ্যে প্লেটো সক্রেটিসের ছাত্র, এরিস্টটল প্লেটোর ছাত্র। যাঁরা গুরুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে হয়েছেন বরণীয় ও স্মরণীয়। 'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় মানবজনম সার্থক করতে বরণীয় ব্যক্তিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও কবিতায় আরও কিছু দিকনির্দেশনা কবি দিয়েছেন। যেমন- স্বপ্নের বেড়া-জালে আবদ্ধ থেকে হতাশ হওয়া যাবে না, বাহ্যদশ্যে ভোলা যাবে না, সুখের আশা করা যাবে না, সংসারে সংসারী হতে হবে, সাহসের সঙ্গে জীবনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে হবে ইত্যাদি, যা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'জীবন-সঙ্গীত' কবিতায় কবি মানবজনমকে সার্থক করতে অনেক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের জীবনের নানা স্বপ্ন, প্রেম- ভালোবাসা, পরিবার গঠন, সংসারের নানা যন্ত্রণাকাতরতা ও হতাশার কথা বলেছেন এবং তা থেকে উত্তরণের পথনির্দেশ করেছেন। উদ্দীপকে এসব বিষয় অনুপস্থিত। এসব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!