উত্তরঃ
প্রাচীন বাংলার মুসলমান শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এর পরবর্তী সময়ে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে খলজি মালিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। প্রশ্নোক্ত উক্তিটি খলজি মালিকদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজিকে নির্দেশ করে, যিনি বাংলায় মুসলিম শাসন প্রবর্তন করে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। তার সামরিক সাফল্য এবং প্রশাসনিক ভিত্তি স্থাপন পরবর্তী সুলতানদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করার পথ প্রশস্ত করে।
উদ্দীপকে প্রাচীন বাংলার মুসলমান সুলতানদের রাজধানী সোনারগাঁ, সুতা ব্যবসায়ের কেন্দ্র পানাম এবং তাদের নির্মিত রাস্তাঘাট, পুল, কালভার্টসহ নিরাপত্তার জন্য পরিখা খননের কথা বলা হয়েছে। যদিও বখতিয়ার খলজি সরাসরি সোনারগাঁকে রাজধানী বা পানাম নগরীর উন্নয়নে কাজ করেননি, তবুও তার হাতেই বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাত ঘটে। তিনি লখনৌতি বা গৌড়ে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন। তার এই প্রাথমিক প্রচেষ্টা ও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপই পরবর্তীকালে সুলতানদের দ্বারা উদ্দীপকে বর্ণিত অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনের ভিত্তি তৈরি করে। অর্থাৎ, তার প্রবর্তিত শাসনের ধারাবাহিকতায়ই সোনারগাঁ ও পানামের মতো অঞ্চলগুলো বিকশিত হতে পেরেছিল।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি তার অদম্য সাহস, সামরিক কৌশল এবং দূরদর্শিতার জন্য খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিবেচিত হন। মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী নিয়ে তিনি নদিয়া জয় করেন এবং সেন রাজত্বের অবসান ঘটান। তিনি বাংলায় মুসলিম শাসনের গোড়াপত্তন করেন এবং লখনৌতিকে তার রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলেন। বখতিয়ার খলজি শুধু একজন বিজেতাই ছিলেন না, তিনি মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেন এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব নির্মাণ করে ধর্মীয় ও শিক্ষাগত উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। তার প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং বিচারিক কাঠামো বাংলায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা এনেছিল, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটাতে সাহায্য করে। এই সমস্ত কারণে, বাংলার ইতিহাসে তার অবদান অনস্বীকার্য এবং তাকে খলজি মালিকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলা যথার্থ।
সুতরাং, উদ্দীপকে সুলতানদের উন্নয়নমূলক কাজের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা বখতিয়ার খলজির হাত ধরে স্থাপিত মুসলিম শাসনেরই ধারাবাহিক ফসল। তার হাতেই মুসলিম শাসনের ভিত্তি রচিত হয়, যা পরবর্তীতে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথ খুলে দেয়। তাই, বাংলার প্রথম মুসলিম বিজেতা এবং প্রশাসক হিসেবে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজিকে খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে অভিহিত করা যুক্তিসঙ্গত ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ।