প্রাণ পুড়িয়ে দিছ আলো

কেউ কি তবু বাসল ভালো?

সকাল হলেই পদাঘাতে ঠেলেছে দূরে

তাও তুমি আঁধার নাশের

গান গেয়ে যাও মধুর সুরে

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

'নিমগাছ' গল্পের লেখকের প্রকৃত নাম বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

"মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে" বলতে প্রতীকার্থে লক্ষ্মীবউটার সংসারজালে চারিদিকে আবদ্ধ হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

নিমগাছ একটি ঔষধি বৃক্ষ। অথচ কেউ তার যত্ন নেয় না। একদিন এক লোক এসে শুধু এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল এবং নিমের ফুলগুলোকে এক ঝাঁক নক্ষত্রের সঙ্গে তুলনা করল। তাঁর প্রশংসায় মুগ্ধ নিমগাছটি তাঁর সঙ্গে চলে যেতে চাইল। কিন্তু শেকড়ের বিস্তৃতির কারণে যাওয়া হয় না। বস্তুত এখানে নিমগাছের প্রতীকী অর্থে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির সংসারের প্রাত্যহিক কর্তব্য, দায়িত্ব ও মায়ায় জড়িয়ে যাওয়া বোঝানো হয়েছে। মাটির নিচে গাছের শিকড় যেমন অনেক দূর বিস্তৃত তেমনই বিস্তৃত গৃহবধূর কর্মপরিধি ও মমত্ববোধ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের ভাববস্তু 'নিমগাছ' গল্পের গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির প্রতি বাড়ির লোকদের অবহেলা ও অমর্যাদার দিকটিকে নির্দেশ করে।

সাধারণত পুরুষশাসিত সমাজে নারীদের যথার্থ মূল্যায়ন করা হয় না। সংসারে নারীর যে অবদান রয়েছে তা স্বীকার করতে অনেকে কুণ্ঠিত হয়। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সংসার, সমাজ তথা রাষ্ট্রের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রাণ পুড়িয়ে আলো দানকারীর প্রতি অন্যদের স্নেহ-মমতা, ভালোবাসা এবং মানবিক আচরণ না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কবি। কারণ প্রয়োজনে কাছে টেনে, আবার প্রয়োজন শেষ হলেই পদাঘাতে তাকে দূরে ঠেলে দেওয়া অমানবিক ও অন্যায়। উদ্দীপকের এই বিষয়টি 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের প্রতীকীরূপে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির উটির প্রতি পরিবারের অন্যদের অমানবিক আচরণের দিকটিকে নির্দেশ করে। একজন গৃহবধূ সংসারের সবার জন্য পরিশ্রম করলেও বধূটির প্রতি কেউ যত্নবান হয় না, কেউ তার শ্রমের মূল্য ও মর্যাদা দেয় না। উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রকাশিত বক্তব্য আলোচ্য গল্পের এমন অবহেলার দিকটি নির্দেশ করে।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
উত্তরঃ

'আমাদের সমাজে এখনও নারীরা তাদের যোগ্য সম্মান ও অধিকার থেকে বঞ্চিত।'- 'নিমগাছ' গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি যথার্থ।

'সংসারের সার্বিক উন্নয়নে একজন পুরুষের পাশাপাশি নারীরও রয়েছে সমান অবদান। তার কাজের হয়তো হিসাব থাকে না, কিন্তু তার ক্লান্তিহীন ও বিরতিহীন কাজের যদি হিসাব রাখা হতো তবে দেখা যেত পুরুষের তুলনায় তার কাজের পরিমাণ অনেক বেশি। অথচ তাদের কাজের কোনো মূল্যায়ন করা হয় না।

উদ্দীপকের কবিতাংশে প্রাণ পুড়িয়ে আলো প্রদানের বিষয়টির মাধ্যমে উদ্দীপকের কবি সূর্যকে বুঝিয়েছেন। সূর্য নিজেকে পুড়িয়ে আলো দানের মাধ্যমে অন্ধকার দূর করে পৃথিবীকে আলোকিত করে। কিন্তু সূর্য যেমন দিনের শুরুতে উদিত হয় তেমনই দিনের শেষে অস্তমিতও হয়ে যায়। তার দহন জ্বালা কেউ অনুধাবন করে না। অপরদিকে 'নিমগাছ' গল্পে আমরা নিমগাছের প্রতীকী রূপে বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটিকে দেখতে পাই। বাড়ির বউ সকাল থেকে রাত অবধি বিরামহীন কাজ করে চলে। কোনোকিছুতে তাদের ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নেই। তবুও তারা আমাদের পরিবারে, সমাজে, দেশে খুবই অবহেলিত।

'নিমগাছ' একটি প্রতীকী গল্প। লেখক নিমগাছের প্রতীকে সংসারে নারীর অবস্থান ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরেছেন। সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি আমাদের পরিবারের নারীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের সার্বিক দেখাশোনার কাজ করে। কিন্তু দিন শেষে তাদের খবর কেউ রাখে না। তাদের শ্রমের কেউ মূল্যায়ন করে না। আলোচ্য উদ্দীপকেও এমন বিষয় ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, 'নিমগাছ' গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

