প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী ছিল সোনারগাঁ। সে সময় সুতা ব্যবসায়ের কেন্দ্র হিসেবে পানাম গড়ে ওঠে। পানাম নগরের নিরাপত্তার জন্য নগরের চারদিকে পরিখা খনন করা হয়। এর ফলে পানাম নগরের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি ব্যবসায় বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিতি লাভ করে। সুলতানগণ এলাকার উন্নয়নে রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণ করেন ।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

সুবা হলো মুঘল সাম্রাজ্যের এক একটি প্রশাসনিক বিভাগ বা প্রদেশ। প্রতিটি সুবা একজন সুবাদার দ্বারা শাসিত হতো।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

বারো ভূঁইয়া বলতে মধ্যযুগের বাংলার একদল প্রভাবশালী জমিদার ও ভূস্বামীকে বোঝানো হয়েছে, যারা মুঘলদের ক্ষমতা বিস্তারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন এবং স্বাধীনভাবে নিজ নিজ অঞ্চল শাসন করতেন।

মুঘল সম্রাট আকবরের আমলে যখন বাংলা মুঘলদের অধীনে আসে, তখন এই জমিদাররা মুঘল কর্তৃত্বের বিরোধিতা করে ঐক্যবদ্ধ হন। এদের মধ্যে ঈশা খাঁ ছিলেন সবচেয়ে শক্তিশালী ও সুপরিচিত। 'বারো' শব্দটি এখানে আক্ষরিক অর্থে বারোজন না বুঝিয়ে বৃহৎ বা অসংখ্য সংখ্যক জমিদারদের সম্মিলিত শক্তিকে নির্দেশ করে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

পানাম নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তুর্কি শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির (Ikhtiyar Uddin Muhammad Bakhtiyar Khalji) কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে। বখতিয়ার খলজি ছিলেন বাংলায় মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা এবং তার নেতৃত্বে দুর্গ ও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি নতুন বিজিত অঞ্চলে প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপনের সময় নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিতেন, যার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল পরিখা খনন করে নগর বা সামরিক ঘাঁটিকে সুরক্ষিত করা।

উদ্দীপকে বর্ণিত পানাম নগরের নিরাপত্তার জন্য নগরের চারদিকে পরিখা খননের বিষয়টি বখতিয়ার খলজির প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বখতিয়ার খলজি যখন বাংলায় তার শাসন প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তার প্রাথমিক কাজগুলোর মধ্যে ছিল প্রশাসনিক ও সামরিক কেন্দ্রগুলোকে সুরক্ষিত করা। শত্রু আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং নতুন প্রতিষ্ঠিত শাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন, যার মধ্যে শহর বা গুরুত্বপূর্ণ এলাকার চারদিকে গভীর পরিখা খনন ছিল অন্যতম কার্যকর পদ্ধতি।

সুতরাং, পানাম নগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই নির্দিষ্ট দিকটি, অর্থাৎ শহরের চারদিকে পরিখা খননের কৌশলটি, প্রথম তুর্কি শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজির সামরিক ও প্রশাসনিক দূরদর্শিতারই প্রতিফলন। তার প্রদর্শিত পথেই পরবর্তী সুলতানগণও বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য এমন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, যা পানাম নগরের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়েছিল। এর ফলে পানামের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবেও এর সুপরিচিতি লাভ ঘটে।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
উত্তরঃ

প্রাচীন বাংলার মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এর পরবর্তী সময়ে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে খলজি মালিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি খলজি মালিকদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজিকে নির্দেশ করে, যিনি বাংলায় মুসলিম শাসন প্রবর্তন করে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তার সামরিক সাফল্য এবং প্রশাসনিক ভিত্তি স্থাপন পরবর্তী সুলতানদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করার পথ প্রশস্ত করে।

উদ্দীপকে প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী সোনারগাঁ, সুতা ব্যবসায়ের কেন্দ্র পানাম এবং তাদের নির্মিত রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্টসহ নিরাপত্তার জন্য পরিখা খননের কথা বলা হয়েছে। যদিও বখতিয়ার খলজি সরাসরি সোনারগাঁকে রাজধানী বা পানাম নগরীর উন্নয়নে কাজ করেননি, তবুও তার হাতেই বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে। তিনি লখনৌতি বা গৌড়ে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তার এই প্রাথমিক প্রচেষ্টা ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপই পরবর্তীকালে সুলতানদের দ্বারা উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের ভিত্তি তৈরি করে। অর্থাৎ, তার প্রবর্তিত শাসনের ধারাবাহিকতায়ই সোনারগাঁ ও পানামের মতো অঞ্চলগুলো বিকশিত হতে পেরেছিল।

ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি তার অদম্য সাহস, সামরিক কৌশল এবং দূরদর্শিতার জন্য খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেচিত হন। মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে তিনি নদিয়া জয় করেন এবং সেন রাজত্বের অবসান ঘটান। তিনি বাংলায় মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন এবং লখনৌতিকে তার রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। বখতিয়ার খলজি শুধু একজন বিজেতাই ছিলেন না, তিনি মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব নির্মাণ করে ধর্মীয় ও শিক্ষাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিচারিক কাঠামো বাংলায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এনেছিল, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে। এই সমস্ত কারণে, বাংলার ইতিহাসে তার অবদান অনস্বীকার্য এবং তাকে খলজি মালিকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা যথার্থ।

সুতরাং, উদ্দীপকে সুলতানদের উন্নয়নমূলক কাজের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বখতিয়ার খলজির হাত ধরে স্থাপিত মুসলিম শাসনেরই ধারাবাহিক ফসল। তার হাতেই মুসলিম শাসনের ভিত্তি রচিত হয়, যা পরবর্তীতে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথ খুলে দেয়। তাই, বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা এবং প্রশাসক হিসেবে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজিকে খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে অভিহিত করা যুক্তিসঙ্গত ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
467

Related Question

View All
উত্তরঃ

ইতিহাস শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো "ঐতিহ্য" বা "যা ঘটেছিল"। এটি অতীতের ঘটনা, তথ্য ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিক অধ্যয়ন ও বিবরণ।

Satt AI
Satt AI
4 weeks ago
3.4k
উত্তরঃ

ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের জীবনযাপন, তাদের অর্জন ও ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। এটি আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয়ের উন্মোচন করে, যা বর্তমান পরিস্থিতি অনুধাবন এবং ভবিষ্যতের সঠিক পথ নির্ধারণে সহায়ক হয়।

দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য ইতিহাস জানা অপরিহার্য। ইতিহাস পাঠের ফলে জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত হয়, যা একটি জাতিকে তার গৌরবময় অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে উৎসাহিত করে। উদ্দীপকের রফিকের মতো, ইতিহাস আমাদের নিজ দেশের গৌরবময় অতীত সম্পর্কে অবগত করে এবং জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়।

Satt AI
Satt AI
4 weeks ago
1.1k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ইতিহাসের উপাদান বা উৎসকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইতিহাস রচনার জন্য বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও উপকরণের প্রয়োজন হয়, যা ঐতিহাসিক উপাদান বা উৎস নামে পরিচিত।

রফিক তাঁর ছেলেমেয়েদের নিয়ে পরিদর্শনে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে পান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন যেমন - প্রাচীন ইমারত, মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ ইতিহাসের অলিখিত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। এসব উপাদানের মাধ্যমে আমরা অতীত সম্পর্কে জানতে পারি, যা লিখিত উপাদানের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে বেশি নির্ভরযোগ্য।

এছাড়া তিনি প্রাচীন কালের তালপাতার লেখা পত্রিকা, সরকারি নির্দেশনামা এবং বিভিন্ন বাজানের জীবন সংবলিত পুস্তক দেখতে পান। এগুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদানের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, বৈদেশিক বিবরণী, দলিলপত্র, আত্মজীবনী, চিঠিপত্র, এবং বিভিন্ন সরকারি নথিপত্র। রফিক তাঁর সন্তানদের এসব উপাদান দেখিয়ে দেশের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা দেন এবং ইতিহাসের গুরুত্ব বোঝাতে চেষ্টা করেন।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
978
উত্তরঃ

রোমান আইন ছিল প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সুসংহত ও উন্নত আইন ব্যবস্থা, যা রোমান প্রজাতন্ত্র ও সাম্রাজ্যজুড়ে বিকশিত হয়েছিল। এটি আধুনিক বিশ্বের অনেক আইনি ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং এর মূলনীতিগুলি আজও বিচার ব্যবস্থায় প্রাসঙ্গিক।

এই আইন ব্যবস্থার একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল এর সুসংগঠিত কাঠামো, যা প্রথম লিখিত আইন 'ডিসেভেমভিরিস' বা 'দ্বাদশ আইন' (Twelve Tables) থেকে শুরু করে সম্রাট জাস্টিনিয়ানের 'কর্পাস জুরিস সিভিলিস' (Corpus Juris Civilis) সংকলন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রোমান আইন প্রাকৃতিক ন্যায়বিচার, যুক্তিবাদিতা এবং সকলের জন্য সমান অধিকার (যদিও বাস্তবে এর প্রয়োগ সীমিত ছিল) এর উপর জোর দিত।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
1.1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews