প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তোরাব আলীকে ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক তৈরি করে খাওয়াতে বললেন। তিনি মূলত তোরাব আলীকে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা। সম্পর্কে জানালেন।
গবাদিপশুর দেহ গঠন, ক্ষয়পূরণ, কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। যে সমস্ত দ্রব্যে পরিমিত পরিমাণ পানি, শর্করা, আমিষ, খনিজ লবণ, চর্বি, ভিটামিন ও আঁশ জাতীয় পদার্থসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আছে এবং যা গ্রহণের মাধ্যমে প্রাণীর শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে তাই খাদ্য। উপরিউক্ত খাদ্য উপাদানের কোনো একটির অভাব থাকলে তা থেকে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। পশুকে সাধারণ খাবারের সাথে প্রতিদিন ৩০০ গ্রাম করে ব্লক খেতে দিতে হয়। এ খাদ্য সহজে পরিপাচ্য ও শর্করা মাইক্রোবিয়াল প্রোটিনে রূপান্তরিত হয়।
তোরাব আলী নিয়মিত সাধারণ খাবার দিলেও গরুগুলোর শারীরিক বৃদ্ধি প্রত্যাশামাফিক হয়নি। তাই তোরাব আলীকে নিয়মিত স্বাভাবিক খাদ্যের পাশাপাশি সম্পূরক খাদ্য যেমন- ইউরিয়া মোলাসেস ব্লক দিতে হবে, তা না হলে গরু আশানুরূপ মোটাতাজা করা সম্ভব হবে না। গরুগুলো পুষ্টিহীনতায় ভুগবে এবং অপুষ্টিজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে উৎপাদন কমে যাবে।
তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী গরুগুলোকে মোটাতাজা করতে তোরাব আলীকে দেওয়া প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার খাদ্য ব্যবস্থাপনার পরামর্শে গরুগুলো সহজেই দ্রুত মোটাতাজা হবে এবং তোরাব আলী লাভবান হবেন।
Related Question
View Allসাইলেজ (Silage) হলো রসালো অবস্থায় ফুল আসার পূর্বে সবুজ ও সতেজ ঘাসকে (ভুট্টা, নেপিয়ার, গিনি ইত্যাদি) কেটে টুকরা করে সেগুলো বায়ুরোধী অবস্থায় সংরক্ষণকৃত খাদ্য।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গবাদিপশু পালন তথা গরু, মহিষ ও ছাগল পালনের প্রয়োজনীয়তা অনেক। এদেশের কৃষিখাতের আয়ের একটি বিরাট অংশ নির্ভর করে পশুসম্পদের উপর। গরু, মহিষ ও ছাগলের মাংস, দুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন উপজাত দ্রব্যাদি যেমন- হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, গোবর ইত্যাদি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া কৃষিকাজ, গাড়িটানা, সেচকাজ, ঘানিটানা, ভারবহন, বিনোদন প্রভৃতি কাজে গবাদিপশুর বহুল ব্যবহার হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে পশুসম্পদের অবদান প্রায় ১৬.৫২%। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণেও গবাদিপশু পালন গুরুত্বপূর্ণ।
রুহুল আমিনের দুগ্ধ খামারের গাভিগুলো হলো হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। নিচে এদের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো-
i. দুধাল জাতের মধ্যে এরা সবচেয়ে বড় আকারের গরু। এদের গায়ের রং সাধারণত সাদা-কালো ছোপ ছোপ হয়।
ii. মাথা লম্বাটে, সরু ও সোজা হয়। এদের কুঁজ উঁচু হয় না।
iii. দিনে ৩০ লিটারের বেশি দুধ দেয়। দুধে চর্বির পরিমাণ ৩.৫- ৪%।
iv. বড় আকারের গাভির ওজন ৫০০-৬০০ কেজি এবং ষাঁড়ের ওজন ৮০০-১০০০ কেজি হয়।
V. বকনা ১৮ মাস বয়সে প্রজননক্ষম হয় এবং ৩০ মাসে বাচ্চা দেয়।
রুহুল আমিনের খামারের গরুগুলো ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত।
ক্ষুরা রোগ প্রতিরোধে ৬ মাস বয়সে পশুকে টিকা দিতে হবে। পরে প্রতি বছরে একবার করে টিকা দিতে হবে। এছাড়া সুস্থ পশুকে আক্রান্ত পশু হতে পৃথক রাখতে হবে এবং আক্রান্ত পশুর মল, রক্ত ও মৃতদেহ মাটির নিচে পুঁতে ফেলতে হবে। সর্বোপরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত শুকনো স্থানে পশু লালন-পালনের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ক্ষুরা রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত পশুকে সুস্থ পশু হতে আলাদা করে পরিষ্কার ও শুকনা জায়গায় রাখতে হবে। আক্রান্ত পশুকে কচি ঘাস ও তরল খাবার যেমন ভাতের মাড় বা জাউভাত খেতে দিতে হবে। আক্রান্ত পশুর মুখের বা পায়ের ঘা-এর চিকিৎসা করাতে হবে। মুখের ক্ষত ও জিহ্বা প্রত্যহ ২/৩ বার পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (০.০১%) অথবা ফিটকিরি বা এলম (২%) দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। ৩% আইওসান সলিউসান দ্বারা ক্ষতস্থান দৈনিক ৩ বার করে ৩ ৫ দিন ধুয়ে দিতে হবে। অথবা মুখের ঘা-এ সোহাগার খৈ গুঁড়া করে মধু বা ঝোলাগুড়ের -সাথে মিশিয়ে লাগাতে হবে। আইওসান দ্বারা ধোয়ার পরপরই ক্ষতস্থানে এন্টিবায়োটিক পাউডার লাগিয়ে অথবা পায়ের ক্ষত স্থানে তুঁতে (১%) অথবা সোডিয়াম বাইকার্বোনেট (২%) অথবা পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (০.০১%) সলিউশন দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। এরপর | গন্ধকের গুঁড়া বা সালফানিলামাইড পাউডার দিনে ২-৩ বার লাগাতে হবে। নারিকেল তেল ও তারপিন তেল ৪:১ অনুপাতে মিশিয়ে ঘা-এ লাগাতে হবে যাতে ক্ষতস্থানে মাছি না পড়ে। প্রাণিচিকিৎসকের পরামর্শে উপরোক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করে রুহুল আমিন তার খামারে ক্ষুরারোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকার করতে পারেন।
সুষম খাদ্য বলতে যে খাদ্যে সকল খাদ্য উপাদান সুনির্দিষ্ট পরিমাণে বা অনুপাতে থাকে সে খাদ্যকে বোঝায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!