Najjar Hossain Raju
Najjar Hossain Raju
10 months ago
126

কেউ ছালটা ছাড়িয়ে নিয়ে সিদ্ধ করছে। পাতাগুলো ছিঁড়ে শিলে পিষছে কেউ! কেউবা ভাজছে গরম তেলে । খোস দাদ হাজা চুলকানিতে লাগাবে । কচি পাতাগুলো খায়ও অনেকে । এমনি কাঁচাই ...
চর্মরোগের অব্যর্থ মহৌষধ ।
কিম্বা ভেজে বেগুন-সহযোগে ।
যকৃতের পক্ষে ভারি উপকার।
কচি ডালগুলো ভেঙে চিবোয় কত লোক দাঁত ভালো থাকে । কবিরাজরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ । বাড়ির পাশে গজালে বিজ্ঞরা খুশি হন।
বলে- “নিমের হাওয়া ভালো, থাক্, কেটো না ৷'
কাটে না, কিন্তু যত্নও করে না ।
আবর্জনা জমে এসে চারিদিকে।
শান দিয়ে বাঁধিয়েও দেয় কেউ— সে আর-এক আবর্জনা । হঠাৎ একদিন একটা নতুন ধরনের লোক এলো ।
মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল নিমগাছের দিকে। ছাল তুললে না, পাতা ছিঁড়লে না, ডাল ভাঙলে না, মুগ্ধদৃষ্টিতে চেয়ে রইল শুধু ।
বলে উঠল,– ‘বাহ্, কী সুন্দর পাতাগুলি ... কী রূপ ! থোকা থোকা ফুলেরই বা কী বাহার.... একঝাঁক নক্ষত্র নেমে এসেছে যেন নীল আকাশ থেকে সবুজ সায়রে। বাহ্-' খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে চলে গেল ।
কবিরাজ নয়, কবি ।
নিমগাছটার ইচ্ছে করতে লাগল লোকটার সঙ্গে চলে যায়। কিন্তু পারলে না। মাটির ভিতরে শিকড় অনেক দূরে চলে গেছে। বাড়ির পিছনে আবর্জনার স্তূপের মধ্যেই দাঁড়িয়ে রইল সে।
ওদের বাড়ির গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটার ঠিক এক দশা।

Related Question

View All
উত্তরঃ দাঁত পরিষ্কার করার জন্য এবং দাঁতের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে লোকে নিমগাছের কচি ডাল চিবোয়।
Satt AI
Satt AI
1 month ago
604
উত্তরঃ

বনফুলের 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছটির লোকটির সাথে চলে যেতে ইচ্ছা হয়েছিল কারণ লোকটি নিমগাছের ঔষধি গুণ ও উপযোগিতা সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং তাকে সপ্রশংস দৃষ্টিতে দেখেছিল, যা গাছটিকে বাড়ির অন্যদের একঘেয়ে ব্যবহারের বিপরীতে এক নতুন অনুভূতি দিয়েছিল।

বাড়ির লোকজন নিমগাছটিকে কেবল তার ছাল, পাতা, ডাল ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করত, যা ছিল তার জন্য কেবল যন্ত্রের মতো এক ব্যবহার। কিন্তু কবিরাজ লোকটি যখন নিমগাছটির প্রশংসা করে তার গুণাগুণ উপলব্ধি করে, তখন নিমগাছের প্রাণিক সত্তায় এক মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে। এই প্রশংসা ও কদরই তাকে লোকটির সাথে চলে যাওয়ার ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে, যেখানে তার আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে সে ভাবে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
661
উত্তরঃ

নিমগাছটি নতুন লোকটির সাথে চলে যেতে চেয়েছিল কারণ নতুন লোকটি নিমগাছের বাহ্যিক উপকারিতার বাইরে গিয়ে তার প্রতি এক গভীর সহানুভূতি ও প্রশংসা প্রকাশ করেছিল। সে নিমগাছের বাকল, পাতা, ডালপালার ভেষজ গুণের পাশাপাশি তার নীরব বেদনা ও অবহেলিত সত্তাটিকেও উপলব্ধি করতে পেরেছিল, যা অন্যদের চোখে ধরা পড়ত না।

এই আকাঙ্ক্ষা মূলত নিমগাছের এক অবরুদ্ধ জীবনের প্রতীকী প্রকাশ। বনফুলের ‘নিমগাছ’ গল্পে লেখক দেখিয়েছেন যে, সমাজে অনেক উপকারী ব্যক্তি বা বস্তু থাকে যারা নীরবে অন্যের সেবা করে যায় কিন্তু তাদের নিজস্ব চাওয়া-পাওয়া বা কষ্ট কেউ বুঝতে পারে না। নতুন লোকটির সহানুভূতিপূর্ণ দৃষ্টিতে নিমগাছটি ক্ষণিকের জন্য হলেও তার সীমাবদ্ধ জীবন থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিল।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
1.3k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews